দাম্পত্য জীবন পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার এক পবিত্র বন্ধন। ইসলামে স্ত্রীর জন্য স্বামীর আনুগত্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে তা শর্তসাপেক্ষ। এই আনুগত্যের সীমা হলো শরিয়তের বিধান। অর্থাৎ, যখন কোনো স্বামী এমন কোনো নির্দেশ দেন যা ইসলামের মৌলিক নীতির পরিপন্থি, তখন সেই নির্দেশ মেনে চলা স্ত্রীর জন্য আবশ্যক নয়, বরং ক্ষেত্রবিশেষে তা বর্জন করাই তার জন্য সঠিক।
বিবেকের স্বাধীনতা
স্বামীর প্রতিটি আদেশই যে মেনে নিতে হবে, এমন ধারণা ইসলাম সমর্থন করে না। বরং কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, আল্লাহর বিধানের বিরুদ্ধে কোনো মানুষের আনুগত্য বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই স্রষ্টার অবাধ্যতায়। এই মূলনীতিটি আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্যও প্রযোজ্য।
একটি হাদিসে এর চমৎকার উদাহরণ পাওয়া যায়। এক আনসারি নারী রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জানালেন যে, তার মেয়ের চুল ঝরে গেছে এবং তার জামাই চায় সে কৃত্রিম চুল লাগাক। রাসুল (সা.)-এর কাছে তিনি জানতে চাইলেন, এক্ষেত্রে তার কী করা উচিত। জবাবে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যারা কৃত্রিম চুল লাগায়, আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন।’ এখানে দেখা যায়, যদিও স্বামীর নির্দেশ ছিল, কিন্তু তা শরিয়তবিরোধী হওয়ায় রাসুল (সা.) তা মানা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
জোরপূর্বক বাধ্যবাধকতা নয়
দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর আনুগত্যের মূল উদ্দেশ্য হলো শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা। কিন্তু যখন কোনো নির্দেশ অন্যায় বা অমানবিক হয়, তখন তা মেনে নেওয়া সম্পর্কের ওপর চাপ তৈরি করে এবং বিবেকের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে, স্ত্রীর উচিত স্বামীকে বোঝানো এবং সঠিক পথের দিকে আহ্বান করা। আনুগত্য মানে অন্ধভাবে মেনে নেওয়া নয়, বরং ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে একে অপরের ভালো-মন্দের সঙ্গী হওয়া।
মনে রাখতে হবে, দাম্পত্য জীবনে আনুগত্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলেও, তা কখনোই অমানবিক বা শরিয়তবিরোধী হতে পারে না। একজন বিচক্ষণ ও সৎ স্ত্রী তার স্বামীর অন্যায় নির্দেশ মানতে অস্বীকার করে সম্পর্কের পবিত্রতা ও আল্লাহর বিধান রক্ষা করে। এটি শুধু তার ব্যক্তিগত নৈতিকতারই পরিচায়ক নয়, বরং একটি সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্যও অপরিহার্য।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক