সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অনেক বেসরকারি হাসপাতাল। এর মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে বিশেষায়িত হাসপাতালের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠিত এসব হাসপাতালে ভিন্ন ভিন্ন রোগের চিকিৎসা হয়। এখানে তুলে ধরা হলো কোন হাসপাতালে কোন রোগের চিকিৎসা হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ দেশের প্রথম হৃদরোগ চিকিৎসার বেসরকারি হাসপাতাল। গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতালে হৃদরোগীদের চিকিৎসায় একটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ছোট ও মাঝারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে দু-একজন চিকিৎসক দিয়ে হৃদরোগীদের চিকিৎসা করা হয়। ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতাল, পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতাল, বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং ভারতীয় কিছু চেইন হাসপাতালের এ দেশের শাখায় হৃদরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়। খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ঢাকায় তাদের শাখা রয়েছে।
ক্যানসারের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
বেসরকারি পর্যায়ে ক্যানসারের চিকিৎসায় আহসানিয়া মিশন ক্যানসার ও জেনারেল হাসপাতাল অন্যতম। মিরপুরে ডেল্টা হাসপাতাল, ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতাল ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় একটি ক্যানসার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে ক্যানসারের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া ছোট পরিসরে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আশপাশে কিছু ক্লিনিকে ক্যানসার হাসপাতালের চিকিৎসক বসে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।
চোখের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
বাংলাদেশে চোখের চিকিৎসায় বেসরকারি পর্যায়ে তেমন কোনো উন্নত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। চোখের চিকিৎসায় দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান আছে। এনজিওভিত্তিক ও ব্যক্তিমালিকানাধীন। এনজিওভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অরবিট চক্ষু হাসপাতাল অন্যতম। অন্যটি লায়ন্স চক্ষু হাসপাতাল। দেশের বিভিন্ন স্থানে এদের শাখা আছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে সব ধরনের চিকিৎসা হয় না। বেসরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বড় চোখের হাসপাতাল হচ্ছে বাংলাদেশ আই হসপিটাল। তাদের ঢাকায় ধানমন্ডি, উত্তরা, বনানী, মালিবাগসহ বেশ কয়েকটি শাখা আছে। ঢাকার বাইরে দেশের বড় বড় শহরেও তাদের শাখা রয়েছে। মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিশন আই হসপিটাল, দ্বীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি পর্যায়ে সাধারণের চিকিৎসার জন্য দুটি হাসপাতাল রয়েছে। একটি ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, অন্যটি ওএসবি চক্ষু হাসপাতাল।
অর্থোপেডিক
অর্থোপেডিকের চিকিৎসায় দেশে আলাদা সে রকম কোনো বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি। নিটোরের আশপাশে মোহাম্মদপুর এলাকায় বেশ কিছু ট্রমা সেন্টার গড়ে উঠেছে। তবে এগুলোর অধিকাংশই মানসম্মত নয়।
প্রসূতি সেবা দেওয়া হয় যেসব হাসপাতালে
প্রসূতি সেবার ধারণা থেকেই দেশে গড়ে উঠতে থাকে হাসপাতাল-ক্লিনিক। রাজধানী ঢাকার এলাকাভিত্তিক ও দেশের আনাচে-কানাচে দুজন গাইনি চিকিৎসক নিয়েও রয়েছে অসংখ্য প্রসূতি সেবাকেন্দ্র। রাজধানীর বেশির ভাগ হাসপাতালেই প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। আলাদা করে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় মিরপুর-১৩ নম্বরে অবস্থিত অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) হাসপাতাল ও মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে।
শিশুদের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
দেশে সরকারি পর্যায়েও আলাদা করে শিশু হাসপাতাল নেই। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালটি সরকারের সহযোগিতাপুষ্ট। এ ছাড়া মাতুয়াইলে বাংলাদেশ শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং সাভারে আরেকটি হাসপাতাল রয়েছে। এই দুটি হাসপাতাল সরকারের সহায়তাপুষ্ট। তবে শুধু শিশুদের জন্য নয়। প্রসূতি সেবাও দেওয়া হয় সেখানে।
কিডনি রোগের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশন দেশের প্রথম বেসরকারি কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্র। তবে এটি সরকারের সহযোগিতাপুষ্ট। এর বাইরে রয়েছে সিকেডি, ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল। যদিও এই প্রতিষ্ঠানটিতে অন্য বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে স্কয়ারে প্রতিবারের জন্য ৫ হাজার ২০০ টাকা, আজগর আলীতে ৪ হাজার ৬০০, বাংলাদেশ স্পেশালাইজডে ৫ হাজার ৩০০, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেলে ৪ হাজার ৪০০, পপুলারে ৪ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ১ হাজার ১০০, কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটিতে (ক্যাম্পস) ২ হাজার ৮০০ টাকা একবার দিয়ে পরে ২ হাজার টাকা করে দিয়ে তিনবার ডায়ালাইসিস করানো যায়। ইউনাইটেড, ল্যাবএইড, বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনে ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে কত টাকা করে লাগে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নানা ধরনের চিকিৎসা হয় যেসব হাসপাতালে
বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে ইউনাইটেড হাসপাতাল লিমিটেড, পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেড, বিআরবি হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে ল্যাবএইড হাসপাতাল, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, গ্রিন রোডে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল হাসপাতাল লিমিটেড, দয়াগঞ্জে আজগর আলী হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, উত্তরায় ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক হাসপাতাল, আহছানিয়া ক্যানসার হাসপাতাল, শহিদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কাকরাইলে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ঝিগাতলায় জাপান বাংলাদেশ ফেন্ডশিপ হাসপাতাল, লালমাটিয়ায় আল-মানার হাসপাতাল, মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মগবাজারে ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মনোয়ারা হাসপাতাল লি., তেজগাঁওয়ে ইমপালস হাসপাতাল লি., মৌচাকে ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মিরপুর-১-এ ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল, পদ্মা জেনারেল হাসপাতাল লি.।