ঢাকা ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ
ফেসবুক অনেক ছোটখাটো রাষ্ট্রের চেয়েও শক্তিশালী: বিটিআরসি চেয়ারম্যান যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা মানেনি, অভিযোগ আরাঘচির নেতানিয়াহুর ছেলে বদলে ফেললেন নিজের নাম টানা বর্ষণে আগামীকালও বন্ধ থাকবে চবির সব পরীক্ষা বন্যা-পাহাড়ধস স্থায়ীভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চলছে সর্বাত্মক সহায়তা ৬ রেকর্ডে শুরু জাতীয় বয়সভিত্তিক সাঁতার আনোয়ারায় বন্যাদুর্গতদের পাশে জেলা ছাত্রদল ১২২ পরিবারকে উদ্ধার, ৮০টি পরিবারে ত্রাণ বিতরণ পুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দেখে মুগ্ধ মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইন মেরামতের সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩ এক মায়ের বেঁচে থাকার যুদ্ধ পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সেনা ও নৌবাহিনী সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ ফরিদপুরে দাঁড়িয়ে থাকা পিকআপে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫ প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কতদিন টানা বৃষ্টি থাকবে, জানাল আবহাওয়া অফিস নবীনদের স্বপ্নযাত্রায় অনুষ্ঠিত হলো এডাস্টের বর্ণাঢ্য নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঋণ গ্রহীতার ট্যাক্স ফাইল প্রস্তুতে সতর্ক হোন শিখা অনির্বাণ চালুর উদ্যোগ নিন বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৪ প্রাণহানি, ক্ষতিগ্রস্ত ১০ লাখের বেশি মানুষ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক কার্যক্রম চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬ মুকুট জিতলেন সামানজার সাঈদ একাত্তরে যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তাদের ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর অগণতান্ত্রিক শাসনে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে : পরীমনি মাজারের ডেগে চিরকুট: ‘ধর্ষক ও খুনিদের বিচার চাই’ আগৈলঝাড়া থানা পরিদর্শনে তথ্যমন্ত্রী, নিরপরাধকে হয়রানি না করার নির্দেশ সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বুকসমান পানির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা

হজ কত প্রকার ও কী কী?

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৫, ০৮:০০ এএম
হজ কত প্রকার ও কী কী?
বালুময় ভূমিতে পথীকের পথ চলা । ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি স্তম্ভের একটি, যা প্রতি বছর মক্কা শহরে পালিত হয়। মুসলিমদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য ইবাদত, যা একবার জীবনে ফরজ হয় যদি কেউ আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম হন। কিন্তু অনেক মুসলিম হজের বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, হজ প্রধানত তিন প্রকার। সেগুলো হলো- ১. তামাত্তু। ২. কিরান। ৩. ইফরাদ।

১.তামাত্তু : তামাত্তু হজ হচ্ছে এমন একটি হজ, যেখানে একজন মুসলমান প্রথমে ওমরা পালন করে এবং পরে হজ পালন করেন একই বছর। এটি বিশেষভাবে ওই মুসলিমদের জন্য যারা মক্কা বা তার আশপাশে অবস্থান করছেন এবং যারা আলাদা আলাদা করে ওমরা ও হজ সম্পাদন করতে চান। তামাত্তু হজে ওমরা পালন করা হয় হজের আগে। হজ ও ওমরার মধ্যে ইহরাম খুলে দেওয়া হয় এবং পরে আবার নতুন করে ইহরাম বাঁধতে হয়। এ ধরনের হজ সাধারণত আলাদা আলাদা সময়ে পালিত হয়, তবে তা একই বছরেই করতে হয়।

২.কিরান: কিরান হজ হলো এমন হজ যেখানে একজন মুসলমান ওমরা ও হজ একত্রে করেন, কিন্তু তার মধ্যে ইহরাম খুলে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ একজন মুসলমান ইহরাম বাঁধে এবং তা পুরো হজ ও ওমরা পালনকালীন অবস্থায় থাকে। কিরান হজে, ওমরা এবং হজ একই সঙ্গে পালিত হয়, কিন্তু ইহরাম খুলে দেওয়ার সুযোগ থাকে না। এটি তামাত্তু থেকে কঠিন হলেও, বেশির ভাগ মুসলমান কিরান হজ পছন্দ করেন কারণ এটি একটি সম্মানজনক পদ্ধতি। 

৩. ইফরাদ : ইফরাদ হজ হলো একমাত্র হজ পালন করা, যেখানে একজন মুসলমান কেবল হজ পালন করেন এবং ওমরা করার প্রয়োজন হয় না। এটি সাধারণত মক্কা থেকে দূরবর্তী অঞ্চলের মুসলমানদের জন্য যারা প্রথমবারের মতো হজে যান। এ হজে ওমরা পালনের প্রয়োজন নেই। শুধু হজ পালন করা হয়। এটি ঐসব মুসলমানদের জন্য সহজ, যারা হজের আগে ওমরা করতে ইচ্ছুক নন। 

হজ ইসলাম ধর্মের একটি অপরিহার্য স্তম্ভ, যা তিনটি মূল প্রকারে পালিত হয়: তামাত্তু, কিরান এবং ইফরাদ। প্রতিটি প্রকারের হজের নিজস্ব নিয়ম এবং উদ্দেশ্য রয়েছে, তবে সবগুলোই মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের একটি মাধ্যম। হজের সময় পালিত প্রতিটি কাজ মুসলমানদের একত্রিত করে এবং একটি চিরকালীন আত্মিক শক্তি দেয়।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক

 

কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
কোরআনে বর্ণিত চারটি সুপারফুড
ছবি: সংগৃহীত

মানবজাতির আত্মিক ও জাগতিক কল্যাণের জন্য অবতীর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হলো পবিত্র কোরআন। আধুনিক চিকিৎসা ও পুষ্টিবিজ্ঞান আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে ঘোষিত কোরআনি নির্দেশনার যে অনন্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি খুঁজে পাচ্ছে, তা এক বিস্ময়কর সত্য। কোরআন কেবল ধর্মীয় বিধিনিষেধের গ্রন্থ নয়, বরং এতে সুষম খাদ্য ও সুস্থ জীবনধারার একটি নিখুঁত ফ্রেমওয়ার্ক দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে কেবল হালাল বা বৈধ হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়নি, বরং এর সঙ্গে ‘তৈয়্যিব’ বা পবিত্র, বিশুদ্ধ ও গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট হওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও তৈয়্যিব (পবিত্র/উৎকৃষ্ট), তা থেকে তোমরা আহার করো। (সুরা বাকারাহ, ১৬৮)

পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় তৈয়্যিব হলো এমন খাদ্য যা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত এবং শরীরের জন্য সম্পূর্ণ উপকারী। অর্থাৎ, প্রক্রিয়াজাত ও কৃত্রিম খাবার এড়িয়ে প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করাই কোরআনের মূল বার্তা। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থূলতা এবং অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে সৃষ্ট রোগব্যাধি (যেমন–ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ)।

কোরআন এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সমাধান দিয়েছেন, তোমরা খাও এবং পান করো, কিন্তু অপচয় করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না। (সুরা আরাফ, ৩১) বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে, ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ বা পরিমিত আহার কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্থতার চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে, যা এই আয়াতে প্রতিফলিত। পবিত্র কোরআনে বেশকিছু সুনির্দিষ্ট খাদ্যের উল্লেখ রয়েছে, যা আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানীদের কাছে সুপারফুড হিসেবে সমাদৃত

মধু: সুরা আন-নাহলের ৬৯ নম্বর আয়াতে মধুকে ‘মানবজাতির রোগ নিরাময়কারী’ বলা হয়েছে। পুষ্টিবিজ্ঞান বলে, মধুতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মিনারেল এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

খেজুর: সুরা মারিয়ামে প্রসববেদনার সময় হজরত মারিয়াম (আ.)-কে খেজুর খাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজ্ঞান বলছে, খেজুরে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার জরায়ুর পেশিকে সচল করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়।

জলপাই ও ডালিম: কোরআনে জলপাই (অলিভ) এবং ডালিমের ঔষধি গুণের প্রশংসা করা হয়েছে। আধুনিক কার্ডিওলজি নিশ্চিত করেছে যে, অলিভ অয়েলে থাকা ‘মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড’ রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

আল কোরআন মানব শরীরকে একটি পবিত্র আমানত হিসেবে গণ্য করে। এর সঠিক সুরক্ষায় পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। পরিশেষে বলা যায়, পুষ্টিবিজ্ঞান আজ গবেষণার মাধ্যমে সুস্থতার যেসব সূত্র আবিষ্কার করছে, আল কোরআন ১৪০০ বছর আগেই মানবজাতিকে সেই ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাসের পথ দেখিয়ে রেখেছে।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, রাজবাড়ী

১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১১ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫৩ মিনিট

 

এশা

৮.১ মিনিট

ফজর (১২ জুলাই)

.৫৩ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
চারিত্রিক অবক্ষয় রোধে পর্দা রক্ষাকবচ
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের সমাজে নারী হেনস্তা, অপহরণ, ধর্ষণ ইত্যাদি ঘটনাগুলো সামনে এলে অনেকের মধ্যেই ‘পর্দা’ নিয়ে প্রচণ্ড আলাপন দেখা যায়। বলা হয়ে থাকে, নারীরা যথাযথ পর্দা করলে এরকম বিপদে পড়তে হয় না। পর্দার বিধান শুধু নারীদের জন্যই নাজিল হয়েছে, ব্যাপারটা আসলে এমন নয়। বরং পর্দা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অবশ্য পালনীয়।

তবে নারী-পুরুষের পর্দার জন্য আল্লাহপাক প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহতায়ালা নারীদের পর্দার আগে পুরুষের পর্দার কথা বলেছেন, এর বিশেষ তাৎপর্য অবশ্যই রয়েছে। সমাজের বেশির ভাগ ধর্ষণ, নারী হেনস্তামূলক ওকারেন্সে পুরুষকেই অগ্রগামী দেখা যায়। তাই পুরুষ তার দৃষ্টি সংযত রাখলে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করলে সমাজ থেকে এ জাতীয় অশ্লীলতা ও পাপাচার অনেকাংশে কমে যাবে।

শব্দটি মূলত ফারসি। যার আরবি প্রতিশব্দ হিজাব। পর্দা বা হিজাবের বাংলা অর্থ আবৃত করা, ঢেকে রাখা, আবরণ, আড়াল, অন্তরায়, আচ্ছাদন, বস্ত্রাদি দ্বারা সৌন্দর্য ঢেকে নেওয়া, আবৃত করা বা গোপন করা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়, নারী-পুরুষ উভয়ের চারিত্রিক পবিত্রতা অর্জনের নিমিত্তে উভয়ের মাঝে শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত যে আড়াল বা আবরণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে, তাকে পর্দা বলা হয়। মূলত হিজাব বা পর্দা অর্থ শুধু পোশাকের আবরণই নয়, বরং সামগ্রিক একটি সমাজব্যবস্থা, যাতে নারী-পুরুষের মধ্যে অপবিত্র ও অবৈধ সম্পর্ক এবং নারীর প্রতি পুরুষের অত্যাচারী আচরণ রোধের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।

আল্লাহতায়ালা নারী ও পুরুষদের প্রতি পর্দা পালনের বিষয়টি কোরআনুল কারিমে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে নবি! আপনি মুমিন পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্র। তারা যা কিছু করে আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত এবং হে নবি! আপনি ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিচু রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।

তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুষ্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক, অধিকারভুক্ত দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের গোপন সাজসজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনরা, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা নুর, ৩০-৩১)

আবার নারী এবং পুরুষের পর্দার স্বরূপ কেমন হবে, হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসেই প্রমাণ পাওয়া যায়।
বিশ্বনবি (সা.)-এর অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.)-এর আগমনে প্রিয়নবির নসিহতটি নারী-পুরুষ উভয়ের মনে রাখা প্রয়োজন।
উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আমি একদা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ছিলাম। উম্মুল মুমিনিন মায়মুনা (রা.)-ও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম উপস্থিত হলেন। এটি ছিল পর্দা বিধানের পরের ঘটনা। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তোমরা তার সামনে থেকে সরে যাও। আমরা বললাম, তিনি তো অন্ধ, আমাদের দেখছেন না। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরাও কি অন্ধ? তোমরা কি তাকে দেখছ না? (আবু দাউদ, ৪১১২; তিরমিজি, ২৭৭৯)
উল্লেখিত হাদিস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে জানা যায় যে, কোনো নারী পর্দার ভেতরে থেকে কোনো পুরুষকে দেখাও বৈধ নয়। পুরুষের জন্য যেমন নারীদের সঙ্গে অবাধ দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ নয়; ঠিক তেমনি নারীদের জন্য পুরুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ নয়।

আল্লাহতায়ালা অন্যত্র আয়াতে জানিয়ে দেন, নারীদের কীভাবে ঘর থেকে বের হওয়া লাগবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা আহজাব, ৫৯)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, আল্লাহতায়ালা মুমিন নারীদের আদেশ করেছেন, যখন তারা কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে, তখন যেন মাথার ওপর থেকে ওড়না/চাদর টেনে স্বীয় মুখমণ্ডল আবৃত করে। আর (চলাফেরার সুবিধার্থে) শুধু এক চোখ খোলা রাখে। (ফাতহুল বারি ৮/৫৪) 
ইবনে সিরিন বলেন, আমি (বিখ্যাত তাবেয়ি) আবিদা [সালমানি (রাহ.)]-কে উক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, কাপড় দ্বারা মাথা ও চেহারা আবৃত করবে এবং এক চোখ খোলা রাখবে।

নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই পর্দা পালন করা ফরজ। ইসলামে উভয়কেই পর্দা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পর্দা পালন করা মুসলিম নারীর অনন্য রুচিবোধ ও সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। পর্দা পুরুষের উন্নত চরিত্র গঠনের মাধ্যম; পাশাপাশি নারীর মানসম্মান, ইজ্জত-আবরুর রক্ষাকবচও বটে।
সুতরাং নারী ও পুরুষের জন্য পর্দা পালন করা সমভাবে প্রযোজ্য। এই অসুস্থ সমাজব্যবস্থায় দ্বীন ও ঈমান নিয়ে টিকে থাকতে চাইলে পর্দাকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করার বিকল্প নেই। 

লেখক: শিক্ষার্থী
আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আট কারণে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বুঝে পড়া আবশ্যক

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ এএম
আট কারণে প্রত্যেক মুসলমানের পবিত্র কোরআন বুঝে পড়া আবশ্যক
ছবি: সংগৃহীত

আমাদের ঘরে কোরআন আছে, তাকেও আছে, শেলফেও আছে–কিন্তু আমাদের জীবনে কতটুকু আছে? আমরা প্রতিদিন অসংখ্য বই, সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও নানা ধরনের তথ্য পড়ি; অথচ সেই কিতাবটির দিকে অনেক সময় ফিরেও তাকাই না, যা আমাদের স্রষ্টা নিজ হাতে হেদায়েতের আলো হিসেবে নাজিল করেছেন। কোরআন শুধু তিলাওয়াতের জন্য নয়, এটি জীবন গড়ার পথনির্দেশিকা, হৃদয়ের প্রশান্তি, জ্ঞানের উৎস এবং নাজাতের দিশারি। কেন একজন মুসলমানের কোরআন বুঝে পড়া জরুরি, কেন এটি দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি–সেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কারণ নিয়েই আজকের আলোচনা।

১. সৃষ্টির কাছে স্রষ্টার পাঠানো চিঠি, যা এখনো খোলা হয়নি
কল্পনা করুন, আপনার দরজায় একটি চিঠি এসেছে। চিঠিটি পাঠিয়েছেন আকাশ ও পৃথিবীর মালিক। চিঠিতে লেখা আছে, আপনি কে, কেন এসেছেন, কীভাবে বাঁচবেন এবং শেষে কোথায় যাবেন। আপনি কি সেই চিঠি না পড়ে রেখে দেবেন? অথচ ঠিক এটাই আমরা করছি। 
কোরআন হলো আল্লাহর সেই চিঠি, যা সমগ্র মানবজাতির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এটি কোনো একটি সম্প্রদায়ের বই নয়, এটি প্রতিটি মানুষের। কিন্তু আমরা কোরআন পড়ছি না। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একটি সুস্পষ্ট বার্তা এবং তাকওয়াবানদের জন্য হেদায়েত ও উপদেশ। (সুরা আলে ইমরান, ১৩৮)

২. এই বই পড়লে প্রতিটি অক্ষরে মেলে ১০টি নেকি, পৃথিবীর আর কোনো বইতে এমন পুরস্কার নেই
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পড়বে, তার জন্য একটি নেকি। আর একটি নেকি ১০ গুণে পরিণত হয়। আমি বলি না আলিফ-লাম-মিম একটি অক্ষর, বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর, মিম একটি অক্ষর। (তিরমিজি, ২৯১০) 

৩. হৃদয়ের মরিচা পড়েছে; আপনি হতাশ-বিষণ্ন, এসব দূর করার একমাত্র ওষুধ
আধুনিক পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় মহামারি কোনটি জানেন? ক্যানসার নয়, করোনা নয়–বিষণ্নতা। হতাশা, যাকে বলা হয় হৃদয়ের মরিচা। 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে প্রায় ৩০ কোটিরও বেশি মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছেন। কারণটা কী? মানুষ বাইরে অনেক কিছু পেয়েছে কিন্তু ভেতরে কিছু একটা হারিয়ে ফেলেছে। সেই ‘কিছু একটা’ হলো আত্মার সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার সম্পর্ক।

আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে। (সুরা রাআদ, ২৮) আরও এরশাদ হয়েছে, আমি কোরআনে এমন কিছু নাজিল করেছি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য এবং রহমত। (সুরা বনি ইসরাইল, ৮২)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, হৃদয়ে মরিচা ধরে, যেমন লোহায় মরিচা পড়ে। জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসুলাল্লাহ, পরিষ্কারের উপায় কী? তিনি বললেন, মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করা এবং কোরআন তিলাওয়াত করা। (বায়হাকি, শুআবুল ঈমান, ১৮৫৯)

২০১৯ সালে জার্নাল অব রিলিজিয়ন অ্যান্ড হেলথে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে মুসলমানরা নিয়মিত কোরআন পড়েন তাদের কর্টিসল (stress hormone) মাত্রা উল্লেখযোগ্যহারে কম এবং সেরোটোনিনের মাত্রা বেশি। অর্থাৎ কোরআন তিলাওয়াত শুধু আধ্যাত্মিক নয়, জৈবিকভাবেও মানুষকে সুস্থ রাখে। 
৪. ১৪০০ বছরে একটি শব্দও বদলায়নি, এর কারণ কী?

পৃথিবীর প্রতিটি মহাগ্রন্থই সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। বাইবেলের শত শত সংস্করণ আছে। তাওরাত সম্পাদিত হয়েছে বারবার। বেদের মূল পাণ্ডুলিপি আর অবিকৃত নেই। কিন্তু কোরআন? ৬১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আজ পর্যন্ত একটি শব্দ, একটি হরফ, একটি জবর পর্যন্ত পরিবর্তন হয়নি। আজ আপনি বাংলাদেশে যে কোরআন পড়ছেন–সেটি হুবহু একই যা সৌদি আরবে, ইন্দোনেশিয়ায়, আমেরিকায় পড়া হচ্ছে। পৃথিবীতে এখন অসংখ্য হাফেজ আছেন যারা বুকে সম্পূর্ণ কোরআন ধারণ করেন। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জীবন্ত সংরক্ষণ পদ্ধতি। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই আমি এই কোরআন নাজিল করেছি এবং নিশ্চয়ই আমিই এর সংরক্ষণকারী। (সুরা হিজর, ৯)

৫. জীবন বদলানোর, সফলতার ও বরকতের একমাত্র পথ কোরআন
মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে। একটু ভালো জীবন। একটু বেশি শান্তি। একটু বেশি সম্মান। একটু বেশি সুখ। কিন্তু প্রশ্ন হলো–সেই জীবন কোথায় খুঁজব? কোন পথে গেলে মিলবে সেই সফলতা যা ক্ষণিক নয়, টেকসই? কোথায় পাব সেই বরকত, যা শুধু দুনিয়ার সম্পদে নয়, আত্মার গভীরেও পৌঁছায়?
হাজারো বই পড়েছি। হাজারো গুরুর কাছে গেছি। কিন্তু সত্যিকারের শান্তি? সত্যিকারের সফলতার রহস্য? সেটা লুকিয়ে আছে একটি বইয়ে। যে বইটা হয়তো আপনার ঘরে আছে–কিন্তু পড়া হয়নি। যে বইয়ের মলাট হয়তো ধুলা জমে আছে–কিন্তু ভেতরে আছে আপনার পুরো জীবন বদলে দেওয়ার শক্তি। সেই বইয়ের নাম আল-কোরআন।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, এটি একটি কিতাব যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনতে পারো। (সুরা ইব্রাহিম, ১)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই এই কোরআন আল্লাহর দস্তরখান। তোমরা যতটা পারো এই দস্তরখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো। কারণ, এই কোরআন আল্লাহর রশি–স্পষ্ট আলো, উপকারী ওষুধ। যে এটি আঁকড়ে ধরবে সে রক্ষা পাবে, যে এটি অনুসরণ করবে সে নাজাত পাবে। (দারেমি, ৩৩৬৪)। এই কোরআনই বরকতের উৎস। সেই আলো, যা অন্ধকার দূর করে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো। (সুরা আনআম, ১৫৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ঘরে কোরআন তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘর তার বাসিন্দাদের জন্য প্রশস্ত হয়ে যায়, সেখানে কল্যাণ বৃদ্ধি পায়, ফেরেশতারা উপস্থিত হন এবং শয়তান পালিয়ে যায়। আর যে ঘরে কোরআন পড়া হয় না, সে ঘর তার বাসিন্দাদের জন্য সংকীর্ণ হয়, কল্যাণ কমে যায়, ফেরেশতারা চলে যান এবং শয়তান সেখানে থাকে। (দারেমি, ৩৩৯৩)

৬. কোরআনে আছে বিজ্ঞানের এমন সত্য, যা মানুষ আবিষ্কার করেছে শতাব্দী পরে
যদি বলি ১৪০০ বছর আগের একটি বই মহাবিশ্বের উৎপত্তি, মানব ভ্রূণের বিকাশ, সমুদ্রের গভীরতার রহস্য এবং পাহাড়ের শিকড়ের কথা বলেছে–আপনি কি বিশ্বাস করবেন? বিশ্বাস করতে হবে না। শুধু যাচাই করুন। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, যারা কুফরি করে তারা কি দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী একসঙ্গে মিলিত ছিল, তারপর আমি তাদের আলাদা করে দিলাম? (সুরা আম্বিয়া, ৩০) 

বিগ ব্যাং তত্ত্ব প্রথম প্রস্তাবিত হয় ১৯২৭ সালে। কোরআন এই কথা বলেছে ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে।
আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন আলাক (রক্তপিণ্ড/ঝুলন্ত বস্তু) থেকে। (সুরা আলাক, ২)
বিশ্বখ্যাত ভ্রূণবিদ্যার অধ্যাপক ড. কিথ মুর। যিনি The Developing Human গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি বলেছেন, কোরআনে ভ্রূণবিদ্যার যে বর্ণনা আছে তা এতটাই নির্ভুল যে, এটি ১৪০০ বছর আগে জানা অসম্ভব ছিল।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার ওষুধ নেই, শুধু বার্ধক্য ছাড়া। (বুখারি, ৫৬৭৮) হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক রবার্ট সাহাগুন বলেছেন, ইসলামের সোনালি যুগে (অষ্টম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী) মুসলিম বিজ্ঞানীরা যখন কোরআন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে গবেষণা করেছেন, তখনই সভ্যতার সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। 

৭. কোরআন তোমার প্রতিটি কষ্টের দিনে তোমার পাশে থাকে, যা কোনো মানুষ পারে না
জীবনে এমন মুহূর্ত আসে যখন সবাই চলে যায়। মানুষ ক্লান্ত হয়, সম্পর্ক শেষ হয়, সাফল্য মিলিয়ে যায়। কিন্তু কোরআনের একটি আয়াত সেই রাতে আলো হয়ে জ্বলে।
আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, এবং অচিরেই তোমার রব তোমাকে এত দেবেন যে, তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাবে। (সুরা দুহা, ৫) আরও এরশাদ হয়েছে, কষ্টের সঙ্গেই আছে স্বস্তি। নিঃসন্দেহে কষ্টের সঙ্গেই আছে স্বস্তি। (সুরা ইনশিরাহ, ৫-৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের ব্যাপারটাই অবাক করার মতো! তার সবকিছুই কল্যাণকর। সুখে শোকর করে, তা কল্যাণ। কষ্টে সবর করে, তাও কল্যাণ। (মুসলিম, ২৯৯৯)

৮. মৃত্যুর পরও কোরআন তোমার সঙ্গে থাকবে, আর কিছু থাকবে না
একটু থামুন। চোখ বন্ধ করুন। এমন একটি মুহূর্তের কথা ভাবুন, যখন সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবার কাঁদছে। বন্ধুরা বিদায় নিয়েছে। সম্পদ রেখে চলে যেতে হচ্ছে। ক্ষমতা, পদ, পরিচয়–সব মিলিয়ে গেছে। শুধু একা একটি অন্ধকার ঘরে। সেই মুহূর্তে আপনার সঙ্গে কী থাকবে? শুধু একটাই জিনিস থাকতে পারে–কোরআনের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। আর কিয়ামতের দিনই তোমাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে। (সুরা আলে ইমরান, ১৮৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোরআন পড়ো। কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার তিলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারী হয়ে আসবে। (মুসলিম, ৮০৪)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, কোরআন হয় তোমার পক্ষে দলিল হবে, নয়তো তোমার বিরুদ্ধে। (মুসলিম, ২২৩)

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

১০ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১০ জুলাই  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুলাই, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুলাইর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুলাইর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

আজ ১০ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার ঢাকা পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

 

জোহর

১২.০ মিনিট

আসর

৪.৩ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৪ মিনিট

এশা

৮.১ মিনিট

 

ফজর (১১ জুলাই)

.৫২ মিনিট

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: মিনিট

সিলেট: মিনিট

যোগ

খুলনা: মিনিট

রাজশাহী: মিনিট

রংপুর: মিনিট

বরিশাল: মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন