রুকুতে পিঠ ও মাথা সোজা রাখতে হবে। শরীরের পার্শ্বদেশের সঙ্গে হাত না মিলিয়ে ডান হাঁটুর ওপর ডান হাত এবং বাম হাঁটুর ওপর বাম হাত রেখে উভয় হাতের আঙুলগুলো ছড়িয়ে রাখতে হবে। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন রুকু করতেন তখন ঘাড় থেকে মাথা নিচু করতেন না, উঁচুও করতেন না; বরং একই সমতলে রাখতেন।’ (মুসলিম, হাদিস: ৯৯৭)
আবু হুমাইদ সাইদি (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে দেখেছি, তিনি যখন নামাজ শুরু করতেন তখন তাকবির বলে দুই হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতেন তখন দুই হাত দিয়ে হাঁটু শক্তভাবে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৮২৮)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রুকুতে হাতের তালু দিয়ে মজবুতভাবে হাঁটু ধরতেন, হাতের আঙুলগুলো পরস্পর বিচ্ছিন্ন রাখতেন এবং মাথা পিঠের সঙ্গে সমান্তরাল রাখতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৩১)। আরেক হাদিসে এসেছে, ‘রুকুতে দুই হাতকে রাসুলুল্লাহ (সা.) পার্শ্বদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৭৩৪)
আরও পড়ুন: তাকবির বলে ধীরস্থিরভাবে রুকুতে যেতে হবে
ওয়াবিসা ইবনে মাবাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নামাজ আদায় করতে দেখেছি। তিনি যখন রুকু করতেন, তখন তার পিঠ এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তার ওপর পানি ঢাললেও তা স্থির থাকবে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৭২)
রুকুতে মাথা, পিঠ, কোমর বরাবর না করে বা পিঠ বিছিয়ে না রেখে উঁচু করে রাখা কিংবা মাথা নিচু করে রাখা মাকরুহ। রুকুতে হাঁটু বাঁকা করে রাখা, সামনের দিকে বাড়িয়ে রাখা নাজায়েজ। কিরাত পাঠের পর তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে কমপক্ষে তিনবার রুকুর তাসবিহ (সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম) পড়তে হয়। (আবু দাউদ, হাদিস, ৮৮৯)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক