রাসুলুল্লাহ (সা.) সব সময় প্রতিবেশীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। নিয়মিত তাদের খোঁজ নিতেন। তাদের পাশে দাঁড়াতেন। মানুষকে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিতেন। জিবরাইল (আ.)-ও সব সময় আল্লাহর রাসুলকে প্রতিবেশীদের প্রতি যত্নশীল হওয়ার কথা বলতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জিবরাইল আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে বারবার অসিয়ত করছিলেন। একপর্যায়ে আমি ধারণা করে বসি, তিনি হয়তো প্রতিবেশীকে আমার উত্তরাধিকারী বানিয়ে ছাড়বেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৬৬৮)
প্রতিবেশীর জন্য খাবার সরবরাহ করা অন্যতম সুন্নত। প্রতিবেশীর জন্য আলাদা আয়োজন করে খাবার রান্না করতে হবে এমনটি নয়; বরং একটু বেশি রান্না করে প্রতিদিনের তৈরি খাবারের একাংশ মাঝেমধ্যে প্রতিবেশীর ঘরে পাঠানো যেতে পারে। হোক না তা পরিমাণে অল্প। রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের এ উদ্যোগ নিতে বিশেষ নসিহত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে মুসলিম নারীরা, কোনো প্রতিবেশিনী যেন অপর প্রতিবেশিনীর (দেওয়া হাদিয়া) তুচ্ছ মনে না করে, এমনকি তা বকরির পায়ের সামান্য খুর হলেও।’ (বুখারি, হাদিস: ৫৬৭১)
আবু জর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে অসিয়ত করেছেন, যখন তুমি ঝোল (তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বাড়িয়ে দাও। এরপর তুমি তোমার প্রতিবেশীদের দিকে দৃষ্টি দাও এবং ওই খাদ্য থেকে তাদের জন্য সৌজন্যমূলক কিছু পৌঁছে দাও।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫২৬)
হাদিসে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি বিশেষ নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। এই মহান সুন্নাহটি পালনের মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি, সহানুভূতি ও সম্প্রীতি বেড়ে যাবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক