আল্লাহতায়ালা শয়তানকে অত্যন্ত কুৎসিত ও ভয়ংকর আকৃতি দান করেছেন। কোরআনে যাক্কুম বৃক্ষের বর্ণনায় বলা হয়েছে, ‘এটি এমন এক গাছ, যা জাহান্নামের তলানি থেকে উদ্ভূত; এর গুচ্ছ শয়তানের মাথার মতো (সুরা আস-সাফফাত: ৬৪-৬৫)। এই আয়াতের মাধ্যমে শয়তানের মাথাকে একটি বীভৎস গাছের সঙ্গে তুলনা করে তার বিকট রূপের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইবলিসের প্রকৃত চেহারা কারও দেখা হয়নি। তবে ইতিহাসে বহুবার সে মানুষের রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বদর যুদ্ধে সে সুরাকা ইবনু মালিকের রূপ ধারণ করে মক্কার কুরাইশদের যুদ্ধের জন্য মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু যখন ফেরেশতারা অবতরণ করে, তখন সে ভয় পেয়ে পিছু হটে যায়। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি যা দেখি, তোমরা তা দেখতে পাও না। আমি আল্লাহকে ভয় করি, আর আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।’ (সুরা আল-আনফাল: ৪৮)
ইসলামি সাহিত্যে শয়তানের আকৃতি সম্পর্কে কিছু বর্ণনা পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেন, ‘সূর্য উদিত ও অস্ত যাওয়ার সময় কোনো নামাজ আদায় করবে না। কারণ এই সময় সূর্য শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উদিত ও অস্ত যায়।’ (মুসলিম, ৮২৮)
হাদিস বিশ্লেষণে বলা হয়, ইবলিস এই সময় সূর্যের সামনে এমনভাবে অবস্থান করে যেন মনে হয়, সূর্য তার শিংয়ের মাঝখান দিয়ে উঠছে। সূর্যপূজারিরা তখন সিজদা করে, আর ইবলিস মনে করে এই সিজদা তার প্রতি। এখান থেকেই বোঝা যায়, তার দুটি শিং আছে।
ইতিহাসে কিছু কল্পিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে মধ্যযুগীয় খ্রিষ্টানদের বর্ণনায়—যেখানে শয়তানকে লম্বা শিং, জিভ, চোখা দাঁত, গাধার খুর এবং আগুনমুখো মুখসহ ভয়ংকর এক জীব হিসেবে কল্পনা করা হয়। যদিও ইসলামে এমন রূপের নির্দিষ্ট বর্ণনা নেই। তবে নিশ্চিত যে, তার আকৃতি কুৎসিত এবং ভয়প্রদ।
আল-জাহিয একটি ব্যঙ্গাত্মক কাহিনি উল্লেখ করেছেন। এক নারী শয়তানের মূর্তি বানাতে চেয়ে এক স্বর্ণকারের কাছে যায়। মূর্তির রূপ বোঝাতে না পেরে শেষমেশ একজনকে দেখিয়ে বলে, ‘এ রকম বানান।’ সেই ব্যক্তি ছিলেন আল-জাহিয নিজেই। কারণ তার চোখ দুটি কোটর থেকে কিছুটা বাইরে বেরিয়ে থাকত, যা দেখে অনেকে তাকে শয়তানের মতো বলে মনে করত।
শয়তান বাস্তবিক অর্থেই ভয়ংকর এক সত্তা। তার চেহারা যেমন কুৎসিত, তেমনি তার কাজও মানবজাতির জন্য ধ্বংসাত্মক। তবে ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, তার ফাঁদ এড়িয়ে চলা সম্ভব—আল্লাহর আশ্রয়ে থাকলেই।
লেখক : আলেম ও সাংবাদিক