প্রশ্ন: এক নারীর স্বামী প্রবাসে থাকে। কয়েক বছর পরপর মাস খানেকের জন্য দেশে আসে। সেই সময় নারী ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ রাখে। জানার বিষয় হলো, ঋতুস্রাবের দিনগুলোয় ওষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ রাখলে তখন স্বামীর সঙ্গে তার মেলামেশা বৈধ হবে কি? তখন তার নামাজ ও রোজার বিধান কী?
হালিমা বেগম, ভোলা
উত্তর: ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী একজন নারীর ঋতুস্রাবের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন আর সর্বোচ্চ সময় ১০ দিন। ৩ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে মাসিক ঋতুস্রাবকালীন নামাজ-রোজা করার প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় নামাজের কাজা না থাকলেও পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করে নেবে। (আদ-দুররুল মুখতার, ১/৩০০-৩০১)
ঋতুস্রাব অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রী সহবাস করা নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘লোকেরা আপনাকে হায়েজ তথা ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন, তা অপবিত্রতা। অতএব তোমরা হায়েজের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকো এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)
আরও পড়ুন: মসজিদে দান করা কোরআন শরিফ বিক্রি করা যাবে?
ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখলেও যতদিন স্রাব না আসবে ততদিন সে পবিত্র থাকবে। বন্ধের দিনগুলো পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী মাসিকের দিনগুলোর মধ্যে পড়লেও বাস্তবে স্রাব না দেখা গেলে তাতে ঋতুস্রাবের বিধিবিধান প্রযোজ্য হবে না। তাই ওষুধ খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখার পর পরবর্তী স্রাব আসার আগ পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে মেলামেশা বৈধ হবে এবং নামাজ, রোজাও স্বাভাবিকভাবে আদায় করতে হবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক, ১২১৯; বাদায়েউস সানায়ে, ১/১৫৩; আলমাজমু শরহুল মুহাজজাব, ৩/১১)
লেখক: আলেম, মুফতি ও সাংবাদিক