ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ওপর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। এই ইদ্দতের মূল উদ্দেশ্য হলো মৃত স্বামীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বংশের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা। তবে ইদ্দত শুরুর সময়কাল নিয়ে অনেকেরই সঠিক ধারণা নেই। শরিয়তের অকাট্য সিদ্ধান্ত হলো— স্বামী যেদিন মৃত্যুবরণ করেছেন, ঠিক সেই সময় থেকেই স্ত্রীর ইদ্দত শুরু হয়ে যায়। এখানে স্ত্রী মৃত্যুর খবর কখন পেয়েছেন, তা বিবেচ্য নয়।
খবর একদিন পর আসুক কিংবা এক মাস পর, ইদ্দতের হিসাব হবে মৃত্যুর প্রকৃত দিন থেকে। অর্থাৎ, কোনো নারী যদি স্বামীর মৃত্যুর খবর এমন সময় পান যখন ইতোমধ্যে চার মাস দশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে, তবে তার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে বলে গণ্য হবে। তাকে নতুন করে আর ইদ্দত পালন করতে হবে না।
অবস্থাভেদে ইদ্দতের সময়কাল দুই ধরনের হতে পারে:
১. সাধারণ অবস্থা: স্ত্রী যদি অন্তঃসত্ত্বা না হন, তবে তার ইদ্দত হবে স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে পূর্ণ চার মাস দশ দিন।
২. অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা: স্ত্রী যদি গর্ভবতী হন, তবে তার ইদ্দত দিন বা মাসের হিসাবে হবে না। বরং সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে। সন্তান প্রসব হয়ে গেলেই তার ইদ্দত সমাপ্ত হবে, চাই তা মৃত্যুর কয়েক দিন পরই হোক না কেন।
পারিবারিক ও ধর্মীয় জীবনের এই স্পর্শকাতর বিধানগুলো সঠিকভাবে জানা আমাদের প্রতিটি মুসলিম পরিবারের জন্য জরুরি। মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাতে দেরি হলেও শরয়ী বিধান তার নিজস্ব গতিতে কার্যকর হয়। তাই মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বিচলিত না হয়ে সঠিক দিনক্ষণ হিসাব করে অবশিষ্ট সময় (যদি থাকে) ইদ্দত পালন করা উচিত।
তথ্যসূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩০১; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৪৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৫২০