ঢাকা ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪

এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: ফেঁসে যাচ্ছেন মিন্টু, বাঁচাতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ১২:১৯ পিএম
এমপি আনার হত্যাকাণ্ড: ফেঁসে যাচ্ছেন মিন্টু, বাঁচাতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে ফেঁসে যাচ্ছেন ঝিনাইদহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। এ খুনে মদদ, কিলিং মিশনের ছবি তার মোবাইলে এলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে গা ঢাকা দেওয়া, খুনিদের সঙ্গে আঁতাত, আনার হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ না করা ও রাজনৈতিক বিরোধে মাঠ থেকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আনারকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ইত্যাদি নানা কারণে ফেঁসে যাচ্ছেন মিন্টু।

গত মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানী থেকে মিন্টুকে আটক করা হয়। ডিবির টিম তাকে আটক করতে গেলে তিনি বিভিন্নজনকে ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তার সঙ্গের লোকজন অবশ্য ডিবির টিমকে বাধা দেন। পরে ডিবির টিম তার লোকজনকে বুঝিয়ে বলে, তাকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর তাকে ডিবির গাড়িতে উঠতে দেওয়া হয়। তবে তিনি প্রভাবশালী নেতা হওয়ার কারণে ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিবির কার্যালয়ে রাতে বিভিন্ন শ্রেণির নেতা-কর্মী ভিড় করেন। 

ভিড়ের কারণে ডিবি গেটের প্রবেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়। পাশাপাশি তাকে ছাড়াতে গতকাল ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষ নেতার দৌড়ঝাঁপ ছিল লক্ষণীয়। তারা দুজনই হচ্ছেন চলতি সংসদের এমপি। মিন্টু জেলা ও কেন্দ্রের রাজনীতির অঙ্গনে তাদের অনুসারী বলে পরিচিতি। তাকে ছাড়াতে দুই নেতা আলাদা আলাদা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন। যোগাযোগ করেছেন ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে। এ দুই নেতা দাবি করেছেন, মিন্টুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনো পক্ষ থেকেই খুব একটা সাড়া পাননি। মিন্টুর গ্রামের বাড়ি থেকেও লোকজন এসে ডিবি অফিসের সামনে ভিড় করেন। 

মিন্টুকে গ্রেপ্তার করার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে আনার হত্যাকাণ্ডের নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর যৌক্তিকভাবে দিতে পারেননি। কোনো কোনো প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। আবার কোনো কোনো প্রশ্নে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। 

এ কারণে আনার হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই গোয়েন্দাদের। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করার জন্য ঝিনাইদহ ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এদিকে এমপি আনারের মেয়ে ডরিন অভিযোগ করেছেন, আসামিদের ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আনার হত্যার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে কোনো চাপ নেই।

গত ১৩ মে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার। ২২ মে আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ এ মামলায় গ্রেপ্তার করেন শিলাস্তি, আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া ও তানভীর ভূঁইয়া ওরফে ফয়সাল সাজিকে। পরে আদালত শিলাস্তিসহ মোট তিনজনের আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথম দফায় রিমান্ডে কিছু তথ্যের ঘাটতি থাকার কারণে ডিবি পুলিশ গত ৩১ মে পুনরায় আদালতে আসামিদের হাজির করে আবার রিমান্ডের আবেদন করে। 

শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কামাল গিয়াস আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর কথা বলেন। গ্যাস বাবু আবার ঝিনাইদহ জেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর এ খুনে জড়িত হওয়ার কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান। পরে রাজধানী থেকে মিন্টুকে আটক করে ডিবি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গতকাল পর্যন্ত তার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করতে হয়। ডিবি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার মিন্টুর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে তারা পুলিশসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে আনার হত্যা মামলার তদন্তের মুখ্য সমন্বয়কারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ গতকাল বিকেলে খবরের কাগজকে বলেন, ‘একটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর বিভিন্ন প্রেক্ষাপট রয়েছে। কেন এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে। মিন্টুকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানান, আনার হত্যাকাণ্ডে তানভীর যেসব তথ্য দিয়েছিলেন সেই তথ্যগুলো তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করেছেন। এতে করেই এখন থলের বিড়াল বের হয়ে আসছে। এ হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল গিয়াস আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু গ্রেপ্তার হওয়ার পর খুনের মোটিভ ঘুরে যায়। পরে মিন্টুকে আটক করা হলে এ খুনের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। 

সূত্র জানায়, মিন্টুর কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানতে চান, আনার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার তানভীর যে তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন, তখন তাদের মধ্যে কী কথা হয়েছে। কিন্তু মিন্টু তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। হত্যার মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর কলকাতা থেকে তার মোবাইলে ছবি এলেও তিনি কেন থানা-পুলিশ বা জেলার এসপিকে জানালেন না- এমন প্রশ্নে তিনি নীরব ছিলেন। 

সূত্র জানায়, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ঝিনাইদহের আরও কয়েকজন নেতার নাম এসেছে। মিন্টু জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে এড়িয়ে গিয়ে আনারের সঙ্গে আর কার কার বিরোধ ছিল তাদের কয়েকজনের নাম বলেছেন। তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে বাবা হত্যার বিচার চেয়েছেন নিহত সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনারের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। তিনি বলেন, অপরাধীদের বাঁচাতে তদবির হচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করতে এসে এ দাবি করেন। ডরিন দাবি করেন, বড় বড় জায়গা থেকে ফোন দেওয়া হচ্ছে আসামিদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বাবার হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চেয়ে তিনি বলেন, যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা কেউ যেন ছাড় না পায়। অনেক জায়গা থেকে আসামিদের ছাড় দেওয়ার জন্য তদবির করা হচ্ছে। চাপ দেওয়া হচ্ছে। ‘গ্যাস বাবু’ আমার বাবার প্রতিপক্ষ। মিন্টু চাচাকে ধরেছে। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পেয়েছে ডিবি। তিনি জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিন্টু আটকের পর তাকে ছাড়ানোর জন্য তদবির ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। ডরিন আরও বলেন, রাজনীতি নিয়ে এখন চিন্তা করছি না। আগে হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। 

আনোয়ারুলের মেয়ে আরও বলেন, ডিএনএ টেস্টের জন্য এখনো ডাকেনি ভারত। ডাকলে যেতে প্রস্তুত আছি যাওয়ার জন্য। 

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান, এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার তদন্ত বাধাগ্রস্ত করতে কোনো চাপ বা তদবির নেই । তিনি বলেন, তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে। আনারের মেয়ে বাবা হত্যার বিচার চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। তদন্তে কেউ যাতে পার পেয়ে না যায় তিনি সেই অনুরোধ করেছেন। এই হত্যার তদন্তে কোনো তদবির বা চাপ নেই। কে চাপ দেবে? তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে সেভাবেই বিচার প্রক্রিয়া এগোবে।

কোটা আন্দোলন ‘মিডিয়া-ফিডিয়া বুঝি না আপা, হাইটা যান’

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:৫১ এএম
‘মিডিয়া-ফিডিয়া বুঝি না আপা, হাইটা যান’
ছবি: খবরের কাগজ

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা। নতুনবাজার মোড় এলাকায় আমাদের গণমাধ্যমের প্রাইভেট গাড়িটি লাঠিসোঁটা হাতে আটকে দিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একদল শিক্ষার্থী। তাদের প্রত্যেকের হাতেই বিভিন্ন ধরনের লাঠি, চোখে-মুখে অস্থিরতা। ওই গাড়িতে থাকা আমরা তিনজনই সাংবাদিক। তারা হলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের চিফ নিউজ এডিটর রাশেদ আহমেদ ও ন্যাশনাল ডেস্ক বিভাগের প্রধান সজীব সাদিক। সম্প্রচার সাংবাদিকদের সংগঠন বিজেসির মিডিয়া পার্ক প্রকল্পের কাজে সকালে আমরা পূর্বাচল এলাকায় গিয়েছিলাম।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অফিসের আইডি কার্ড দেখিয়ে পরিচয় দিয়ে একজনকে বললাম, ‘ভাই আমরা তো আপনাদের চলমান এই আন্দোলন পরিস্থিতি ও ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্যই যাচ্ছি, তাই যেতে দেন। আমার অনুরোধে তখন দু-এক শিক্ষার্থী গাড়িটি ছেড়ে দিতে চাইলেন। 

গাড়িটি সামান্য টান দেওয়ার পর কাঠের গুঁড়ি হাতে পুনরায় আটকে দিলেন কয়েকজন। তাদের মুভমেন্ট ও চোখে-মুখে উগ্রতার ছাপ স্পষ্ট বুঝতে পারলাম। তাদের কাছে আবার অফিসের আইডি কার্ড দেখিয়ে অনুরোধ করলাম। আমার অনুরোধ উপেক্ষা করতে লাঠি হাতে এগিয়ে এসে একজন বললেন- ‘মিডিয়া-ফিডিয়া বুঝি না আপা, আইডি কার্ড নিয়া হাইটা যান’। বললাম, ‘ভাই, আমাকে বনানী হয়ে আগারগাঁওয়ে যেতে হবে। 

এতদূর কী হাঁটা সম্ভব! আর যেতে না পারলে কর্মসূচির নিউজ লিখব কী করে! বিগত কয়েক দিন তো নিউজের জন্য আমাদের আপনারা আটকে দেননি, তবে আজ কেন এমন করছেন? তিনি বললেন, আমাদের এত কথা শোনার সময় নাই। আজ অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়ি ছাড়ছি না।’

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রাশেদ ভাই আমাকে বললেন, ‘থাক ওদের আর কিছু বল না, কারণ ওদের মোটিভ ভালো মনে হচ্ছে না। কথা বলেও কাজ হবে না।’ পরে আমাদের গাড়িটি সেখান থেকে ঘুরিয়ে গুলশান লেক হয়ে বনানীর মাছরাঙা টিভির অফিসে পৌঁছায় বেলা ২টার দিকে। 

সেখানে তাদের দুজনকে নামিয়ে আমিসহ গাড়িটি মিরপুর ফ্লাইওভারের ওপরই ২ ঘণ্টার বেশি আটকে থাকার পর কচ্ছপ গতিতে চলতে চলতে ইসিবি মোড়ে পৌঁছাই বিকেল সাড়ে ৩টায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় পুরো ইসিবি চত্বর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

পুরো এলাকা বাস, ট্রাক, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল নিয়ে আটকে থাকা লোকে লোকারণ্য। বিভিন্ন প্রয়োজনে যানবাহনে করে রাস্তায় বেরিয়েও স্থবির হয়ে সেখানেই বসে অপেক্ষা করছেন। আমিও সেখানে আটকে গেলাম। কারণ কেবল রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কাউকেই ছাড়ছেন না বিক্ষুব্ধরা। 

চত্বরের পাশে রোড ডিভাইডারে থাকা গাছের ডাল ভেঙে লাঠি বানাচ্ছেন কয়েকজন ছাত্র। কেউ কেউ গোল চত্বরের ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছেন- ‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার রাজাকার’।

একজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেল ভাস্কর্যের একদম উঁচুতে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা নাড়ছেন। শিক্ষার্থীদের নাটকীয় আন্দোলনের নানা দৃশ্যপট সেখানে আটকে পড়া অনেক যাত্রী সেখানকার ফুটওভার ব্রিজের বিভিন্ন অংশ, সড়কের ডিভাইডারসহ যে যেভাবে পারছেন কৌতূহল আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দেখছেন। 

ওই স্পটে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নিতে আর ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে তারা প্রতিহত করছেন না। এতে করে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে অনেকে ভুয়া ভুয়া স্লোগানও দিচ্ছেন। 

স্কুলশিক্ষার্থী মেয়েশিশুকে নিয়ে চত্বরের ফুটপাত দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন এক অভিভাবক। তাকে জিজ্ঞেস করলাম কোথা থেকে এলেন? তিনি বললেন, ‘মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। এই মোড়ে আসার আগেই আমাদের রিকশাটি আটকে দেন তারা। এখন কী আর করা, হেঁটে যাচ্ছি’। 

শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কীভাবে দেখছেন? বললেন, ‘তাদের আন্দোলনের বিষয়ে আমি একমত। তবে এ পর্যায়ে তারা আন্দোলনের মূল মোটিভ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। তথ্য বিভ্রাটে আছে। আর সে কারণেই অনেক শিক্ষার্থী না বুঝেই নিজেকে রাজাকার ঘোষণা দিয়ে স্লোগানে শামিল হয়েছে’।

আড়াই ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সড়কের ব্যারিকেড তুলে নিলে ধীরে ধীরে যানবাহন ও আটকেপড়া মানুষদের জীবনে পুনরায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসে। আর অফিস টাইম শেষ হয়ে যাওয়ায় আমি আগারগাঁওয়ে নির্ধারিত কাজে না গিয়ে ইসিবি চত্বর থেকে মিরপুর হয়ে সন্ধ্যায় অফিসে চলে আসি।

লাল মিয়ার শরবতের কদর

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:০৫ এএম
লাল মিয়ার শরবতের কদর
চট্টগ্রাম নগরীর লাভ লেইনে লাল মিয়ার শরবতের দোকান। ছবি: খবরের কাগজ

টিসিবির পণ্যের জন্য মানুষের ব্যাপক ভিড়ের কথা আমরা শুনেছি। মেজবানি খেতেও ভিড় দেখতে পাই আমরা। কিন্তু অবাক করা সত্য যে, চট্টগ্রামের লাভ লেইনে লাল মিয়ার হাতে বানানো বিশেষ শরবত খেতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে শরবত কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য।

‘মহব্বতে লাভ লেইন’খ্যাত লাল মিয়ার এ শরবতের সুনাম ইতোমধ্যেই পুরো মহানগরে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্র্যান্ড হয়ে গেছে যেন। অনলাইন থেকে অফলাইন সর্বত্রই প্রশংসা পাচ্ছে মহব্বতে লাভ লেইন। এই শরবত কিনতে কেন এত ভিড়?  কি আছে বিশেষ এই শরবতে? স্বাদের কোন্ জাদু ভোক্তাদের টানছে? 

সরেজমিনে লাভ লেইনের মাদানী মসজিদ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সড়কের পাশে একটি টেবিলে শরবতের পসরা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন লাল মিয়া। খোলা আকাশের নিচে দোকান। ক্রেতাদের উপচানো ভিড়। কেউ বাইক নিয়ে, কেউ সিএনজি অটোরিকশায়, আবার কেউ বা ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার নিয়ে এসেছেন শরবত কিনতে। শরবত প্লাস্টিকের বোতলে পুরে বিক্রি করা হয়। 

দোকানে তার ছেলেসহ মোট ৭ জন কর্মরত। কেউ নতুন করে শরবত বানাচ্ছেন। কেউ তরমুজ কাটছেন। কারও কাজ দুধ ঢালা। কেউ ক্রেতাদের শরবত প্যাকিং করে দিচ্ছেন। শরবত বিক্রির টাকা বুঝে নিচ্ছেন লাল মিয়া।

আধা লিটার ও এক লিটার এমনকি দুই লিটারও  কেনা যায়। প্রতি লিটার তরমুজের শরবত ১৪০ টাকা। প্রতি লিটার বাদামের শরবত ২০০ টাকা। দুই ধরনের শরবতই চলছে দেদার।

মহব্বতের তরমুজের শরবত। সেই সঙ্গে নানারকম পুষ্টিকর উপাদানের সুস্বাদু মিশ্রণ। প্রথমে একটি বড় বালতিতে বড় বড় বরফের টুকরো ফেলে দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে কুচি কুচি টকটকে লাল তরমুজ। আরও থাকে তোকমাদানা, ইসবগুলের ভূষি, পরিমাণমতো দুধ, চিনি, পানি, রুহআফজা, মধু এবং জেলি। 

মহব্বতের বাদাম

মহব্বতের বাদামের শরবতে তরমুজ ছাড়াও থাকে নানা রকম বাদাম (কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা বাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট) ও অন্যান্য উপাদান। মিশিয়ে তৈরি করা হয় বাদামের শরবত। দাম লিটারপ্রতি ২০০ টাকা। 

লাল মিয়া খবরের কাগজকে জানান, বংশানুক্রমিভাবে তিনি শরবত বিক্রি করে আসছেন। তার বাড়ি ঢাকার গাজীপুরে। দীর্ঘ সময় ধরে তারা চট্টগ্রামের বাসিন্দা। আগে তার বাবা এ ব্যবসা করতেন। তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মহব্বতের শরবত বানিয়ে বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৫০০ লিটার শরবত বিক্রি করে থাকেন। সেই হিসাবে তার দৈনিক বিক্রি ৭০ হাজার টাকা। 

তরমুজের শরবতের চাহিদাই বেশি। রোজা ছাড়াও তিনি ১২ মাস এই শরবত বিক্রি করেন। সারা বছর এই শরবতের চাহিদা থাকে। বিশেষ করে গরমে মহব্বতের শরবত বিক্রির ধুম পড়ে। এ সময় সারা দিনই তাকে ও ছেলেকে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। রাতে ভালো মানের তরমুজ কিনে এনে সংরক্ষণ করেন। শহরে ঘুরে ঘুরে বাদাম, মধু, ভুসিসহ উপাদানগুলো জোগাড় করতে হয়।  

লাল মিয়ার বাড়িতে আছে দুটি ফ্রিজ। আগের দিন থেকে তাকে বরফ তৈরি করতে হয়। সেই সঙ্গে প্রস্তুত করতে হয় অন্যান্য উপকরণও। এ কাজে বাড়ির সবাই সহযোগিতা করেন। শরবতের উপকরণের পাশাপাশি লাল মিয়াকে সংগ্রহ করতে হয় প্লাস্টিকের বোতল, যা শরবত বিক্রির সময় তিনি সম্পূর্ণ ফ্রি দেন ক্রেতাদের। 

লাল মিয়া জানান, শরবত বিক্রি তার কাছে একটা সেবার মতো। দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল লাগে না। খুবই সীমিত লাভে শরবত বিক্রি করেন। তিনি চান মানুষ শরবত খেয়ে শান্তি পাক। প্রতি লিটারে সব খরচ বাদ দিয়ে মাত্র ১০-২০ টাকা মুনাফা করেন। 

একসময় তিনি গ্লাসে শরবত বিক্রি করতেন। ধীরে ধীরে শরবতের চাহিদা বাড়তে থাকে। একসময় ভাবলেন কীভাবে পার্সেল বিক্রি করা যায়। এরপর তিনি বোতলজাত করে শরবত বিক্রি শুরু করেন। তারপর থেকে এটিই তার মূল ব্যবসা হয়ে ওঠে। এখন শরবত বিক্রি করেই পরিবার চালান। জোগান দেন ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচও। 

লাল মিয়ার ভ্রাম্যমাণ দোকানে কর্মরতরা জানান, তারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরে শরবত তৈরি করছেন। মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় থেকে সুরক্ষা দিয়ে তারা শতভাগ বিশুদ্ধ মহব্বতের শরবত ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করছেন।
 
কথা হয় চট্টগ্রামের দেবপাহাড় থেকে আসা মো. রানা, বহদ্দারহাট থেকে আসা মো. ফয়সাল ও হাফেজ মো. হৃদয়ের সঙ্গে।  সবার একই মত। ফেসবুক, ইউটিউবে বিভিন্ন ব্লগ দেখে তারা লাল মিয়ার মহব্বতের শরবতের কথা শুনেছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর ‘পালক পুত্র’ পরিচয়ে এমপি হতে চেয়েছিলেন পিয়ন মান্নান

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৬ এএম
প্রধানমন্ত্রীর ‘পালক পুত্র’ পরিচয়ে এমপি হতে চেয়েছিলেন পিয়ন মান্নান
আবদুল মান্নান

অভাবের তাড়নায় আশির দশকের শেষ দিকে বাড়ি ছেড়েছিলেন কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার গাজীমুড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ আহম্মদের ছেলে আবদুল মান্নান। দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ জানতে পারেননি এলাকাবাসী। এরপর একসময় মানুষ জানতে পারে মান্নান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কর্মচারী হিসেবে তার বাসায় কাজ পেয়েছেন। থাকেন ঢাকাতেই। 

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খোলস পাল্টাতে থাকেন মান্নান। এলাকায় প্রচার করতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘পালক পুত্র’ তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে ডাকেন ‘মা’। এরপর থেকেই বদলাতে থাকে চিত্র। ধীরে ধীরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন তিনি। ছয় শতক জমির ওপর গড়ে তোলেন বিলাসবহুল তিনতলা ভবন। কিনতে শুরু করেন জমিজমা। 

গড়ে তোলেন নিজস্ব বলয় ও কিছু কর্মী বাহিনী। ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ বনে যাওয়া মান্নানকে দেখে বিস্ময়ের ঘোর লাগে এলাকাবাসীর। প্রচার হতে থাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি হতে চান মান্নান। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের আবেদন ফরমও সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। এমপি হওয়ার বাসনায় এলাকায় নিজস্ব বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাতে থাকেন তিনি। 

পার্শ্ববর্তী মানুষের জমি দখল, লাকসাম পৌর সদরের টিঅ্যান্ডটি কলোনি দখল করে দোকান তুলে ভাড়া দেওয়া ও পজিশন বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে মতবিরোধ তৈরি হতে থাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। তবে নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে এলাকায় আর আসেননি আবদুল মান্নান। 

এলাকায় না এলেও সম্প্রতি এলাকাবাসীর কাছে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন মান্নান। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দেওয়া নোয়াখালীর জাহাঙ্গীর আলম ৪০০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার খবর মান্নানকে আলোচনায় নিয়ে আসে। কারণ মান্নানও এলাকায় নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয় দিতেন। 

এ ছাড়া নানা অনিয়মের অভিযোগে জাহাঙ্গীরের পাশাপাশি একই নোটিশে মান্নানকেও চাকরিচ্যুত করা হয় বলে জানা গেছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে লাকসামের গাজীমুড়া এলাকায় গিয়ে দেখা মেলে ছয় শতক জমির ওপর নির্মিত আবদুল মান্নানের বিলাসবহুল বাড়ি। বাড়িটির তদারকিসহ পরিবার নিয়ে থাকছেন মান্নানের ভাগনে রাশেদুল ইসলাম। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এখানে মান্নানের বাবার মাত্র দুই শতক জমি ছিল। 

এ জমি থেকে নিজের ভাইবোনদের বঞ্চিত করে পাশের জমির মালিকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নিয়ে বাড়িটি করেছেন মান্নান। কিন্তু পরে তাদের আর চাকরি দেননি। অনেকে জমিও ফেরত পাননি। এ ছাড়া লাকসামের মার্কেট, কক্সবাজারে চিংড়ির ঘের, চট্টগ্রামের গার্মেন্ট ব্যবসা ছাড়াও শ্বশুরবাড়ি গোপালগঞ্জে মান্নানের প্রচুর সম্পদ রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন এলাকাবাসী।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘মান্নান সাহেব গত ২০১৭ সালে আমার ছেলেকে চাকরি দেবেন বলে ৩ লাখ টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত চাকরিও দেননি, টাকাও ফেরত দেননি। টাকা ফেরত চাইলে উল্টাপাল্টা কথা বলে ধমক দেন। এখন তো আর এলাকায়ও আসেন না।’ 

মো. শাহ আলম বলেন, ‘২০১১ সালে আবদুল মান্নান রেলওয়েতে চাকরি দেবেন বলে আমার কাছ থেকে দুই শতক জমি লিখে নেন। কিন্তু তিনি চাকরি ও জমি কোনোটাই দেননি।’  

আবদুল মান্নানের বোন রাশিদা আক্তার বলেন, ‘আমাদের বাবার তেমন কোনো সম্পত্তি ছিল না। ভাইয়ের কাছে অনুরোধ করেছি, আমাদের তো কিছু নাই, যদি দয়া হয় আমাদের কিছু দিতে। আমি মানুষের বাড়িতে ভাড়া থাকি, ভাই ইচ্ছে করলেই দিতে পারেন, কিন্তু দেন না।’ 

আবদুল মান্নানের ভাগনে রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মামা উনি ঢাকাতে আছেন, ব্যবসা করেন। তিনি এলাকায় এসে নির্বাচন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সবই মিথ্যা। কারও কাছে কোনো প্রমাণ নেই। প্রমাণ দিতে পারলে যেকোনো শাস্তি মেনে নেব।’ 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল মান্নান বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলছেন, আমার নাকি দেশে-বিদেশে অঢেল সম্পত্তি। কিন্তু আমি যদি কোনো অপকর্ম করে থাকি, তাহলে আমাকে ধরুক। আমি কার সঙ্গে কী করছি, কার জায়গা দখল করছি- পারলে প্রমাণ করুক। 

এখন আমার প্রধান অপরাধ হচ্ছে, আমি সংসদ নির্বাচন করতে চেয়েছি। এ কারণেই আমি রাজনৈতিক রোষানলে পড়েছি। যারা মূলত আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিভিন্ন সময়ে আমার এবং স্বজনদের ওপর হামলা করেছেন, তাদের কাছ থেকেই আমার বিরুদ্ধে বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই।’ 

চাকরিচ্যুত হওয়ার বিষয়ে মান্নান বলেন, ‘আমি কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চাকরি করিনি। আমি সরকারি কোনো কর্মচারী না, ‘ভলিন্টিক সার্ভিস’ হিসেবে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সহকারী ছিলাম। আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কি না, তাও জানি না। 

তবে সংসদ নির্বাচনের আগে যেহেতু আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইব, এ জন্য আমার যে আইডি কার্ড ছিল, সে আইডি কার্ড আমি স্যারেন্ডার করি। যেহেতু এক ব্যক্তি দুই জায়গায় থাকতে পারে না, তাই আমি স্যারেন্ডার করে চলে আসি। তবে আমি কখনোই আমার পরিচয়ের অপব্যবহার করিনি।’

যেভাবে শেখ হাসিনার কর্মচারী মান্নান

এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে কাজের সন্ধানে লাকসাম থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় পাড়ি জমান মান্নান। সে সময় এক দিন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হামলায় আহত হন তিনি। তখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা হাসপাতালে নেতা-কর্মীদের দেখতে গিয়ে মান্নানকে দেখতে পান। হাসপাতালে মান্নানের সঙ্গে কেউ নেই দেখে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে শেখ হাসিনা তাকে বাসায় নিয়ে যান। সেই থেকেই শেখ হাসিনার বাসার কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন মান্নান।

মান্নানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে জানিয়ে লাকসাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও লাকসাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউনুস ভূঁইয়া বলেন, ‘হঠাৎ এক দিন জানতে পারি সে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী পরিচয়ে অপকর্মের অভিযোগ এসেছে। 

কীভাবে সে এত টাকার মালিক হলো, সেই জানে। গত সংসদ নির্বাচনে সে এমপি হতে চায়, নেত্রীকে মা ডাকে, নেত্রী তাকে নমিনেশন দেবেন। এ রকম নানান কথা শুনেছি। তবে মনোনয়ন পায়নি। শেখ হাসিনা এ রকম মানুষকে মনোনয়ন দেবেন না, তা আমরা বুঝতে পারতাম।’

প্রধানমন্ত্রীর বাসার কর্মচারী হওয়ার সুবাদে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদও বাগিয়ে ছিলেন আবদুল মান্নান। এক বছর আগে কেন্দ্রীয় এক নেতার সুপারিশে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুপম মজুমদার বলেন, ‘সর্বশেষ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আংশিক কমিটি ঘোষণার পর এক বছর আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আবদুল মান্নানকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।’ 

রপ্তানির তথ্য সংশোধনে জিডিপি মাথাপিছু আয় কমবে না

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১০:১৫ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ১১:১৯ এএম
রপ্তানির তথ্য সংশোধনে জিডিপি মাথাপিছু আয় কমবে না
অর্থ মন্ত্রণালয়

রপ্তানির হিসাবে গরমিল নিয়ে সম্প্রতি যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে তা দূর করতে ব্যাখা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। রপ্তানির তথ্য সংশোধনের ফলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও মাথাপিছু আয় কমবে না বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এক ব্যাখ্যায় মন্ত্রণালয় বলেছে, তথ্য সংশোধনের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে না। গতকাল মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

সূত্র জানায়, রপ্তানি তথ্যের গরমিল নিয়ে গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে তথ্য গরমিলের কারণ শনাক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এ বিষয়ে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো একসঙ্গে কাজ করবে। এখন থেকে তিন সংস্থার সমন্বয়ের (রি-কন্সিলিয়েশন) মাধ্যমে রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করবে। এ জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই তিন মাসে আপাতত রপ্তানির হিসাব প্রকাশ করা হবে না। 

ইপিবি প্রতি মাসে খাতভিত্তিক ও প্রধান প্রধান বাজারভিত্তিক রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে থাকে। বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত ইপিবি রপ্তানির যে তথ্য প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণ তার চেয়ে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার কম। 

এ বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জিডিপির আকার, প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পরই বিষয়টি পরিষ্কার করতে ব্যাখা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবাইকে জানানো যাচ্ছে যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি তথ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা কর্তৃক উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে বর্তমানে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে। ফলে আশা করা যায় এখন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রকাশিত রপ্তানি তথ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকবে না।

প্রাথমিকভাবে হিসাব করে দেখা গেছে, রপ্তানি আয় সংশোধনের ফলে বাংলাদেশের জিডিপির আকার কম-বেশি ২ শতাংশ কমতে পারে। পরিমাণের দিক থেকে তা প্রায় ৯ বিলিয়ন বা ৯০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ বর্তমান বাজারদরে ১ লাখ কোটি টাকা কমে যেতে পারে। জিডিপির আকার কমলে স্বাভাবিকভাবে মাথাপিছু আয়ও কমবে।

উল্লেখ্য, বিদায়ী অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির আকার ছিল ৪৫৯ বিলিয়ন ডলার। 

 গত সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংক সদ্য বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের (জুলাই-এপ্রিল) রপ্তানির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে ইপিবির প্রকাশ করা তথ্যের সঙ্গে প্রায় ১৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ফারাক পাওয়া যায়। এরপর থেকে তথ্যের গরমিল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও ব্যবসায়ীরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করেছিলেন যে, ইপিবি রপ্তানি আয়ের ফোলানো-ফাঁপানো তথ্য দিচ্ছে। 

সূত্র বলেছে, অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যে বৈঠকটি হয়েছিল তাতে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানান, এনবিআরের থেকে তথ্য নিয়ে প্রতি মাসে রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করে ইপিবি। এখানে ইপিবির কিছু করার নেই। 

অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যাখ্যায় বলছে, রপ্তানির বিপরীতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রকৃতপক্ষে দেশে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু সেই পরিমাণ অর্থ দেশের রপ্তানির পরিমাণ হিসেবে প্রকাশ করে থাকে। 

জিডিপির হিসাব করার সময় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বাংলাদেশ ব্যাংকের এ হিসাবকেই বিবেচনায় নেয়। ফলে সম্প্রতি পত্র-পত্রিকায় রপ্তানি কমে যাওয়া এবং এর ফলে জিডিপি ও মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার যে আশঙ্কা করা হয়েছে তা সঠিক নয়।

অর্থনীতিবিদরা বলেন, রপ্তানি কমলে জিডিপির আকার কিছুটা কমবে। তবে আমাদের অর্থনীতিতে রপ্তানির অবদান খুব বেশি নয়। কারণ রপ্তানিতে মূল্য সংযোজন হয় তুলনামূলক কম। বিশেষ করে পোশাক খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থের কাঁচামাল আমদানি করে পণ্য বানাতে হয়। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ব্যালেন্স অব পেমেন্টের চলতি হিসাব এবং আর্থিক হিসাবের কিছু ক্ষেত্রে উপাত্তের পুনর্বিন্যাস হয়েছে। তবে এর ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টের সার্বিক ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন আসবে না। ইতোমধ্যে সবার অবগতির জন্য পুনর্বিন্যাস্ত ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রদত্ত নগদ আর্থিক প্রণোদনার পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত প্রকৃত রপ্তানি আয় প্রাপ্তি এবং থার্ড পার্টি অডিটরের মাধ্যমে প্রকৃত ক্যাশ ইনসেন্টিভ নিরুপণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। সুতরাং সরকার কর্তৃক রপ্তানির বিপরীতে যে নগদ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে তা সঠিক রয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

কোটা আন্দোলন হার্ড লাইনে থাকবে সরকার, বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৯ এএম
আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৪, ০৮:৩৭ এএম
হার্ড লাইনে থাকবে সরকার, বিজিবি মোতায়েন
ছবি : খবরের কাগজ

সরকার চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে দেবে না। এ আন্দোলন রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। সেই সঙ্গে মাঠে থাকবেন সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তবে আলোচনার পথ খোলা রাখবে সরকার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক খবরের কাগজকে বলেছেন, সর্বজনীন পেনশনের প্রত্যয় স্কিম নিয়ে আন্দোলনের বিষয়ে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নমনীয় করা গেছে। কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখলে ছাত্র আন্দোলনও রুখে দেওয়া যাবে। 

এদিকে সরকারের সূত্রগুলো দাবি করছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন সহিংস হওয়ার পেছনে রয়েছে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন। তাই এ আন্দোলন আর বাড়তে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের মনোভাব জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো কী করবে- তাও ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতাদের। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ পাওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের রুখতে মাঠে নামেন নেতা-কর্মীরা। 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ইতোমধ্যে ছাত্রদের আন্দোলন রুখতে তাদের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। গতকাল পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়া ও রাজশাহীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন বিজিবি সদস্যরা। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে টার্গেট করে যে আন্দোলন চলছে তা প্রতিহত করা হবে। ধৈর্য ধারণ করা মানে নীরবতা নয়, সময় মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওবায়দুল কাদের গতকাল ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তৃতায় সরকারের কঠোর মনোভাব স্পষ্ট করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ‘বিনা উসকানি’তে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ছাত্রলীগের ওপর নির্বিচার হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘গত সোমবার বিনা উসকানিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় ছাত্রলীগের ৫০০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, কোটা আন্দোলনের পেছনে একটি মতলবি মহল আছে। অতীতেও সড়ক আন্দোলনের (নিরাপদ সড়ক) ওপর ভর করে ফসল ঘরে তুলতে চেয়েছিল বিএনপি। তারা অগ্নি-সন্ত্রাস করেছে। কিন্তু সে আন্দোলনে (নিরাপদ সড়ক) সাড়া পায়নি। জনগণের শক্ত অবস্থানের কাছে পরাস্ত হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, কোটা আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াত ইন্ধন দিচ্ছে। তারা নির্বাচনে আসে না। বাইরে থেকে হইচই করে। তবে আন্দোলনকারীরা কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ আন্দোলনে বিভিন্ন মহল থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। 

এর আগের দিন সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, কোটা আন্দোলন ঘিরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গজনিত কোনো ধরনের অপতৎপরতা কেউ চালালে সেটি শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে। পুরান ঢাকার হোসেনি দালানের ইমামবাড়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

সরকারের সূত্রগুলো দাবি করছে, গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম দিকে পুলিশ সরকারের নির্দেশেই ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু দিন দিন পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠায় পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কঠোর সমালোচনা করেন। এর পরের দিন সোমবার থেকেই মাঠে নামে সরকারি দল-সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। তাদের সঙ্গে সোমবার দিনভর ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয় আন্দোলনকারী ছাত্রদের। আর গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের রুখতে ছাত্রলীগের সঙ্গে মাঠে নামেন যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও।