ঢাকা ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পটিয়ায় যুবক খুন কাপ্তাই হ্রদে ডুবে চবি শিক্ষার্থীর  মৃত্যু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁতীদলের আলোচনা সভা সরকারি বাঙলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা ১০ জুলাই জবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্রকাশ্যে মানববন্ধন পটিয়া প্রেস ক্লাব কার্যালয় দখলচেষ্টার অভিযোগে থানায় অভিযোগ অনার্স কোর্স থেকে বাংলা ও ইতিহাস বাদ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই: শিক্ষামন্ত্রী ‘শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা’ মানিকগঞ্জে পতাকা টাঙাতে গিয়ে ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু সিংড়ায় তিন কুকুর টেনে তুলল মায়ের বস্তাবন্দি মরদেহ! কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত? ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াত ইসলামও ইসলাম নয় শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় বিএনপি নেতার সাফাই নারায়ণগঞ্জে ময়লার গাড়িরচাপায় ছাত্রদল নেতাসহ নিহত ২ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ সহায়তা দেবে জাপান ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগসূত্র স্থাপন করতে চায় বাংলাদেশ’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় পদ্মা সেতুতে সৌরবিদ্যুতের ইতিবাচক প্রভাব, এক মাসেই সাড়ে ৪ লাখ টাকা সাশ্রয় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে বয়স বৃদ্ধি ও বেসরকারি চিকিৎসকদের বেতন কাঠামোর সুপারিশ হেডফোন লাগিয়ে হাঁটার সময় ট্রেনের ধাক্কায় কিশোর নিহত গাজীপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার সিলেটে স্কুলছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু, মরদেহর ময়নাতদন্ত না করতে চিরকুট! রাজস্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ: এনবিআরের লক্ষ্য কতটা বাস্তবসম্মত? ভূমিকম্পে ক্ষতির বড় কারণ শুধু কম্পন নয়, বরং খারাপ মানের ডিজাইন ও নির্মাণ পাকিস্তানে টিটিপি’র হামলায় ৬ আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট, শৃঙ্খলা ফেরাতে ৬ নির্দেশনা জাতীয় পরিবেশ পদক পেলেন ঢাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিতে ১৪৯৬ কোটি টাকা জরিমানা: অর্থমন্ত্রী ঝিনাইদহে ভাতিজার লাঠির আঘাতে চাচার মৃত্যু
Nagad desktop

রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে রমজান কাটাতেন—১৭ অসুস্থ হলে যা করতেন

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:০০ এএম
অসুস্থ হলে যা করতেন
অসুস্থ ব্যক্তির ছবি । সংগৃহীত

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মাঝে যে এ (রমজান) মাসকে পাবে; সে যেন এতে রোজা রাখে। কিন্তু যে অসুস্থ অথবা সফরে থাকে, তাকে অন্যান্য দিনে রোজার এ সংখ্যা পূর্ণ করতে হবে। আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন চান না।’ (সুরা বাকারা, ৮৫)অসুস্থতা মানুষের জীবনের সত্য একটি বিষয়। মানুষ নানা সময় নানা কারণে অসুস্থ হয়ে থাকে। অসুস্থতাও আল্লাহতায়ালার এক প্রকারের নিয়ামত। কারণ অসুস্থ হলে সুস্থতার নিয়ামতের মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়। অসুস্থতা আমাদের জীবনের একটি অংশ।

 

তাই যেকোনো মানুষের যেকোনো সময় অসুস্থ হতে পারেন৷ অসুস্থতা থেকে বাদ পড়েননি রাসুলুল্লাহ (সা.)। মানুষ যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে, সে ব্যাপারে ইসলাম জোর তাগিদ দিয়েছে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) উৎসাহিত করেছেন। তিনি নিজে অসুস্থ হলেও চিকিৎসা গ্রহণ করতেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা গ্রহণ করো। কেননা আল্লাহতায়ালা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি; শুধু বার্ধক্যরোগ ব্যতীত।’ (আবু দাউদ, ৩৮৫৫)।


