ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রাইম ব্যাংক প্রধানত দুটি বিষয় বিবেচনা করে; আয়ের সক্ষমতা এবং ক্রেডিট হিস্ট্রি বা সিআইবি রিপোর্ট। অর্থাৎ গ্রাহকের মাসিক আয় যাচাই করে নিশ্চিত হতে হয় যে, গ্রাহক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি রিপোর্ট থেকে দেখা হয় যে, অতীতে গ্রাহকের কোনো ঋণখেলাপি হওয়ার রেকর্ড আছে কি না। এই দুটি বিষয় ছাড়াও ব্যাংক ঋণগ্রহীতার বয়স, পেশার স্থায়িত্ব এবং সম্পত্তির মূল্য বিবেচনা করে।
খবরের কাগজ: গৃহঋণ নিয়ে প্রাইম ব্যাংকের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছু বলুন?
এম নাজিম এ চৌধুরী: প্রাইম ব্যাংক সব সময় গ্রাহকদের চাহিদা ও বাজারের পরিবর্তিত অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পণ্য ও সেবা সুবিধা প্রবর্তনে সচেষ্ট। আমরা প্রতিনিয়ত ঋণ প্রক্রিয়া সহজতর করার জন্য কাজ করছি এবং গ্রাহকদের জন্য আরও সুবিধাজনক শর্তাবলি প্ৰণয়ন করার চেষ্টা করছি। সে বিবেচনায় প্রাইম ব্যাংক গৃহঋণ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে, যা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে সহায়ক। এর পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতাদের জন্য আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও সাশ্রয়ী অফার উপস্থাপন করছি।
খবরের কাগজ: আপনার ব্যাংক থেকে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ কত টাকা গৃহঋণ দেওয়া হয়?
এম নাজিম এ চৌধুরী: প্রাইম ব্যাংক সর্বনিম্ন ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি পর্যন্ত ঋণ দেয়।
খবরের কাগজ: গৃহঋণে আপনার ব্যাংক সাধারণত কত শতাংশ সুদ নেয়? এটা কী ফিক্সড না তারতম্য ঘটে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এম নাজিম এ চৌধুরী: প্রাইম ব্যাংকের গৃহঋণের সুদের হার বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক। প্রাইম ব্যাংকের গৃহঋণের সুদের হার নির্ভর করে ঋণের প্রকারভেদ, গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর এবং অন্য শর্তাবলির ওপর। বর্তমানে গৃহঋণের সুদের হার ১০ দশমিক ৫০ থেকে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, তবে এটি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। আমরা সব সময় গ্রাহকদের সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুদের হার নির্ধারণ করার চেষ্টা করি।
গৃহঋণ পেতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় গ্রাহকের আর্থিক অবস্থা এবং সম্পত্তিসংক্রান্ত ডকুমেন্টগুলোকে। মূল যে ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন-
আয়সংক্রান্ত ডকুমেন্ট: বেতনের সনদপত্র বা ব্যবসার আয়ের প্রমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আয়কর রিটার্ন ইত্যাদি।
সম্পত্তিসংক্রান্ত ডকুমেন্টস: সম্পত্তির মূল দলিল, নামজারি (Mutation) এবং খাজনার রসিদ ইত্যাদি।
খবরের কাগজ: আবেদন করার সময় কোন কোন ডকুমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
এম নাজিম এ চৌধুরী: গৃহঋণের জন্য আবেদন করার সময় যেসব ডকুমেন্ট জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
ব্যক্তিগত ডকুমেন্ট: আবেদনকারী ও গ্যারান্টারের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট এবং ঠিকানার প্রমাণ।
আয়ের ডকুমেন্ট: বেতন/আয়ের সনদপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আয়কর রিটার্ন।
সম্পত্তির ডকুমেন্ট: মূল দলিল, নামজারি (Mutation) ও খাজনার রসিদ।
খবরের কাগজ: ঢাকা শহরের বাইরে অন্য বিভাগীয় শহরে আপনাদের পক্ষ থেকে ঋণ দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা আছে কি?
এম নাজিম এ চৌধুরী: ঢাকা শহরের বাইরে অন্য যেকোনো বিভাগীয় শহর বা যে স্থানে প্রাইম ব্যাংকের শাখা আছে সেখান থেকে গ্রাহকরা গৃহঋণ নিতে পারবেন।
খবরের কাগজ: ঋণ পেতে ভোগান্তি এড়াতে গ্রাহকদের কী ধরনের সুবিধা দিচ্ছেন?
এম নাজিম এ চৌধুরী: প্রাইম ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য ঋণ প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহজ এবং দ্রুততর করতে সচেষ্ট। আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রশিক্ষিত কর্মীরা ন্যূনতম কাগজপত্র এবং দ্রুত ঋণ অনুমোদনের সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের সহায়তা করে, যার ফলে গ্রাহক ঝামেলামুক্তভাবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন। তবে গৃহঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়মিত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া রয়েছে। এই প্রক্রিয়া গ্রাহক ও ব্যাংক উভয়ের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।
খবরের কাগজ: বর্তমানে অনেক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান গৃহঋণ দিচ্ছে, গ্রাহকের চাহিদা পূরণে তা যথেষ্ট কী?
এম নাজিম এ চৌধুরী: মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম হলো বাসস্থান। মানুষ তার নিজের বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তবে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানুষের এই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। প্রাইম ব্যাংক পিএলসি মানুষের এ চাহিদা পূরণে গ্রাহকদের গৃহঋণ বা হোম লোন দিচ্ছে। মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব বাসস্থান নির্মাণ, ক্রয় বা সংস্কারের জন্য এসব ঋণ দেওয়া হয়। আমাদের উদ্ভাবনী ঋণ সেবা এবং সহজ শর্তাবলী গ্রাহকদের স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণকে আরও সহজতর করে তোলে। সহজ প্রক্রিয়া, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সুবিধা দিয়ে আমরা গ্রাহকদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করি। আমাদের বিশেষজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সমাধান দেন, যার ফলে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা সহজেই তাদের স্বপ্নের বাসস্থান সুনিশ্চিত করতে পারেন। বিভিন্ন হোম লোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা লাভ করতে পারেন, যা ৩ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধের সুব্যবস্থা রয়েছে।
খবরের কাগজ: ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়?
এম নাজিম এ চৌধুরী: ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক প্রধানত দুটি বিষয় বিবেচনা করে; আয়ের সক্ষমতা এবং ক্রেডিট হিস্ট্রি (CIB রিপোর্ট)।
আয়ের সক্ষমতা: ব্যাংক গ্রাহকের মাসিক আয় যাচাই করে নিশ্চিত হতে হয় যে, গ্রাহক ঋণের কিস্তি (EMI) পরিশোধ করতে পারবেন।
ক্রেডিট হিস্ট্রি (CIB রিপোর্ট): বাংলাদেশ ব্যাংকের এই রিপোর্ট থেকে দেখা হয় যে, অতীতে গ্রাহকের কোনো ঋণখেলাপি হওয়ার রেকর্ড আছে কি না।
এই দুটি বিষয় ছাড়াও ব্যাংক ঋণগ্রহীতার বয়স, পেশার স্থায়িত্ব এবং সম্পত্তির মূল্য বিবেচনা করে।