বর্তমান সময়ে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা বিকাশ-নগদ ইত্যাদির মাধ্যমে টাকা লেনদেনের পাশাপাশি সেভিংস বা সঞ্চয়ী স্কিমের প্রচলন বেশ বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একে ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক মুনাফার নাম দিয়ে প্রচার করা হয়। তবে আধুনিক ফিকহ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখা এবং সেখান থেকে মুনাফা গ্রহণের বিষয়টি গভীর সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিকাশ বা এ জাতীয় প্ল্যাটফর্মগুলো অনেক সময় নির্দিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে মুনাফা প্রদানের কথা বলে থাকে। তবে অনেক শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তাদের এই ‘ইসলামিক’ দাবি অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ মানদণ্ড পূরণ করে না। বাস্তবে তাদের এই সেভিংস কার্যক্রমের গঠনগত প্রক্রিয়াটি প্রায়ই প্রচলিত সুদভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে মিলে যায়। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট হারে মুনাফা নিশ্চিত করা সুদের (রিবা) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রাখে।
সুদ একটি অভিশপ্ত বিষয়। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ গ্রহীতা, দাতা, সুদের লেখক এবং এর সাক্ষীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন, গুনা ও পাপাচারের ক্ষেত্রে তারা সবাই সমান অপরাধী (সহিহ মুসলিম)। সুতরাং, স্রেফ ‘ইসলামিক’ লেবেল দেখে প্রতারিত হওয়া যাবে না। যেখানে লেনদেনের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নয় এবং শরিয়াহ বোর্ডের প্রকৃত তদারকি নিয়ে সংশয় রয়েছে, সেখানে টাকা জমানো থেকে বিরত থাকাই ইমানি দায়িত্ব।
আরো পড়ুন: বিকাশে ঋণের টাকা পাঠালে ক্যাশআউট খরচ কার?
যদি কেউ না বুঝে বা ভুলবশত এ ধরনের সঞ্চয়ী স্কিমে টাকা জমা করে ফেলে থাকেন এবং সেখান থেকে অতিরিক্ত মুনাফা চলে আসে, তবে তার করণীয় কী? ফতোয়া অনুযায়ী, উক্ত ব্যক্তির জন্য কেবল তার জমা রাখা মূল টাকাটুকু গ্রহণ করা বৈধ হবে। অতিরিক্ত মুনাফার অংশটুকু কোনোভাবেই নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খরচ করা যাবে না। এই বাড়তি টাকা সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই অভাবী বা নিঃস্ব মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া ওয়াজিব।
উপার্জনের বরকত নির্ভর করে এর পবিত্রতার ওপর। ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সামান্য মুনাফার লোভে যেন আমরা আমাদের আখেরাতকে ধ্বংস না করি। মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার কেবল প্রয়োজনীয় লেনদেনে সীমাবদ্ধ রাখা এবং সন্দেহজনক স্কিম থেকে নিজেকে দূরে রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লাহ আমাদের হালাল পথে জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন। (আমিন)।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক