দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে তাশাহুদের জন্য বসতে হয়। এ সময় বাম পা বিছিয়ে বাম পায়ের ওপর বসে ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতে হবে এবং এ পায়ের আঙুলগুলো কিবলামুখী করে রাখতে হবে। আবু হুমাইদ সাইদি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দুই রাকাতের পর বসতেন, তখন বাম পায়ের ওপর বসতেন আর ডান পা দাঁড় করিয়ে রাখতেন।’ (বুখারি, হাদিস: ৮২৮)
আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন তাশাহুদের জন্য বসতেন, তখন বাম হাত বাম ঊরুর ওপর রাখতেন এবং ডান হাতের তর্জনী আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন। এ সময় তাঁর দৃষ্টি তাঁর ইশারা অতিক্রম করত না।’ (নাসায়ি, হাদিস: ১২৭৫)
আরও এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তাশাহুদ পাঠের জন্য বসা অবস্থায় বাম হাত বাম ঊরুর ওপর এবং ডান হাত ডান ঊরুর ওপর রেখে আঙুলগুলো স্বাভাবিকভাবে রাখা। ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল দুটি সামান্য গুটিয়ে এনে বৃদ্ধা ও মধ্যমার সঙ্গে মিলিয়ে কিছুটা বৃত্তের মতো করা এবং শাহাদাত আঙুল দ্বারা ইশারা করা এবং এ আঙুলটি মৃদু নাড়ানো। মুসল্লির এ কাজটি শয়তানের জন্য অনেক কষ্টদায়ক।’ (মুসলিম, হাদিস : ১১৯৬)
আরও পড়ুন: ধীরস্থিরতার সঙ্গে রুকু-সিজদা করা আবশ্যক
তাশাহুদের সময় আঙুল না নাড়ানোর নির্দেশনাও পাওয়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দোয়া করতেন, তখন তর্জনী আঙুল দ্বারা ইশারা করতেন, তবে তা নাড়াতেন না।’ (বাইহাকি, ২/১৩২)
দ্বিতীয় রাকাতে বসে তাশাহুদ পাঠ করতে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, ‘তাশাহুদের বিধান নাজিল হওয়ার আগে আমরা নামাজে বলতাম, আল্লাহর ওপর সালাম, জিবরাইল ও মিকাইলের ওপর সালাম। এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা এমনটা বলো না—কারণ আল্লাহতায়ালা নিজেই সালাম। বরং তোমরা বলো—
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
বাংলা উচ্চারণ: আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়িবাতু। আসসালামু আলাইকা আইইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।
বাংলা অর্থ: যাবতীয় অভিবাদন বা প্রশংসা একমাত্র আল্লাহতায়ালার জন্য এবং যাবতীয় সালাত ও পবিত্রতা একমাত্র তাঁর জন্য। হে নবি, আপনার ওপর আল্লাহতায়ালার রহমত, বরকত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের ও আল্লাহতায়ালার সৎ বান্দাদের ওপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ বা উপাসক নেই। আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি— মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।’ (মুসলিম, হাদিস: ৪০২)
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রতি দুই রাকাতে আত্তাহিইয়াতু রয়েছে। আর তিনি (রাসুলুল্লাহ) এ সময় বাম পা বিছিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে রাখতেন।’ (মুসলিম, ১/১৯৪)
লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক