ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন
Nagad desktop

ব্যস্ত জীবনে মাধ্যমে বাবা-মায়ের খেদমত

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:০০ পিএম
ব্যস্ত জীবনে মাধ্যমে বাবা-মায়ের খেদমত
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীতে মানুষের নানা দুর্বলতার জায়গা রয়েছে। তন্মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্বল জায়গা হলো তার মা-বাবা। মায়ের এক ফোঁটা দুধের ঋণ কোনো সন্তান পরিশোধ করতে পারবে না। বাবার হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও খাটুনির এক ফোঁটা ঘামের মূল্য কোনো সন্তানই আদায় করতে পারবে না। মা-বাবা যদি সমাজে সবচেয়ে নিম্নশ্রেণিরও হয়, তবুও সন্তানের কাছে তার মূল্য অপরিসীম। মোট কথা, মা-বাবা সন্তানের দুনিয়া ও আখেরাতের অমূল্য সম্পদ। 

আধুনিক সভ্যতার এই অগ্রযাত্রায় মানুষ এত ব্যস্ত সময় পার করছে যে, তার মা-বাবাকে একটু সময় দেবে, তার ফুরসত মেলে না। জীবনযাত্রার গতি এতটাই দ্রুত যে, অনেকে চাইলেও বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন না। চাকরি, ব্যবসা, শহুরে যাতায়াত— সব মিলিয়ে ব্যস্ততা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে বাবা-মায়ের খেদমত এমন এক দায়িত্ব, যা কোনো ব্যস্ততাই কমিয়ে দিতে পারে না।

আল্লাহতায়ালা পিতা-মাতার অধিকারের গুরুত্ব এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর তাওহিদের পরই তিনি উল্লেখ করেছেন তাদের প্রতি সদাচরণকে। ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সঙ্গে উত্তম আচরণ করো।’ (সুরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। স্পষ্ট নির্দেশ প্রমাণ করে, পুরোনো যুগে হোক বা আধুনিক যুগে— যে যুগেই বসবাস হোক না কেন— খেদমত ও সদাচরণে কখনো পিছিয়ে থাকা বৈধ নয়।

ইসলামে খেদমতের মূলনীতি
বাবা-মায়ের প্রতি খেদমত শুধু একটি নৈতিক দায়িত্ব নয়; বরং এটি ইবাদতের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রবের সন্তুষ্টি নিহিত আছে বাবা-মায়ের সন্তুষ্টিতে।’ (তিরমিজি, হাদিস ১৮৯৯)
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘তুমি ও তোমার সম্পদ তোমার পিতার।’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস ২২৯১)
এগুলো প্রমাণ করে, শারীরিক সেবা, মানসিক সঙ্গ, আর্থিক সাহায্য— সবই খেদমতের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যস্ত জীবনের বাস্তবতা ও প্রযুক্তির সুযোগ
আজকের পৃথিবীতে ব্যস্ততা বাস্তব একটি চ্যালেঞ্জ। বিস্ময়করভাবে, প্রযুক্তিই এ ব্যস্ততার মাঝেও খেদমত আদায়ের নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। ইসলামি শরিয়াহ সরাসরি প্রযুক্তির কথা উল্লেখ না করলেও, ‘সক্ষমতা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন’- এই সাধারণ নীতি প্রযুক্তি ব্যবহারের বৈধতা ও গুরুত্বকে শক্ত ভিত্তি দেয়। যেমন- 

১. নিয়মিত যোগাযোগ রাখা
ভিডিও কল, ভয়েস কল, মেসেজ ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা যায়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন— ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা সদাচরণের অন্তর্ভুক্ত।’ যদিও তারা সামনে উপস্থিত না থাকলে মুখ দেখা সম্ভব নয়, কিন্তু ভিডিও কলের মাধ্যমে প্রতিদিন তাদের খোঁজ নেওয়া— এটিও আজকের যুগে খেদমতেরই অংশ। অনেক সময় বাবা-মা শুধু সন্তানদের কণ্ঠ শুনেই সান্ত্বনা পান—এটিকে বাদ দিলে খেদমতের একটি বড় দিক নষ্ট হয়ে যায়।

২. স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা
বাবা-মা দূরে থাকলে তাদের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা চলবে না। স্মার্ট ওয়াচ, হেলথ মনিটর, রিমোট চেক-আপ অ্যাপ ইত্যাদির মাধ্যমে তাদের রক্তচাপ, সুগার, ওষুধ নেওয়ার সময়— সব নজরদারি করা যায়। এটি ‘কোনো প্রাণী তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ববদ্ধ করা হয় না।’ (বাকারা ২ : ২৮৬)
এই নীতির আওতায় পড়ে।

৩. আর্থিক খেদমত করা
ব্যস্ত ছেলে-মেয়েরা চাইলে বাবা-মায়ের খরচ, চিকিৎসা, বাজার— সব ডিজিটাল ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। এটি আর্থিক খেদমত, যা কোরআন-হাদিস অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক বেদুইন যখন জানতে চাইলেন তার সম্পদ থেকে পিতা-মাতারা কি পাওয়ার যোগ্য? নবি (সা.) বললেন, ‘তারা তোমার জান্নাত এবং তোমার জাহান্নাম।’ (ইবনু মাজাহ, ৩৬৬২) অর্থাৎ তাদের চাহিদা পূরণ করা জান্নাতের মাধ্যম।

৪. অনলাইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দেওয়া
ডাক্তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ওষুধ অর্ডার, গৃহপরিচারিকার ব্যবস্থা, বিল পরিশোধ— সবকিছু অনলাইনে করা যায়। এগুলো খেদমতের আধুনিক রূপ— ইসলাম যার বিরোধী নয়; বরং উৎসাহ দেয়।

৫. তাদের একাকিত্ব দূর করা (ডিজিটাল শিক্ষামূলক কাজ, ইসলামি ব্যাখ্যান শোনানো)
বৃদ্ধদের সবচেয়ে বড় কষ্ট একাকিত্ব। সন্তান ব্যস্ত থাকলেও বাবা-মাকে ইসলামি ওয়াজ, কোরআন তিলাওয়াত, অনলাইন হালকা শিক্ষামূলক অ্যাপ—এসব ব্যবহারে সাহায্য করা খেদমতের একটি মহৎ দিক। 
বেশ কয়েক বছর আগে অনলাইনে একটি ভিডিও দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। বাংলাদেশের বড় একজন অভিনেতার শ্বশুর লাইভে এসে নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে। 

এর কারণ হলো, বার্ধক্যের এই জরাজীর্ণ অবস্থায় এসেও পাশে কাউকে পেত না। যার ফলে একটা সময় জীবনের মায়া ত্যাগ করে এই পথ বেছে নেয়। এ রকম আরও অসংখ্য পরিবার আছে; যাদের সন্তানরা বিদেশের মাটিতে পারি জমিয়ে মা-বাবাকে এক নিষ্ঠুর জীবনের মুখে ফেলে দেয়। অথচ মা-বাবা কত কষ্ট করে তাদের বড় করেছেন। তাদের অবদানেই আজ সন্তান বিদেশে যেতে পেরেছে। এমন হতভাগা সন্তান যেন কারও কপালে না জোটে আল্লাহর কাছে পানাহ! 

প্রযুক্তি যতটুকু দরকার ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা। এক্ষেত্রে লক্ষণীয়- 

১. প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে মা-বাবার সরাসরি সাক্ষাৎ থেকে বঞ্চিত না হওয়া উচিত। সুযোগ হলেই বাবা-মায়ের কাছে যাওয়া সুন্নাহ-সম্মত। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাত মায়ের পায়ের নিচে।’ (নাসাঈ, ৩১০৪)

২. প্রযুক্তির খেদমত হৃদয়হীন যান্ত্রিক খেদমত নয়— বরং আবেগ, শ্রদ্ধা ও আদবপূর্ণ যোগাযোগ থাকতে হবে।

৩. সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করা জুলুম
বাবা-মায়ের সামনে ‘উফ’ পর্যন্ত বলা নিষেধ। যদি ‘সময় নেই’ অজুহাতে কেউ নিজে দেখা না করে, এমনকি যোগাযোগও না রাখে— এটি অবহেলা, যা গুনাহ। আজকাল সন্তান মা-বাবার সঙ্গে এমন খারাপ আচরণ করে যা বলা বাহুল্য। মা-বাবাকে ধমক দিয়ে কথা বলা, তাদের সঙ্গে বেয়াদবিপূর্ণ আচরণ করা, এগুলো তো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার। এমনকি তাদের হত্যা করতেও বুক কাঁপে না কিছু হতভাগাদের। যা হোক, পরিবর্তনশীল যুগ ইসলামের নীতিকে পরিবর্তন করেনি। পরিবর্তন এসেছে কেবল উপকরণে।

সরাসরি সাক্ষাৎ, সঙ্গ, সেবা— নিঃসন্দেহে সর্বোচ্চ খেদমত। তবে আধুনিক ব্যস্ততার বাস্তবতায় প্রযুক্তি এক অবিশ্বাস্য নিয়ামত, যা আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন যাতে সন্তানরা দূরে থেকেও বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
যে সন্তান আন্তরিকতার সঙ্গে প্রযুক্তিকে খেদমতের মাধ্যম করে নেয়— সে জান্নাতের পথ সহজ করে নেয়। কারণ— তারা আমাদের জীবনের প্রথম রাহবার, আর তাদের খেদমত আমাদের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা।


লেখক: শিক্ষক, লেখক, অনুবাদক

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চুল সাধারণত বয়স বা চিন্তার কারণে পাকে। কিন্তু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল পাকার পেছনে ছিল এক স্বর্গীয় এবং কম্পন সৃষ্টিকারী কারণ। কিন্তু প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথার সেই অল্প কিছু চুলের চমৎকার রূপ কেমন ছিল, তা কি আপনি জানেন? চলুন আজ জেনে নিই সেই অজানা ইতিহাস।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চুল-দাড়ির শুভ্রতা বা সাদা হওয়া সাধারণ কোনো বার্ধক্যের লক্ষণ ছিল না, বরং তা ছিল এক স্বর্গীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর এই শ্বেতকেশ মোবারকের মধ্যেও এক অপূর্ব সৌন্দর্য লুকিয়ে ছিল। নবিজি (সা.)-এর মাথায় যখন অল্প কিছু চুল সাদা হতে শুরু করে, তখন দূর থেকে তা অদ্ভুত এক লালচে আভায় জ্বলজ্বল করত। সবুজ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই রূপ ছিল দেখার মতো। তা ছাড়া, তাঁর মাথার সিঁথির অংশে যে সামান্য কয়েকটি সাদা চুল ছিল, তাতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে শুভ্রতা পুরোপুরি ঢেকে যেত।

আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১১১; মুজামুল কাবীর, ১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩০৯১; মিশকাত, ৪৩৫৯)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১০৩০; মুজামুল কাবীর,১৯৩০)

একবার হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি নবিজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে, আমরা আপনার বার্ধক্যের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভূতপূর্ব কারণ ব্যক্ত করলেন। তিনি জানালেন, কোনো দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা বা স্বাভাবিক বয়সের কারণে তাঁর চুল পাকেনি; বরং পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও সতর্কবাণী তাঁকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন (নাবা), ইযাশ-শামসু কুভভিরাত (তাকভীর) আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম,৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৪১৭৫; জামেউস সগীর, ৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস: ৯৫৫)

আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হুদ এবং তদানুরূপ সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’ (মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ১৭৭৭৪; মুসনাদে আবু ইআলা,  ৮৮০; মিশকাত,৫৩৫৩)। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই সুরাগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের বিবরণ রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয়মিশ্রিত দায়িত্ববোধের কারণেই এই সুরাগুলোর চিন্তায় আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল মোবারক শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।

 

১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন