নির্ণয় ও স্ক্রিনিং
ইতিহাস ও পরীক্ষা: মাসিকের ধরন, ব্যথা/রক্তপাত, যৌনস্বাস্থ্য, গর্ভধারণের পরিকল্পনা ইত্যাদি; পেলভিক পরীক্ষা।
ইমেজিং: ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড, স্যালাইন ইনফিউশন সোনোগ্রাফি, থ্রি ডি আল্ট্রাসাউন্ড, এমআরআই, ফ্যালোপিয়ান টিউবের জন্য এইচএসজি।
ল্যাব/বায়োমার্কার: গর্ভপরীক্ষা, হরমোন প্রোফাইল (থাইরয়েড/প্রোল্যাক্টিন/এএমএইচ), সংক্রমণ স্ক্রিনিং; সিএ-১২৫ (শুধু নির্বাচিত ক্ষেত্রে, এটি একক ডায়াগনোসিস নয়)।
সার্ভিকাল ক্যানসার স্ক্রিনিং: প্যাপ স্মিয়ার/হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ডিএনএ; অস্বাভাবিক হলে কোলপোস্কপি ও বায়োপসি।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন: ৯ থেকে ২৬ বছরের (কিছু দেশে ৪৫ পর্যন্ত) এই ভ্যাকসিন যত তাড়াতাড়ি নেওয়া যায়, তত ভালো।
জেনেটিক ঝুঁকি: পারিবারিক ইতিহাস থাকলে বিআরসিএসহ অন্য পরীক্ষা লাগতে পারে।
সাধারণ সমস্যা ও আধুনিক চিকিৎসা
১. অনিয়মিত/অতিরিক্ত ঋতুস্রাব: ওষুধ- ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড, কম্বাইন্ড পিল/ প্রোজেস্টিন পিল বা ইনজেকশন, হরমোনাল আইইউডি।
মিনিমালি ইনভেসিভ: হিস্টেরোস্কোপি করে পলিপ/সাবমিউকাস ফাইব্রয়েড অপসারণ; ভবিষ্যতে গর্ভধারণ করতে না চাইলে অ্যান্ডোমেট্রিয়াল অ্যাব্লেশন।
ইন্টারভেনশনাল/সার্জারি: ইউটারিন আর্টারি এম্বোলাইজেশন, গজ-গাইডেড এইচআইএফইউ (কিছু সেন্টারে), মায়োমেক্টমি, প্রয়োজনে হিস্টেরেক্টমি।
২) জরায়ুর ফাইব্রয়েড
পর্যবেক্ষণ: উপসর্গ না থাকলে শুধু ফলো-আপ।
ওষুধ: স্বল্পমেয়াদি হরমোনাল পদ্ধতিতে ব্যবহার্য। অপারেশনের আগে সাইজ কমাতে হবে।
প্রক্রিয়া: হাইস্টেরোস্কোপিক/ল্যাপারোস্কোপিক মায়োমেক্টমি, ইউএই, এমআরআই-এইচআইএফইউ; শিশু ধারণের পরিকল্পনা থাকলে পদ্ধতি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
ডেফিনিটিভ: হিস্টেরেক্টমি (সন্তান সম্পূর্ণ হলে ও উপযুক্ত ক্ষেত্রে)।
৩) অ্যান্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমাইওসিস
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ: এনএআইডিএস, কম্বাইন্ড পিল/প্রোজেস্টিন, অ্যাড-ব্যাক থেরাপিসহ।
সার্জারি: ল্যাপারোস্কোপিক এক্সিসন/অ্যাব্লেশন; ওভারিয়ান রিজার্ভ বিবেচনায় সংরক্ষণশীলতা।
অ্যাডেনোমাইওসিসে: নির্বাচিত হলে এলএনজি-আইইউএস, নির্বাচিত ক্ষেত্রে উএই/এইচআইএফইউ, ডেফিনিটিভ হলে হিস্টেরেক্টমি।
ফার্টিলিটি: প্রয়োজন হলে সহায়ক প্রজনন ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪) পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম-পিসিওএস
লাইফস্টাইল: ওজন নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম, সুষম খাবার।
ওষুধ: চক্র নিয়ন্ত্রণ ও অ্যান্ড্রোজেন-সংশ্লিষ্ট উপসর্গে কম্বাইন্ড পিল; ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে মেটফর্মিন; হিরসুটিজমে নির্বাচিত অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন (বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে)।
গর্ভধারণে লেট্রোজোল প্রথম সারির; ক্লোমিফেন/ গোনাডোট্রপিন; রেয়ারলি ওভারিয়ান ড্রিলিং।
৫) পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) ও এসটিআই
অ্যান্টিবায়োটিক রেজিমেন (গাইডলাইন অনুযায়ী), সঙ্গীর চিকিৎসা, বিশ্রাম।
জটিলতা (টিউবো-ওভারিয়ান অ্যাবসেস) হলে ড্রেনেজ/ল্যাপারোস্কোপি।
প্রতিরোধ: কনডম, সময়মতো স্ক্রিনিং, এইচপিভি ভ্যাকসিন গ্রহণ।
৬) ডিম্বাশয়ের সিস্ট/টরশন
সহজ সিস্ট: অনেক সময় নিজে নিজে সেরে যায়, ইউএসজি ফলো-আপ করতে হবে।
সার্জারি: ল্যাপারোস্কোপিক সিস্টেক্টমি; টরশনে ডি-টরশন জরুরি।
ম্যালিগন্যান্সির ঝুঁকি থাকলে অনকো-গাইনি টিমের মাধ্যমে স্টেজিং সার্জারি।
৭) সার্ভিকাল/এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার (প্রি-ক্যানসারসহ)
প্রি-ক্যানসার: এলইইপি/এলএলইটিজেড, কোল্ড নাইফ কনাইজেশন।
ক্যানসার: র্যাডিকাল হিস্টেরেক্টমি/স্টেজিং সার্জারি, সেন্টিনেল লিম্ফ নোড ম্যাপিং (আইসিজি), কেমো-রেডিয়েশন; নির্বাচিত ক্ষেত্রে টার্গেটেড/ইমিউনোথেরাপি।
এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার: পোস্টমেনোপজাল রক্তপাতকে গুরুত্ব দিতে হবে; শুরুতে হিস্টেরোস্কোপি-বায়োপসি।
৮) পেলভিক অর্গান প্রোলাপ্স ও ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স
নন-সার্জিকাল: পেলভিক ফ্লোর ফিজিওথেরাপি, পেসারি, লাইফস্টাইল পরিবর্তন।
সার্জারি: নেটিভ টিস্যু রিপেয়ার, স্যাক্রোকলপোপেক্সি (অ্যাবডোমিনাল, মেশভিত্তিক সেন্টার-এক্সপার্টিজ গুরুত্বপূর্ণ), ইউটেরাইন-স্পেয়ারিং সাসপেনশন।
স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স: মিডইউরেথ্রাল স্ট্রিং, ইউরেথ্রাল বাল্কিং; ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডারে ওষুধ/বোটক্স/নিউরোমডুলেশন।
৯) ভলভো-ভ্যাজাইনাল সমস্যা
রিকারেন্ট ক্যান্ডিডিয়াসিস/বিভি: উপসর্গভিত্তিক অ্যান্টিফাঙ্গাল/অ্যান্টিবায়োটিক; রিল্যাপ্সে রক্ষণাবেক্ষণ থেরাপি।
লাইকেন স্কলেরোসাস: উচ্চমাত্রার টপিকাল স্টেরয়েড।
ব্যথাযুক্ত সহবাস/ভ্যাজিনিসমাস/ভালভোডায়নিয়া: পেলভিক ফ্লোর থেরাপি, ডাইলেটর, মাল্টিডিসিপ্লিনারি পেইন কেয়ার।

১০) মেনোপজ ও হরমোন থেরাপি
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ: এমএইচটি/এইচআরটি-নির্বাচিত রোগীর জন্য ঝুঁকি-সুবিধা বিবেচনায়, ভ্যাজাইনাল এস্ট্রোজেন।
নন-হরমোনাল: গ্যাবাপেন্টিন, লাইফস্টাইল; হাড়ের স্বাস্থ্য (ক্যালসিয়াম/ভিটামিন-ডি/ব্যায়াম, প্রয়োজনে ওষুধ)। ফার্টিলিটি ও সহায়ক প্রজনন প্রযুক্তি (এআরটি) ওভ্যুলেশন ইন্ডাকশন, আইইউআই।
আইভিএফ/আইসিএসআই, ব্লাস্টোসিস্ট কালচার, ফ্রিজ-অল্ট্রাটেক (ভিট্রিফিকেশন)।
প্রি-ইমপ্লান্টেশন জেনেটিক টেস্টিং (পিজিটি) নির্বাচিত ক্ষেত্রে।
ফার্টিলিটি প্রিজারভেশন: ডিম/এমব্রিও ফ্রিজিং; ক্যানসার চিকিৎসার আগে ওভারিয়ান টিস্যু ক্রায়ো (নির্বাচিত সেন্টারে)।
আধুনিক সার্জারি ও সেফ্টি
মিনিমালি ইনভেসিভ: ল্যাপারোস্কোপি, হিস্টেরোস্কোপি, রোবটিক সার্জারি (ব্যথা কম, দাগ ছোট, দ্রুত সুস্থতা)।
ডে-কেয়ার প্রোসিডিউর: অনেক হিস্টেরোস্কোপিক অপারেশন- একই দিনে বাসায় ফেরা যায়।
প্রোটোকল: দ্রুত চলাফেরা, ব্যথা নিয়ন্ত্রণ, কম জটিলতা।
ঝুঁকি: রক্তপাত/সংক্রমণ/আশেপাশের অঙ্গের আঘাত অভিজ্ঞ সার্জন ও সঠিক সেন্টার বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা কখন জরুরি
খুব বেশি রক্তপাত (প্রতি ঘণ্টায় একাধিক প্যাড/ট্যাম্পন ভিজে যাচ্ছে), মাথা ঘোরা/মূর্ছা যাওয়া।
তীব্র তলপেট ব্যথা, জ্বর, বমি বিশেষত পজিটিভ গর্ভপরীক্ষা থাকলে (একটপিকের ঝুঁকি)।
প্রস্রাবে জ্বালা/রক্ত ও উচ্চ জ্বর, বা আকস্মিক তীব্র একতরফা ব্যথা (ওভেরিয়ান টরশন সন্দেহ)।
গর্ভকালীন সময়ের আধুনিক চিকিৎসা: এক নজরে (এভিডেন্স বেজড অ্যান্টিনেটাল কেয়ার) নিরাপদ মা ও শিশু, কম জটিলতা, প্রয়োজনমাফিক পরীক্ষা চিকিৎসা, এবং সম্মানজনক মাতৃত্বসেবা।
টিকা ও প্রফাইল্যাক্সিস
টিডিএপি টিকা প্রতিটি গর্ভধারণে ২৭ থেকে ৩৬ সপ্তাহে নিতে হবে। এটি না থাকলে স্থানীয় প্রোটোকল অনুযায়ী টিটি টিকা দিতে হবে।
ফ্লু: মৌসুমে যেকোনো ট্রাইমেস্টারে।
কোভিড ১৯: সুপারিশকৃত ডোজ/বুস্টার।
হেপাটাইটিস ই: ঝুঁকি/নেগেটিভ স্ট্যাটাসে।
রক্তের আরএইচ নেগেটিভ: ২৮ সপ্তাহে এবং প্রসবের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে (শিশু আরএইচ পজিটিভ হলে), রক্তপাত/প্রসিডিউরে অতিরিক্ত ডোজ।
আরএসভি ভাইরাস: কিছু দেশে ৩২ থেকে ৩৬ সপ্তাহে আরএসভি বাইরাসের টিকা দেওয়া হয় (প্রাপ্যতা-ভেদে)।
স্ক্রিনিং ও আধুনিক পরীক্ষা
অ্যানিউপ্লয়েডি স্ক্রিনিং: এনআইপিটি (১০ সপ্তাহ+), অথবা প্রথম-ত্রৈমাসিক কম্বাইন্ড টেস্ট; নিশ্চিতকরণের জন্য সিভিএস/অ্যামনিওসেন্টেসিস।
ক্যারিয়ার স্ক্রিনিং: থ্যালাসেমিয়া (দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ), এসএমএ/সিএফ ইত্যাদি নির্বাচিত ক্ষেত্রে।
জিডিএম: ২৪ থেকে ২৮ সপ্তাহে ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (ঝুঁকিতে আগে)।
চিকিৎসা: ডায়েট-ব্যায়াম; ইনসুলিন/নির্বাচিত ক্ষেত্রে মেটফর্মিন (দেশভেদে নীতি ভিন্ন)।
প্রি-এক্ল্যাম্পসিয়া ঝুঁকি মূল্যায়ন: প্রথম দিকেই রক্তচাপের ইতিহাস; যেখানে সম্ভব ইউরিনারি আর্টারি ডপলার+বায়োমার্কার। উচ্চ ঝুঁকিতে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ: লো-ডোজ অ্যাসপিরিন (রাতের দিকে) ও কম ক্যালসিয়াম ডায়েটে ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শে।
জিবিএস স্ক্রিনিং: ৩৫ থেকে ৩৭ সপ্তাহ: পজিটিভ হলে প্রসবে আইভি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
আল্ট্রাসাউন্ড: ডেটিং ১১ থেকে ১৩ সপ্তাহে এনটি, ১৮ থেকে ২২ সপ্তাহে এনোমালি; ঝুঁকিতে গ্রোথ/ডপলার; প্রিভিয়া/অ্যাক্রিটা সন্দেহে বিশেষ পরিকল্পনা।
ফলিক অ্যাসিড: গর্ভের আগে/শুরুতে দৈনিক নেওয়া ভালো; উচ্চঝুঁকিতে বাড়তি ডোজ (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-ডি: স্থানীয় গাইডলাইন অনুযায়ী নিয়মিত; রক্তশূন্যতায় প্রয়োজনে আয়রন (২য়/৩য় ট্রাইমেস্টারে নিরাপদ) গ্রহণ।
খাদ্যাভ্যাস: সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি; পাস্তুরিত দুগ্ধ, ভালোভাবে সেদ্ধ/রান্না; উচ্চ মার্কারি মাছ/কাঁচা খাবার/অপাস্তুরিত দ্রব্য এড়াতে হবে; ক্যাফেইন সেবন সীমিত রাখুন।
ব্যায়াম: জটিলতা না থাকলে সপ্তাহে প্রায় ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের ব্যায়াম করতে হবে; পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করা ভালো; ধূমপান/অ্যালকোহল/ভ্যাপিং করা যাবে না।
ওজন বৃদ্ধি: প্রি-প্রেগন্যান্সি বিএমআই অনুযায়ী লক্ষ্য নির্ধারণ।
মানসিক স্বাস্থ্য: ডিপ্রেশন/উদ্বেগ স্ক্রিনিং; প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং/থেরাপি।
সাধারণ সমস্যা: এভিডেন্স-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা।
বমিভাব/বমি: ছোট ভাগে খাওয়া, আদা/ভিটামিন বি-৬; ডক্সিলামিন পাইরিডক্সিন; গুরুতর হলে আইভি ফ্লুইড+থায়ামিন।
হার্টবার্ন/কনস্টিপেশন/হেমোরয়েড: ডায়েট পরিবর্তন, ফাইবার, নিরাপদ ওষুধ (চিকিৎসকের পরামর্শে)।
ইউটিআই: প্রথম দিকে ইউরিন কালচার; সংক্রমণে নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স।
রক্তশূন্যতা: ফ্যারিটিনসহ কাজআপ; আয়রন সমৃদ্ধ ডায়েট/সাপ্লিমেন্ট; সাড়া না দিলে আয়রন।
হাইপারটেনশন/প্রি এক্ল্যাম্পসিয়া: বিপি মনিটরিং; তীব্র হলে ল্যাবেটালল/নাইফেডিপিন ইত্যাদি; খিঁচুনি প্রতিরোধে ব্যবস্থা; উপযুক্ত সময়ে প্রসব।
প্রি-টার্ম জন্ম প্রতিরোধ: পূর্ব ইতিহাস/শর্ট সার্ভিক্সে সার্ভিক্যাল লেংথ নজরদারি; <২৫ মিমি হলে ভ্যাজাইনাল প্রোজেস্টেরন;
প্রি-টার্ম লেবার: স্টেরয়েড (ফুসফুস পক্বতা), ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (নিউরোপ্রোটেকশন), নির্বাচিত টোকোলাইটিক, অ্যান্টিবায়োটিক টিম-নির্দেশনায়।
কোলেস্টেসিস (চুলকানি): বাইল অ্যাসিড টেস্ট; ইউরসোডিওক্সিকলিক অ্যাসিড; শিশুর নজরদারি ও সময়মতো প্রসব।
প্রসব-পরিকল্পনা ও ইনট্রাপার্টাম কেয়ার
জন্মপরিকল্পনা: হাসপাতাল/রেফারাল সেন্টার, ব্লাড ব্যাংক অ্যাক্সেস, বার্থ পার্টনার, ব্যথানিয়ন্ত্রণ (এপিডিউরাল/নাইট্রাস)।
ইনডাকশন: মেমব্রেন সুইপ, বেলুন, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন/মিসোপ্রোস্টল, অক্সিটোসিন ইন্ডিকেশনভিত্তিক।
ফিটাল মনিটরিং: ইন্টারমিটেন্ট/কন্টিনিউয়াস সিটিজি-ঝুঁকিনির্ভর।
কর্ড ক্ল্যাম্পিং: বিলম্বিত (১ থেকে ৩ মিনিট) হলে নবজাতকের আয়রন স্টোর ভালো হয়।
পিপিএইচ প্রতিরোধ/চিকিৎসা: সক্রিয় থার্ড স্টেজ ম্যানেজমেন্ট (অক্সিটোসিন/কারবিটোসিন), জরুরিতে ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড (৩ ঘণ্টার মধ্যে), বেলুন ট্যামপোনেড/ইউটেরাইন সিউচার/এম্বোলাইজেশন/হিস্টেরেক্টমি ধাপে ধাপে।
তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা নেবেন
যদি তীব্র বা অবিরাম পেটব্যথা, যোনিতে রক্তপাত/পানির ধারা, শ্বাসকষ্ট/বুকে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, দৃষ্টি ঝাপসা, ডান পাঁজরের নিচে ব্যথা, হাত পায়ে হঠাৎ ফোলা, ভ্রূণের নড়াচড়া কমে যাওয়া, উচ্চ জ্বর, প্রস্রাবে জ্বালা/ব্যথা।
পোস্টপার্টাম ও পরিবার পরিকল্পনা
বাচ্চা জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে স্কিন টু স্কিন ও বুকের দুধ শুরু; ল্যাকটেশন সাপোর্ট। বিপি রক্তশূন্যতা/মুড নজরদারি; সিজারিয়ানেও ইআরএএস নীতিতে দ্রুত হাঁটা চলা।
পরিবার পরিকল্পনা: পিল, কনডম, অনেক সময় প্রসবক্ষণেই বসানো যায়।
ডিজিটাল/আধুনিক টুলস
টেলিমেডিসিন ফলো আপ, হোম বিপি/গ্লুকোজ মনিটরিং, কিক কাউন্ট অ্যাপ, হাই রিস্কে বিশেষায়িত মাতৃভ্রূণ টিম কেয়ার।