মুসলিম সমাজে একটি কথা বেশ প্রচলিত যে, হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন মানুষকে হজের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তখন রুহের জগতে যে ব্যক্তি যতবার 'লাব্বাইক' (আমি উপস্থিত) বলেছে, সে দুনিয়াতে ঠিক ততবারই হজ করার সুযোগ পাবে। অনেকেই এই কথাটি বিশ্বাস করেন এবং ধর্মীয় আলোচনায় বলে থাকেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামি জ্ঞান ও হাদিস শাস্ত্রের মানদণ্ডে এই বর্ণনাটির সত্যতা কতটুকু?
কথিত আছে যে, ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) যখন হজের ঘোষণা দিলেন, তখন সব সৃষ্টি সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। যে একবার লাব্বাইক বলেছিল সে একবার, আর যে দশবার বলেছিল সে নাকি দশবার হজ করবে। শুনতে খুব চমৎকার মনে হলেও মুহাদ্দিসরা (হাদিসবিশারদরা) এই বর্ণনাটিকে ভিত্তিহীন ও জাল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
আরো পড়ুন: হজ না করলে ইসলামের দৃষ্টিতে শাস্তি কী?
বিখ্যাত হাদিসবিশারদ ইবনে আররাক (রহ.) তার জাল বর্ণনাবিষয়ক গ্রন্থ তানযীহুশ শরিয়াহ-তে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এটি মুহাম্মাদ ইবনে আশআছ নামক এক ব্যক্তির তৈরি করা মিথ্যা বর্ণনা। সে এই কথাটি হযরত আলী (রা.)-এর নামে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। এ ছাড়া ‘আল-ফাওয়াইদুল মাজমূআ এবং তাযকিরাতুল মাউযূআত-এর মতো নির্ভরযোগ্য কিতাবেও একে বানোয়াট বলা হয়েছে।
১. সনদগত দুর্বলতা: কোনো নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাবে সহিহ সনদে এটি বর্ণিত হয়নি।
২. বাস্তবতা: অনেক আল্লাহপ্রেমী মানুষ জীবনে বহুবার হজ করার ব্যাকুল আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন, কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় একবারও যেতে পারেন না। আবার অনেকে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অবহেলা করেন। হজে যাওয়া মূলত আল্লাহর বিশেষ তাওফিক এবং মানুষের আন্তরিক চেষ্টার ওপর নির্ভর করে।
আরো পড়ুন: হাজিদের জন্য যে ভুলগুলো হতে পারে মারাত্মক
দ্বীন প্রচারের ক্ষেত্রে আবেগ নয়, বরং সহিহ তথ্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। কোনো বানোয়াট কথাকে রাসুল (সা.) বা সাহাবিদের দিকে সম্বন্ধ করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। আমাদের উচিত হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নিয়ে কথা বলার সময় যাচাই-বাছাই করা। আমরা যেন কেবল লোকমুখে শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে কোনো ভুল ধারণা প্রচার না করি। আল্লাহ আমাদের বিশুদ্ধ জ্ঞানের পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক: আলেম ও সাংবাদিক