ঢাকা ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের ৫ বছরের মেগা কর্মপরিকল্পনা রাজত্ব কার, লাতিন না ইউরোপের? ক্রিকেট খেলে প্রস্তুতি ইংলিশ ফুটবলারদের দূর হয়েছে শঙ্কা, বইছে খুশির হাওয়া বাজেটে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়নসহ ১০ বিষয়েগুরুত্ব দেওয়া হবে টেলিযোগাযোগ খাতে উৎসে কর ১০ শতাংশ করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ছে ওচোয়ার ছয় বিশ্বকাপের মহাকাব্য বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা তিন আকাশে জ্বলবে এক আলোর মশাল ভাঙন ঝুঁকিতে যমুনার ৪০ কিমি তীর ভালো কোম্পানি টানতে বড় ছাড়ের তাগিদ কুরমা অভয়াশ্রমের হলদে-চোখ ছাতারে ১১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১১ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বাজেট ২০২৬-২৭ উত্থাপন আজ: আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতার টানাপোড়েন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর কল্যাণে পৃথক অধিদপ্তরের আশ্বাস স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা! হরিণাকুন্ডুতে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ: এরদোয়ান সিলেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে প্রশাসনের অভিযান মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার চট্টগ্রাম কাস্টমসের বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকছে প্রথমবার মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলার ছাড়াল ব্যক্তিগতভাবে আমি মৃত্যুদণ্ড বিরোধী: আইনমন্ত্রী বাংলা কিউআর: ক্যাশলেস বাংলাদেশের পথে নতুন বিপ্লব ভ্যানচালকের আর্জেন্টিনা প্রেম মধ্যপ্রাচ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা: আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর
Nagad desktop

রোজা রেখে ব্রাশ করা যাবে কি?

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৫, ১০:৩০ পিএম
রোজা রেখে ব্রাশ করা যাবে কি?
আরবিতে রমজান কারিম লেখা ক্যালিগ্রাফির ছবি। সংগৃহীত

আমাদের সমাজে কিছু কুসংস্কার রয়েছে, যা রোজা রাখার সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এর মধ্যে একটি হলো দাঁত ব্রাশ না করার ধারণা। অনেকেই মনে করেন, রোজা রাখা অবস্থায় দাঁত ব্রাশ করা যাবে না। কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। যদি দাঁত ব্রাশ করা না হয়, তবে দাঁতে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্টি হতে পারে, যা সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পায় এবং মুখে দুর্গন্ধ তৈরি করে। এই দুর্গন্ধের ফলে কথাবার্তায় অসুবিধা হয় এবং চারপাশের মানুষদের জন্য অস্বস্তিকর অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

কোনো কোনো রোজাদার মুখের দুর্গন্ধের বিষয়ে বলেন, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয়। একটি হাদিসে এসেছে, যেখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ, রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ মেশকের তুলনায় আল্লাহতাআলার নিকট অধিক প্রিয়।’ (বুখারি, ১৮৯৪) তবে এর মানে এই নয় যে, মুখের দুর্গন্ধ ভালো বা প্রিয়। বরং এটি আল্লাহর রোজা পালনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এবং আল্লাহ তা গ্রহণ করেন। তবে এই দুর্গন্ধের কারণে আশপাশের মানুষদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।

ইসলামি চিন্তাবিদগণ বলেন, দাঁত ব্রাশ করলে রোজা ভাঙে না, কারণ টুথপেস্ট কেউ খায় না। তবে, সাবধান থাকতে হবে যেন টুথপেস্ট পেটে চলে না যায়। যদি ভুলক্রমে পেস্ট পেটে চলে যায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। কিছু মুফতিয়ানে কেরাম বলেছেন, টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা মকরুহ হয়ে যায়, তবে ভেঙে যায় এমন কিছু বলা হয়নি।


সর্বোত্তম উপায় হলো, কম মিন্টের গন্ধবিশিষ্ট পেস্ট ব্যবহার করা। অথবা, দাঁত ব্রাশ করতে ভয় পেলে, মিসওয়াক ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। মিসওয়াক ব্যবহারের ব্যাপারে একটি হাদিসে এসেছে, ‘আমার উম্মতের জন্য কষ্টের আশঙ্কা না হলে তাদের ওপর মিসওয়াককে প্রতি নামাজের জন্য ফরজ করে দিতাম।’ (সুনানে আবু দাউদ) তাই রোজা অবস্থায় মিসওয়াক ব্যবহার করা উত্তম এবং এটি সুন্নতের অনুসরণও বটে।


ইসলামের সুন্দর নির্দেশনা অনুযায়ী, সাহরি শেষে পেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা এবং ইফতারের পরও দাঁত ব্রাশ করা যেতে পারে, কিন্তু দিনের বেলা মিসওয়াক ব্যবহার করা উচিত। আমাদের মহানবি (সা.) মিসওয়াক ব্যবহার করতেন এবং এটি একটি সুন্নত আমল। যদি আমরা মিসওয়াক ব্যবহার করি, তাতে রোজা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না, বরং সুন্নত আদায় করা হবে।

 

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক 

 

বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
বিছানা নাপাক হলে ঐ ঘরে নামাজ পড়া যাবে কি?
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অসাবধানতাবশত বিছানা, কাঁথা বা কম্বলে নাপাকি লেগে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশুদের প্রস্রাব বা অন্য কোনো কারণে ভারী তোশক বা জাজিম অপবিত্র হয়ে পড়লে তা ধুয়ে পরিষ্কার করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ওই ঘরে বা বিছানায় নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে মুসল্লিদের মনে অনেক সময় সংশয় তৈরি হয়। ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে এর অত্যন্ত সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে।

যদি বড় কোনো কাঁথা বা কম্বলের নির্দিষ্ট এক অংশে নাপাকি লাগে, তবে এর অপর ‘পাক’ বা ঘরের পবিত্র অংশে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ জায়েজ। অর্থাৎ, পুরো কাপড়টি ধোয়া বাধ্যতামূলক নয়; বরং যেখানে নাপাকি নেই সেখানে সিজদা করা এবং দাঁড়ানো যাবে। তবে শর্ত হলো, নাপাক অংশের আর্দ্রতা যেন পবিত্র অংশে স্থানান্তরিত না হয়।

ভারী তোশক, জাজিম বা ম্যাট্রেস যা সচরাচর ধোয়া সম্ভব হয় না, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিধান কিছুটা ভিন্ন। যদি তোশকের এক পিঠে নাপাকি লাগে এবং এর অপর পিঠে নাপাকির কোনো রং, গন্ধ বা ভেজা ভাব প্রকাশ না পায়, তবে ওই অপর পিঠে নামায আদায় করা যাবে। ফিকহ শাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৬২) ও রদ্দুল মুহতার (১/৪০২) অনুযায়ী, নাপাকির প্রভাব অপর পিঠে না পৌঁছালে তা ব্যবহারের জন্য পবিত্র বলে গণ্য হবে।

যদি তোশক বা জাজিমের নাপাকি শুকিয়ে যায় কিন্তু তা ধোয়া সম্ভব না হয়, তবে এর ওপর একটি পবিত্র জায়নামাজ বা মোটা কাপড় বিছিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে। এতে নিচের নাপাকি নামাযে কোনো ব্যাঘাত ঘটাবে না। ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ও আসসিআয়া-র বর্ণনা অনুযায়ী, শুকনো নাপাকির ওপর পবিত্র স্তর থাকলে তা ইবাদতের জন্য বাধা নয়।

পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ইসলামি শরিয়ত অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ভারী আসবাবপত্র পরিষ্কারের জটিলতা বিবেচনায় ফকিহগণ যে শিথিলতা দিয়েছেন, তা আমাদের ইবাদতকে সহজতর করে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সম্ভব হলে নাপাক স্থানটি মুছে নেওয়া বা রোদে শুকিয়ে নেওয়া উত্তম।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সময়টা কি তবে শেষ! রাসুল (সা.)-এর বর্ণনায় আজকের সমাজ
ছবি: সংগৃহীত

আজকের সমাজে মেকি জৌলুস আর চাটুকারিতার জোরে যখন কোনো মিথ্যাবাদী বা কপট ব্যক্তি সমাজের চালকের আসনে বসে, তখন আমরা অনেকেই তা স্বাভাবিকভাবে নিই। কিন্তু এর আধ্যাত্মিক প্রভাব কতটা ভয়াবহ? রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তোমরা মোনাফিককে নেতা হিশেবে গ্রহণ করো না; কারণ যখন কোনো ব্যক্তি একজন মিথ্যুক মোনাফিককে ‘হে আমার নেতা!’ বলে সম্বোধন করে, সে তখন তার প্রতিপালককে রাগান্বিত ও অসন্তুষ্ট করে তোলে (আবু দাউদ হা/৪৯৭৭; তারগীব হা/৪১৭৫)।

আধুনিক করপোরেট বা সামাজিক ডিলিংসে আমরা ‘ইনটিগ্রিটি’ বা সততার বড্ড অভাব দেখি। রাসুল (সা.) পাক্কা মোনাফিকের চারটি স্বভাবের কথা বলেছেন, যা আজকের সমাজের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। আমানতের খিয়ানত করা, কথায় কথায় মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা ভঙ্গ করা এবং কোনো কারণে কারও সঙ্গে বিবাদ বা ঝগড়া বাধলে অত্যন্ত নোংরা ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫০)।

বর্তমান যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অসত্য বা সাজানো খবর মুহূর্তেই দেশজুড়ে ‘ভাইরাল’ হয়ে যায়। কিন্তু এই সস্তা প্রচারের আড়ালে কী ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করছে? হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত এক দীর্ঘ ও অলৌকিক হাদিসে রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি স্বপ্নের বিবরণ পাওয়া যায়। সেখানে তিনি দেখেন, এক ব্যক্তির গালে লোহার সাঁড়াশি ঢুকিয়ে তা গর্দানের পিছন পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গী ফেরেশতাদ্বয় জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) রাসুলকে জানান–এই ব্যক্তি দুনিয়ায় এমন মিথ্যা বলত, যা মুহূর্তেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত পর্যন্ত তার এই শাস্তি চলতে থাকবে (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

আজকের যুগে আমরা অনেকেই রাতে কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করে ঘুমিয়ে যাই, কিন্তু পবিত্র গ্রন্থের কোনো আমল আমাদের জীবনে থাকে না। রাসুলের দেখা সেই স্বপ্নে আরও ছিল, ভারী পাথর দিয়ে এক ব্যক্তির মাথা চূর্ণ করা হচ্ছিল, কারণ সে কোরআন শিক্ষা করার পরও তা থেকে গাফেল হয়ে রাতে ঘুমাত এবং দিনেও নির্দেশ মেনে চলত না। এ ছাড়া তন্দুরের মতো সংকীর্ণ অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষের জ্বলন্ত চিৎকার ছিল ব্যভিচারী বা জেনাকারীদের শাস্তি এবং রক্তের নদীতে পাথরের আঘাতে হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিটি ছিল সমাজের রক্তচোষা সুদখোর (সহিহ বুখারি, মিশকাত হা/৪৪১৬)।

রাসুল (সা.)-এর দেখা এই অলৌকিক স্বপ্নের শেষে জান্নাতে সাধারণ মুমিন ও শহিদদের মনোরম আবাসন এবং জাহান্নামের দারোগা মালেককেও দেখানো হয়। সমাজকে সুন্দর করতে এবং হাশরের সেই ভয়ংকর শাস্তি থেকে বাঁচতে আজই আমাদের মিথ্যা, খিয়ানত আর মোনাফিকির পথ পরিহার করা উচিত।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
আপডেট: ১০ জুন ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম
সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার  ১০ উপায়
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক সমাজে খুন, জালিয়াতি কিংবা অনৈতিক সম্পর্ক নিত্যদিনের খবর। কিন্তু সৃষ্টির আদালতে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও বড় অপরাধ কোনগুলো? হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মানব ইতিহাসের তিনটি জঘন্যতম পাপের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে সমকক্ষ বা শরিক করা (শিরক)।

দ্বিতীয়টি হলো, দারিদ্র্য ও ভরণপোষণের ভয়ে নিজের সন্তানকে হত্যা করা। আর তৃতীয়টি হলো, বিশ্বাসের অমর্যাদা করে প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। রাসুল (সা.)-এর এই বাণীর সত্যায়ন করে আল্লাহতায়ালা সুরা ফুরক্বানের ৬৮ নম্বর আয়াতে নেককার বান্দাদের প্রশংসায় একই বার্তা অবতীর্ণ করেছেন (মুসলিম, ৪৯)।

আজকের বিশৃঙ্খল পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে শান্তিতে থাকার উপায় কী? হযরত মু‘আয বিন জাবাল (রা.)-কে দেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ১০টি উপদেশ যেকোনো সংকটে আলোর দিশারী হতে পারে। তিনি বলেছেন, () আগুনে পুড়িয়ে বা হত্যা করা হলেও আল্লাহর সঙ্গে শিরক না করা, () সর্বাবস্থায় পিতা-মাতার অনুগত থাকা, () ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ সালাত ত্যাগ না করা (কারণ সালাত ছাড়লে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে যায়), () সমস্ত অশ্লীলতার মূল মাদক থেকে দূরে থাকা, () আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচতে গোনাহ বর্জন করা, () যুদ্ধের ময়দান থেকে না পালানো, () মহামারিকবলিত এলাকায় ধৈর্য ধরে অবস্থান করা, () সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের জন্য ব্যয় করা, () পরিবারকে সুশাসনে রাখা এবং (১০) তাদের সর্বদা আল্লাহর ভয় প্রদর্শন করা। (মুসনাদে আহমাদ, ৬১)

মানুষ ভুল ও অপরাধের এক চোরাবালিতে আটকেপড়া জীব। কিন্তু হতাশার এই অন্ধকারে স্রষ্টার ক্ষমার পরিধি কতটা বিশাল, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। হযরত আনাস (রা.) বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা মানুষের সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক ভয় দূর করে দিয়ে ঘোষণা করেছেন, ‘হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি যদি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি কাউকে পরোয়া না করে তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ এমনকি কোনো মানুষ যদি পৃথিবী পরিমাণ পাপ নিয়ে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়, অথচ তার আমলনামায় ‘শিরক’-এর মতো কোনো পাপ না থাকে, তবে আল্লাহ স্বয়ং পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তার দিকে এগিয়ে আসেন (তিরমিজি, ২৩৩৬)।

সমাজ যতই অবক্ষয়ের দিকে যাক না কেন, নিজের পরিবারকে নৈতিক অনুশাসনে রাখা এবং আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে তাওবা করার সুযোগ সব সময় খোলা থাকে। আসুন, বড় বড় অপরাধ ও শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি, যেন আমাদের ভুলগুলো স্রষ্টার অফুরন্ত ক্ষমার চাদরে ঢেকে যায়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
কেমন ছিল নবিজি (সা.)-এর গায়ের বর্ণ?
অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের আলোতে আমরা সবাই স্নিগ্ধতা খুঁজি, কিন্তু আপনি কি জানেন এমন এক চেহারার কথা, যার সামনে পূর্ণিমার চাঁদও ম্লান হয়ে যেত? কেমন ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে সুদর্শন মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গায়ের রং ও অবয়ব? সে রূপের উপমা দিতে গিয়ে কবিরা ক্লান্ত হয়েছেন, কিন্তু সাহাবিরা যখন রাসুল (সা.)-এর গায়ের বর্ণ সরাসরি দেখেছিলেন, তখন তাদের অনুভূতি কেমন ছিল? আর হজরত ইব্রাহিম (আ.)-কে কি কখনো সামনাসামনি দেখা সম্ভব? রাসুল (সা.)-এর অবয়বের মাঝেই লুকিয়ে আছে সেই প্রশ্নের চমৎকার এক উত্তর।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শারীরিক গঠন ও অবয়ব কেমন ছিল, তা জানা প্রতিটি মুমিনের জন্য এক আত্মিক প্রশান্তি। তিনি কেবল চরিত্রের দিক থেকেই শ্রেষ্ঠ ছিলেন না, বরং আল্লাহতায়ালা তাঁকে দান করেছিলেন এক অলৌকিক ও জ্যোতির্ময় শারীরিক সৌন্দর্য।

নবিজি (সা.)-এর দেহের রঙে এমন এক দ্যুতি ছিল, যা জোছনার আলোকেও হার মানাত। হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) এক অবিস্মরণীয় রাতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি একবার পূর্ণিমা রাত্রির স্নিগ্ধ আলোতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে লাল চাদর ও লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখলাম। তখন আমি একবার তাঁর দিকে ও একবার চাঁদের দিকে তাকাতে থাকলাম। মনে হলো তিনি আমার কাছে পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও অধিকতর চমৎকার।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, ৭৩৮৩; মিশকাত, ৫৭৯৪)

আরো পড়ুন: কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

অনেকে মনে করতে পারেন, এই সৌন্দর্য কি তরবারির মতো ধারালো বা চকচকে ছিল? বিশিষ্ট সাহাবি বারা ইবনে আযিব (রা.)-কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল?’ তিনি বললেন, ‘না; বরং তা ছিল চাঁদের মতো।’ (সহিহ বুখারি, ৩৫৫২; সহিহ ইবনে হিব্বান: ৬২৮৭)

মুহাদ্দিসিনরা এর ব্যাখ্যায় বলেন, তরবারির সঙ্গে তুলনা করলে চেহারা অতিরিক্ত লম্বাটে ও তীব্র তীক্ষ্ণ শুভ্রতার ধারণা তৈরি হয়, যাতে চোখের জন্য আরামদায়ক স্নিগ্ধতা থাকে না। পক্ষান্তরে, চাঁদের আলো যেমন গোলাকার, উজ্জ্বল ও চোখ জুড়ানো, নবিজি (সা.)-এর পবিত্র অবয়বও ছিল ঠিক তেমনই শান্ত ও মায়াবী।

আরো পড়ুন: কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন,‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শুভ্রতায় ছিলেন রৌপ্যের (রুপা) মতো এবং তাঁর চুলগুলো ছিল কিছুটা কোঁকড়ানো।’ (জামেউস সগীর, ৮৭৪৮; সিলসিলা সহিহাহ, ২০৫৩)G ইসলামিক স্কলারদের মতে, নবিজি (সা.)-এর গায়ের রং নিরেট বা ফ্যাকাশে সাদা ছিল না, বরং তা ছিল লাল মিশ্রিত চমৎকার উজ্জ্বল সাদা। এই লাবণ্য ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠনের কথা উল্লেখ করে পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা নবিজি (সা.)-এর শেষ প্রত্যক্ষদর্শী সাহাবি আবু তুফায়েল (রা.) বলেন, ‘তিনি ছিলেন শুভ্রকায় ও লাবণ্যময় সুসামঞ্জস্যপূর্ণ।’(সহিহ মুসলিম, ৪৪১; মিশকাত,৫৭১৪)

মিরাজের রাতে রাসুল (সা.)-কে পূর্ববর্তী নবিদের অবয়ব দেখানো হয়েছিল। সেখানে তিনি তাঁর নিজের সঙ্গে জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর এক অবিশ্বাস্য মিল খুঁজে পান। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি ঈসা (আ.)-কে উরওয়া ইবনে মাসউদের সাদৃশ্যপূর্ণ এবং ইব্রাহিম (আ.)-কে দেখতে পাই, যিনি তোমাদের সঙ্গীর (অর্থাৎ নিজের) সঙ্গে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।’ (মুসলিম, ৪৪১; মুসনাদে আহমাদ, ১৪৬২৯)

অর্থাৎ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চেহারা ও অবয়ব কেমন ছিল, তা বুঝতে হলে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দৈহিক সৌন্দর্যের উপমাটিই সবচেয়ে পারফেক্ট। নবিজি (সা.)-এর এই অলৌকিক রূপের বিবরণ আমাদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি ভালোবাসাকে আরও গভীর করে তোলে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ১০ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১১ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন