ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও ভারতীয় মদসহ দুই মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় সম্মতি রাশিয়ার পাঠকের গল্প : বিষ খেতে গিয়ে প্রতারণার শিকার চায়নিজ জামাই চাকরি দেবে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের জন্য ফ্রি গুগল এআই প্রো নিয়ে এল টেকনো ব্রাজিলিয়ানদের সুখবর দিলেন নেইমার রংপুরে ওয়ার্ডভিত্তিক অপরাধচক্র শনাক্তের নির্দেশ আরপিএমপির ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের লিফলেট তৈরির সময় আটক ২
Nagad desktop

চোখ নষ্ট লেখক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
চোখ নষ্ট লেখক
এঁকেছেন মাসুম

চোখের ডাক্তারের কাছে গেছি। ডাক্তার দেখতে-শুনতে বেশ ভালো। অল্পবয়সী।  তিনি আমার দিকে ঝুঁকে এসে বললেন, কী সমস্যা? 
বললাম, সমস্যা চোখে, না মাথায় ঠিক বুঝতে পারছি না ডাক্তার সাহেব। বইমেলা এলেই চোখে উল্টাপাল্টা দেখি।
ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, বইমেলার সঙ্গে চোখের সম্পর্ক থাকার কথা না। আচ্ছা আপনি কি লেখক? 
— খুবই লজ্জিত গলায় বললাম, জি।
— সমস্যা খুলে বলুন।
— সমস্যা বেশ জটিল ডাক্তার সাহেব। পাগল-ছাগল হয়ে যাচ্ছি কি না বুঝতে পারছি না। বইমেলা আসছে জানেন তো? এই মেলায় আমারও একটা বই আসবে। বইমেলা এলেই আমার মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। 
ডাক্তার সাহেব অবাক হয়ে বললেন, কেন?  
বললাম, আমি ফেসবুকে টুকটাক লেখালেখি করি। সে হিসেবে অনেক লেখক লেখিকার সঙ্গে আমার পরিচয় আছে। গত বছর যে প্রকাশনী থেকে আমার বই বের হইছে, আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন লেখক-লেখিকার বইও বের হইছিল। একদিন আমি গিয়ে দেখি কয়েকজন পরিচিত লেখিকা বইয়ের স্টলে বসে আছে, যাদের আমি ফেসবুকের কল্যাণে চিনি। 
— থাকুক বসে। তাতে আপনার সমস্যা কী? 
— আরে ভাই, গোলমাল তো সেখানেই। গিয়ে দেখি প্রত্যেক লেখিকার বয়স বেড়ে গেছে। আমি ঠিকমতো কাউকেই চিনতে পারছি না! 
— মানে কী? 
— ফেসবুকে তো তাদের চেহারা ছবি দেখেছি। মেসেঞ্জারে অনেকের সঙ্গে টুকটাক কথাও হয়েছে। তারা দেখতে শুনতে বেশ ভালো। সুন্দরী। অল্পবয়সী মনে হইছে। কিন্তু সামনাসামনি গিয়ে দেখি, তাদের বয়স বেড়ে গেছে। তাদের আগের মতো সুন্দর লাগছে না! বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, কয়েকজনের চুল পর্যন্ত পেকে গেছে! ভয়াবহ অবস্থা!
— বলেন কী?
— তবে আর কী বলছি ভাই! আমি বুঝতে পারছি আমার চোখে সমস্যা হচ্ছে, নইলে এমন দেখব কেন? লজ্জায় কারও সঙ্গে ঠিকমতো কথা বলতে পারি নাই। সবচেয়ে লজ্জার বিষয় কি জানেন, ফেসবুকে আমার প্রকাশককে ইয়াং দেখেছিলাম। তাকেও বুড়োর মতো লেগেছে। 
— তারা আপনার সঙ্গে কথা বলে নাই? 
— বলছে তো। তারাও বলছিল, হানিফ ভাই, আপনার বয়স তো অনেক বেড়ে গেছে! ফেসবুকে অনেক ইয়াং দেখেছি! 
— তো আপনি কী বললেন? 
—এই বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত বলেই হয়তো আমাকে একটু বয়স্ক লাগছে! নইলে তারা এমন কথা বলবে কেন? মেলা শেষে বাড়ি ফিরে এলাম। ফেসবুকে ঢুকে দেখি, আমার চোখ ভালো হয়ে গেছে। উনাদের আবার অল্পবয়সী, সুন্দর লাগছে! 
— তাহলে তো চোখ ভালো হয়ে গেছে। 
— আরে না, পরের বইমেলাতেও দেখি একই অবস্থা। তাই এবার বইমেলা আসার আগেই আপনার কাছে এসেছি, যদি রোগটা এবারও দেখা দেয়! আচ্ছা ডাক্তার সাহেব রোগটা আমার শরীরে না মনে?
ডাক্তার সাহেব বললেন, রোগ আপনার শরীরে না, মনেও না, মোবাইলে। এডিটিং করা ছবিতে সবাইকে সুন্দর দেখায়।

লাল বাহাদুর

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
লাল বাহাদুর
এঁকেছেন মাসুম

নিকুরদহ গ্রামে কোরবানির ঈদ মানেই এক আলাদা উৎসব। গ্রামের রাস্তায় তখন শুধু গরু আর মানুষের ভিড়। কেউ গরুর দাঁত দেখে, কেউ লেজ ধরে টানে। আবার কেউ শুধু দাম শুনেই বলে–‘এই গরু নিশ্চিত বিদেশি জাতের!’
এই গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ ছিলেন মোক্তার চাচা। প্রতিবছর তিনি এমনভাবে গরুর গল্প করতেন যেন পুরো জেলার সেরা গরু শুধু তিনিই চিনতে পারেন। তার স্ত্রী রহিমা খালা অবশ্য এসব শুনে হেসেই উড়িয়ে দিতেন। কারণ গত বছর মোক্তার চাচা যে ছাগল কিনেছিলেন, সেটা এক রাতে তিন বাড়ির শাকখেত খেয়ে শেষ করে দিয়েছিল।
এবার মোক্তার চাচা হাট থেকে বিশাল এক লাল গরু কিনে আনলেন। গরুর নাম দিলেন ‘বাহাদুর’।
গরু দেখে গ্রামের ছেলে টিপু, রিপন আর বাবলু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল।
টিপু বলল–চাচা, এই গরু কি খুব শান্ত?
মোক্তার চাচা গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন, এই গরু এত ভদ্র যে পাশে বইসা গান গাইলেও কিছু বলবে না!
কিন্তু কথাটা বলার পরই বিপদ শুরু হলো। বাহাদুর হঠাৎ এমন এক হাম্বা ডাক দিল যে পাশের বাড়ির হাঁসগুলো ভয় পেয়ে পুকুরে ঝাঁপ দিল। তার পর গরু দিল এক ঝটকায় দড়ি ছিঁড়ে বাজারের দিকে দৌড়!
মোক্তার চাচা চিৎকার করতে করতে পেছনে ছুটলেন, ধরো! কেউ আমার গরুরে ধরো!
তার পেছনে টিপু, রিপন, বাবলু–আর তাদের পেছনে পুরো নিকুরদহ গ্রাম।
গরু গিয়ে প্রথমে ঢুকল কুদ্দুস মাস্টারের সবজি খেতে। সেখানে গিয়ে বাঁধাকপি খেতে শুরু করল এমনভাবে, যেন বহুদিন কিছু খায়নি।
কুদ্দুস মাস্টার মাথায় হাত দিয়ে বললেন, এইটা গরু না, কৃষি বিভাগের দুর্যোগ!
তার পর গরু স্কুলমাঠে ঢুকে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দিল। ছেলেরা বল ফেলে দৌড়ে পালাল। শুধু বাবলু কাদায় পিছলে পড়ে গেল। তাকে দেখে গরুও কিছুক্ষণ থেমে তাকিয়ে রইল।
অনেক কষ্টে গরুকে ধরে বাড়িতে আনা হলো। কিন্তু তখন দেখা গেল মোক্তার চাচার নতুন পাঞ্জাবির হাতা ছিঁড়ে গেছে, আর রিপনের এক পাটি স্যান্ডেল হারিয়ে গেছে।
সন্ধ্যায় রহিমা খালা বিরক্ত হয়ে বললেন, তোমার গরুরে দেখলে আমারই ভয় লাগে!
মোক্তার চাচা গম্ভীর হয়ে বললেন, আমি ছোটবেলায় মহিষ সামলাইছি!
ঠিক তখনই গরু এমনভাবে মাথা ঝাঁকাল যে মোক্তার চাচা সোজা পানির ড্রামের মধ্যে পড়ে গেলেন।
পরদিন সকালে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা হলো–কোরবানির চামড়ায় সবাই লবণ লাগাইবেন।
এই কথা শুনে মোক্তার চাচা এত ব্যস্ত হয়ে গেলেন যে ভুল করে গরুর খাবারের বদলে সামনে লবণের বস্তা খুলে রাখলেন।
বাহাদুর এক চাটা দিয়েই এমন মুখ বানাল, যেন জীবনের সবচেয়ে বড় প্রতারণার শিকার হয়েছে।
এর পর থেকে বাহাদুর মোক্তার চাচাকে দেখলেই রাগী চোখে তাকায়।
ঈদের দিন সকালে পুরো গ্রাম প্রস্তুত। কিন্তু মোক্তার চাচার বাড়িতে তখনো কসাই নেই। কারণ মুসা কসাই নাকি একসঙ্গে চার বাড়িতে বুকিং খেয়েছে।
অনেক অপেক্ষার পর মুসা কসাই সাইকেলে করে এলেন। এসে প্রথমেই বললেন–আগে এক কাপ চা খামু।
এই কথা শুনে রিপন ফিসফিস করে বলল, চা খাইতে খাইতে গরু আবার পালাইলে?
কথা শেষ হতেই বাহাদুর আবার দড়ি ছিঁড়ে দৌড়!
এইবার গরু সোজা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। চেয়ারম্যান সাহেব গম্ভীর মুখে বললেন, এই গরুরে ভোটে দাঁড় করাইলে মনে হয় জিতব!
সবাই হেসে গড়াগড়ি। অনেক দৌড়াদৌড়ি আর হাসাহাসির পর শেষ পর্যন্ত সব কাজ শেষ হলো। সন্ধ্যায় মোক্তার চাচা হাঁপাতে হাঁপাতে উঠানে বসে ছিলেন। টিপু জিজ্ঞেস করল–চাচা, আগামী বছর আবার গরু কিনবেন?
মোক্তার চাচা চোখ বন্ধ করে বললেন–না রে বাবা… আগামী বছর কবুতর পালমু!
ঠিক তখনই পাশের বাড়ির একটা মোরগ এসে তার লুঙ্গিতে ঠোকর দিল।
পুরো উঠান আবার হাসিতে ফেটে পড়ল!

চায়নিজ জামাই

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ১২:১০ পিএম
চায়নিজ জামাই
এঁকেছেন মাসুম

শেষ পর্যন্ত কিস্তিমাত করল কিসমত আলীর মেয়ে কুলসুম বেগম। কুলসুম বেগমের বিয়ে হচ্ছিল না বলে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। প্রতিবেশীরা নানা কথা বলত। 
সেই কুলসুম বেগম প্রেমের ফাঁদে ফেলে সুদূর চীন থেকে এই অজপাঁড়াগায়ে নিয়ে এল এক যুবককে। যুবক দেখতে সুদর্শন, নাকটা যা চ্যাপ্টা। চীন-জাপানের মানুষের নাক তো চ্যাপ্টাই হবে। মাথার চুলগুলো খাড়া খাড়া। তবে খাড়া চুল কোনো সমস্যা না। 
কুলসুম বেগম তো আনন্দে ঝলমল করছে। পাড়ার ছেলে-বুড়ো সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে কিসমত আলীর বাড়িতে। এর আগে তারা কখনো চাইনিজ দেখেনি। সেই চাইনিজ যুবক আজ তাদের গ্রামের জামাই হতে যাচ্ছে। বিয়ের পর কুলসুম বেগম চলে যাবে চীন দেশে। কপাল একেই বলে! 
কুলসুম বেগমের কপাল দেখে গ্রামের অন্যান্য বিয়ের যোগ্য মেয়েরা ফেসবুকে বিদেশি ছেলে খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। কালো, মুখে বসন্তে দাগওয়ালা আইবুড়ো কুলসুম যদি চীন দেশের ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে আটকাতে পারে তো অন্যরা পারবে না কেন? 
বিয়ের সব আয়োজন শেষ। সমস্যা দেখা দিল এক জায়গায়। ছেলে তো বাংলা বলতে পারে না, বাংলা বোঝেও না। বিয়ের কাজি যা বলছে ছেলে তা কিছুই বুঝছে না। হাঁ করে কাজির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কুলসুম বেগমের চাচা রহমত আলী বলল–কাজি সাহেব, বিশেষ কিছু বলানোর দরকার নাই। কোনোমতে ওর মুখ দিয়ে ‘কবুল’ শব্দটা বের করেন। তার পর আমাদের মেয়ে ওকে বাংলা শিখায়া নেবে। 
পাশ থেকে একজন বলল, বাংলা পারে না তো প্রেম করল কেমনে? 
রহমত আলী ধমকে উঠল, প্রেম করছে ইংরেজিতে। তুমি জানো না, আমাদের মেয়ে আইএ পাস? 
উপস্থিত মেয়েরা একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করল। তারা বোঝাল, বিদেশি ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে হলে ইংরেজি শিখতে হবে। আরেকজন বলল, ইংরেজিতে কবুল বলানোর সিস্টেম আছে নাকি?
আরেকজন বলল, আরে নাহ! ইংরেজিতে বললে বিয়ে হবে না। 
ছেলে শুধু এর-ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে। বিয়ে করার ব্যাপারে তার ভেতর বিশেষ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিবেশী বৃদ্ধ তমিজ মিয়া বলল, এভাবে সময় নষ্ট করে লাভ নাই। ইংরেজি জানে এমন কাউরে নিয়া আসো। সে এর সঙ্গে কথা বলে এর মুখ দিয়ে কবুল বের করতে পারবে। 
কয়েকজন ছুটে গেল ইংরেজি জানা লোক আনতে। পাড়ায় লেখাপড়া তো অনেকেই জানে, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলার মতো তেমন কেউ নাই। বেশির ভাগই অটোপাস যুগে এসএসসি, এইচএসসি পাস করেছে। 
একজন রফিক উল্লাহকে ধরে নিয়ে এল। রফিক উল্লাহ বিএ পাস করেছে। সে মোটামুটি ইংরেজিতে কথা বলতে পারে। রফিক এসে চাইনিজ যুবককে একথা-সেকথা বলে, বিয়ের নিয়মকানুন সম্পর্কে বলে, কিন্তু চাইনিজ যুবক আগের মতোই তাকিয়ে থাকে। কিছুই বলে না। 
রফিক বলল, সে তো ইংরেজিও জানে না। আসলে চাইনিজরা নিজেদের ভাষার বাইরে অন্য কোনো ভাষা শেখে না। তাদের মান্দারিন ভাষা খুবই সমৃদ্ধ। এমনকি চাইনিজরা জুকারবার্গের ফেসবুকও ব্যবহার করে না। তাদের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আছে। 
এ কথা শুনে সবার চোখ কপালে। প্রেম তো জাকারবার্গের ফেসবুকেই হয়েছে। বৃদ্ধ তমিজ মিয়া বলল, তায়লে সে জাপানিজ। চাইনিজ আর জাপানিজদের দেখতে একই রকম লাগে। জাপানিজদের চোখ আরও একটু বেশি ফোলা, নাক আরও মোটা। দেখো তার চোখ কেমন ফোলা। 
রফিক বলল, চাইনিজ, জাপানিজ যাই হোক, তার মুখ থেকে তো কিছু বলাতে হবে। সে তার ভাষাই বলুক। সে তো কিছুই বলছে না। সে ফেসবুকে প্রেম করছে কোন ভাষায়?
এই প্রশ্নটা খুব কার্যকর। কুলসুমের সঙ্গে তার সে দীর্ঘ দেড় বছর চুটিয়ে প্রেম করেছে। তখন সে কোন ভাষায় লিখেছে? 
কুলসুমের চাচা রহমত আলী কুলসুমের দিকে তেড়ে গিয়ে ধমকে উঠল, এই কুলসুম, তুই ওর সঙ্গে কোন ভাষায় প্রেম করছোস?
–আমি তো বাংলা ভাষায়ই লিখছি। 
–আর সে?
–সেও বাংলা ভাষায় লিখছে।
–তার বাড়ি কোন দেশে বলছিল?
–চীন দেশে। 
উপস্থিত সবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। কাজ-কর্ম ফেলে তারা এখানে বসে আছে। ছেলে প্রেম করেছে, প্রেমের টানে বিয়ে করতে এসেছে। এখন মুখে কোনো আওয়াজ বের করছে না। 
এক যুবক চোখ রাঙিয়ে বলল, এই মিয়া, তুমি বিদেশি লোক। তার ওপর আমাদের গ্রামের মেয়ে বিয়ে করতে এসেছো। তোমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে চাই না। কিন্তু এভাবে চুপ করে থাকবে না। চীনের কোন শহরে তোমাদের বাড়ি? ঝটপট বলো। তোমার ভাষাতেই বলো। আমরা তোমার মুখের শব্দ শুনতে চাই। বলো, কোন শহরে তোমার বাড়ি?
–রাঙামাটি শহরে। 
রাঙামাটি! সবাই হাঁ হয়ে গেল। 
পাশ থেকে এক যুবক বলল, চীনে রাঙামাটি শহর আছে?
–আছে। বিরাট দেশ তো। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি সব আছে। 
–কী বলতেছো তুমি? 
–আমি একটু টয়লেটে যাব। খুব চাপ দিতেছে। 
–যাও, টয়লেটে যাও। যতদূর মনে হইতেছে তোমার কপালে আজ খারাপ কিছু আছে। তোমারে সারা রাত টয়লেটে বেঁধে রাখব। সকালে পুলিশ আসবে। তুমি চরম ধোঁকাবাজি করেছো বোঝা যাচ্ছে। 
চীনের রাঙামাটি শহরের যুবক টয়লেটে গেল তো গেল, আর বের হওয়ার নাম নেই। সবাই ডাকাডাকি করতে লাগল, টয়লেটের দরজা ধাক্কাতে লাগল কিন্তু চাইনিজ যুবক তো আর বের হয় না। 
শেষে একজন লক্ষ্য করে টয়লেটের পেছনের বেড়া ভাঙা। দেখে চাইনিজ যুবক টয়লেটের পেছনের বেড়া ভেঙে ধানখেতের ভেতর দিয়ে পালিয়ে গেছে। 
রাত নেমে এসেছে। চারদিক অন্ধকার। এর মধ্যে চাইনিজ যুবককে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে না। তবুও অনেকে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করল। কিন্তু কোথাও পেল না। 
চাচা রহমত আলী কুলসুমকে বলল, এই তোর মোবাইল কই? 
কুলসুম মোবাইল তুলে দিল চাচার হাতে। রহমত আলী বলল–আজ থেকে তোর মোবাইল চালানো বন্ধ। চীনের রাঙামাটি শহরের যুবকের সঙ্গে প্রেম আর চলবে না।

সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
সোনাই চাচার চামড়াকাণ্ড
ছবি জেমিনি এআই

শাকপালা গ্রামের মানুষজন এমনিতেই একটু রসিক প্রকৃতির। এখানে কারও হাঁস ডিম কম দিলেও সেটা নিয়ে তিন দিন আলোচনা চলে। আর কোরবানির ঈদ এলে তো পুরো গ্রামটাই যেন হাসি-আনন্দের মেলায় পরিণত হয়!
গ্রামের সবচেয়ে আলোচিত মানুষ সোনাই চাচা। গোলগাল চেহারা, মাথাভর্তি সাদা চুল আর বিশাল গোঁফ—দেখলেই মনে হয় তিনি গ্রামের চেয়ারম্যান না হলেও অন্তত হাসির মন্ত্রী। তবে নিজের বিষয়ে তার ধারণা আরও বড়। তিনি প্রায়ই বলেন,
–এই গ্রামে আমার মতো অভিজ্ঞ মানুষ আর দুইটা নাই!
এবার ঈদে সোনাই চাচা এক বিশাল বোম্বাই ষাঁড় কোরবানি দিলেন। গরুটা এত বড় ছিল যে, পাশের বাড়ির রফিক মিয়া বলল–চাচা, এই গরু তো দেখে মনে হয় হাইস্কুলের হেডমাস্টার!
কোরবানি শেষ হতে না হতেই শুরু হলো চামড়া নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। সোনাই চাচা চামড়ার দিকে এমন নজরে তাকিয়ে আছেন, যেন ওটা সোনার খনি।
তিনি গম্ভীর গলায় বললেন, চামড়া সাবধানে ধরো। গত বছর জব্বাররা ভাঁজ কইরা এমন অবস্থা করছে, মনে হইছিল পুরান বালিশের কভার!
পাশ থেকে রঞ্জু হেসে বলল–চাচা, চামড়া কি ইস্ত্রি কইরা রাখুম?
সবাই হো হো করে হেসে উঠল।
এদিকে গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা এল—চামড়া এতিমখানায় দিলে ভালো হয়। তখনই গ্রামের সবাই হঠাৎ দানবীর হয়ে গেল।
জব্বার বলল, আমি আমার চামড়া মাদ্রাসায় দিমু।
রঞ্জু বলল, আমি এতিমখানায়।
সোনাই চাচা গোঁফে হাত বুলিয়ে বললেন, আমি দুই জায়গাতেই দিতে চাই, কিন্তু গরু তো একটা!
আবারও হাসির ঝড় উঠল উঠানে।
এদিকে গ্রামের তিন দুরন্ত ছেলে লিটু, মিঠু আর সেন্টু—চুপিচুপি অন্য ফন্দি আঁটছিল। তারা ঠিক করল, চামড়া দিয়ে একটা ভূত বানাবে। সন্ধ্যার পর মানুষকে ভয় দেখানো হবে।
রাত নামতেই তারা বাঁশঝাড়ের পাশে চামড়াটা খুঁটির সঙ্গে টাঙিয়ে দিল। দূর থেকে দেখে সত্যিই মনে হচ্ছিল, কোনো আজব প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক তখন সোনাই চাচা টর্চ হাতে সেদিক দিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ টর্চের আলো চামড়ার ওপর পড়তেই তিনি থমকে গেলেন। চামড়ার ভেতর থেকে সেন্টু চাপা গলায় বলল, আমি চামড়ার আত্মা!
সোনাই চাচার মুখ শুকিয়ে গেল। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, ইন্নালিল্লাহ… চামড়ারও আবার আত্মা আছে নাকি!
তার পর এমন দৌড় দিলেন যে, স্যান্ডেল একদিকে আর লুঙ্গির গিঁট অন্যদিকে চলে গেল।
পরদিন সকালে পুরো শাকপালা গ্রামে খবর ছড়িয়ে পড়ল—সোনাই চাচা নাকি চামড়ার ভেতর ভূত দেখেছেন!
চায়ের দোকানে সবাই মজা নিচ্ছে। 
রঞ্জু বলল–চাচা, ভূত কি চামড়ার দাম চাইছিল?
সোনাই চাচা এবারও গম্ভীর মুখে বললেন, ভূতটা খুব ভদ্র আছিল। আগে সালাম দিছে!
এই কথা শুনে দোকানের লোকজন এমন হেসে উঠল যে, এক লোকের হাত থেকে চায়ের কাপ পড়ে গেল!
শেষ পর্যন্ত লিটু, মিঠু আর সেন্টুর দুষ্টুমি ধরা পড়ে গেল। সোনাই চাচা প্রথমে রাগ দেখালেও পরে নিজেই হেসে বললেন, ঠিক আছে, তোদের জন্যই গ্রামের মানুষ দুই দিন হাসছে। এই হাসিরও কম দাম না!
তার পর চামড়াটা দান করে তিনি বাড়ির পথে হাঁটতে লাগলেন। পশ্চিম আকাশে তখন নরম লাল আলো। গ্রামের রাস্তাজুড়ে ছড়িয়ে আছে ঈদের আনন্দ, আর মানুষের মুখে মুখে ভাসছে সেই বিখ্যাত কথা, চামড়ার ভেতরেও নাকি আত্মা আছে!

নাক ডাকলে ঘুম আসে

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
নাক ডাকলে ঘুম আসে
এঁকেছেন মাসুম

আনিস সাহেবের নাকের ডাক কোনো সাধারণ শব্দ নয়। এটি একাধারে কামানের গর্জন, মালবাহী ট্রেনের ব্রেক কষার আওয়াজ এবং মেঘের ডাকের এক অপূর্ব ককটেল। বিয়ের আগে আনিস সাহেবের মা বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেটা একটু নাক ডাকে বাবা, তবে মনটা বড় ভালো।’
বিয়ের প্রথম রাতেই আনিস সাহেবের স্ত্রী সুফিয়া বুঝতে পেরেছিলেন, ওই ‘একটু’ শব্দের গভীরতা কতখানি। বিয়ের পর প্রথম তিন মাস সুফিয়ার কেটেছিল সম্পূর্ণ ঘুমহীন অবস্থায়। আনিস সাহেবের নাক ডাকা শুরু হলেই সুফিয়ার মনে হতো, ঘরের ছাদ বুঝি এইমাত্র ভেঙে মাথায় পড়ল। বালিশচাপা দিয়ে, কানে তুলো গুঁজে, এমনকি বারান্দায় গিয়েও সেই শব্দের হাত থেকে রেহাই মেলেনি। 
অতিষ্ঠ হয়ে সুফিয়া একদিন আনিস সাহেবকে বললেন, ‘তোমার এই নাকের ট্রেনের হর্ন বন্ধ না হলে আমি বাপের বাড়ি চলে যাব।’ 
আনিস সাহেব পড়লেন মহাফাঁপরে। তিনি পরিচিত ডাক্তার মন্টু বিশ্বাসের কাছে গেলেন। 
মন্টু বাবু চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে বললেন, ‘মিয়া ভাই, নাক ডাকা বন্ধের ওষুধ তো নেই। তবে একটা থেরাপি আছে। আজ থেকে ভাবিকে বলবেন, আপনি ঘুমানোর পর উনি যেন আপনার নাকের ডাক রেকর্ডিং করে শোনেন। সাইকোলজি বলে, নিজের স্বামীর আওয়াজ শুনলে নাকি স্ত্রীদের মন শান্ত হয়।’
আনিস সাহেব বাড়ি ফিরে সুফিয়াকে বুঝিয়ে রাজি করালেন। প্রথম রাতে সুফিয়া মোবাইলে আনিস সাহেবের সেই বিকট নাক ডাকা রেকর্ড করলেন। শব্দের তীব্রতায় মোবাইল ফোনটাই যেন কেঁপে কেঁপে উঠছিল। 
পরদিন দুপুরে আনিস সাহেব যখন অফিসে, তখন সুফিয়ার ভীষণ ক্লান্তি লাগল। ভাবলেন একটু ঘুমাবেন, কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। এপাশ-ওপাশ করতে করতে হঠাৎ তার আনিস সাহেবের সেই রেকর্ডিংটার কথা মনে পড়ল। রসিকতা করেই তিনি রেকর্ডিংটা চালু করলেন।
ঘরজুড়ে বেজে উঠল–ঘঁড়ড়ড়...ঘঁড়ড়ড়...ফুসসস! 
কী অদ্ভুত কাণ্ড! তিন মাস ধরে যে শব্দ সুফিয়ার ঘুম কেড়ে নিয়েছিল, সেই শব্দ শোনার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় তার চোখজোড়া ভারী হয়ে এল। পাঁচ মিনিটের মধ্যে সুফিয়া একদম গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেলেন! 
আসলে গত কয়েক মাসে সুফিয়ার কান এই শব্দের সঙ্গে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল যে, এখন এই শব্দটাই তার জন্য ঘুমপাড়ানি গান হয়ে উঠেছে! এটা না শুনলে তার মস্তিষ্ক সিগন্যালই পাচ্ছিল না যে এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে।
বিকেলে আনিস সাহেব অফিস থেকে ফিরে দেখলেন সুফিয়া পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, আর পাশে মোবাইলে তখনও বাজছে–ঘঁড়ড়ড়...ফুঁসসস...
আনিস সাহেব অবাক হয়ে সুফিয়াকে ডেকে তুললেন। সুফিয়া চোখ ডলতে ডলতে বললেন, ‘ওগো, ডাক্তার বাবু ঠিকই বলেছেন! তোমার নাক ডাকার আওয়াজটা আসলে একটা মিউজিক। এটা শুনলে আমার এত চমৎকার ঘুম আসে যা কোনোদিন আসেনি!’
এর পর থেকে আনিস সাহেবের সংসারে শান্তি ফিরে এল। আনিস সাহেব যখনই অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যান, সুফিয়া তখন ঘুমানোর জন্য কানে হেডফোন গোঁজেন। হেডফোনে তখন উচ্চশব্দে বাজতে থাকে আনিস সাহেবের সেই সিগনেচার টিউন– ঘঁড়ড়ড়...ঘঁড়ড়ড়...ফুঁসসস!  
আর সুফিয়া মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

জনৈক যুবকের পুঞ্জীভূত কষ্ট

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম
জনৈক যুবকের পুঞ্জীভূত কষ্ট
এঁকেছেন মাসুম

বাবা মালাইভোগ খুব পছন্দ করতেন। তারই আলোকে ছেলের নাম রেখেছিলেন মালাই-উর-রেহমান। একটু আনকমন নাম, কিন্তু প্রতিবেশীরা ব্যাপারটি মেনে নিয়েছিলেন। মালাইয়ের বন্ধুরাও মানবতার খাতিরে আপত্তি করেননি। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল প্রেম করতে গিয়ে। ক্লাসমেট রিমঝিমকে পছন্দ করলেন, কিন্তু রিমঝিমের এক কথা, ‘মালাই খাওয়ার জিনিস, প্রেম করার জিনিস না। এই নামের কোনো মানুষের সঙ্গে প্রেম-ভালোবাসা হতে পারে না। আগে নাম চেঞ্জ করেন, তার পর এ ব্যাপারে ভাবব।’ 
সেদিনই মালাই-উর-রেহমান দৃপ্ত শপথ নিলেন, ‘মালাইভোগ খাইয়ে রিমঝিমকে বোঝাব মালাই কী জিনিস! মালাই ভালো লাগলে মালাই-উর-রেহমানকেও ভালো লাগবে। তার পর নিশ্চয়ই সে প্রেমের জালে ধরা দেবে।’
যেমন ভাবা তেমন কাজ। প্রাথমিক পরিকল্পনা করার জন্য মালাই-উর-রেহমান তার বন্ধুবর হিমেলের বাসায় তশরিফ আনলেন। ঘটনা শুনে হিমেল অবাক, “এই আক্রার বাজারে রিমঝিমকে মালাইভোগ কীভাবে খাওয়াবি? যে দাম রে বাবা! তার চেয়ে চল ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ এনে খাওয়াই। স্বাদে দারুণ, আবার খরচও কম।” 
মালাই-উর-রেহমান এবার বিরক্ত না হয়ে পারলেন না, “ধুর ব্যাটা, রিমঝিম তো পোলা না যে ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ খাবে? ওকে মালাইভোগই খাওয়াব।” 
অগত্যা কী আর করা, দুই বন্ধু মালাইভোগ জোগাড় করার জন্য বেরিয়ে পড়লেন। এই দোকান, সেই দোকান ঘুরে কোথাও মালাইভোগ না পেয়ে যখন মালাই-উর-রেহমান দিশাহারা, ঠিক তখনই মোবাইল বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করে বললেন, ‘হ্যালো, মালাই হেয়ার।’ 
ওপাশ থেকে জবাব এলো, ‘ভাই, আপনে কি মালাইভোগ খুঁজবার লাগছেন?’ 
মালাই-উর-রেহমানের চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল, ‘জি ভাই। আপনার কাছে মালাইভোগ আছে নাকি?’ 
‘জি না, নাই। তবে আপনে চাইলে মালাইভোগ বানানোর রেসিপি আর সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারি।’–অপর পাশ থেকে জবাব এল। 
মালাই-উর-রেহমান এমনই একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। দেরি না করে জিজ্ঞেস করলেন, ‘অবশ্যই সরবরাহ করবেন। কোথায় আসতে হবে বলেন?’
ঘণ্টা দুই পরের কথা। মালাই-উর-রেহমান মালাইভোগ বানানোর রেসিপি হাতে তার কিচেনে বসে আছেন। রেসিপিতে লেখা–
আইটেম : মালাইভোগ
উপকরণ : ছানা ১ কাপ, দুধ ২  লিটার, সুজি ১ চা চামচ, ময়দা ১ টেবিল চামচ, বাটার অয়েল আধা চা চামচ, বেকিং পাউডার এক চিমটি, চিনি ৩ কাপ, পানি ৬ কাপ, মালাই সিকি কাপ, ক্ষীরশা সিকি কাপ, এলাচ গুঁড়া সামান্য।
প্রণালি : মালাই, ক্ষীরশা, এলাচ গুঁড়া একসঙ্গে ব্লেন্ডারে অথবা মিক্সিতে মিক্স করে রাখতে হবে। ময়দা, বাটার অয়েল, বেকিং পাউডার একসঙ্গে ঘোঁটা দিয়ে সুজি ও দুধ ছেড়ে দিতে হবে। তার পর জাল দিয়ে দুধ টানিয়ে নিতে হবে। দুধ টানানো শেষ হলে ছানা দিয়ে আবার মাখতে হবে। মিশ্রিত ছানা ১২ ভাগ বা ইচ্ছামতো ভাগ করে গোল্লা বানিয়ে হাত দিয়ে চ্যাপ্টা করে শিরায় ছাড়তে হবে। ২০ থেকে ২২ মিনিট ঢাকনা দিয়ে ঢেকে জ্বাল দিতে হবে। চুলা বন্ধ করে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ঢেকে রাখতে হবে। মিষ্টিগুলো চার-পাঁচ ঘণ্টা সিরায় ভিজিয়ে রেখে সিরা থেকে উঠিয়ে টিস্যু পেপারের ওপর কিছুক্ষণ রেখে মাঝখানে চিরে দুই ভাগ করে মালাই ক্ষীরশার মিশ্রণের প্রলেপ দিয়ে ওপরে কিশমিশ সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।
মালাই-উর-রেহমান দেরি না করে কাজে হাত দিলেন। রেসিপি দেখে মালাইভোগ বানাতে খুব একটা সময় লাগল না। এবার রিমঝিমের সামনে পরিবেশনের পালা। 
পরের দিন ক্লাসে এসে মালাইভোগ পেশ করতেই রিমঝিম খুশি মনে টপাটপ গলাধঃকরণ করলেন। তার পর এল আবার প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পালা। প্রস্তাব শুনে রিমঝিম বললেন, ‘এত চমৎকার খাবারের সঙ্গে আপনার নামের এত্ত মিল! আমি অভিভূত। আপনার প্রস্তাব আমি মানব কি মানব না, তা রাতে জানাব। মিসকল দিলে ব্যাক করবেন কেমন?’
সময় যেন আর কাটে না। মালাই-উর-রেহমান বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পায়চারি করে কাটালেন। তার পর এল রাত। কিন্তু মিসকল তো আসে না। ১টা বাজল, ২টা বাজল, ৩টার সময় মালাই-উর-রেহমান আর ধৈর্য ধরতে পারলেন না। রিমঝিমের মোবাইলে ফোন করলেন। তিন রিং হতেই ফোন রিসিভ হলো। মালাই বললেন, ‘হ্যালো রিমঝিম, মিসকল দেওয়ার...।’ 
কথা শেষ হওয়ার আগেই ওপাশ থেকে কেউ একজন বললেন, ‘আমি রিমঝিমের মামা বলছি। রিমঝিম তো হাসপাতালে। কে যেন ওকে মাখনের পানি আর ফরমালিন দিয়ে বানানো নকল দুধের খাবার খাইয়েছে। সেই থেকে চলছে ডায়রিয়া। আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। একটু সুস্থ হোক, তার পর যে ব্যাটা খাইয়েছে তার ১২টা বাজাব।’ 
মামার কথা শুনে মালাই-উর-রেহমান অধিক শোকে পাথর হয়ে গেলেন।