উমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য এ আমল। শরিয়তের বিধানমতে, উমরার নিয়ম হলো, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উমরা পালনের নিয়তে মিকাতের আগেই ইহরামের নিয়ত করতে হয়। অতঃপর বাইতুল্লাহতে উপস্থিত হয়ে সাত চক্কর তাওয়াফ করে সাফা মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের সাঈ করতে হয়। সর্বশেষ হলক বা মাথা মুণ্ডানো কিংবা চুল ছোট করার মাধ্যমে ইহরাম খুলতে হয়।
বছরের যেকোনো সময়ে উমরা পালন করা যায়, যেকোনো সময়ে উমরা পালন করার সওয়াব সমান। তবে রমজান মাসে উমরা পালনের সাওয়াবের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বিশেষ নিদর্শেনা রয়েছে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক উমরা অন্য উমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সবকিছুর কাফফারা। আর মাবরুর হজের একমাত্র প্রতিদান হলো জান্নাত।’ (বুখারি : হাদিস নং- ১৭৭৩)। তা ছাড়া অধিক উমরা করার মাধ্যমে আল্লাহতাআলা বান্দার রিজিকে বরকত দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারাবাহিক হজ ও উমরা আদায় করতে থাকো। এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গোনাহ বিদূরিত করে দেয়।’ (তিরমিজি : হাদিস নং- ৮১০)।
রমজান মাসে উমরা পালনকে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজের সমান সওয়াব বলে উল্লেখ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ থেকে ফিরে আসার পর উম্মে সিনান নামের আনসারি নারী সাহাবিকে জিজ্ঞেস করলেন, কীসে তোমাকে হজ পালনে বাধা প্রদান করেছিল? তিনি জবাবে বললেন, অমুকের বাবা (নিজ স্বামী)। তার পানি টানার দুটি উট আছে, একটিতে সওয়ার হয়ে তিনি হজ আদায় করতে গেছেন, আর অপরটি আমাদের জমিতে পানি সিঞ্চনের কাজের জন্য রাখা হয়েছে। এ কথা শোনার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তবে মনে রেখো! রমজান মাসে উমরা আদায় করলে আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমান মর্যাদা পেতে পার।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সেই নারী সাহাবিকে বলেছিলেন, রমজান মাস এলে তুমি উমরা করে নিও। কারণ রমজান মাসে উমরা করা হজের সমান মর্যাদা রাখে।’ (বুখারি : হাদিস নং- ১৮৬৩, মুসলিম : হাদিস নং- ২৯২৮)।
জাবের (রা.) আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হজরত আবু মাকিল (রা.) সূত্রে বর্ণিত; রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসের উমরা পালন হজের সমান মর্যাদাপূর্ণ।’ (ইবনে মাজাহ : হাদিস নং- ২৯৯১)।
প্রসঙ্গত জানার আগ্রহ জাগে রাসুলুল্লাহ (সা.) কি রমজানে উমরা পালন করেছেন কিংবা তিনি জীবদ্দশায় মোট কতবার উমরা করছেন? রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসে উমরা পালন করেননি। আর তিনি গোটা জীবদ্দশায় মোট চারবার উমরা করছেন। প্রথমটি ষষ্ঠ হিজরির জিলকদ মাসে। এটি হুদায়বিয়ার উমরা নামে পরিচিত। দ্বিতীয় উমরা পালন করেছেন এর পরের বছর সপ্তম হিজরিতে। এটি কাজা উমরা নামে পরিচিত। তৃতীয়টি উমরাতুল জিরানা নামে পরিচিত। হুনাইন থেকে ফেরার পথে জিরানা থেকে ইহরাম বেঁধেছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। চতুর্থটি আদায় করেছেন বিদায় হজের সঙ্গে দশম হিজরিতে। ওই বছর রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘কিরান হজ’ (হজ ও উমরা একসঙ্গে আদায় করাকে কিরান হজ বলা হয়) করেছিলেন। (বুখারি : হাদিস নং- ১৭৭৫, ১৭৭৮; জাদুল মায়াদ, ২/৯২-৯৫)
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক