রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদের দিনে বিশেষভাবে নামাজ আদায়ের জন্য আদেশ করেছেন। যেহেতু বছরে মাত্র দুবার ঈদের নামাজ পড়তে হয়, তাই এই নামাজ আদায় করার ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যেই জটিলতা ও দ্বিধা-সংশয় সৃষ্টি হয়। তাই ঈদের নামাজের আগে কিছু নিয়মকানুন ও আদায় পদ্ধতি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।
যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব, তাদের ওপর ঈদের নামাজ ওয়াজিব। আল-জামিউস সগির গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘একই দিনে দুটি ঈদ একত্র হয়েছে। প্রথমটি হলো সুন্নত আর দ্বিতীয়টি হলো ফরজ। তবে দুটির কোনো একটিকেও ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) সূর্য এক বা দুই বর্শা পরিমাণ ওপরে উঠলে ঈদের নামাজ আদায় করতেন। (আবু দাউদ, ২/৩৬১)
ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইকামত নেই। তবে জুমার নামাজের মতোই উচ্চ আওয়াজে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়। প্রথম রাকাতে এক তাকবির বলা হয় তাহরিমার (নামাজ শুরুর তাকবির) জন্য। তারপর তিনবার তাকবির বলতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেবে এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নিতে হবে। এরপর সুরা ফাতিহা ও অন্য একটি সুরা পড়বে এবং তাকবির বলে রুকুতে যাবে। এরপর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা মিলিয়ে শুরু করবে। তারপর তিনবার তাকবির বলবে। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেবে; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধতে হবে এবং চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে যেতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ৫৭৪৬-৫৭৪৭)
ঈদের তাকবিরগুলো দ্বীনের প্রতীক। তাই তা উচ্চৈঃস্বরে আদায় করা হয়। সুতরাং এর প্রকৃত চাহিদা হলো মিলিতভাবে পাঠ করা। প্রথম রাকাতে এই তাকবিরগুলো তাকবির তাহরিমার সঙ্গে যুক্ত করা ওয়াজিব। যেহেতু এ তাকবির ফরজ এবং প্রথমে হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটার শক্তি বেশি। আর দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর তাকবির ছাড়া অন্য কোনো তাকবির নেই। সুতরাং (ঈদের তাকবিরগুলো) তার সঙ্গে যুক্ত করাই ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাতটি স্থান ছাড়া অন্য কোথাও হাত তোলা হবে না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, ১৫৯৯৬)। এর মধ্যে ঈদের তাকবিরগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
নামাজের পর (ইমাম) দুটি খুতবা দেবেন। (বুখারি, ৯৫৮)। যে ব্যক্তির ইমামের সঙ্গে ঈদের নামাজ ছুটে গেছে, সে তা কাজা পড়বে না। কেননা এই প্রকৃতির নামাজ এমন কিছু শর্তসাপেক্ষেই ইবাদতরূপে স্বীকৃত হয়েছে, যা একাকী ব্যক্তির দ্বারা সম্পন্ন হতে পারে না। (শরহু মুখতাসারিত তহাবি লিল জাসসাস, ২/১৬১ )। যদি কোনো কারণে ঈদের দিন নামাজ আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে পরে আর তা পড়বে না। কারণ, জুমার মতো এক্ষেত্রেও মূলনীতি হলো, কাজা না করা।
লেখক: খতিব, বঙ্গভবন জামে মসজিদ