ভারতবর্ষের ইতিহাস-ঐতিহ্যের অন্যতম মসজিদ বাবা আদম মসজিদ। মসজিদের স্থাপত্যশৈলী যেমন চমৎকার, তেমনি এর নকশায় রয়েছে নানা ধরনের কারুকার্যখচিত নান্দনিক ডিজাইন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দরগাহ বাড়িতে মসজিদটি অবস্থিত। বাংলার সুলতান জালাল উদ্দিন ফতেহ শাহর শাসনামলে ১৪৮৩ সালে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।
মসজিদ ভবনটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। সম্মুখ দিকে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ। এর দুই পাশে রয়েছে সম-আকারে দুটি জানালা। মসজিদের ভেতরে ঢুকে সামনে এগোলে চার কোনায় চারটি ত্রিভুজাকৃতির স্তম্ভ চোখে পড়ে। মসজিদের খিলান, দরজা, স্তম্ভের পাদদেশ, মেঝে ও ছাদের কার্নিশের নিচে ইট কেটে মুসলিম স্থাপত্যকলার অপূর্ব নকশাও লক্ষ করা যায়। ছয় গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণশৈলী অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর। এটি ৪৩ ফুট চওড়া ও ৩৬ ফুট প্রস্থ। ৪ ফুট চওড়া দেয়াল। ছোট ছোট ইট আর সুরকি দিয়ে গাথা। মসজিদের সামনে ওপরের দিকে রয়েছে ফারসি ভাষায় খোদাই করা একটি নামফলক।
মসজিদটি ১৯০৯ সালে একবার সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর দীর্ঘসময় কেটে যায়। এ সময় অরক্ষিত থাকলেও মূল স্থাপনার তেমন কোনো ক্ষতিসাধন ঘটেনি। ১৯৯১ সালে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় আসে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ লোহার প্রাচীর দিয়ে মসজিদের চারপাশে বাউন্ডারি তৈরি করে। সে বছরই ডাক বিভাগ মসজিদের ছবি দিয়ে একটি স্মারক ডাকটিকিট বাজারে ছাড়ে। মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন মুসল্লিরা। আছেন নির্ধারিত ইমামও।
বাবা আদম যুদ্ধে শহিদ হলে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার দরগাহবাড়িতে কবর দেওয়া হয়। প্রায় ৩১৯ বছর পর তার কবরের পাশেই বাবা আদমের স্মরণে ১৪৮৩ সালে নির্মাণ করা হয় বাবা আদম মসজিদ।
লেখক: গবেষক