ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী কুমিল্লায় ১৬০০০০ ইয়াবা জব্দ; আটক ৫ কাতার ম্যাচে ফিরছেন কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস আনপ্লাগড’ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ভারতের ‘মাইকেল জ্যাকসন’, শাড়ি পরে মুনওয়াক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ
Nagad desktop

শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা সুশিক্ষার চাবিকাঠি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ এএম
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা সুশিক্ষার চাবিকাঠি
শিক্ষকের মর্যাদা অপরিসীম। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক মানবজীবনের এমন এক আলোকবর্তিকা, যার মাধ্যমে অজ্ঞতার অন্ধকার দূর হয়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ে। ইসলাম শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদাকে অত্যন্ত উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। কোরআন, হাদিস এবং ইসলামের ইতিহাসের আলোকে শিক্ষকের গুরুত্ব, মর্যাদা এবং সুশিক্ষা অর্জনে শিক্ষকের সুদৃষ্টি ও দোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করলে আমরা বুঝতে পারি–শিক্ষক শুধু পেশাজীবী নন, বরং জাতি গঠনের কারিগর।প্রথমত, ইসলাম জ্ঞান অর্জনকে ফরজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেছেন, পড়ো তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। (সুরা আলাক, ১)

এই প্রথম ওহি থেকেই বোঝা যায়, জ্ঞানের সূচনা ও গুরুত্ব কত গভীর। আর এই জ্ঞান অর্জনের প্রধান মাধ্যম হলেন শিক্ষক। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? (সুরা ঝুমার, ৭৫) এখানে জ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, আর জ্ঞানীদের তৈরি করেন শিক্ষকরাই।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক। তিনি বলেছেন, আমি তো শিক্ষক হিসেবেই প্রেরিত হয়েছি। (ইবনে মাজাহ)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কার কঠিন সময়েও তার সাহাবিদের গোপনে শিক্ষা দিতেন দারুল আরকামে। এ স্থানটি ছিল ইসলামের প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল ঈমান, ত্যাগ ও আদর্শের ভিত্তিতে।

শিক্ষকের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন। (মুসলিম)। ইসলামের ইতিহাসে শিক্ষকের সম্মানের অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। যেমন–ইমাম আবু হানিফা (রহ.) তার শিক্ষক হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান (রহ.)-এর প্রতি এতটাই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, শিক্ষকের বাড়ির দিকে পা তুলে বসতেন না। এটি শুধু সম্মান নয়, বরং জ্ঞানের প্রতি বিনয়ের প্রকাশ।

আরেকটি ঐতিহাসিক ঘটনা হলো ইমাম মালিক (রহ.)-এর জীবন। তিনি যখন হাদিস পাঠ দিতেন, তখন সর্বোচ্চ আদব বজায় রাখতেন–গোসল করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, পরিপাটি হয়ে বসতেন। কারণ তিনি মনে করতেন, এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জ্ঞান–এটি শিক্ষা দেওয়া একটি ইবাদত। শিক্ষকের এই দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার মর্যাদাকে আরও উচ্চ করেছে।

শিক্ষকের সম্মান সম্পর্কে হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর বিখ্যাত উক্তি–যে আমাকে একটি অক্ষর শিখিয়েছে, আমি তার দাস–ইতিহাসে শিক্ষকের মর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ।

সুশিক্ষা অর্জনে শিক্ষকের সুদৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিহাসে দেখা যায়, একজন শিক্ষকের আন্তরিকতা ছাত্রের জীবন বদলে দিয়েছে। যেমন ইমাম শাফেয়ি (রহ.) তার শিক্ষক ইমাম মালিক (রহ.)-এর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞানের উচ্চ শিখরে পৌঁছান। শিক্ষকের স্নেহ, দিকনির্দেশনা ও প্রশংসা একজন ছাত্রকে অসাধারণ করে তুলতে পারে।

শিক্ষকের দোয়ার গুরুত্বও অপরিসীম। ইতিহাসে বহু আলেম তাদের শিক্ষকদের দোয়ার কারণে সফল হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। একজন শিক্ষকের আন্তরিক দোয়া ছাত্রের জীবনে বরকত, জ্ঞান ও হেদায়েত এনে দেয়। একজন ভালো শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, বরং তিনি চরিত্র গঠন করেন।

রাসুল (সা.) তার সাহাবিদের শুধু জ্ঞান দেননি, বরং তাদের আদর্শ মানুষে পরিণত করেছেন। যারা পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা সুশিক্ষার মূল চাবিকাঠি। ইসলামের ইতিহাসে দেখা যায়, যারা তাদের শিক্ষকদের সম্মান করেছেন, তারা জ্ঞান ও মর্যাদায় উন্নত হয়েছেন। পক্ষান্তরে, যারা অবজ্ঞা করেছেন, তারা জ্ঞানের বরকত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সবশেষে বলা যায়, শিক্ষক সমাজের স্তম্ভ। কোরআন, হাদিস এবং ইসলামের ইতিহাস–সবই আমাদের শেখায়, শিক্ষকের মর্যাদা অপরিসীম। তাই আমাদের উচিত শিক্ষকদের সম্মান করা, তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাদের দোয়া নেওয়া। কারণ একজন শিক্ষকের সুদৃষ্টি ও দোয়া একজন মানুষকে শুধু সফলই করে না, বরং তাকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে–যার মাধ্যমে সমাজ ও জাতি আলোকিত হয়।

 

লেখক: আলেম, গবেষক ও সাংবাদিক

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত?
ছবি: সংগৃহীত

গভীর রাতে দুহাত তুলে কাঁদছেন, দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর সফর শেষে ধূলিমলিন শরীরে স্রষ্টাকে আকুল হয়ে ডাকছেন, তবুও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সাড়া। আধুনিক জীবনে আমাদের চারপাশের বহু মানুষ আজ এই বিষণ্ণতায় ভোগেন কিন্তু অনুভূতির এই কান্নার আড়ালে আমরা কি কখনো আমাদের খাবারের প্লেট কিংবা উপার্জনের খতিয়ান খতিয়ে দেখেছি?

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক যুগান্তকারী হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বা হালাল ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না রাসুল (সা.) এমন এক মুসাফিরের উদাহরণ দেন, যার চুল এলোমেলো, শরীর ধূলিধূসরিত সে আকাশের দিকে হাত তুলেহে প্রভু! হে প্রভু!’ বলে কাঁদছে; অথচ তার খাদ্য, পানীয়, পোশাক এবং জীবিকা নির্বাহের পুরো মাধ্যমটিই হারাম রাসুল (সা.) প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এমন ব্যক্তির দোয়া কীভাবে কবুল হতে পারে? (মুসলিম, ২৭৬০)

নৈতিকতার চাদরে সাদা আর কালোর বাইরে একটি ধূসর এলাকা বাগ্রে জোনথাকে, যাকে আমরা সন্দেহজনক বিষয় বলি হযরত নুমান ইবনু বাশীর (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, হালাল হারাম একদম স্পষ্ট, কিন্তু এর মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহজনক বস্তু যে ব্যক্তি এই সন্দেহ পরিহার করে, তার দ্বীন সম্মান সুরক্ষিত থাকে আর যে এর ধারেকাছে যায়, সে নিষিদ্ধ চারণভূমিতে ঢুকে পড়া পশুর মতো যেকোনো সময় হারামে লিপ্ত হতে পারে রাসুল (সা.) সতর্ক করেন, মানুষের শরীরের ভেতরে একটি গোশতের টুকরো বা অন্তর আছে; সেটি যদি সঠিক পবিত্র থাকে, তবে পুরো দেহই সঠিক থাকে আর সেটি কলুষিত হলে পুরো জীবনটাই বিকৃত হয়ে যায় (মুসলিম, ২৭৬২)

আজকের করপোরেট বা অনলাইন ব্যবসার যুগে এসে অনেক উপার্জনকে আমরা সাধারণ মনে করি অথচ হযরত আবু হুজায়ফা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন রক্ত বিক্রির অর্থ, কুকুরের মূল্য এবং ব্যভিচারের বিনিময় একই সাথে তিনি লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদদাতা, শরীরে উল্কি (ট্যাটু) অঙ্কনকারী এবং ছবি অঙ্কনকারীর ওপর (মিশকাত, ২৭৬৫)

সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত, তা প্রথম মুসলিম খলিফার জীবন থেকে শেখার আছে হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, আবুবকর সিদ্দিক (রা.)-এর এক গোলামের উপার্জিত খাবার থেকে তিনি না জেনে এক লোকমা খেয়ে ফেলেছিলেন পরে যখন জানতে পারলেন যে, সেই অর্থ গোলামটি জাহেলি যুগে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে গণকী (জ্যোতিষী) করে কামিয়েছিল, তখন আবুবকর (রা.) সাথে সাথে মুখের ভেতর আঙুল ঢুকিয়ে পেটের সমস্ত খাদ্য বমন করে বের করে দেন (মিশকাত, ২৭৮৬)

সাফল্যের সব দুয়ার খোলার প্রধান শর্ত হলো শরীরের রক্তে হারামের ছোঁয়া না লাগা আজই আমাদের উচিত নিজের উপার্জনের উৎসটি পুনর্মূল্যায়ন করা, যেন আমাদের প্রার্থনাগুলো স্রষ্টার দরবারে পৌঁছানোর আগেই হারিয়ে না যায়

 লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
রাসুল (সা.)-এর রাতের অভ্যাস কি ছিল?
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক যুগের চিকিৎসকরা ঘুমানোর আগে চোখের নানা যত্নের কথা বলেন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে প্রিয় রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে চোখের সুরক্ষায় চমৎকার একটি নিয়ম মেনে চলতেন? চলুন জেনে নিই নবিজির সেই রাতের অভ্যাস–

ইসলামে বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার সুষম সমন্বয় দেখা যায় প্রিয় নবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি অভ্যাসে। তিনি কেবল দিনের বেলাতেই নিজেকে পরিপাটি রাখতেন না, বরং রাতে ঘুমানোর আগেও শরীরের যত্ন নিতেন। এর মধ্যে অন্যতম একটি সুন্দর ও উপকারী সুন্নাহ হলো চোখে সুরমা লাগানো।

নবিজির (সা.) প্রিয় সুরমা ও তাঁর ব্যবহারের নিয়ম সব সুরমা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এক রকম ছিল না। তিনি ‘ইছমিদ’ নামক একটি বিশেষ পাথর থেকে তৈরি সুরমা ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন এবং একে সর্বোৎকৃষ্ট বলেছেন। নবিজি (সা.)-এর নিজস্ব একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে তিনি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখে সুরমা মাখতেন।

ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর একটি সুরমাদানি ছিল। প্রতি রাতে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।’ (সুনানুল কুবরা লিল ইমাম বাইহাকি, ৮৫১৬)
দৃষ্টিশক্তি ও সৌন্দর্যের যুগলবন্দি আল্লাহর রাসুল (সা.) সুরমা ব্যবহারের চমৎকার কিছু শারীরিক উপকারিতার কথা স্পষ্ট করে গেছেন, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় হুবহু প্রমাণিত হয়েছে। ‘ইছমিদ’ সুরমা মূলত চোখের দৃষ্টিকে তীক্ষ্ণ করে এবং চোখের পাতার লোম বা ভ্রূ দ্রুত ও ঘনভাবে গজাতে সাহায্য করে।

জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছে: ‘তোমরা শোয়ার সময় অবশ্যই ‘ইছমিদ’ সুরমা ব্যবহার করবে। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৬; মুসনাদে আবু ইয়ালা, ২০৫৮)
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের জন্য ইছমিদ সুরমা সর্বোৎকৃষ্ট। কারণ, তা দৃষ্টি বাড়ায় এবং এর ফলে অধিক ভ্রূ জন্মায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩৪৯৭; মুস্তাদরাকে হাকেম, ৮২৪৮)

সুরমার বৈজ্ঞানিক ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা মুহাদ্দিস ও গবেষকদের মতে, সওয়াবের নিয়তে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সুরমা লাগানো মুস্তাহাব। বিজ্ঞান বলছে, ইছমিদ সুরমা অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে, যা চোখের যেকোনো ছোঁয়াচে রোগ বা জীবাণুকে ধ্বংস করে। এ ছাড়া এটি বাতাসে থাকা ধুলাবালি চোখ থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং চোখ জ্বালাপোড়া করা কমায়। প্রতি রাতে সুরমা লাগানো কেবল চোখের জ্যোতিই বাড়ায় না, বরং এটি অনুসরণের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজেই সুন্নাহর সওয়াব লাভ করতে পারেন।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:০০ এএম
১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি
জুন, ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচির ছবি

প্রতিদিন সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। নামাজ (সালাত) ইসলাজুনর পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ইসলাজুনর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, (হে আল্লাহর রাসুল!) আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয় আমল কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘নামাজ (বুখারি ও মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সেভাবে নামাজ আদায় করো, যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখেছ।’ (বুখারি, ৬৩১)

সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে হলে, নামাজের সময় জানতে হবে।

 

আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো— 

জোহর

১২.০৩ মিনিট

আসর

৪.৩৯ মিনিট

 

মাগরিব

৬.৫১ মিনিট

 

এশা

৮.১৮ মিনিট

ফজর (১৯ জুন)

.৪৪ মিনিট

 

 

বিভাগীয় শহরের জন্য উল্লিখিত সময়ের সঙ্গে যেসব বিভাগে সময় যোগ- বিয়োগ করতে হবে।

বিয়োগ

চট্টগ্রাম: ৫ মিনিট

সিলেট: ৬ মিনিট

যোগ

খুলনা: ৩ মিনিট

রাজশাহী: ৭ মিনিট

রংপুর: ৮ মিনিট

বরিশাল: ১ মিনিট

 

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
যে জগৎ মানুষের অপেক্ষায় আছে
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞান যেখানে আজও মহাবিশ্বের রহস্যের কূল-কিনারা করতে পারছে না, সেখানে সৃষ্টির অন্তরালে কী এমন চমক লুকিয়ে রেখেছেন মহান স্রষ্টা?
দুনিয়ার জীবনটা মানুষের জন্য এক পরীক্ষাগার। এই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবে, তাদের জন্য কী পুরস্কার অপেক্ষা করছে, তা মানুষের সীমিত বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। মানবজাতির এই কৌতূহল ও আকাঙ্ক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি এক হাদিসে কুদসিতে স্বয়ং আল্লাহর বাণী আমাদের শুনিয়েছেন, যা জান্নাতের প্রকৃত স্বরূপকে আমাদের সামনে উন্মোচিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন, তিনি তাঁর পুণ্যবান ও অনুগত বান্দাদের জন্য পরকালে এমন এক রাজত্ব বা পুরস্কার তৈরি করে রেখেছেন, যা দুনিয়ার কোনো চোখ কখনো দেখেনি। আমাজন বনের অপার সৌন্দর্য, সুইজারল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য কিংবা মানুষের তৈরি কোনো আধুনিক বিস্ময়–কোনো কিছুই তার ধারেকাছে নয়। শুধু তাই নয়, সেই জগতের সুর, আনন্দ বা কোলাহলের মাধুর্য কোনো কান কখনো শোনেনি। এমনকি মানুষের উর্বর মস্তিষ্ক বা কল্পনাশক্তিও কখনো সেই সুখের সামান্যতম অনুমান করতে সক্ষম হয়নি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই অকল্পনীয় পুরস্কারের সত্যতা নিশ্চিত করতে পবিত্র কোরআনের সুরা সাজদাহর ১৭ নম্বর আয়াতটি তিলওয়াত করতেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কেউই জানে না তার জন্য তার কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়ন-প্রীতিকর কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে।

এ হাদিসটি আমাদের জাগতিক চিন্তার বৃত্তকে ভেঙে দেয়। আমরা সাধারণত কোনো ভালো কাজের বিনিময়ে চেনা কোনো পুরস্কারের আশা করি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের শেখাচ্ছেন, জান্নাত কোনো চেনা উপাদানের উন্নত সংস্করণ নয়। এটি সম্পূর্ণ এক নতুন মাত্রা বা ‘ডাইমেনশন’, যা কেবল বিশ্বাসের চোখেই দেখা সম্ভব। দুনিয়ার সব কষ্ট আর ত্যাগের ক্লান্তি এক নিমেষেই মুছে যাবে, যখন বান্দা সেই ‘চোখে না দেখা’ আর ‘কল্পনা না করা’ পরম প্রাপ্তির মুখোমুখি হবে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক 

আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আমাদের ঘরগুলো কি রহমত শূন্য হচ্ছে?
ছবি: সংদগৃহীত

বসার ঘরের দেয়ালে ঝুলছে চমৎকার সব পেইন্টিং, সোফার কুশনে নান্দনিক ছবির কারুকাজ, আর ড্রয়িংরুমে খেলছে আদুরে পোষা প্রাণী–আধুনিক শহুরে জীবনে ঘর সাজানোর চেনা এক খণ্ডচিত্র এটি। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে আভিজাত্য বা রুচিবোধ মনে হলেও, এর পেছনে কি কোনো আধ্যাত্মিক সংকট লুকিয়ে আছে? ইসলামের চিরন্তন দর্শন বলে, আমাদের ঘরের সাজসজ্জা ও পরিবেশের ওপরই নির্ভর করে সেখানে পরম শান্তি ও মহাজাগতিক রহমতের ফেরেশতারা প্রবেশ করবেন কি না।

আজ থেকে চৌদ্দ শত বছর আগে অন্দরমহলের সজ্জা নিয়ে তৈরি হয়েছিল এক তীব্র মনস্তাত্ত্বিক মুহূর্ত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশ্রামের জন্য ছবি আঁকা একটি ছোট বালিশ কিনেছিলেন। কিন্তু ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় থমকে দাঁড়ালেন রাসুল (সা.)। আয়েশা (রা.) তার মুখের অবয়ব দেখে শঙ্কিত হয়ে তওবা করলেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) এক অমোঘ সত্য উন্মোচন করে বললেন, যে ঘরে ছবি থাকে সে ঘরে (রহমত ও বরকতের) ফেরেশতা প্রবেশ করে না। (বুখারি, ৫৯৬১)। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, নুহ (আ.) থেকে শুরু করে ইব্রাহীম (আ.) পর্যন্ত সব নবিই সমাজ ও জীবন থেকে এই ছবি-মূর্তি সংস্কৃতির বিলোপ ঘটিয়েছেন।

একবার এক গভীর রাতে ওহি নিয়ে আসার কথা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর। কিন্তু তিনি এলেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ভোরবেলা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পরে দেখা গেল, তাঁর খাটের নিচে একটি ছোট্ট কুকুর ছানা ছিল। হযরত মায়মুনা (রা.) বর্ণিত হাদিসে জানা যায়, জিবরাঈল (আ.) পরে এসে স্পষ্ট জানান, আমরা এমন ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর বা ছবি থাকে। (মুসলিম, ২১০৫)। তবে ইসলাম এই বিধানে এক ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান দিয়েছে; শিকার বা বাগানের নিরাপত্তার মতো বাস্তব প্রয়োজনের কুকুরকে এর বাইরে রাখা হয়েছে।

ছবি বা মূর্তির এই নিষেধাজ্ঞা কি সর্বজনীন? আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক সহিহ হাদিসে জিবরাঈল (আ.) একটি পর্দা ও ঘরের ছবি দেখে তার মাথা কেটে ফেলার বা আকৃতি বদলে গাছের মতো করার পরামর্শ দেন। পর্দাটি কেটে নিচে বসার গদি বানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যেন ছবির প্রতি কোনো ভক্তি বা আভিজাত্যের প্রকাশ না থাকে (তিরমিজি, ২৮০৬)। তবে আধুনিক ইসলামি গবেষকদের মতে, যে ছবির প্রকৃত উপকারিতা রয়েছে, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান, জরুরি আইডেন্টিটি বা ভূগোলচর্চা, তা তৈরি ও ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বৈধ।

বিয়ের ঘর সাজানো বা আভিজাত্য প্রদর্শনে আমরা অনেক সময় সীমা লঙ্ঘন করে ফেলি। সাহাবি সালিম ইবনু আব্দুল্লাহর বিয়ের দিন ঘরটিকে সবুজ দামি কাপড় আর পর্দা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল। আমন্ত্রিত অতিথি প্রখ্যাত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারী এসে যখন দেখলেন দেয়ালে এভাবে বিলাসিতার পর্দা ঝোলানো হয়েছে, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে বললেন, আমি তোমাদের খাদ্য খাব না, তোমাদের ঘরেও প্রবেশ করব না। (ত্বাবারাণী)।

ঘর কেবল দেয়াল বা দামি আসবাবের সমষ্টি নয়; এটি আমাদের আত্মিক প্রশান্তির কেন্দ্র। আসুন, আমাদের অন্দরমহল থেকে এমন সব উপাদান সরিয়ে ফেলি যা রহমতের ফেরেশতাদের দূরে ঠেলে দেয়, যেন আমাদের ঘরগুলো প্রকৃত অর্থেই বরকতময় হয়ে ওঠে।

লেখক: আলেম ও সাংবাদিক