ঢাকা ৩ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সময় টিভির এমডি জোবায়েরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ZEEHO Bangladesh ও Riding School BD-এর মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর যুক্তরাষ্ট্রে ৫ হাজার ৮০৭ প্রবাসীর হাতে যাচ্ছে এনআইডি হেরোইনসহ মা-বাবা ও ছেলে আটক, বাড়িতে আগুন সমুদ্রের নিচে চীনের নতুন ডেটা সেন্টার সোনারগাঁয়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে মেঘনায় গোসল, দুই স্কুল ছাত্রের মৃত্যু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল ৫ শতাংশের বেশি সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে ২ শিক্ষার্থীর মৃত্যু নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ডে নির্মিত হচ্ছে ৫টি ‘রিভারাইন পেট্রল ভেসেল’ স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে স্যামসাংয়ের নতুন ল্যাপটপ গুরুদাসপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড টাঙ্গাইল মেডিকেলে হঠাৎ পরিদর্শন, অসন্তোষ প্রকাশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ে ১৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ দুর্নীতির মামলায় আবেদপুত্র সিয়ামের বিচার শুরু যাত্রা ও সার্কাসে অশ্লীলতা বরদাশত নয় : সংস্কৃতিমন্ত্রী আজকে যে কেউ সরকারের বিরুদ্ধে নির্দ্বিধায় বলতে পারে: প্রধানমন্ত্রী যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে চট্টগ্রামে এইডস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা মাধবদীর ‘মমতা’ সিনেমা হল বিক্রির বিজ্ঞাপন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নির্ভর করছে মায়ানমারের সদিচ্ছার ওপর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাঠে বসে মেসির হ্যাটট্রিকে আর্জেন্টিনার জয় দেখলেন নাদিয়া-নাঈম যুগোপযোগী পাঠদান শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে: গ্লেনরিচে বক্তারা ফরিদপুরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু বৈশ্বিক শিল্প ইতিহাসের ভূ-রাজনীতিতে নারী শিল্পী নগরায়ণ, পরিবেশ বিপর্যয় ও বরেন্দ্র জনপদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ৩য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র সহিংসতা প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ জাতীয় সংসদসহ সব খাতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে: স্পিকার হাম উপসর্গে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১০৭৭ ট্রাম্প-মাখোঁ নৈশভোজের মাধ্যমে সমাপ্ত হচ্ছে জি-৭ সম্মেলন
Nagad desktop

আদর্শ জাতি বিনির্মাণে আলেমদের অবদান

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
আদর্শ জাতি বিনির্মাণে আলেমদের অবদান
ছবি: সংগৃহীত

মুসলমানদের সৃষ্টি করা হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের জন্য। আর মুমিন মুসলমানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হচ্ছেন নবি আলাইহিস সালামরা। যাদের প্রধান কাজের মধ্যে অন্যতম একটি ছিল মানুষকে সংশোধন করা।

সঠিক পথে পরিচালিত করা। সেই নবিদের ওয়ারিশ হচ্ছেন আলেমরা। কাজেই আলেমরা সমাজ, রাষ্ট্র জাতি বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করবেন না। এটি কীভাবে হতে পারে?

আর মুসলিম জাতি হিসেবে আমাদের সবার দায়িত্ব কর্তব্য হলো কল্যাণকর কাজে ভূমিকা পালন করা। এজন্য পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমরা হলে এমন এক শ্রেষ্ঠ জাতি, যাকে (তথা মুসলিম উম্মাহকে) বের করা হয়েছে মানবজাতির (হেদায়েত কল্যাণের) জন্য। (সুরা আলে ইমরান, ১১০)

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত হাদিসের বক্তব্য অনুযায়ী, আলেমরা হলেন নবিদের ওয়ারিশ তথা উত্তরাধিকারী। তাই নবিদের যেসব কাজ বা দায়িত্ব ছিল। হুবহু সেই কাজ বা দায়িত্বগুলোই এখনো যথাযথভাবে পালন করে আসছেন, উম্মাহর আলেম সমাজ। সমাজের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যাওয়া বহু অন্যায়, অনাচার, অবিচার, পাপাচারের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। কথা বলছেন। আলোচনা করছেন। জনসচেতনতা তৈরি করছেন। সৎ সঠিক পথে আহ্বান করছেন।কখনো দাওয়াতের অঙ্গনে দাঈ হিসেবে, কোনো বয়ানে বা মসজিদের মিম্বরে। বক্তা আলোচকরা ওয়াজ মাহফিলে।

হক্কানি পীর-মাশায়েখরা খানকায়; তাকিয়ায়ে নফস তথা আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে। এভাবেই জাতি গঠনে ভূমিকা রাখছেন আলেমরা। হাজারও পথভোলা, বিপথগামী মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রয়াস চালাচ্ছেন। গণমাধ্যমও যেহেতু একটি বড় যোগাযোগমাধ্যম। তাই অনেকেই লেখনীর সাহায্যে পত্রিকাগুলোয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রবন্ধ নিবন্ধ কলাম লিখে কিংবা বই পুস্তক ইত্যাদি রচনার মাধ্যমেও আদর্শ জাতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত। শুধু ব্যক্তি বা পরিবারই নয়; বরং সুন্দর সমাজ রাষ্ট্র গঠনেও তাদের গুরুত্বপূর্ণ মোটিভেশনাল বক্তব্যগুলো এখনো সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নীতি-নৈতিকতা আদর্শ চর্চার দ্বারকে উন্মুক্ত রেখেছে।

দেশ-বিদেশে আলেমদের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে নানাবিধ দ্বীনি খেদমত। যার সবগুলোই মূলত আদর্শ নীতি-নৈতিকতাসম্পন্ন সুনাগরিক গড়ে তুলতে অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে। নিচে আমরা কয়েকটি বিষয়ের উদাহরণ উল্লেখ করছি। যাতে সমাজে আলেমদের অবদান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে আলেমদের কর্ম অবদানের সামাজিক মূল্যায়নও যেন আরও বৃদ্ধি পায়। সব দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যে যেন একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় সেই আশাবাদও ব্যক্ত করছি।

মসজিদভিত্তিক সমাজ গঠন: সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় লাখ মসজিদ রয়েছে। যেগুলোর ইমাম খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন আলেম সমাজ। জুমা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, যেমন দুটি ঈদসহ শবেবরাত, শবেকদর, ১০ মহররমের তাৎপর্য ইত্যাদি বিষয়ে সাধারণ মুসল্লিদের প্রতিনিয়ত দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে এই মসজিদগুলো থেকেই। মসজিদের মিম্বরে ধ্বনিত হচ্ছে ইসলামের সঠিক দাওয়াত। তুলে ধরা হচ্ছে সত্যের আহ্বান। যার মাধ্যমে মানুষ ইবাদতমুখী হচ্ছে। বিভিন্ন অন্যায় গুনাহ ছেড়ে ফিরে আসছে আল্লাহর পথে। এভাবে তারা তওবা করে পরিশুদ্ধ করছেন নিজেদের পাপাসক্ত জীবনকে। সুস্থ সমাজ গঠনে এর চেয়ে সুন্দর ভূমিকা আর কী হতে পারে?

একইভাবে প্রতি মাসে মাসিক তাফসির মাহফিল বা সাপ্তাহিক ঈমানি মজলিস প্রত্যহ হাদিসের তালিমবিষয়ক আলোচনাতেও তারা কোরআন-হাদিসের আলোকে বিভিন্ন অন্যায় অনাচার পাপাচার থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যেসবের মাধ্যমে প্রত্যেকের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে সচেতন করা, অন্যায় মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার উপদেশ এবং আদর্শ নৈতিক শিক্ষা দেওয়াই মূল উদ্দেশ্য। ছাড়া মসজিদভিত্তিক মক্তবের মাধ্যমেও শিশু-কিশোরদের বিশুদ্ধ কোরআন পাঠও শেখানো হচ্ছে।

মাদরাসাভিত্তিক দীনি খেদমত: সারা দেশে কওমি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতি বছর লাখো শিক্ষার্থী কোরআন-হাদিসের ইলম অর্জন করার সুযোগ লাভ করছেন। এভাবেই তারা সাক্ষরতা লাভ করছেন। আদর্শ নাগরিক হিসেবে সমাজ বিনির্মাণে অংশগ্রহণ করছেন। যারা কখনো নেশাগ্রস্ত হন না।

মারামারি ঝগড়াঝাটি খুনোখুনির মতো ন্যক্কারজনক কোনো অপরাধের সঙ্গেও জড়িত হন না। এভাবে আদর্শ জাতি গঠনের লক্ষ্যে মাদরাসাগুলোর অবদান অপরিসীম।

ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে অবদান: সারা দেশে প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে আলেম সমাজ আদর্শ নৈতিকতা সম্পন্ন সুশিক্ষা ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে লাখো শিশু-কিশোরকে আদর্শ শিষ্টাচার সম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালাচ্ছেন। ছাড়া সরকারি আলিয়া মাদরাসায় অধ্যাপনার মাধ্যমেও তারা সমাজ সংস্কারসহ আরও বহু সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সমাজসেবায় আলেমরা: বিগত বন্যাকবলিত সময়ে শায়েখ আহমাদুল্লাহর আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশন, হাফেজ্জি হুজুর সেবা সংস্থা, মাওলানা ইমরান হুসাইন হাবিব পরিচালিত সংগঠনের মাধ্যমে বহু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংবাদ ইতোমধ্যে শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই নয়; বরং সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এভাবেই সমাজের সব সেক্টরে আলেম সমাজ তাদের মূল্যবান সামাজিক কার্যক্রম করে আসছেন। এরপরও যদি কেউ আলেমদের অবদান কর্মকে অস্বীকার করতে চান। তবে তা হবে পরিষ্কার মিথ্যাচার কিংবা সত্যকে অস্বীকার করার মতো। আমরা আমাদের জাতীয় ভাইদের শুভবুদ্ধি কামনা করছি। আল্লাহতায়ালা তাদের সঠিক বুঝ দান করুন। সমাজ, রাষ্ট্র জাতি গঠনের লক্ষ্যে আলেমদের জাতীয় অবদানকে আরও বেশি গতিশীল করুন।

 

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

শামায়েল রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
রাসুল (সা.)-এর চুল সাদা হলেও যেমন দেখাত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষের চুল সাধারণত বয়স বা চিন্তার কারণে পাকে। কিন্তু মহাবিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চুল পাকার পেছনে ছিল এক স্বর্গীয় এবং কম্পন সৃষ্টিকারী কারণ। কিন্তু প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মাথার সেই অল্প কিছু চুলের চমৎকার রূপ কেমন ছিল, তা কি আপনি জানেন? চলুন আজ জেনে নিই সেই অজানা ইতিহাস।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চুল-দাড়ির শুভ্রতা বা সাদা হওয়া সাধারণ কোনো বার্ধক্যের লক্ষণ ছিল না, বরং তা ছিল এক স্বর্গীয় গাম্ভীর্যের প্রতীক। সাহাবিদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর এই শ্বেতকেশ মোবারকের মধ্যেও এক অপূর্ব সৌন্দর্য লুকিয়ে ছিল। নবিজি (সা.)-এর মাথায় যখন অল্প কিছু চুল সাদা হতে শুরু করে, তখন দূর থেকে তা অদ্ভুত এক লালচে আভায় জ্বলজ্বল করত। সবুজ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় তাঁর এই রূপ ছিল দেখার মতো। তা ছাড়া, তাঁর মাথার সিঁথির অংশে যে সামান্য কয়েকটি সাদা চুল ছিল, তাতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করলে শুভ্রতা পুরোপুরি ঢেকে যেত।

আবু রিমছা আত-তায়মী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সে সময় তাঁর পরনে ২টি সবুজ রঙের কাপড় ছিল। তাঁর চুল সাদা দেখা যাচ্ছিল কিন্তু মনে হচ্ছিল লাল।’ (মুসনাদে আহমাদ, ৭১১১; মুজামুল কাবীর, ১৮১৭৬; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৪২০৩; শারহুস সুন্নাহ, ৩০৯১; মিশকাত, ৪৩৫৯)
জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সিঁথি কাটার স্থানে কেবল কয়েকটি সাদা চুল শোভা পাচ্ছিল। এ চুলগুলোতে তৈল ব্যবহার করা হলে সাদা ঢেকে যেত।’ (মুসনাদে আহমাদ, ২১০৩০; মুজামুল কাবীর,১৯৩০)

একবার হযরত আবু বকর (রা.) ও অন্যান্য সাহাবি নবিজিকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার চুল তো সাদা হয়ে যাচ্ছে, আমরা আপনার বার্ধক্যের স্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাচ্ছি।’ জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভূতপূর্ব কারণ ব্যক্ত করলেন। তিনি জানালেন, কোনো দুনিয়াবি দুশ্চিন্তা বা স্বাভাবিক বয়সের কারণে তাঁর চুল পাকেনি; বরং পবিত্র কোরআনের কিছু সুরার গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও সতর্কবাণী তাঁকে বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সুরা হুদ, ওয়াকিয়া, মুরসালাত, আম্মা ইয়াতাসা-আলুন (নাবা), ইযাশ-শামসু কুভভিরাত (তাকভীর) আমাকে বৃদ্ধ বানিয়ে দিয়েছে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম,৩৩১৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস: ৪১৭৫; জামেউস সগীর, ৬০৩৬; সিলসিলা সহীহাহ, হাদিস: ৯৫৫)

আবু জুহাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হুদ এবং তদানুরূপ সুরাগুলো আমাকে বার্ধক্যে উপনীত করেছে।’ (মুজামুল কাবীর লিত-তাবারানী, ১৭৭৭৪; মুসনাদে আবু ইআলা,  ৮৮০; মিশকাত,৫৩৫৩)। ইসলামি গবেষকদের মতে, এই সুরাগুলোতে কেয়ামতের ভয়াবহতা, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি এবং পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ধ্বংসের বিবরণ রয়েছে। উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর ভয়মিশ্রিত দায়িত্ববোধের কারণেই এই সুরাগুলোর চিন্তায় আল্লাহর রাসুলের (সা.) চুল মোবারক শ্বেতবর্ণ ধারণ করেছিল।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

পবিত্র আশুরা ২৬ জুন

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
পবিত্র আশুরা ২৬ জুন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আজ বুধবার থেকে পবিত্র মহররম মাস গণনা করা শুরু হবে। হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৬ জুন পবিত্র আশুরা পালিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ তথ্য জানানো হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের রুটিন দায়িত্ব) মো. ফজলুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক, প্রধান তথ্য অফিসার মো. শাহ আলম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মাহবুব আলম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আশুরা ইসলামের ইতিহাসে একটি ঘটনাবহুল দিন। এই দিনেই আরশ, কুরসি, লওহ, কলম, আসমান ও জমিন সৃষ্টি করা হয়। আদম (আ.)কেও এই দিনেই সৃষ্টি করা হয়। পরে শয়তানের প্ররোচনায় তিনি ভুল করলে এই দিনই তাকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। 

কারবালার শোকাবহ ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটিও ঘটে এই দিনে। মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার এবং অনুসারীদের হত্যা করা হয় এই দিনে।

 

১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৭ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো

জোহর

১২.০২ মিনিট

আসর

৪.৩৮ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫০ মিনিট

 

এশা

৮.১৬ মিনিট

ফজর (১৮ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ-বিয়োগকরতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন