দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর সুখ নিশ্চিত করা, তার কামনা-বাসনা ও জৈবিক চাহিদা পূরণ করা স্বামীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ইসলাম এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একবার তিনি প্রজাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য মদিনার অলিগলিতে ঘুরছিলেন। হঠাৎ একটি ঘর থেকে তিনি এক নারীর বিরহের কবিতা শুনতে পেলেন। কবিতাটির মর্মার্থ ছিল, স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার অন্তর কতটা অস্থির। তিনি বুঝতে পারলেন যে, ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে জিহাদে আছেন।
এ ঘটনাটি হজরত ওমর (রা.)-কে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলল। তিনি নিজের মেয়ে, উম্মুল মুমিনিন হজরত হাফসা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে মা, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো লজ্জা নেই। আমাকে বলো, একজন নারী তার স্বামী ছাড়া কতদিন থাকতে পারে? হাফসা (রা.) বললেন, চার মাস। এই উত্তরের পর হজরত ওমর (রা.) তাৎক্ষণিকভাবে তার সিপাহসালারদের কাছে নির্দেশ পাঠালেন যে, কোনো বিবাহিত সৈনিক যেন তার স্ত্রীর কাছ থেকে চার মাসের বেশি দূরে না থাকে।এই ঘটনা থেকে এটি স্পষ্ট যে, স্ত্রীর জৈবিক চাহিদা পূরণের প্রতি লক্ষ রাখা স্বামীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
যদি কোনো স্বামী দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রবাসে থাকেন, তবে তার উচিত স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া। পবিত্র কোরআনেও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর সঙ্গে চার মাসের বেশি সময় ধরে সম্পর্ক স্থাপন না করার শপথ করে এবং তা পালন করে, তা হলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা ইলা হিসেবে গণ্য হয়। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেন, যারা স্ত্রীর সঙ্গে সঙ্গত না হওয়ার শপথ করে তারা চার মাস অপেক্ষা করবে। এর মাঝে যদি তারা প্রত্যাগত হয়, তবে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আর যদি তালাক দেওয়ার সংকল্প করে, তবে আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। (সুরা বাকারা, ২২৬-২২৭)
অতএব, স্ত্রীর চাহিদা পূরণে মনোযোগী হওয়া এবং তার প্রতি সংবেদনশীল থাকা একজন স্বামীর জন্য অপরিহার্য। এটি কেবল দাম্পত্য জীবনের সুখের জন্যই নয়, বরং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানও।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক