‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ বলার অনেক ফজিলত রয়েছে। এর অর্থ: আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনিই কত ভালো কর্মবিধায়ক। পবিত্র কোরআনে সুরা আলে ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াতের অংশ এটি। এ দোয়া যেকোনো সময় পড়া যায়। এটি পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে। এখানে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস ও আশ্রয় গ্রহণের অন্যতম দোয়া এটি। আল্লাহতায়ালাই আমাদের একমাত্র সাহায্যকারী। তিনি সকল বিপদ ও দুঃখ–কষ্ট থেকে মানুষকে মুক্তি দান করেন। ইবরাহিম (আ.)-কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তিনি এ দোয়াটি পড়েছিলেন। আল্লাহতায়ালা তাঁর জন্য আগুন ঠাণ্ডা ও শান্তিদায়ক করে দেন। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যখন ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়। তখন তাঁর সর্বশেষ উক্তি ছিল, ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।’ (বুখারি)
আরও পড়ুন: দুরুদ শরিফের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ
সওয়াব লাভ ও মন্দ থেকে রক্ষা
এটি পাঠ করার মাধ্যমে মুসলমানরা দুনিয়া ও আখিরাতে সওয়াব ও কল্যাণ লাভ করেন। তাদের ওপর যেকোনো ধরনের শত্রু বা ক্ষতির প্রভাব কমে যায়। যেমনটি ইবরাহিম (আ.)-এর ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়েছে।
আল্লাহর সাহায্য ও তাঁর ওপর ভরসা
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও সুরক্ষার প্রতীক। মুসলমানরা এই উক্তিটি অধিক পরিমাণে পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য ও সমর্থন লাভ করতে পারেন—যা তাদেরকে অন্যের সাহায্য থেকে আলাদা করে দেয়। একমাত্র আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস প্রকাশ পায়। এই উক্তিটি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসার প্রকাশ এবং তাকে একমাত্র সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করার প্রতীক। এটি বিশেষত তখন বলা হয়, যখন কঠিন পরিস্থিতি বা বিপদের মুখোমুখি হতে হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) উহুদ যুদ্ধের সময় এই দোয়াটি বলেছিলেন।
আল্লাহর প্রতি সুধারণা ও শত্রুর বিরুদ্ধে সাহায্য
‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল’ দোয়াটি আল্লাহর প্রতি সুধারণা প্রকাশ করে এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের ষড়যন্ত্র বা আক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করে। এটি মানুষের হৃদয় থেকে ভয়-ভীতি দূর করে। তাদের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধি করে।
লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর