রাসুলুল্লাহ (সা.) কাছের লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করতেন। তাদের মতামত শুনতেন। উপদেশ গ্রহণ করতেন। কী কী কাজে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘনিষ্ঠজন ও উম্মুল মুমিনিনদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন, কোন কোন প্রেক্ষাপটে তিনি তাদের মতামত শুনেছেন তা গুনে শেষ করা যাবে না। হুদাইবিয়ায় তিনি উম্মে সালামা (রা.)-এর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। বদর যুদ্ধের দিন তিনি সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। উহুদ যুদ্ধে যাত্রাকালে তিনি সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শে বসেছেন। আয়েশা (রা.)-এর ব্যাপারে ইফকের ঘটনায় তিনি আলি ইবনে আবু তালেব ও উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-এর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। গাতফান গোত্রকে মদিনার ফসলের এক-তৃতীয়াংশ প্রদানের ব্যাপারে তিনি সাদ ইবনে উবাদা (রা.) ও সাদ ইবনে মুয়াজ (রা.)-এর সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। পরামর্শ করে করা কাজে কোনো দিন তিনি লজ্জিত হননি। আনাস ইবনে মালেক (রা.) ঠিক সেটিই বোঝাতে চেয়েছেন, ‘যে ইস্তিখারা করে, সে বঞ্চিত হয় না। যে পরামর্শ চায়, সে লজ্জিত হয় না। আর যে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে, সে নিঃশেষ হয় না।’ (আল মুজামুল আওসাত লিত-তাবরানি, ৬৬২৭)
পরামর্শদাতার কর্তব্য হচ্ছে নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরামর্শ দেওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার কাছে পরামর্শ চাওয়া হয়, সে আমানতদার।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৫১২৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি না জেনে ফতোয়া দেবে, তার গুনাহ মুফতির ওপর বর্তাবে। আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে জেনেশুনে কোনো ক্ষতির পরামর্শ দিল, সে যেন তার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করল।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৫৭)
পরামর্শ দেওয়া-নেওয়ার কাজে নিষ্ঠা থাকতে হবে উভয় পক্ষ থেকেই। প্রথমজন পরামর্শ চাইবে বিনয়ের সঙ্গে ও পরামর্শ গ্রহণ করার মানসিকতা নিয়ে। আর দ্বিতীয়জন পরামর্শ দেবে নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা ও পরামর্শপ্রার্থীর কল্যাণের দিকে লক্ষ রেখে। তা হলে একদিকে যেমন এর সুফল উভয়ে ভোগ করবে, অপরদিকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহর ওপরও আমল হয়ে যাবে।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক