মানুষের জীবন এক অনন্ত প্রতীক্ষার নাম। কখনো সাফল্যের জন্য, কখনো ঘোর অন্ধকার থেকে মুক্তির জন্য আমরা বুকভরা আশা নিয়ে বসে থাকি। কিন্তু জীবনের কঠিন বাস্তবতার পরীক্ষা সামনে আসে যখন আমাদের চাওয়া আর পাওয়ার মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। তখন হৃদয়ে উঁকি দেয়— ‘আমার এই আশা কি আদৌ পূর্ণ হবে? আল্লাহ কি আমার ডাক শুনবেন?’
দুনিয়ার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে এক স্তর নিচে থেকে যেতে হয়, একটা জ্বর কম পায়। দুনিয়ার অকৃতকার্যতা তো কিছুই নয়। কেননা, দুনিয়া তো আল্লাহর কাছে মাছির পাখার মতো। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষার অকৃতকার্যতা মানে সব সময়ের অকৃতকার্যতা ও ক্ষতিগ্রস্ততা।
আল্লাহতায়ালা তাঁর রাসুল (সা.)কে বলেন, আপনি বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামত দিবসে নিজেদের প্রাণ ও নিজেদের পরিবারবর্গের সবইকে হারাবে। জেনে রেখো, এটাই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি।
দুনিয়ার পরীক্ষায় সর্বোচ্চ এতটা খারাপ ফলাফল হতে পারে যে, পরীক্ষার্থী ফেল করবে; কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু আখিরাতের পরীক্ষায় দ্বিতীয় কোনো সুযোগ নেই, এ পরীক্ষা থেকে পালানোরও কোনো অবকাশ নেই।
তখন ক্ষতিগ্রস্ত ও শিথিলতাকারী বলবে, হে আমার রব, আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দিন। তখন কি কারও এমন আশা পূরণ করা হবে? কারও এমন চাওয়া কি পূরণ করা হবে?
যখন তারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হবে, তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে, জ্বলন্ত আগুনের নিকটবর্তী হবে-তখন অবস্থা হবে। আর সেখানে তারা আর্তনাদ কদরে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে বের করে দিন, আমরা পূর্বে যে আমল করতাম, তার পরিবর্তে আমরা নেক আমল করব।
তখন ধমক দিয়ে আল্লাহতায়লা বলবেন, আমি কি তোমাদের এতটা বয়স দিইনি যে, তখন কেউ শিক্ষা গ্রহণ করতে চাইলে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত? আর তোমাদের কাছে তো সতর্ককারী এসেছিল।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক