আমাদের চারপাশের অধিকাংশ মানুষের একটি চিরচেনা হাহাকার হলো—এত পরিশ্রম করি, তবু জীবনে শান্তি নেই! অভাব কেবল অর্থের নয়, অভাব যেন সময়ের, স্বস্তির আর পারিবারিক সুখের। আমরা দিনরাত ছুটে চলি কেবল অংকের হিসাব মেলাতে, কিন্তু জীবনের আসল সমীকরণ বারাকাহ আমাদের অজানাই থেকে যায়। সম্প্রতি পঠিত ‘দ্য সিক্রেটস অব রিজিক অ্যান্ড বারাকাহ’ বইটি আমাকে রিজিক ও বারাকাহ সম্পর্কে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
বইটি পড়ার পর আমার প্রথম যে উপলব্ধি হয়েছে তা হলো, আমরা ৯৫ শতাংশ মানুষই রিজিকের প্রকৃত অর্থ বুঝি না। আমরা ভাবি ব্যাংক ব্যালেন্স মানেই রিজিক। অথচ লেখকের ভাষায়—মনের প্রশান্তি, পরিবারের ভালোবাসা, নেক সন্তান এবং সময়ের বরকতই হলো প্রকৃত রিজিক। বইটি কোনো সস্তা মোটিভেশনাল স্লোগান নয়, বরং কোরআন ও সহিহ হাদিসের আয়নায় নিজের আত্মাকে দেখার একটি গাইডলাইন।
পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, লেখক যেন আমার মনের জমানো প্রশ্নগুলোর উত্তর দিচ্ছেন। আমরা ভাবি নামাজ তো পড়ছি, তবু কষ্ট কমে না কেন? ইনকাম তো অনেক, তবু মাস শেষে হাত খালি কেন? বইটি খুব সহজ ভাষায় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের ছোট ছোট ভুলগুলো। গুনাহকে হালকা করে দেখা, অকৃতজ্ঞতা এবং হালাল-হারামের প্রতি উদাসীনতা কীভাবে আমাদের অজান্তেই রিজিকের বরকত কেড়ে নেয়, তা এখানে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
বইটি শুধু পড়ার জন্য নয়, বরং জীবনকে নতুন করে সাজানোর একটি ম্যানুয়াল। এটি আমাকে শিখিয়েছে যে, রিজিক বাড়ার মানে কেবল সংখ্যা বৃদ্ধি নয়; বরং অল্প আয়েও রাজার মতো শান্তিতে থাকা। তওবা, ইস্তিগফার এবং আল্লাহর ওপর ভরসা (তাওয়াক্কুল) কীভাবে রুদ্ধ দ্বার উন্মোচন করে দেয়, তার প্রমাণ পাতায় পাতায়।
পরিশেষে বলতে পারি, বইটি আমাকে আল্লাহর সাথে পুনরায় নতুন করে যুক্ত করেছে। অভিযোগের জায়গায় শোকর আর হতাশার জায়গায় আশা জাগিয়ে তুলেছে। যারা রিজিকের দুশ্চিন্তায় নীল হয়ে আছেন এবং সংসারে প্রকৃত সুখ খুঁজছেন, তাদের জন্য এই বইটি একটি আলোর পথ। বইটি পড়ার পর কেবল একটি কথাই মনে হয়েছে—এটি আরও আগে পড়া দরকার ছিল। জীবনের প্রতিটি মোড়ে বারাকাহ খুঁজে পেতে এই বইটি হতে পারে আপনার পরম বন্ধু।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক