পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা এবং পরিপাটি সাজসজ্জা কেবল নারীদের জন্য নয়, বরং স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্যই জরুরি। এর উদ্দেশ্য হলো, একে অপরের কাছে আকর্ষণীয় থাকা এবং পরস্পরের মনে প্রশান্তি ও আনন্দ সৃষ্টি করা। এ বিষয়ে ফিকাহবিদগণ বলেছেন, স্ত্রীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সেজেগুজে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় প্রসাধনসামগ্রী সরবরাহ করা স্বামীর দায়িত্ব।এর মধ্যে রয়েছে সাবান, তেল, চিরুনি এবং বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি। এ ছাড়া গোসল ও কাপড় ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করাও স্বামীর কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এর মাধ্যমে স্ত্রী নিজেকে পরিপাটি রাখতে পারেন, যা দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে।
ইসলামের এই সৌন্দর্যময় নীতির প্রতিফলন আমরা হাদিসেও দেখতে পাই। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যেন হঠাৎ করে সফর থেকে বাড়ি ফিরে না আসে। বরং ফিরে আসার খবর আগে থেকে স্ত্রীকে জানিয়ে দেয়। এর কারণ হলো, স্বামী দীর্ঘকাল বাইরে থাকলে স্ত্রীরা সাধারণত কিছুটা অগোছালো থাকতে পারেন। আগে থেকে খবর দিলে স্ত্রী নিজেকে পরিপাটি করে সাজিয়ে নিতে পারেন।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, যাতে এলোকেশী নারী চিরুনি করে নিতে পারে এবং ক্ষৌরকর্ম সেরে নিতে পারে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, স্ত্রীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ করে দেওয়া স্বামীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এটি কেবল ভালোবাসা ও যত্নের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণ দাম্পত্য জীবন গঠনেরও একটি উপায়।
স্ত্রীর জন্য প্রসাধনসামগ্রী ক্রয় করাও দায়িত্বের অন্যতম। যেমন- সাবান, তেল, চিরুনি, আয়না, মুখের ক্রিম, পাউডার এবং সুগন্ধি ইত্যাদি। প্রসাধনীসামগ্রী শেষ হওয়ার পূর্বেই প্রয়োজন অনুধাবন করে তা ক্রয় করা স্বামীর কর্তব্য। কেননা এটি দাম্পত্য জীবনে একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ। ইসলাম এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ পারস্পরিক পরিচ্ছন্নতা এবং সৌন্দর্যের প্রতি মনোযোগ ভালোবাসা ও প্রশান্তি বৃদ্ধি করে।