অফিসে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষা করছে পলাশ। পেছন থেকে এক ভিক্ষুক এসে বলল, কয়টা টেহা দেন সাব। কাল রাইত থিকা এহনো কিছু খাই নাই।
পলাশ বলল, মাফ করো।
ভিক্ষুক রেগে গিয়ে বলল, মাফ করতে পারুম না। সকাল থিকা এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জনরে মাপ করছি, আর কত মাফ করুম? এখন থিকা মাফ পাইতে হইলে টেহা দেওন লাগব।
পলাশ বিরক্ত গলায় বলল, চটাং চটাং কথা তো ভালোই বলতে পার! এই যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করছ, লজ্জা করছে না?
ভিক্ষুক ততোধিক বিরক্ত হয়ে বলল, ভিক্ষা করণের লাইগা আমাগো কি এখন অফিস খুইল্যা বসতে হইব সাব? দেন, টেহা দেন।
ভিক্ষুকের হাত থেকে বাঁচার জন্য সে একটা ফাস্টফুড দোকানে ঢুকে পড়ল। তার কিছু খাওয়াও দরকার। পলাশ দুইটা হটডগ অর্ডার দিয়ে বসে রইল। এই ফাস্টফুড দোকানটা বেশ বড়। ভেতরে পরিবেশ সুন্দর।
ছেলেটা দুটা হটডগ দিয়ে গেছে। পলাশ এক কামড় দিয়েই বুঝে গেল বাসি মাল, খাওয়ার উপযুক্ত না। কেমন যেন গন্ধ আসছে।
সে ছেলেটাকে ডেকে বলল, এগুলো কী দিয়েছ, খাওয়া যাচ্ছে না। তোমার ম্যানেজারকে ডেকে দাও।
ছেলেটা বলল, কী হইছে স্যার?
খাবার থেকে গন্ধ আসছে, খেতে পারছি না।
ছেলেটা নির্বিকার গলায় বলল, স্যার, যে জিনিস আপনে খাইতে পারতেছেন না, সেইটা কি ম্যানেজার সাব খাইতে পারব?
পলাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে উঠে গেল। তর্ক করতে মন চাইছে না।
অফিসে গিয়ে ডেস্কে বসে এক কাপ চা খাওয়া তার প্রতিদিনের অভ্যাস। বসার কিছুক্ষণ পরই পিয়ন ছেলেটা চা নিয়ে এল। চায়ে সুড়ুৎ করে এক টান দিতেই জিভে কী যেন আটকে গেল। বের করতেই দেখা গেল, একটা মাছি। চা ঠাণ্ডা, নিশ্চয় কারও ফেরত দেওয়া চা এখানে দিয়েছে।
জোরে পিয়নকে ডাক দিতেই ছেলেটা কাছে এসে বলল, কী হইছে স্যার! ষাঁড়ের লাহান চিল্লানি মারেন কেন? অফিসে আগুন লাগছে?
-চায়ে মরা মাছি কেন?
-আপনি দেহি বোকা আছেন! চায়ে কি আপনে জীবিত মাছি আশা করছিলেন? মাছি সাঁতার জানলে না হয় কথা ছিল। তাছাড়া গরম চায়ে মাছি জীবিত থাহে? আউল ফাউল কতা কওনের অভ্যাস আপনের গেল না।
-চা গরম কোথায়? ঠাণ্ডা চা!
-ভুল ধরার অভ্যাসও আপনের গেল না স্যার। আমি কি ঠাণ্ডা চা দেওনের মানুষ? আমার এই রেকর্ড নাই।
পলাশ আর কথা বাড়াতে সাহস করল না। পিওন ছেলেটা তাকে পাত্তা দেয় না, কারণ সে বসের সুনজরে আছে। আর কোনো এক বিচিত্র কারণে বসও তাকে পছন্দ করে না। আসলে তাকে কেউই পছন্দ করে না। এমনকি বাড়ির বউও না। কারণটা তার অজানা। সে ভেবে কূল পায় না, কোনটা তার বেশি খারাপ, চেহারা না ভাগ্য!