অভিজ্ঞ ব্যক্তির দিকনির্দেশনায় চিকিৎসা করা হলো ইসলামের নির্দেশ। হাদিস শরিফে এসেছে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) হৃদরোগে আক্রান্ত হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে তখনকার প্রসিদ্ধ ডাক্তার হারেস ইবনে কালদাহর কাছে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (আবু দাউদ, ৩৮৭৫)।
অপর একটি বর্ণনায়ও এসেছে, জনৈক রোগাক্রান্ত ব্যক্তিকে রাসুল (সা.) গোত্রের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। (মুসনাদে আহমদ, ২৩১৫৬)।


উসামা ইবনু শারিক (রা.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, মফস্বলের লোকেরা বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা কি রোগীর চিকিৎসা করব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা চিকিৎসা করো। আল্লাহতায়ালা এমন কোনো রোগ সৃষ্টি করেননি, যার ওষুধ বা নিরাময়ের ব্যবস্থা রাখেননি। রোগও দিয়েছেন, রোগ সারাবার ব্যবস্থাও করেছেন। কিন্তু একটি রোগের কোনো নিরাময় নেই। সাহাবীগণ বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!  সে রোগটি কি?’ তিনি বললেন, ‘বার্ধক্য।’ (ইবনে মাজাহ, ৩৪৩৬, তিরমিজি, ২০৩৮)।


রোগের কারণে যদি স্বাভাবিক সুস্থতা হারিয়ে ফেলে, ডাক্তার যদি বলে যে, এ সিয়ামের কারণে রোগের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে, বা রোগীর ক্ষতি হতে পারে বা সুস্থতা বিলম্বিত হতে পারে, তবেই রোজা ভাঙবে। কিন্তু সামান্য অসুখ যেমন মাথাব্যথা, সর্দি, কাশি অনুরূপ কোনো সাধারণ রোগ-বালাইয়ের কারণে সিয়াম ভঙ্গ করা জায়েজ হবে না। মনে রাখতে হবে যে, রোগের কারণে যেসব সিয়াম ভঙ্গ হবে ঠিক অনুরূপ সংখ্যক সিয়াম পরে কাজা করতে হবে।


অসুস্থতার কারণে, সফরে থাকলে ও অভিজ্ঞ ডাক্তারের বিবেচনায় রোজা রাখতে অক্ষম হন এবং পরে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তা হলে সুস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে রোজার কাজা আদায় করতে হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি অসুস্থতা বা বার্ধক্যজনিত কারণে রোজা রাখতে একেবারেই অক্ষম হন, অর্থাৎ তার দ্বারা রোজা রাখা কোনোভাবেই সম্ভব না হয়, তা হলে শরীয়ত তার জন্য ফিদিয়া আদায়ের ব্যবস্থা রেখেছে। যে রোগীর আরোগ্য লাভের আশা নেই তিনি রোজা না রেখে প্রতিদিনের বদলে একজন মিসকিনকে খাওয়াবেন। কেননা তিনি বৃদ্ধ লোকের হেতুর অধিভুক্ত। (আল-মুগনি, ৪/৩৯৬)


রোগীর অবস্থা দুটো : ১. মোটেই রোজা রাখার সক্ষমতা না থাকা; তার জন্য রোজা না-রাখা ওয়াজিব। ২. কিছু শারীরিক ক্ষতি ও কষ্টের সাথে রোজা রাখতে সক্ষম হওয়া। এ ব্যক্তির জন্য রোজা না-রাখা মুস্তাহাব। এমতাবস্থায় কেবল অজ্ঞ লোকই রোজা রাখে। (কুরতুবি, ২/২৭৬)


লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

 

কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
কোথায় আমাদের সতর্ক থাকা উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

রাগ ও সন্তুষ্টি-এই দুইটি হলো মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ মানুষের মাঝে এই দুটি স্বভাব সৃষ্টি করেছেন কল্যাণের জন্য, হিতের জন্য। যে ব্যক্তি একেবারেই রাগ করে না, সে অসম্পূর্ণ। তবে রাগের ব্যবহার তার যথাযথ স্থানে হওয়া উচিত। সীমা ছাড়িয়ে গেলে তা ক্ষতি ডেকে আনে।
রাগ সন্তুষ্টির বিপরীত। আর এটি মানুষের মজ্জাগত স্বভাব। রাগ উঠলে মানুষের হৃদয়ে রক্ত টগবগ করতে থাকে, গলা ফুলে ওঠে, চেহারায় তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে, আর তখন সে ব্যক্তি যার উপর রেগেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আগুনে পুড়তে থাকে।

আমাদের মাঝে এমন কেউ নেই, যার ভেতর রাগ জাগে না। কিন্তু জ্ঞানী ও বিবেকবান মুমিন রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কোনো মন্দ আচরণ করেন না। আর নির্বোধ ও জাহিল ব্যক্তি ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নানা নিন্দনীয় কাজে লিপ্ত হয়-যেমন হত্যাকাণ্ড, জখম, কটু বাক্য, কিংবা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার মতো গর্হিত অপরাধ। পক্ষান্তরে এই রাগ যদি যথাস্থানে, সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে সে রাগও হতে পারে কল্যাণের বাহন।

হাদিসে বর্ণিত এই লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এমন একটি উপদেশ চেয়েছিল যা হবে সংক্ষিপ্ত, অথচ গভীর। লোকটি হয়তো ভেবেছিল, এই সংক্ষিপ্ত উপদেশটি তার জন্য পালন করা সহজ হবে, তাই সে বারবার করে অন্য কিছু শুনতে চাচ্ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবারই তাকে বলছিলেন, 'রাগ করবে না।' কারণ রাগের ফলে অনেক ক্ষতি ও দুঃখ-বেদনা আসে। আর বিবেকবান মুমিন তো সর্বদাই নিজেকে সংযত রাখেন।

ক্রোধের চিকিৎসা দুইটি কাজে: এক. যতদূর সম্ভব, নিজেকে ক্রোধ থেকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। দুই. আর যদি কখনো ক্রোধান্বিত হয়েই পড়েন, তাহলে সেই ক্রোধকে কার্যকর হতে দেবেন না। বরং ধৈর্য, সহনশীলতা ও পরম ক্ষমার মাধ্যমে তাকে জয় করবেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৬:০০ পিএম
আয় বাড়ছে কিন্তু বরকত কমছে কেন?
ছবি: সংগৃহীত

আজকের আধুনিক ব্যাংকিং, পুঁজিবাদ কিংবা ক্ষুদ্রঋণের এই যুগে সুদ শব্দটিকে আমরা অত্যন্ত স্বাভাবিক বা করপোরেট সংস্কৃতির অংশ বানিয়ে ফেলেছি। কিন্তু এই সুদের মনস্তাত্ত্বিক ও নৈতিক অবক্ষয় কতটা কুৎসিত হতে পারে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী ও সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুদের পাপের ৭০টি স্তর বা শাখা রয়েছে; আর তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ বা নিম্নতম স্তর হচ্ছে আপন মাতাকে বিবাহ করার মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হওয়া (ইবনে মাজাহ, ২৮২৬)।

অনেকেই মনে করেন, নিরুপায় হয়ে সুদের চুক্তিপত্র বা দলিলে স্বাক্ষর করলে কিংবা কেবল সাক্ষী থাকলে হয়তো বড় কোনো অপরাধ হয় না। কিন্তু ইসলামের অর্থনৈতিক নীতিতে অপরাধের সহযোগিতা করাও সমান অপরাধ। হযরত জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক (হিসাবরক্ষক) এবং সুদের দুই সাক্ষীর ওপর অভিশাপ বা লানত করেছেন। নবিজি (সা.) স্পষ্ট করে বলেন, এই ভয়ংকর অভিশাপ ও পাপের ভাগীদার হিসেবে তারা সবাই সমান (মুসলিম, ২৮০৭)।

আজকের সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ‘স্পিড মানি’ বা উপহারের নামে টেবিলের নিচ দিয়ে যে অর্থ লেনদেন হয়, তাকে আমরা বকশিশ বলে বৈধ করতে চাই। অথচ প্রশাসনিক সততার মাপকাঠি নিয়ে বুরায়দাহ (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আমি যাকে নির্দিষ্ট ভাতা বা বেতন দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি, সে যদি সেই নির্ধারিত ভাতা ব্যতীত অন্য কোনো কিছু (বকশিশ বা অতিরিক্ত অর্থ) গ্রহণ করে, তবে তা হবে স্পষ্ট ‘খিয়ানত’ বা চরম বিশ্বাসঘাতকতা (আবু দাউদ, ৩৭৪৮)।

বর্তমান সময়ে সরকারি অনুদান, জনকল্যাণের বাজেট কিংবা অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার প্রবণতা সমাজে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অথচ পরকালের আদালতে এর হিসাব অত্যন্ত কঠিন। হযরত খাওয়ালাহ আনছারী (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিছু লোক আল্লাহর সম্পদ (জনগণের বা রাষ্ট্রের সম্পদ) অন্যায় ও অবৈধভাবে ভক্ষণ বা ভোগ করে; কিয়ামতের দিন তাদের জন্য অবধারিতভাবে রয়েছে জাহান্নামের আগুন (বুখারি, ৩৭৪৬)।

জীবনের প্রতিটি উপার্জনকে হালাল ও দুর্নীতিমুক্ত রাখা কেবল ধর্মীয় দায়িত্বই নয়, বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রধান শর্ত। আসুন, সুদের ভয়াবহতা ও আমানতের খিয়ানত থেকে নিজেকে দূরে রাখি, যেন আমাদের প্রতিটি লোকমা হয় পবিত্র ও বরকতময়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

হাদিসের কথা যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই

আধুনিক সমাজে অপরাধ আড়াল করতে মানুষ কত ফন্দিই না আঁটে! কিন্তু এমন এক অলৌকিক বিচারব্যবস্থার বিধান রয়েছে, যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হযরত উবাদাহ ইবনু ছামেত (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যভিচারের কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, অবিবাহিত অপরাধীদের জন্য একশ বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন এবং বিবাহিতদের জন্য চরম শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপের বিধান নির্ধারিত (মুসলিম, ৩৫৫৮)। হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসেও বিবাহিত ব্যভিচারী, খুনি এবং আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কঠোর শাস্তির কথা বলা হয়েছে (আবু দাউদ, ৪৩৫৩)।

সমাজে কিছু অপরাধের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক মাত্রা এতটাই কুৎসিত যে, স্রষ্টা স্বয়ং তাদের প্রতি বিমুখ হন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিন শ্রেণির লোকের দিকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকাবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হলেন, বার্ধক্যে উপন্ন হওয়া ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহঙ্কারী দরিদ্র ব্যক্তি (মুসলিম, ৫১০৯)।

অপরাধ স্বীকার করে নিজেকে শুধরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য মনস্তাত্ত্বিক খণ্ডচিত্র পাওয়া যায় সাহাবি মায়েয ইবনে মালেক (রা.) এবং গামেদি গোত্রের এক নারীর ঘটনায়। তারা নিজে থেকে রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে নিজেদের ব্যভিচারের অপরাধ স্বীকার করে পবিত্র করার আকুতি জানান। রাসুল বারবার তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিলেও তারা নিজেদের দাবিতে অটল থাকেন। এমনকি গামেদি নারী গর্ভবতী থাকায় সন্তান প্রসব এবং পরে তার দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত রুটির টুকরো হাতে না আসা অবধি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন ও শাস্তি মাথা পেতে নেন। তাদের এই খাঁটি অনুশোচনা দেখে রাসুল (সা.) বলেন, তারা এমন খালেছ তওবা করেছে, যা সমস্ত উম্মত বা কোনো বড় জালেমের মাগফিরাতের জন্যও যথেষ্ট (মুসলিম, ৩৫৬২)।

লোকচক্ষুর আড়ালে করা পাপের পরকালীন পরিণতি কেমন হতে পারে, তা রাসুল (সা.)-এর দেখা একটি অলৌকিক স্বপ্নে স্পষ্ট হয়। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) বর্ণিত দীর্ঘ হাদিসে দেখা যায়–তন্দুরের মতো এক সংকীর্ণ ও লেলিহান অগ্নিগর্ভে উলঙ্গ নারী-পুরুষরা জ্বলছে। সঙ্গী ফেরেশতা জিবরাঈল ও মিকাঈল (আ.) জানান, তারা মূলত দুনিয়ার ব্যভিচারী বা জেনাকারীর দল (বুখারি, ৪৬২১)। সেই স্বপ্নে কোরআন থেকে গাফেলদের মাথায় পাথর নিক্ষেপ এবং মিথ্যাবাদীদের গাল সাঁড়াশি দিয়ে চেরার দৃশ্যও দেখানো হয়।

আইন ও সমাজের চোখ ফাঁকি দেওয়া গেলেও নিজের কর্ম ও বিবেকের হাত থেকে বাঁচার উপায় নেই। সাময়িক মোহের পেছনে না ছুটে মায়েয বা গামেদি নারীর মতো অনুতপ্ত হয়ে নিজের জীবনকে পবিত্র রাখাই হোক আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১০:১৩ এএম
কেমন ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মুখ, নয়ন ও চরণ
ছবি: সংগৃহীত

আপনি কি কখনো এমন কোনো নয়নের কথা কল্পনা করেছেন, যার শুভ্রতার মাঝে লুকিয়ে ছিল এক মায়াবী লালিমা? কিংবা এমন এক অনন্য বাচনভঙ্গির কথা, যা কোনো কৃত্রিম মাইক্রোফোন ছাড়াই হাজারও মানুষের জনসমুদ্রে স্পষ্ট শোনা যেত? সাহাবি হযরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) যখনই প্রিয় নবি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারার দিকে তাকাতেন, তাঁর দৃষ্টি থমকে যেত নবিজির চোখ এবং মুখের এক অপার্থিব সৌন্দর্যের কাছে। চলুন, আজ নবিজির মুখাবয়ব, ডাগর চক্ষু এবং পায়ের গোড়ালির চমৎকার এক শারীরিক রহস্য উন্মোচন করি।

হাদিসের নিখুঁত পরিভাষা ও সাহাবিদের বিবরণ থেকে জানা যায়, আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর মুখ মোবারক ছিল বেশ প্রশস্ত (মুসলিম,৬২১৬)। আরবের প্রখ্যাত বর্ণনাকারী সিমাক (রহ.) এর ব্যাখ্যায় বলেন, এর অর্থ হলো– তিনি ‘বড় মুখগহ্বর বিশিষ্ট’ বা সুন্দর ও সুললিত বাচনভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। মানব শরীরের গঠনশৈলী ও প্রাচীন আরবের অলঙ্কারশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রশস্ত মুখগহ্বর হওয়া উচ্চ কণ্ঠস্বর, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং অসাধারণ বাগ্মিতার লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি যখন কথা বলতেন, তখন প্রতিটি শব্দ মুক্তোর মতো ঝরে পড়ত এবং দূর-দূরান্তের মানুষও তা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই শুনতে পেত।

নবিজি (সা.)-এর চোখের গঠন ছিল অতুলনীয়। তিনি ছিলেন ডাগর বা বড় চক্ষুর অধিকারী (মুসলিম,৬২১৬)। তাঁর চোখের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল, চোখের সাদা অংশের মাঝে এক ধরনের হালকা ও সূক্ষ্ম লালিমার আভা ছড়িয়ে থাকত (মুসনাদে আহমাদ, ২১০২৪)। এটি কোনো ক্লান্তির লক্ষণ ছিল না, বরং এই স্বাভাবিক লালিমা তাঁর ডাগর চোখ দুটিকে এক অনন্য তেজস্বী, গম্ভীর এবং মায়াবী রূপ দান করেছিল, যা দেখামাত্রই মানুষের অন্তরে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হতো।

নবিজি (সা.)-এর পায়ের গোড়ালি মোবারক ছিল সাধারণ মানুষের তুলনায় স্বল্প মাংসল বা সরু (সহিহ ইবনে হিব্বান,৬২৮৯)। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, পায়ের গোড়ালি হালকা ও সরু হওয়া দ্রুত হাঁটার ক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং ক্লান্তিহীন পথ চলার শারীরিক সক্ষমতাকে নির্দেশ করে। এই চমৎকার শারীরিক কাঠামোর কারণেই তিনি আরবের উত্তপ্ত বালুকারাশির ওপর দিয়ে মাইলের পর মাইল ক্লান্তিহীনভাবে হেঁটে দাওয়াতের কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন (জামেউস সগির, ৮৯৫২)।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ১১:১৬ এএম
৯ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে। 

আজ ৯ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০১ মিনিট

আসর

৪.৩৬ মিনিট

মাগরিব

৬.৪৭ মিনিট

 

এশা

৮.১৩ মিনিট

ফজর (১০ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন