ঈদের নামাজের জন্য আজান দিতেন না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজের জন্য আজান দিতেন না।’ (মুসলিম : হাদিস নং ৮৮৭)
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে প্রথম রাকাতে সাতবার এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচবার তাকবির বলতেন। (আবু দাউদ : হাদিস নং ১১৪৯)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ঈদুল ফিতরের নামাজের তাকবির হচ্ছে প্রথম রাকাতে সাতটি এবং দ্বিতীয় রাকাতে পাঁচটি এবং উভয় রাকাতেই তাকবিরের পর কিরাত পড়তে হবে।’ (আবু দাউদ : হাদিস নং ১১৫১)
আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গী আবু আয়েশা (রহ.) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাঈদ ইবনুল আস (রা.) একবার আবু মুসা আশয়ারি এবং হুজাইফা বিন ইয়ামেন (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের নামাজে কীভাবে তাকবির বলতেন? আবু মুসা আশয়ারি (রা.) বললেন, তিনি জানাজার নামাজের তাকবিরের মতো প্রতি রাকাতে চার তাকবির বলতেন। (অর্থাৎ প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ অতিরিক্ত তিন তাকবির এবং দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তিন তাকবির ও রুকুর তাকবির)। এটা শুনে হুজাইফা বিন ইয়ামেন (রা.) বললেন, আবু মুসা আশয়ারি (রা.) সত্য বলেছেন।’ (আবু দাউদ : হাদিস নং ১১৫৩, ১১৫৫; মুসনাদে আহমাদ : হাদিস নং ১৯৭৩৪)
আলকামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ঈদের নামাজে ৯টি তাকবির বলতেন। প্রথম রাকাতে কিরাতের তাকবিরে তাহরিমাসহ ৪টি। অতঃপর কিরাত পড়ে তাকবির দিয়ে রুকুতে যেতেন। (সুতরাং প্রথম রাকাতে রুকুর তাকবিরসহ মোট ৫টি তাকবির হতো) দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর ৪টি তাকবির বলতেন এবং চতুর্থ তাকবিরে রুকু করতেন। মূলত অতিরিক্ত তাকবির ৬টি। (মুসান্নাফে আব্দির রাজজাক : হাদিস নং ৫৬৮৬; তাবারানি : হাদিস নং ৯৫১৭)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘ঈদের রাতে ওয়ালিদ বিন ওকবা (রহ.) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবু মাসউদ, হুজায়ফা ও আবু মুসা (রা.)-এর কাছে এই বলে লোক পাঠালেন— আগামীকাল ঈদ। অতএব (ঈদের নামাজে) তাকবির কীভাবে বলতে হবে? আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, প্রথম রাকাতে দাঁড়িয়ে চার তাকবির (তাকবিরে তাহরিমাসহ) বলে সুরা ফাতিহা এবং মধ্যম আকারের একটি সুরা পাঠ করবে। অতঃপর রুকু করবে। দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর চার তাকবির বলবে এবং চতুর্থ তাকবিরের সঙ্গে রুকু করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : হাদিস নং ৫৭০৫)
ঈদগাহে ঈদের নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নামাজ না পড়া। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেলাল (রা.)-কে নিয়ে ঈদগাহে গেলেন। তার পর ঈদের দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদগাহে ঈদের নামাজের আগে ও পরে আর কোনো নামাজ আদায় করেননি।’ (মুসলিম : হাদিস নং ৮৮৪)
লেখক : আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক