ঢাকা ৩০ আষাঢ় ১৪৩১, রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪

উচ্চ মহলের সবুজ সংকেতে আসে গ্রেপ্তারের নির্দেশ ফোন চালাকিতে ধরা মিন্টু

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:১০ পিএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৪, ০৫:১০ পিএম
ফোন চালাকিতে ধরা মিন্টু
এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার ও ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু

অবশেষে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টুর শেষরক্ষা হলো না। তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঢাকার ধানমন্ডির এক নেতার বাসা থেকে গত মঙ্গলবার ডিবির টিম মিন্টুকে তুলে আনার পর তাকে আনার হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে নাকি ছেড়ে দেওয়া হবে, তা নিয়ে দোলাচল তৈরি হয়। চলে বহুমুখী তদবির ও দৌড়ঝাঁপ। খোদ গোয়েন্দা পুলিশের মধ্যে নানা ধরনের সংশয় লক্ষ করা গেছে। চাপেও ছিলেন তারা। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের সব তথ্য রেকর্ড এবং খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার নানা ধরনের তথ্যপ্রমাণ উচ্চ মহলে পাঠান। অবশেষে উচ্চ মহলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গতকাল দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ খুনের সঙ্গে ঝিনাইদহের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা জড়িত। জেলার ওপরের সারির নেতাদের নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। এ কারণে তাকে রিমান্ডের প্রয়োজন হয়েছে। মিন্টু এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত- ডিবি তার অকাট্য প্রমাণ পেয়েছে। আর তা হলো, মিন্টু ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুর দুটি মোবাইল ফোন অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নষ্ট করেছেন। দুটি ফোনের মধ্যে একটি আইফোন। আরেকটি স্যামসাং কোম্পানির স্মার্টফোন। গ্যাস বাবু পুলিশের রিমান্ডে বলেছেন, তিনি তার দুটি ফোন জেলা সেক্রেটারি মিন্টুকে দিয়েছেন। এতেই সন্দেহে হয় মামলার তদন্তকারীদের। পরে মিন্টুকে আটক করার পর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, গ্যাস বাবুর মোবাইল ফোন দুটি কোথায়? তিনি উত্তরে বলেন, ওই দুটি মোবাইল ফোন তার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। কিন্তু মিন্টুর এই চালাকি গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে যায়। এতে ফেঁসে যান তিনি। 

অবশেষে তিনি স্বীকার করেন, মোবাইল দুটি তিনি নষ্ট করে ফেলেছেন। কেন নষ্ট করে ফেলেছেন, ডিবির পাল্টা জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ছিলেন নীরব। পরে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, ওই দুই মোবাইলে আনার হত্যাকাণ্ডের ছবি, হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করার দিকনির্দেশনা, কল রেকর্ড ও খুনিদের নানা দিকনির্দেশনা থাকার কারণে তিনি ওই মোবাইল ফোন নষ্ট করে ফেলেছেন। মোবাইল ফোন নিয়ে চালাকিসহ আরও কিছু বিষয়ে তার এই খুনের সঙ্গে ইন্ধন থাকার প্রমাণ পাওয়ায় তিনি ফেঁসে গেছেন। ওই দুই ফোনের ডিভাইস থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন মামলার তদন্তকারীরা। অবশেষে উচ্চ মহলের গ্রিন সিগনালের পর তাকে গ্রেপ্তার দেখায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ডিবি পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

গত ১৩ মে কলকাতার একটি ফ্ল্যাটে খুন হন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম। ২২ মে আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে তার মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ এ মামলায় গ্রেপ্তার করেন শিলাস্তি, আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া ও তানভীর ভূঁইয়া ওরফে ফয়সাল সাজিকে। পরে আদালত শিলাস্তিসহ মোট তিনজনকে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। প্রথম দফায় রিমান্ডে কিছু তথ্যের ঘাটতি থাকার কারণে ডিবি পুলিশ গত ৩১ মে পুনরায় আদালতে আসামিদের হাজির করে আবার রিমান্ডের আবেদন করে। শিমুল ভূঁইয়া তার জবানবন্দিতে গ্যাস বাবুর কথা বলেন। গ্যাস বাবু আবার মিন্টুর এ খুনের জড়িত হওয়ার কথা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের জানান। পরে মঙ্গলবার ধানমন্ডি এলাকা থেকে মিন্টুকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গত বুধবার পর্যন্ত তার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পুলিশ। অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ডিবি পুলিশ মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। 

এ বিষয়ে আনার হত্যা মামলার মুখ্য সমন্বয়কারী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গতকাল বিকেলে খবরের কাগজকে বলেন, ‘সব তথ্য পর্যালোচনা করে আনার হত্যাকাণ্ডে মিন্টুকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মিন্টু ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য গোপন করার কারণে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।’ 

মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিবির একাধিক কর্মকর্তা জানান, মিন্টু মোবাইল ফোন নিয়ে লুকোচুরি করায় তিনি ধরা পড়েছেন। গ্যাস বাবুর বিকাশ নম্বরে ৫ দিনে সাড়ে ৪ লাখ টাকা লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন মিন্টু। এই টাকা এমপি আনারকে খুনের জন্য বিভিন্ন কাজে তারা ব্যবহার করেছেন। ডিবির কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখেছেন, এই দুই মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। আবার দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোনগুলো অফ ছিল। এতে সন্দেহ বাড়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। 

সূত্র জানায়, আনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আরও তিন নেতার নাম উঠে আসে। তাদের ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকা হয়েছে। জানা গেছে, ওই তিন নেতা হলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা, কালীগঞ্জ ছাত্রলীগের এক নেতা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা। তবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে একজনকে সন্দেহ হয়েছে ডিবির। ওই নেতা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা। তার মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। তিনি ঘটনার পর কোথায় ছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি অসংলগ্ন কথা বলেছেন। 

সূত্র জানায়, দিনভর মিন্টুকে ছাড়াতে নানা তদবির করেন ক্ষমতাসীন দলের দুই শীর্ষ নেতা। একজন ঢাকার এমপি, আরেকজন খুলনা বিভাগের এমপি। তবে খুলনা বিভাগের এমপির দৌড়ঝাঁপ লক্ষ করার মতো ছিল। তিনি বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করে মিন্টুর নেতা-কর্মীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, মিন্টুর কিছু হবে না। ডিবি থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছাড়া পাবেন। কিন্তু মিন্টুকে গতকাল ডিবি গ্রেপ্তার দেখানোর পর মিন্টুর অনুসারীদের মধ্যে হতাশা নেমে আসে। মিন্টু গ্রেপ্তার হওয়ার পর অনুসারীরা আর কারও কথায় আশা রাখতে পারেননি। অবশেষে হাল ছেড়ে দেন তারা। মিন্টুর অনুসারীদের ধারণা, খুনের সঙ্গে মিন্টুর সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে ডিবি পুলিশ। 

জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা ফাইলবন্দি, খাল-নর্দমা দখল

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:৩২ পিএম
জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা ফাইলবন্দি, খাল-নর্দমা দখল
ছবি: খবরের কাগজ

সকালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। অন্য যেকোনো দিন বৃষ্টির কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেলেও কাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও অনেক স্থানেই জলাবদ্ধতা ছিল। এক সকালের বৃষ্টি ও দিনভর জলাবদ্ধতায় নতুন করে উঠেছে একটি পুরোনো প্রশ্ন- রাজধানীর জলাবদ্ধতার কি কোনো শেষ নেই? এত এত বড় পরিকল্পনা, তার পরও রাজধানীবাসী দীর্ঘ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না কেন? এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা গেছে, কেবল চিন্তাভাবনাতেই দিনের পর দিন আটকে আছে জলাবদ্ধতা নিরসন পরিকল্পনা। আর রাজধানীজুড়ে থেমে নেই খাল ও নর্দমা দখল।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে এ পর্যন্ত যত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও কবে বাস্তবায়ন হবে তা বলতে পারেন না সংশ্লিষ্টরা। 

২০২০ সালে ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেয় দুই সিটি করপোরেশন। সে সময় থেকে চার বছর পার হলেও রাজধানীর জলাবদ্ধতার উন্নতি হয়নি। 

গতকাল দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে না পারা। রাজধানীর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের সংখ্যা ৬৯টি। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩০টি এবং দক্ষিণে রয়েছে ৩৯টি। আর দুই সিটি করপোরেশনের নর্দমা রয়েছে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার। খাল ও নর্দমা ভরাট হয়ে যাওয়া এবং সেগুলো উদ্ধার করতে ব্যর্থতার কারণেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, খালগুলোর দায়িত্ব নেওয়ার পর রুটিনমাফিক উচ্ছেদে কিছু অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে খাল-নর্দমা পরিষ্কার করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। এ ছাড়া রয়েছে নগরবাসীর দায়িত্বহীনতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালে বর্জ্য ফেলে নগরবাসী। নির্বিচারে খাল দখল করে। এগুলোর অবসান হওয়ার দরকার। 

ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম খাল উদ্ধারে ‘কলাগাছ থেরাপি’র কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাড়ির বর্জ্য যেসব পাইপের মধ্য দিয়ে খালে ফেলা হয়, সেই প্রতিটি পাইপে কলাগাছ ঢোকাতে পারলে মনে শান্তি পেতাম। আমার ব্যর্থতা এখানে। কারণ কীভাবে বারিধারা, গুলশানের লোকেরা খালের মধ্যে কালো বর্জ্য দিয়ে দিচ্ছে। এটি অত্যন্ত কষ্ট লাগে আমার।’

ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘খাল দখলের সময় খেয়াল থাকে না। জলাশয় আইন অনুযায়ী দখল হওয়া খালের জায়গা উদ্ধার করতে গেলে মানুষের কান্নার রোল পড়ে যাবে। লাঠিপেটা বা তদারকি করে দুর্নীতিমুক্ত হওয়া যায় না। একজন নাগরিক হিসেবে যদি দুর্নীতিমুক্ত হতে না পারি, তাহলে কিছুই হবে না।’

ডিএনসিসির যত পরিকল্পনা
খালের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর প্রথমেই সীমানা নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় ডিএনসিসি। এই কাজ দেওয়া হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে সীমানা নির্ধারণ করা হবে, তা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়। সিএস, আরএস আবার কোথাও মহানগর জরিপ ধরে খালের সীমানা নির্ধারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ অবস্থায় একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে ডিএনসিসি। টাস্কফোর্স কয়েকটি সভাও করেছে। এখনো সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়নি। 

ঢাকা ওয়াসা থেকে খাল বুঝে নেওয়ার পর ওয়াসার আগের কিছু জনবল নিয়েছিল ডিএনসিসি। কিন্তু অন্তর্কোন্দল দেখা দেওয়ায় এসব জনবল ওয়াসায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এরপর ড্রেনেজ সার্কেল গঠন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দেয় ডিএনসিসি। সেই প্রস্তাব নিয়ে মন্ত্রণালয় কোনো ফিডব্যাক এখনো দেয়নি। এ ছাড়া ডিএনসিসি খালগুলোর আধুনিকায়নেও একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। সেই প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ে পড়ে আছে। 

ডিএসসিসির যত পরিকল্পনা
ডিএসসিসির ৩৯টি খালের মধ্যে ডিএনডি এলাকায় আছে ১৫টি। এগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এই খালগুলোও ডিএসসিসিকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 

ঢাকার বড় একটি অংশের বৃষ্টির পানি মান্ডা, জিরানী, শ্যামপুর ও কালুনগর খাল হয়ে নিষ্কাশন হয়। ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালগুলো আসলে বাস্তবে নেই। আছে কাগজে-কলমে। এসব খাল উদ্ধারে ৮৯৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পের কাজ কোথাও কোথাও শুরুও হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
 
ডিএসসিসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে ১৮টি খাল বুঝে নেওয়ার পর মাত্র চারটি খাল নিয়ে পরিকল্পনা করে এগিয়েছে সংস্থাটি। বাকি খালগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তবে রুটিন পরিচর্যা না হওয়ায় সেই খালগুলোও আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলে উদ্ধার ও খনন ডিএসসিসির ভালো একটি কাজ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যান্য খালের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ এবং অন্যান্য কাজ কবে শেষ হবে, তা সংশ্লিষ্টরা বলতে পারছেন না। 

ডিএসসিসি নর্দমা ও খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি প্রয়োজনের আলোকে মাস্টার ড্রেন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেটা পানি নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। প্রাথমিকভাবে নিউ মার্কেট থেকে পিলখানায় বিজিবির সদর দপ্তর প্রাঙ্গণের ভেতর দিয়ে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল, বংশাল এলাকা দিয়ে বুড়িগঙ্গা, জুরাইন ও শ্যামপুর এলাকায় মাস্টার ড্রেন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এ প্রসঙ্গে খবরের কাগজকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন দরকার। পূর্ণাঙ্গ ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। সেটা না করে যেটুকু প্রাকৃতিক ব্যবস্থা ছিল, তাও ধ্বংস করা হয়েছে।’

অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রেলের ঘাড়ে বিলের বোঝা

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০৯:১৯ এএম
রেলের ঘাড়ে বিলের বোঝা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় অনেক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ইনসেটে অবৈধ মিটার। খবরের কাগজ

দেশের পূর্বাঞ্চলের আখাউড়া-সিলেটে রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মৌলভীবাজার। এ জেলার কয়েকটি রেলস্টেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রভাবশালীরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি শতাধিক বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা রেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন।

ওইসব অবৈধ সংযোগ থেকে মাস শেষে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানলেও রহস্যজনক কারণে রয়েছেন নীরব, নিচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।

অভিযোগ আছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ অর্থের ভাগ চলে যায় ওপর মহলে। তাদের এ অপতৎপরতায় সরকার যেমন একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে রেল খাতের উন্নয়নের উদ্যোগ হোঁচট খাচ্ছে।

সম্প্রতি কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেলের নিজস্ব বাসভবন ছাড়াও রেলওয়ে কলোনির শতাধিক ঝুপড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। স্টেশন এলাকার কয়েকটি হোটেল ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে রেলওয়ের বিদ্যুতে।

স্থানীয়রা জানান, রেলওয়ের আবাসিক কোয়ার্টার, ভাসমান দোকানসহ ছোট-বড় কয়েক শ স্থাপনার প্রায় প্রতিটিতেই রয়েছে লাইট, ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ ও পানি তোলার মোটর। পাশাপাশি অবাধে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও মিটার না থাকায় ব্যবহৃত বিলের পরিমাণ জানারও কোনো উপায় নেই। সেইসব অবৈধ সংযোগ থেকে মাসে ২০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়। এভাবে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু চক্রটি। আর অতিরিক্ত ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের আশপাশে প্রায় ৩ শতাধিক ভাসমান দোকান, ছোট টং দোকান এবং ঝুপড়িঘরে এসব অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এসব অবৈধ সংযোগের সঙ্গে জড়িতরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বলে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ এসব সংযোগের সঙ্গে রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না বলেই অবৈধ সংযোগ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারী বলেন, ‘রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রতিবছর সরকারের কয়েক লাখ টাকা গচ্ছা দিচ্ছে।’

অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, মাস শেষে বিল দেন কেউ ৫০০, কেউবা ৩০০ টাকা।
কুলাউড়া জংশনের প্রবেশপথে দীর্ঘদিন ধরে খাবারের দোকান চালান বৃদ্ধ মোবারক আলী। তিনি জানান, তার এক আত্মীয় রেলকর্মী ফারুকের মাধ্যমে এখানে দোকান নিয়েছেন। বিদ্যুৎ কোথায় থেকে ব্যবহার করেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। বেশি কিছু বললে এই দোকান তুলে দেবে।’

এদিকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তের বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কিছু প্রমাণ মিলেছে।
রেলস্টেশনের সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন খাবারের দোকানদার মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘আমি পল্লী বিদ্যুৎ থেকে সংযোগ নিয়েছি। বিল বেশি আসছে। যদি অবৈধ সংযোগ নিতাম, তাহলে মাসে মাত্র ২০০ টাকায় হয়ে যেত।’

শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনের উত্তর প্রান্তের ঝুপড়িঘরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, ‘এখানে আমরা (রেলের জমিতে) কয়েকটি পরিবার থাকি। বিদ্যুৎসহ ঘরপ্রতি ২ হাজার টাকা করে ভাড়া দেই।’ কে ভাড়া নেন? এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনি রাজি হননি।

মৌলভীবাজার সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক জহরলাল দত্ত বলেন, ‘রেলের এমন দুর্নীতির লাগাম শক্ত হাতে দমন করা দরকার। তা না হলে রেলওয়েকে যুগোপযোগী করার আশা দুরাশাই থাকবে। সমাজে একটা শ্রেণি আছে, যারা সবকিছুর মধ্যে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা গেলেই রেলের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটতে বাধ্য।’

অবৈধ সংযোগের বিষয়টি জানা নেই জানিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আসলে আমার কাজের মধ্যে পড়ে না।’

কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার রোমান আহমদ বলেন, ‘একটি মিটার থেকে একাধিক সংযোগ দেওয়া হলে তা সরকারের ক্ষতি এবং রেলওয়ের নিয়ম বহির্ভূত। স্টেশনে অবৈধ মিটার রয়েছে এ রকম তথ্য পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমিও চাই এই অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হোক।’

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) রথীশ পাল বলেন, ‘মাঝেমধ্যে রেলস্টেশন, রেলওয়ে কোয়ার্টারসহ দোকানপাটে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।’

পিএসসির প্রশ্ন ফাঁস উল্টো পিরামিড আকারে টাকার ভাগ হতো

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৪:৩৬ পিএম
উল্টো পিরামিড আকারে টাকার ভাগ হতো

পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির ঘটনায় অনেক রথী-মহারথীর নাম সামনে আসছে। পিএসসির অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজনের নাম তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে বলেছেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। সাজেদুলকে গত বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতরা উল্টো পিরামিড আকারে টাকার ভাগ নিচ থেকে ওপরের দিকে পাঠান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের ওপর যেন রুষ্ট না হন সে জন্য ফাঁসচক্র এ অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করেন। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এ কারণেই পিএসসির অনেক কর্মকর্তা প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি জেনেও নিশ্চুপ ছিলেন। তাদের নীরবতায় এই চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। 

মামলার  তদন্তকারীরা জানান, এই চক্রের যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত নন। প্রশ্নপত্র তৈরি ও সরবরাহে এত গোপনীয়তার পরও কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়, তদন্তকারীদের এমন প্রশ্নে গ্রেপ্তার আবু জাফর বলেন, ফাঁস মূলত ছাপাখানা থেকে হয়ে থাকে। 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, প্রশ্ন ছাপার জন্য প্রেসে নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে এই চক্র কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে প্রেসের কিছু কর্মচারী পিএসসির গাড়িচালকদের কাছে ডিভাইস সরবরাহ করে প্রশ্নের সফট কপি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আবার প্রেসের কিছু কর্মচারীর সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ দাঁড় করায়। সেখান থেকে নানাভাবে প্রশ্ন জোগাড় করা হয়। একজন প্রশ্নপত্র পেলে সেটি বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস করা প্রশ্নপত্র সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে তা পরীক্ষার আগের রাতে প্রকাশ করা হতো। 

সোমবার দিনভর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আবেদ আলীসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ওই দিন রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। 

সিআইডির জনসংযোগ বিভাগের এসপি আজাদ রহমান গতকাল খবরের কাগজকে জানান, ‘যারা জবানবন্দি দেননি তাদের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হবে।’

মামলার তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এ চক্রের আদ্যোপান্ত জানা সম্ভব হয়েছে। চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করায় একে অপরকে খুবই বিশ্বাস করতেন। এ কারণে প্রশ্ন ফাঁস করে তা কেনার ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকা লগ্নি করতে কোনো দ্বিধা করতেন না। 

তদন্তকারীরা জানান, এ চক্রের সঙ্গে এক কোচিং সেন্টার ব্যবসায়ীর যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার জাফরের সঙ্গে ওই ব্যবসায়ীর যোগাযোগ ছিল। এর আগেও ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার ফার্মগেট, মালিবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ওই কোচিং সেন্টারের শাখা রয়েছে। 

প্রবাসী এনআইডি : অনেক পিছিয়ে ইসি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০৩:৪৪ পিএম
প্রবাসী এনআইডি : অনেক পিছিয়ে ইসি
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া এবং ভোটার নিবন্ধনভুক্তির কাযর্ক্রমকে গতিশীল করতে সম্প্রতি নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে বিগত ৪ বছরে এই কার্যক্রমের ৪ ভাগের ১ ভাগও শেষ করতে পারেনি ইসি। ৫ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের ৪০টি দেশে থাকা প্রবাসীদের মাঝে স্মার্ট এনআইডি বিতরণের কার্যক্রম সম্প্রসারণ। কিন্তু গত ৪ বছরে সংস্থাটি তাদের এই কার্যক্রম চালু করতে পেরেছে মাত্র ৭টি দেশে। নতুন করে আরও ৯টি দেশে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে ইসি। তারপরও নির্ধারিত সময় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাত্র ৬ মাসে সংস্থাটির এই কার্যক্রম শেষ হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, প্রকল্পের কার্যকালের শেষ বছরে এই কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণে চলছে ইসির নানামুখী কূটনৈতিক তৎপরতা। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় থাকা প্রবাসীদের মাঝে স্মার্ট এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে সে দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল। তার সফরসঙ্গী হবেন ইসি সচিব শফিউল আজিমসহ আরও দুই কর্মকর্তা। এর আগে গত ৩ জুলাই মালয়েশিয়ায় ইসির প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনের প্রাথমিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে সে দেশ সফর করে এসেছেন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথের নেতৃত্বে ইসির ৩ কর্মকর্তা। গত ২ জুলাই থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত তারা মালয়েশিয়া সফর করেন। এর আগে এই কার্যক্রম তদারকিতে ইতালি সফর করেন অশোক কুমার দেবনাথ। 

প্রবাসে এনআইডি সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, কুয়েত, কাতার ও যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের মাঝে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। প্রবাসীদের জন্য স্মার্ট এনআইডির কার্যক্রম উদ্বোধন করতে এর আগে কুয়েতে যান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান, যুক্তরাজ্যে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, ইতালিতে যান বেগম রাশেদা সুলতানা। পরিকল্পনায় থাকা অন্যান্য দেশে এই কার্যক্রম চালুর প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণে সেসব দেশে পর্যায়ক্রমে সফর করছেন নির্বাচন কমিশনার, সংস্থার প্রবাসী শাখা, আইটি ও টেকনিক্যাল শাখার কর্মকর্তারা।

ইসির এই কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা থেকে কেন এত পিছিয়ে? এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই কার্যক্রম শুরুর পরের বছরই বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রভাব শুরু হয়। সেই পরিস্থিতিতে প্রায় দুই বছর এ ব্যাপারে বিদেশি দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। পরে একেকটি দেশে কার্যক্রম শুরু করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মতি, সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে সমন্বয় করতে সময় লেগেছে। তারপর ২০২২ সালের শেষ দিকে কাজটি আমরা পুনরায় শুরু করি। এ ছাড়া গত ২০২৩ সাল জুড়েই ছিল জাতীয় নির্বাচনের কর্মযজ্ঞ। সংসদ নির্বাচনের পর দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আমাদের আলোচনা আরও এগিয়েছে। এমনকি সারা দেশে বিগত উপজেলা নির্বাচন চলাকালেও আমরা প্রবাসে এই কার্যক্রম চালিয়েছি’। 

১৯৯৮ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংবিধান স্বীকৃত বলে ঘোষণা দেয় দেশের উচ্চ আদালত। অথচ দীর্ঘ ২৬ বছরেও সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে ইসি আহসান হাবিব খান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নাগরিকত্ব সনদ (এনআইডি) না থাকায় বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো, পাসপোর্ট করাসহ নানা কাজে তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। মাতৃভূমি বাংলাদেশে মাঝে মাঝে ফিরে আসার ইচ্ছা থাকার পরও সেই সুযোগ তাদের ছিল না। তাদের দীর্ঘদিনের সেই সংকট অবসানে প্রবাসীদের স্মার্ট এনআইডি দিয়ে ভোটার তালিকাভুক্ত করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন’।

ইসির প্রবাসী নিবন্ধন শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার খবরের কাগজকে জানান, চলমান এই কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাকি থাকা ৩৫টি দেশের দূতাবাসের সঙ্গে ইসির কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ওইসব দেশে প্রবাসীদের মাঝে স্মার্ট এনআইডি পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে ইসির প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। 

কার্যক্রম চলমান থাকা ওইসব দেশে মোট আবেদনকারীর সংখ্যা ২৭ হাজার ৪৮৪ জন। তাদের মধ্য থেকে এ পর্যন্ত স্মার্ট এনআইডি হাতে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৩ জন প্রবাসী বাঙালি। কার্যক্রমটি দ্রুত সম্প্রসারণে পর্যায়ক্রমে বাকি দেশগুলোর দূতাবাসের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তার অংশ হিসেবে আরও ৯টি দেশে- সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, মালদ্বীপ, ওমান, বাহরাইন, জর্দান, লেবানন ও লিবিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্যও এনআইডি কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে খুব শিগগির কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্তত তিনটি দেশে এনআইডির প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

পরিচালক আব্দুল মমিন আরও জানান, শুধু সৌদি আরব ছাড়া এ পর্যায়ে কার্যক্রম চলমান থাকা সব দেশেই কাজ এগোচ্ছে দ্রুতগতিতে। গত বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে সৌদি আরবে এনআইডি প্রদান কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের তৎপরতা ছিল কম। ফলে সে দেশে বসবাসরত প্রায় ২৮ লাখ অভিবাসীর মধ্যে বিগত ৮ মাসে ১ হাজারের বেশি প্রবাসী এনআইডির জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত হয়েছে শতাধিক বাংলাদেশির জাতীয় পরিচয়পত্র। সৌদি প্রবাসীদের হাতে স্মার্ট এনআইডি দিয়ে সেখানকার কার্যক্রম উদ্বোধনে আগামী ২০ জুলাই সৌদি আরব যাচ্ছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান। তার সফরসঙ্গী হবেন তার একান্ত সচিব শাহ মো. কামরুল হুদা ও ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক। ইসি আনিছুর রহমান তার স্ত্রী ও পুত্রকেও নিজ খরচে নিয়ে যাবেন।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি রয়েছেন প্রায় ২ কোটি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় ২০১৯ সালে প্রবাসী ওইসব বাংলাদেশির মাঝে এনআইডি সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। ৪০টি দেশে পাঁচ বছর মেয়াদি ওই কার্যক্রমটি পরিচালনায় ইসির বরাদ্দ ছিল এক শ কোটি টাকা। আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং এক্সেস টু সার্ভিসেস-আইডিইএ (স্মার্ট এনআইডি) প্রকল্পের আওতায় প্রবাসীদের মাঝে স্মার্ট এনআইডি কার্যক্রম উদ্বোধন করে কেএম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন। 

২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসকারী প্রবাসীদের মাঝে এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তার আগে একই বছর ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ২০২০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের অনলাইনের ভোটার করে নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করে ইসি। সে বছর থেকে করোনা মহামারির প্রভাবে প্রায় ২ বছর স্থবির ছিল প্রবাসে ইসির স্মার্ট এনআইডির কর্মপরিকল্পনা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থবির থাকা সেই কার্যক্রম ফের পুনরুজ্জীবিত হয়। 

বিশ্লেষকদের অভিমত চার ফরম্যাটে সহযোগিতার অঙ্গীকার ইতিবাচক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৪, ০২:৫৩ পিএম
চার ফরম্যাটে সহযোগিতার অঙ্গীকার ইতিবাচক
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকে সফল বলছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের অভিমত, সফরটি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকটি সফল হয়েছে বলেও মনে করেন তারা। 

ভারত সফরের প্রায় দুই সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে তিন দিনের সরকারি সফর শেষ করেছেন। সফরকালে ২১টি সহযোগিতা নথি ও ৭টি ঘোষণাপত্র সই করে দুই দেশ। পাশাপাশি যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়ে জোর দিয়েছে দুই দেশ। উভয় পক্ষ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রশংসা করে এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে একমত হয়েছে। 

বেইজিংয়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর অত্যন্ত সফল। দুই দেশের সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় উঠেছে এই সফরের মাধ্যমে। ভবিষ্যতে নানা ইস্যুতে ঢাকা-বেইজিং একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে।’ 

এক প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের দেওয়া ঋণের প্রস্তাব নিয়ে সফরকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলা হয়নি এটা ভুল। ঋণ নিয়ে অবশ্যই কথা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং কিন্তু বলেছেন, অনুদান, সুদমুক্ত ঋণ, রেয়াতি ঋণ এবং বাণিজ্যিক- চার ফরম্যাটে ঋণ দেবে চীন। সে জন্য দেশটি একটি কারিগরি কমিটি শিগগিরই বাংলাদেশে পাঠাবে। কাজেই ঋণ নিয়ে কথাবার্তা হয়নি এটা তো ঠিক না।’ 

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে সফরকালে আলোচনা না হওয়া প্রসঙ্গে মুন্সি ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘তিস্তা প্রকল্প নিয়ে তো চীন বলেই দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েও প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে আবার চীনকে দিয়েও করতে পারে। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে যৌথভাবেও কাজ করতে আগ্রহী চীন। এ কারণে সফরকালে এটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ 

চীনের গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম শেখ হাসিনার চীন সফরকে প্রধান দুই খেলোয়াড়কে খুশি রাখার ভারসাম্যপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখে। তারা মনে করে, শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকতে ভারতকে দরকার, আর অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য দরকার চীনকে। ভারতের কিছু গণমাধ্যম বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার সহযোগিতা নিয়ে তেমন কিছু আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়।’

সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক কিয়ান ফেং গ্লোবাল টাইমসকে বলেন, ‘ভারতের চাপের মুখে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন ঢাকাকে নিজের কূটনৈতিক স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুযোগ আরও ভালোভাবে বাঁচিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুয়ার খুলে দিচ্ছে।’ 

এ প্রসঙ্গে মুন্সি ফয়েজ আহমদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমি ভারসাম্য বুঝি না। বাংলাদেশে চীন বিনিয়োগ করছে। তাদের অলস পড়ে থাকা বিশাল রিজার্ভ তারা আমাদের ঋণ হিসেবে দিচ্ছে। এতে তারাও লাভবান হচ্ছে, আমরাও লাভবান হচ্ছি। এটা তো উইন-উইন সিচুয়েশন।’

বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন করিব বলেন, ‘আমরা যেহেতু একটি অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে আরেকটি অর্থনৈতিক অবস্থার দিকে যাচ্ছি, সে ক্ষেত্রে চীনের কাছ থেকে বিনিয়োগ বলেন, প্রযুক্তি বলেন, দক্ষতা বলেন- এগুলো আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি। আমার ধারণা, এ ধরনের বড় ভিজিটে এগুলো নিয়েই আলাপ-আলোচনা হয়।’ 

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘সই হওয়া সমঝোতাগুলোর বেশির ভাগই আগামীর উন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়, যা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই যে দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে আলাপ-আলোচনা, এসবের একটা ভ্যালু আছে।’ 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা প্রসঙ্গে এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘অর্থনৈতিক সমস্যার বাইরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের ভূমিকা রাখাটা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কারণ হলো মায়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি। তবে চীনের আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারে বাংলাদেশ। কারণ এখন প্রত্যাবাসনের সুযোগটাই বা কোথায়?’