নেক এবং ভালো কাজে বিলম্ব করা উচিত নয়। যখনই সুযোগ মিলবে সঙ্গে সঙ্গে করে ফেলা উচিত। ‘পরে করব’- এ কথার ওপর বসে থাকলে তা আর করা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ, কখন যে মৃত্যু চলে আসে তা অজানা।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যখন তাদের নির্ধারিত (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত হয় তখন তারা আর এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং এর চেয়ে একটু এগিয়েও আসতে পারে না। (সুরা ইউনুস, ৪৯)
তা ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাতটি বিষয়ের পূর্বে তোমরা দ্রুত নেক আমল করো। তোমরা কি এমন দারিদ্র্যের অপেক্ষা করছো, যা তোমাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দেবে? না ওই ঐশ্বর্যের, যা তোমাদেরকে দর্পিত বানিয়ে ছাড়বে? নাকি এমন রোগের, যার আঘাতে তোমরা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে? না সেই বার্ধক্যের, যা তোমাদেরকে অথর্ব করে ছাড়বে? নাকি মৃত্যুর, যা আকস্মিক এসে পড়বে? নাকি দাজ্জালের, অনুপস্থিত যা কিছুর জন্যে অপেক্ষা করা হচ্ছে, সে হচ্ছে সেসবের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট? না কেয়ামতের অপেক্ষা করছ, যে কেয়ামত কি না সর্বাপেক্ষা বিভীষিকাময় ও সর্বাপেক্ষা তিক্ত? (তিরমিজি, ২৩০৬)
আল্লাহতায়ালা শুধু নেক কাজ করতেই বলেননি; বরং রীতিমতো তাতে পরস্পরে প্রতিযোগিতা করতে আদেশ করেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা কল্যাণকর কাজে পরস্পর প্রতিযোগিতা করো।’ (সুরা বাকারা, ১৪৮)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দুটি নেয়ামত এমন, যাতে অনেক মানুষই ধোঁকায় পড়ে আছে—সুস্থতা ও অবসর।’ (বোখারি, ৬৪১২) অর্থাৎ এ নেয়ামত দুটি যখন তাদের অর্জিত হয়, তখন তারা ভাবে, এগুলো তো সব সময়ই থাকবে। আর এ ভাবনাই তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে রাখে। তাই আজকের সুযোগকে, সুস্থতা ও অবসরকে আল্লাহতায়ালার নেয়ামত মনে করে কাজে লাগাতে হবে। আজকের কাজ আজকেই করতে হবে। ভবিষ্যৎ অনুশোচনা থেকে মুক্তির পথ এই একটাই।
লেখক: আলেম ও মাদরাসা শিক্ষক