ইসলামে প্রতিটি আমল ও ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি হলো বিশুদ্ধতা। ইবাদতের ক্ষেত্রে এই বিশুদ্ধতা দুটি মৌলিক শর্তের ওপর নির্ভর করে- আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠতা (ইখলাস) এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পূর্ণ অনুসরণ (সুন্নাহ)। এই দুই শর্তের কোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে সেই আমল যত কষ্টসাধ্যই হোক না কেন, তা আল্লাহতায়ালার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়। আর এই প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মূল কারণ হলো ‘বিদআত’ বা দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা।
১. ইবাদত প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ
বিদআতি কেন তার আমলের প্রতিদান পাবে না, তার জবাব সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণীতে নিহিত, যে এমন কোনো কাজ করে, যার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত। (মুসলিম) এই হাদিসের মর্মার্থ হলো- বিদআতি ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে এমন একটি ইবাদত বা পদ্ধতি প্রবর্তন করে, যা আল্লাহতায়ালা তাঁর শরিয়তে বৈধ করেননি। ইবাদত যেহেতু আল্লাহ প্রদত্ত, তাই দলিল ছাড়া তা করা যায় না। ফলে, ইবাদতের এই মৌলিক শর্ত- রাসুলের (সা.) অনুসরণ এখানে লঙ্ঘিত হয়।
নিছক নিয়ত যথেষ্ট নয়: অনেকেই মনে করেন, তাদের নিয়ত ভালো বা বিশুদ্ধ। কিন্তু ইসলাম স্পষ্ট করে দেয় যে, শুধু নিয়তের বিশুদ্ধতা আমল কবুলের একমাত্র মাপকাঠি নয়। রাসুলের (সা.) দেখানো পথে যদি সেই আমল করা না হয়, তবে সেই ইবাদত প্রত্যাখ্যাত হতে বাধ্য। ইবাদতের ক্ষেত্রে পদ্ধতি (সুন্নাহ) নিয়তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
২. উদ্ভাবক বা অনুসারী দায় কার?
একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, কেবল নতুন কিছু উদ্ভাবনকারীই বিদআতি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে, যারা সেই উদ্ভাবিত বিদআতি কাজে যুক্ত হয়, দায় তাদেরও। কেউ যদি বলে, আমি তো কিছু উদ্ভাবন করিনি, আমার পূর্ববর্তীরা যা করেছে, সেটাই করেছি। তাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, যদি সেই আমল তার পূর্ববর্তীরাও উদ্ভাবন করে থাকে, তবুও তা বিদআত হিসেবেই রয়ে যাবে। কোনো আমল শরিয়া সম্মত না হলে তার অনুকরণ করা বৈধ হতে পারে না।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘোষণা খুবই স্পষ্ট, যে এমন কোনো আমল করে, যার ব্যাপারে আমাদের নির্দেশ নেই...। এই ঘোষণা কেবল উদ্ভাবককে নয়, বরং সেই আমলকারীকেও অন্তর্ভুক্ত করে। যখন একজন ব্যক্তি জানে যে, কোনো কাজ শরিয়তে নেই বা রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দেননি, তবুও সে তা আমল করে, তখন সে বিদআতির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং তার আমল বাতিল বলে গণ্য হয়।
৩. আমল কবুলের দুটি মৌলিক শর্ত
অতএব, যেকোনো নেক কাজ আল্লাহতায়ালার দরবারে কবুল হওয়ার জন্য দুটি মৌলিক ও অপরিবর্তনীয় শর্ত অপরিহার্য-
১. ইখলাস (নিয়তের শুদ্ধতা): কাজটি একমাত্র আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা।
২. ইত্তিবা (সুন্নাহর পূর্ণ অনুসরণ): কাজটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী হওয়া।
এই দুটি শর্তের সমন্বয়ই নিশ্চিত করে একটি আমলের গ্রহণযোগ্যতা। বিদআতিরা দ্বিতীয় শর্তটি লঙ্ঘন করার কারণেই তাদের সব আমল প্রত্যাখ্যাত হয়, যদিও তারা ইবাদত করতে গিয়ে বহু কষ্ট সহ্য করে থাকেন। ইসলামে ইবাদতের পথে পরিশ্রমের চেয়ে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করাই বেশি জরুরি।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক