ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন সিলেটে ভারতীয় সিগারেটসহ অর্ধকোটি টাকার চোরাইপণ্য জব্দ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’ সিলেটে কম্পিউটার সমিতির চেয়ারম্যান এনামুল কুদ্দুছ, সেক্রেটারি আবু সাঈদ আর কতকাল এ বৈষম্যের খেলা? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৮ম পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বাজেটে ওয়াশ বরাদ্দে ইতিবাচক পুনরুদ্ধার, তবে রয়ে গেছে চরম সমতার ঘাটতি বাংলাদেশের দুর্বল শিক্ষাপদ্ধতির পরিবর্তন চাই সোনারগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহনন, বিয়ের প্রলোভনে সর্বস্ব লুটের অভিযোগ শরীয়তপুরে আ. লীগ নেতার মুক্তির দাবিতে বিএনপির মিছিল বাজেট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কর্মীদের ইন্স্যুরেন্স সুবিধা দেবে গার্ডিয়ান ১ বছরের মধ্যে আমরা সব চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেব: প্রধানমন্ত্রী ৫৪ বছর পর ধামরাই কলেজে বাস সার্ভিস উদ্বোধন অফিসে ঝামেলা সামলানোর ৭টি টিপস রাজবাড়ী হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ডায়ালাইসিস সেন্টার নিয়ে বড় ঘোষণা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে চীন ও তারেক রহমানের সফর চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আসামির যাবজ্জীবন সিলেটে হাম ও হাম উপসর্গে মৃত্যু ৭০ ছাড়িয়েছে স্বপ্নের চাকরির খোঁজে তরুণদের ভিড়, ঠাকুরগাঁওয়ে ব্যতিক্রমী জব ফেয়ার সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র পুঠিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে ২ ভাই নিহত ডাক্তারের চেম্বারে একদিন চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড ফুটবল জার্সিতে শিশু যীশু: মেক্সিকো সিটির ক্যাথেড্রালে ভক্তদের অলৌকিক প্রার্থনা ফিফার বাপ স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে বেরোবি ছাত্রদল নেতার পদ স্থগিত জামালপুরে স্ত্রী হত্যায় মৃত্যুদণ্ড ও শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কুমিল্লায় চাকরি মেলা, কর্মসংস্থানের সন্ধানে তরুণ-তরুণীদের ঢল
Nagad desktop

ঝিনাইদহ জেলার সাহরি-ইফতারের সময়সূচি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ঝিনাইদহ জেলার সাহরি-ইফতারের সময়সূচি
ছবি: খবরের কাগজ

 

রমজান

তারিখ

সাহরির শেষ সময়

ফজরের আজান

ইফতারের সময়

১৯ ফেব্রুয়ারি

৫:১৬

৫:২০

৬:০৩

২০ ফেব্রুয়ারি

৫:১৬

৫:১৯

৬:০৪

২১ ফেব্রুয়ারি

৫:১৫

৫:১৯

৬:০৫

২২ ফেব্রুয়ারি

৫:১৪

৫:১৮

৬:০৫

২৩ ফেব্রুয়ারি

৫:১৪

৫:১৭

৬:০৬

২৪ ফেব্রুয়ারি

৫:১৩

৫:১৭

৬:০৬

২৫ ফেব্রুয়ারি

৫:১২

৫:১৬

৬:০৭

২৬ ফেব্রুয়ারি

৫:১১

৫:১৫

৬:০৭

২৭ ফেব্রুয়ারি

৫:১১

৫:১৪

৬:০৮

১০

২৮ ফেব্রুয়ারি

৫:১০

৫:১৩

৬:০৮

১১

০১ মার্চ

৫:০৯

৫:১৩

৬:০৯

১২

০২ মার্চ

৫:০৮

৫:১২

৬:০৯

১৩

০৩ মার্চ

৫:০৭

৫:১১

৬:০৯

১৪

০৪ মার্চ

৫:০৭

৫:১০

৬:১০

১৫

০৫ মার্চ

৫:০৬

৫:০৯

৬:১০

১৬

০৬ মার্চ

৫:০৫

৫:০৮

৬:১১

১৭

০৭ মার্চ

৫:০৪

৫:০৮

৬:১১

১৮

০৮ মার্চ

৫:০৩

৫:০৭

৬:১২

১৯

০৯ মার্চ

৫:০২

৫:০৬

৬:১২

২০

১০ মার্চ

৫:০১

৫:০৫

৬:১২

২১

১১ মার্চ

৫:০০

৫:০৪

৬:১৩

২২

১২ মার্চ

৪:৫৯

৫:০৩

৬:১৩

২৩

১৩ মার্চ

৪:৫৮

৫:০২

৬:১৪

২৪

১৪ মার্চ

৪:৫৭

৫:০১

৬:১৪

২৫

১৫ মার্চ

৪:৫৬

৫:০০

৬:১৫

২৬

১৬ মার্চ

৪:৫৫

৪:৫৯

৬:১৫

২৭

১৭ মার্চ

৪:৫৪

৪:৫৮

৬:১৫

২৮

১৮ মার্চ

৪:৫৩

৪:৫৭

৬:১৬

২৯

১৯ মার্চ

৪:৫২

৪:৫৬

৬:১৬

৩০

২০ মার্চ

৪:৫১

৪:৫৫

৬:১৬

 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চুল সাধারণত বয়স বা চিন্তার কারণে পাকে। কিন্তু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল পাকার পেছনে ছিল এক স্বর্গীয় এবং কম্পন সৃষ্টিকারী কারণ। কিন্তু প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথার সেই অল্প কিছু চুলের চমৎকার রূপ কেমন ছিল, তা কি আপনি জানেন? চলুন আজ জেনে নিই সেই অজানা ইতিহাস।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চুল-দাড়ির শুভ্রতা বা সাদা হওয়া সাধারণ কোনো বার্ধক্যের লক্ষণ ছিল না, বরং তা ছিল এক স্বর্গীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর এই শ্বেতকেশ মোবারকের মধ্যেও এক অপূর্ব সৌন্দর্য লুকিয়ে ছিল। নবিজি (সা.)-এর মাথায় যখন অল্প কিছু চুল সাদা হতে শুরু করে, তখন দূর থেকে তা অদ্ভুত এক লালচে আভায় জ্বলজ্বল করত। সবুজ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই রূপ ছিল দেখার মতো। তা ছাড়া, তাঁর মাথার সিঁথির অংশে যে সামান্য কয়েকটি সাদা চুল ছিল, তাতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে শুভ্রতা পুরোপুরি ঢেকে যেত।

আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১১১; মুজামুল কাবীর, ১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩০৯১; মিশকাত, ৪৩৫৯)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১০৩০; মুজামুল কাবীর,১৯৩০)

একবার হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি নবিজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে, আমরা আপনার বার্ধক্যের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভূতপূর্ব কারণ ব্যক্ত করলেন। তিনি জানালেন, কোনো দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা বা স্বাভাবিক বয়সের কারণে তাঁর চুল পাকেনি; বরং পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও সতর্কবাণী তাঁকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন (নাবা), ইযাশ-শামসু কুভভিরাত (তাকভীর) আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম,৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৪১৭৫; জামেউস সগীর, ৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস: ৯৫৫)

আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হুদ এবং তদানুরূপ সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’ (মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ১৭৭৭৪; মুসনাদে আবু ইআলা,  ৮৮০; মিশকাত,৫৩৫৩)। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই সুরাগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের বিবরণ রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয়মিশ্রিত দায়িত্ববোধের কারণেই এই সুরাগুলোর চিন্তায় আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল মোবারক শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।

 

১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নিজের অধিকারের সীমানা চেনা উপায়

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
নিজের অধিকারের সীমানা চেনা উপায়
ছবি: সংগৃহীত

মানবসমাজের শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক অধিকারের ভারসাম্য রক্ষায় ইসলাম যে কতটা বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক, তা ফুটে উঠেছে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর আইনি প্রজ্ঞাপূর্ণ এই বাণীতে। আমরা অনেক সময় আবেগের বশে বা অজ্ঞতাবশত এমন কিছু কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, যা করার কোনো আইনি বা নৈতিক অধিকার আমাদের নেই। এই মানসিকতা ও ভুল প্রবণতাকে সুনির্দিষ্ট সীমারেখায় এনেছেন বিশ্বনবি (সা.)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তিনটি বিশেষ উদাহরণের মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও মালিকানার একটি চিরন্তন মূলনীতি স্পষ্ট করেছেন:
একজন মানুষের নিজের যা সামর্থ্য বা মালিকানায় নেই, তা নিয়ে আল্লাহর নামে মান্নত করা সম্পূর্ণরূপে অর্থহীন। যেমন- কারও হয়তো নিজের কোনো গবাদি পশু বা অর্থ নেই, অথচ সে মান্নত করল যে অন্য কারও সম্পদ বা অলীক কোনো বস্তু আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেবে। নিজের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এমন মান্নতের কোনো ধর্মীয় কার্যকারিতা নেই।

প্রাচীন সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে নবিজি (সা.) স্পষ্ট করেন, যে দাস বা বন্দি নিজের অধীনে নেই, তাকে মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই। এটি মূলত মানুষের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। পারিবারিক ও বৈবাহিক আইনের ক্ষেত্রে এটি একটি বৈপ্লবিক সামাজিক মূলনীতি। যে নারী এখনো কারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি অথবা যে নারী অন্য কারও স্ত্রী, তাকে তালাক দেওয়ার কোনো অধিকার কোনো পুরুষের নেই। অর্থাৎ, বিবাহ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পূর্বে বা সম্পূর্ণ অপরিচিত কোনো নারীকে লক্ষ্য করে তালাকের ঘোষণা দেওয়া এক প্রকার হাস্যকর ও বাতিল প্রচেষ্টা মাত্র।

এই হাদিসটি আমাদের একটি আধুনিক আইনি ধারণা দেয়, যাকে আমরা বলি ‘মালিকানা ও কর্তৃত্বের অধিকার’ (Right of Ownership and Jurisdiction)। ইসলাম আমাদের শেখায়, অবাস্তব কল্পনা বা অন্যের ওপর অনধিকার চর্চা করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যাবে না। নিজের অধিকারের সীমানা চেনা এবং সেই সীমানার ভেতরে থেকে দায়িত্ব পালন করাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক