ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মেট্রো হোমসের জমিতে এনার সাইনবোর্ড

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ১১:০৬ এএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৩ পিএম
আদালতের নির্দেশ অমান্য করে মেট্রো হোমসের জমিতে এনার সাইনবোর্ড
ছবি : খবরের কাগজ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাবর রোডে একটি জমিতে বাণিজ্যিক ভবন (মেট্রো টাওয়ার) তৈরি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে মেট্রো হোমস্ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে জমির মালিক পক্ষ। এ ছাড়া আদালতের রায় অমান্য করে গত ৪ জুলাই বে-আইনিভাবে ওই জমিতে এনা প্রোপার্টিজের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।  

এ বিষয়ে গত রবিবার মোহাম্মদপুর থানায় মেট্রো হোমসের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ও তার কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন মেট্রোর ডেপুটি ম্যানেজার আজগর আলী।

জানা গেছে, সাড়ে ১২ কাঠা জমিতে ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য মালিকদের সঙ্গে ২০১০ সালে মেট্রোর চুক্তি হয়। সাধারণ ডায়েরির তথ্যমতে, ২০১৩ সালে মেট্রো হোমস  রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে ১৮৯টি পাইলিংয়ের কাজ শুরু করে। জমির মালিক ১৩ জন। এর মধ্যে আব্দুল মুহিত আহম্মেদ ওরফে লিয়াকত, আব্দুল মাকসুদ আহম্মেদ, আব্দুল মুনতাকিন আহম্মেদ ও আব্দুল মুতিনের ছেলে মুকতিম আহম্মেদ মেট্রোর কাছে তাদের অংশের ৩০ শতাংশ বিক্রি করে ২ কোটি টাকার বেশি বুঝে নেন।

তবে এই প্রকল্পে মুহিত তার অংশ মেট্রোর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরও কোম্পানির কাজে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। 

পরে ২০১৯ সালে মেট্রোর পক্ষ থেকে আরবিট্রাল ট্রাইব্যুনালে একটি  মামলা করা হলে ২০২০ সালের অক্টোবরে কোম্পানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করায় ভূমি মালিকদের এক কোটি টাকার আর্থিক জরিমানা করে জমিটি মেট্রোকে বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। এরপর জমির মালিকরা এই আদেশ অমান্য করলে ঢাকার জেলা জজ আদালতে একটি মানি ডিক্রিজারি মামলা করে মেট্রো। সেই মামলায় জমিটি এখন আদালতের আদেশে ক্রোকবদ্ধ রয়েছে। জমিটি আদালতের কাছে ক্রোকবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জমির মালিকদের একজন মুহিত বিভিন্নভাবে কোম্পানিকে হয়রানি করতে থাকেন। এ বিষয়ে গত ১৬ জানুয়ারি আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করলে পরদিন আদালত বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর মধ্যেই মুহিত, আবুল কালাম ও সাব্বিরসহ অজ্ঞাতনামা ১০ জনকে নিয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে গত ৪ জুলাই বে-আইনিভাবে জমিতে এনা প্রোপার্টিজের একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। এ ব্যাপারে গত ৮ জুলাই বেলা ১১টার দিকে মুহিতকে সাইনবোর্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি মেট্রোর চেয়ারম্যানসহ কর্মকর্তাদের প্রাণনাশ ও কোম্পানি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। 

এ বিষয়ে মেট্রো হোমসের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, জমিটির ওপর একটি ১৩ তলা বাণিজ্যিক ভবন করার জন্য ২০১০ সালে সাড়ে ৪ বছরের জন্য চুক্তি করা হয়। জমির মালিক ১৩ জন হলেও এদের মধ্যে চারজন ২০১০-১১ সালের মধ্যে কয়েক দফায় তাদের অংশের জমির মালিকানা ও ফ্ল্যাটের শেয়ার ২ কোটি টাকায় বিক্রি করেন আমাদের কাছেই। তাদের সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এরপর ২০১৩ সালে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে ১৮৯টি পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা হয়। এর মধ্যেই মুহিত বিভিন্নভাবে আমাদের হয়রানি করা শুরু করেন। এ নিয়ে মামলা করলে আদালত কোম্পানির পক্ষে রায় দেন। আদালত মালিক পক্ষকে এক কোটি টাকা জরিমানা করেন এবং আমাদের কাজ করার জন্য জমি বুঝিয়ে দিতে ৬০ দিন সময় দেন। আর নির্ধারিত সময় শেষ হলে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা জরিমানারও আদেশ দেওয়া হয়। 

ফখরুল ইসলাম বলেন, জমিটি আদালতের আদেশে ক্রোকবদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যেই মুহিত জমির মালিক না হয়েও তিনি পেশিশক্তি খাটিয়ে এনার সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন। সাইনবোর্ড কেন লাগানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আমার কোম্পানি উড়িয়ে দেওয়ার ও আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি বলেন, মেট্রোর অস্তিত্ব থাকবে না, আপনাকে দেখে নেব ইত্যাদি। 

জমির মালিকদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসলিমা মানসুর। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১০ সালে জমিটি দেওয়ার পর কাজ না করে কোম্পানি আমাদের ঘোরাতে থাকে। পরে ২০১৭ সালে আমরা চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হই। এখন জমিটি এনা প্রোপার্টিজকে দেওয়া হয়েছে।’

জমির শেয়ার বিক্রির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাইদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। অনেকে মারা গেছেন। কয়েকজন বাধ্য হয়ে খুব কম টাকায় জমির শেয়ার বিক্রি করেছেন।’ 

মুহিতের বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি মেট্রোর চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তাসলিমা বলেন, ‘আমার বাবা জজ ছিলেন। আমি ঢাবির অধ্যাপক। মিথ্যা বলছি না। এটা ষড়যন্ত্র।’ 

হুমকিদাতা মুহিত খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০১০ সালে ফখরুল সাহেব (মেট্রো চেয়ারম্যান) জমিটি নিয়েছেন। ১৪ বছরে সেখানে একটি ইটও গাথেননি। ১৪ বছর অপেক্ষার পর এনাকে জমিটি দেওয়া হয়েছে। এনা চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন, ‘আপনি জমিটি আমাকে দেন। আমি ফখরুল সাহেবের দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেব।’ মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই জমিটি সরকারি প্লট। এটি আমার বাবা পেয়েছিলেন। ১০০ বছরের জন্য জমিটি লিজ নেওয়া আছে। এটি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি।’ 

আপনি কি জমির শেয়ার মেট্রোর কাছে বিক্রি করেছেন প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এটি সরকারি জমি লিজ নেওয়া। এখানে চাইলেও কেউ জমি বিক্রি করতে পারবে না।’ 

মেট্রোর চেয়ারম্যানকে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হুমকি দিইনি। তিনিই পুলিশ ও লোকজন নিয়ে এসে সাইনবোর্ড নামানোর জন্য হুমকি দিয়েছেন।’

এ বিষয়ে এনা প্রোপার্টিজের কর্ণধার এনামুল হক খবরের কাগজকে বলেন,  ‘আমি তো সব বিষয় দেখি না। এটি অফিস থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত যিনি রয়েছেন তিনি করেছেন।’ 

জমিটি আদালতের আদেশে ক্রোকবদ্ধ রয়েছে। সেখানে মালিক পক্ষের সঙ্গে আপনারা কীভাবে চুক্তিবদ্ধ হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা বা অন্য কোনো বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। এনার সাইনবোর্ড ঝোলানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’ 

সাধারণ ডায়েরির বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘জিডির বিষয় আমরা অবগত রয়েছি। মেট্রো হোমসের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।’ হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মেট্রোর চেয়ারম্যানসহ অন্য কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কেউ অপরাধ করলে ছাড় পাবে না।’

কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ইসির ৩০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:৩৩ পিএম
কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ইসির ৩০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে ২৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইসি। পাঁচ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের নাম এনহেন্সিং ইফিসিয়েন্সি অব এপ্লয়িজ অব ইলেকশন কমিশন সেক্রেটারিয়েট (ইইইইসিএস)। এর মূল লক্ষ্য- প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইসির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানো। প্রকল্পের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মাধ্যমে যেসব প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব হয় না, সে ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। বিশেষ করে তাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বাড়ানো, যাতে বিদেশে গিয়ে কমিউনিকেশন ও নেগোসিয়েশনের দক্ষতা বাড়ে। এ ছাড়া বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানোর নানা উদ্যোগ রয়েছে প্রকল্পে। ইসির প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। চলতি মাসে এটি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাস হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের জনশক্তি কেমন হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রকল্প পরিচালনায় ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে না। মোট জনবল থাকবে মাত্র ছয়জন। তার মধ্যে নতুন করে একজন হিসাবরক্ষক, একজন গাড়িচালক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকি পদগুলোতে কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারাই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং এই কাজের জন্য তাদের বাড়তি সম্মানীও থাকবে না। 

এর আগে গত ৩০ জুন শেষ হয় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ (এসসিডিইসিএস) প্রকল্পের কার্যক্রম। ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ওই প্রকল্পেরও মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। লক্ষ্য ছিল- প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা পেতে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশে প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। 

ওই প্রকল্পের অর্জন সম্পর্কে জানতে চাইলে অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, ‘প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করতে পেরেছি। তবে প্রকল্প চলাকালে বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ১০০ জন কর্মকর্তাকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানোর কথা থাকলেও সেখানে ৫০ জনকে পাঠানো সম্ভব হয়েছে। আর নির্ধারিত বাজেটের তুলনায় ব্যয় সাশ্রয় হওয়ায় ১০ শতাংশ অর্থ উদ্ধৃত হয়েছে, যা ফেরত দেওয়া হয়েছে।’ ওই প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের নতুন প্রকল্প আরও বেশি কার্যকর ও সফল হবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন অতিরিক্ত সচিব। 

এ ছাড়া ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে ‘নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আইসিটি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। গত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পরিচালক করা হয়েছে সংস্থার প্রশাসন ও অর্থ শাখার যুগ্ম সচিব মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারকে। এ ছাড়া পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও প্রকাশনা শাখার উপপ্রধান মুহাম্মদ মোস্তফা হাসানকে উপপ্রকল্প পরিচালক এবং সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. রাজীব আহসানকে সহকারী প্রকল্প পরিচালক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদি ৩৭ কোটি ৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকার এই প্রকল্পের ব্যয়ের ৪০টি খাত নির্ধারণ করা হয়। খাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে প্রশিক্ষণে- ১৯ কোটি ৮৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এরপর রয়েছে সেমিনার, আউটসোর্সিং এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি খাতের ব্যয়। প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে নির্বাচন কমিশন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, ফলাফল ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, স্মার্ট নির্বাচনি ব্যবস্থাপনা অ্যাপ, অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ভোটিং সিস্টেম, এনআইডি সার্ভার প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সেবা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের চেষ্টা করছে।

রোগীতে ঠাসাঠাসি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২৫ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৯ পিএম
রোগীতে ঠাসাঠাসি জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

জালাল উদ্দীন বোন ক্যানসারের রোগী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কথা বলছিলেন কেমোথেরাপি কবে দিতে পারবেন তা নিয়ে। তার কেমো দেওয়ার তারিখ ছিল গত ২০ ও ২১ জুলাই। কিন্তু চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের জেরে গত ২০ জুলাই শনিবার থেকে কারফিউ ও রবি-সোম-মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় বন্ধ থাকে কেমোথেরাপি দেওয়ার কার্যক্রম। কারণ স্বাভাবিক সময়েও সাধারণ ছুটিতে এখানে কেমো দেওয়া বন্ধ থাকে। ফলে জালালের কেমো দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কিন্তু বুধবার (২৪ জুলাই) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় তিনি এসেছেন কেমো নিতে।

খবরের কাগজকে তিনি বলেন, ‘আমার নিয়মিত কেমো চলছে। তাই হাসপাতালের পাশেই বাসা নিয়ে থাকি। এ জন্য আমার এখানে পৌঁছতে কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু কারফিউ ও সাধারণ ছুটি থাকায় কেমো দেওয়া হয়নি।’ গতকাল দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চলমান আন্দোলনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জালালের মতো অনেকেই পড়েছেন নানা ভোগান্তিতে। কেউ সেবা নিতে ঢাকার বাইরে থেকে হাসপাতালে আসতে পারেননি সময়মতো, আবার কারও চিকিৎসা শেষ হলেও বাড়ি ফিরতে পারেননি।

তেমনই একজন ফরিদপুরের বাসিন্দা কাদের মোল্লা, আক্রান্ত ফুসফুসের ক্যানসারে। চিকিৎসা নিতে ভর্তি ছিলেন এই হাসপাতালে, দুই দিন আগে ছুটি দিলেও চলমান পরিস্থিতির কারণে তিনি যেতে পারেননি বাড়িতে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুনলাম এখন বাস চলছে, এখন বাড়ি যাব।’ 

অন্যদিকে পায়ের টিউমার থেকে ক্যানসার হয়েছে সিলেটের কিশোর সালমান খানের। অবরোধ, কারফিউ আর সাধারণ ছুটির কারণে গতকাল রাতে এই হাসপাতালে এসে পৌঁছলেও এখনো তার চিকিৎসা ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায়। আর পরীক্ষা চলার সময় তাকে ভর্তিও করা হচ্ছে না। তাই হাসপাতালের কোরিডরে ঠাঁই নিয়েছে সে ও তার পরিবার। 

হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ডা. আশফিকা জিনি বলেন, ‘আমাদের জরুরি বিভাগে আজ (বুধবার) সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ৪৮ ঘণ্টা একজন ডাক্তারই ডিউটি করেছেন। কারণ তিনি বাসায় ফিরতে পারছিলেন না। আবার অন্য কেউ ডিউটিতে আসতেও পারছিলেন না। তবে এখন সব স্বাভাবিক।’ তিনি জানান, বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২২ জন রোগী এসেছেন জরুরি বিভাগে।

হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাতটি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সাতজন আছেন পোস্ট-অপারেটিভে। মহিলা ওয়ার্ডগুলোতে পেইড-আনপেইড মোট ১২১টি সিটে রোগী আছেন ১১৬ জন। অন্যদিকে পুরুষ ওয়ার্ডগুলোতে মোট ১২২টি সিটের বিপরীতে ভর্তি আছেন ১০৬ জন। জানা গেছে, সাধারণ ছুটিতে তিন দিন বন্ধ ছিল ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি ও আউটডোর। গতকাল থেকে আবার সব কার্যক্রম চালু হয়েছে।

এক দিনেই নিজেদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেন বেনজীর ও তার পরিবার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:২১ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
এক দিনেই নিজেদের অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেন বেনজীর ও তার পরিবার
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ

অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করতেই এক দিনের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকে নিজেদের অ্যাকাউন্টের সব টাকা তুলে নেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানরা। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে দাখিলের জন্য প্রস্তুত করা দুদকের অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যরা এক দিনেই তাদের প্রায় সব অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করেন। তাদের নামে মোট ১১৬টি অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। ৫ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তসহ মোট ৪২ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদন খবরের কাগজের হাতে এসেছে। 

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য গত ১৮ এপ্রিল তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ১৯ ও ২০ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এই কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করে ২১ এপ্রিল। এদিকে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৩ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বেনজীরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু এবং দুই মাসের মধ্যে অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশের দিনই বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানরা বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের ১১৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে অন্তত ৪০টি অ্যাকাউন্ট থেকে অর্ধশত কোটি টাকা উত্তোলন করেন। এর মধ্যে কমিউনিটি ব্যাংক করপোরেট শাখায় বেনজীর আহমেদ তার অ্যাকাউন্ট (নম্বর-১০১৬০০০৮২০১) থেকে ৩ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার ৮১২ টাকা তুলেছেন। তার স্ত্রী জিশান মির্জা একই শাখার অ্যাকাউন্ট (নম্বর-১০৩০৫৭৩৯২০১) থেকে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫ হাজার ১৪ টাকা উঠিয়ে নেন। তাদের মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর তুলে নেন ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৮৮৬ টাকা। 

এরপর দুদকের অনুসন্ধানকারী দল বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের অর্থসম্পদের তথ্য চেয়ে ২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজউক, বিভিন্ন ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ ৪৬টি দপ্তরে চিঠি পাঠায়। এরপর ২৯ ও ৩০ এপ্রিল বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানরা তাদের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলেন ও বিদেশে পাঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ২৯ এপ্রিল সোনালী ব্যাংক লোকাল অফিস থেকে বেনজীর আহমেদ ০০০২৬০২০০৫৬৫৮ অ্যাকাউন্ট থেকে বহির্গামী লেনদেন নিষ্পত্তির (আউটওয়ার্ড ক্লিয়ারিং) মাধ্যমে মোট ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা পাচার করেন। এ ছাড়া ৩০ এপ্রিল সোনালী ব্যাংকের একই শাখা থেকে নগদ আরও ১৪ লাখ টাকা ওঠানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জিশান মির্জা এবং তাদের মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর, তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীর ও নাবালিকা মেয়ে যাইরা যারীন বিনতে বেনজীরের মালিকানায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, রিসোর্ট, বাংলোসহ বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাদের নামে চলতি, সঞ্চয়ী, স্থায়ী আমানত, বৈদেশিক মুদ্রাসংক্রান্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে ১১৬টি। এসব অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। অনুসন্ধান শুরুর পর দ্রুততম সময়ে সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা ওঠানো হয়েছে। জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত পূর্ণ ও আংশিক মালিকানাধীন কয়েকটি কোম্পানি পাওয়া গেছে। যেগুলোতে কোটি কোটি টাকার শেয়ার রয়েছে। একাধিক ব্রোকারেজ হাউসে তাদের নামে বেশ কয়েকটি বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্ট ও তাতে অনেক লেনদেন পাওয়া গেছে। 

অনুসন্ধানে আরও বলা হয়, দলিলে উল্লেখ করা মূল্য অনুযায়ী বেনজীর আহমেদের ৯ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৫ টাকা, তার স্ত্রী জিশান মির্জার ২১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৩ টাকা, মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীরের ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৯ হাজার ৬৯৬ টাকা ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের ৪ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮৪৮ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। নিরপেক্ষ প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞ দিয়ে এসব জমির মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে এসব সম্পদের মূল্য বহুগুণ বাড়বে। এ ছাড়া দলিলে বেনজীর আহমেদের নামে বান্দরবানে ২৫ একর জমি, মুন্সীগঞ্জে ১৪ কাঠার দুটি প্লট, তার স্ত্রী জিশান মির্জার নামে উত্তরায় বিলাসবহুল ৭ তলা বাড়ি, আদাবরে পিসিকালচার হাউজিংয়ে ৬টি ফ্ল্যাটের কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। এসব সম্পত্তি লিজ ও অপ্রত্যাহারযোগ্য আমমোক্তারনামা দেখানো হয়েছে। এসব সম্পত্তিরও মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব অর্থসম্পদ আদালতের নির্দেশে ক্রোক ও ফ্রিজ করা হয়েছে। সেগুলোতে রিসিভার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের আয়কর নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের নামে-বেনামে ও বিদেশে থাকা অর্থসম্পদেরও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। 

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের দুই দফা তলব করা হলেও তারা হাজির হননি। ছোট মেয়ে যাইরা যারীন নাবালক হওয়ায় তাকে তলব ও সম্পদের নোটিশ পাঠানো হয়নি। প্রতিবেদনের ফরোয়ার্ডিংয়ে উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নম্বর ৪৪২৫/২০২৪ সংশ্লেষে ২৩ এপ্রিলের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য পাঠানো হলো। প্রতিবেদনটি দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. আনোয়ার হোসেন। বর্তমানে সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন আগামী রবিবার (২৮ জুলাই) অথবা সোমবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। 

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে বেনজীর আহমেদ গত ৪ মে সপরিবারে দেশ ছাড়েন। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলন ৪ লাশের শেষ ঠিকানা হলো জুরাইন কবরস্থান

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:১২ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:১২ এএম
৪ লাশের শেষ ঠিকানা হলো জুরাইন কবরস্থান
জুরাইন কবরস্থান

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অবসান ঘটলেও তাদের স্বজনদের কোনো খোঁজ মেলেনি। এমনকি মর্গে যারা স্বজনের খোঁজে এসেছিলেন, তারাও শনাক্ত করতে পারেননি এই চারজনের  লাশ। বাধ্য হয়েই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য তাদের দেওয়া হয়েছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের হেফাজতে। জুরাইন কবরস্থান হলো তাদের শেষ ঠিকানা। 

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের লাশ ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। বেওয়ারিশ সবার আনুমানিক বয়স ৩৫ থেকে ৪০-এর ঘরে। এর আগে গত দুই দিনে শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ৭৮ জনের লাশ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তারা গুলিবিদ্ধ হন। 

সংঘর্ষ শুরুর দিন থেকে ঢামেকে প্রতিদিনই আহত প্রায় ১০০ জন চিকিৎসা নেন। তাদের অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেলেও গুলিবিদ্ধরা সেখানেই চিকিৎসা নেন। আহত অনেকের সেখানেই মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ-বিক্ষুব্ধ দিনগুলোতে প্রতিদিনই মর্গে আসতে থাকে লাশ। লাশ রাখার যথেষ্ট জায়গা ছিল না। ফলে ময়নাতদন্তের পর দ্রুত লাশগুলো স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

লাশ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের দায়িত্বরত মো. আজিম বখশ (সহসভাপতি) খবরের খাগজকে বলেন, ‘দুপুরের পর ঢামেক মর্গ থেকে লাশগুলো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশগুলো  জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাশগুলোর আঙুলের ছাপ, ছবি তুলে রাখাসহ আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি পরে তাদের খোঁজ করতে আসেন, সেগুলো মিলিয়ে শেষ সান্ত্বনা হিসেবে কবরটি আমরা দেখিয়ে দিই।’ 

এ ছাড়া বুধবার (২৪ জুলাই) ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন দুজন। তারা হলেন শাহজাহান (২২) ও রিয়া আকতার (৬)। ১৯ জুলাই উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে আসেন শাহজাহান। গত মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই দিন রিয়া আকতার নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢামেকে আসে। গতকাল সকালে তারও মৃত্যু হয়। বর্তমানে ঢামেকের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩ জন। 

গত ১৭ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ গত মঙ্গলবার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীসহ সারা দেশে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির পাশাপাশি নিরাপত্তা দিচ্ছে সেনাবাহিনী।

১৫ জুলাই আন্দোলনে ঢোকে তৃতীয় পক্ষ!

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:১০ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:১৬ এএম
১৫ জুলাই আন্দোলনে ঢোকে তৃতীয় পক্ষ!
ছবি : খবরের কাগজ

২০১৮ সালে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা আন্দোলন হয়েছিল। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খুব শক্ত হাতে তা মোকাবিলা করেছিলেন। কিন্তু এবারের কোটা আন্দোলনে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে দুর্বৃত্তরা ঢাকাসহ সারা দেশে একধরনের সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। এতে সাধারণ মানুষ মারা যাওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন অনেকেই। কেন এমন হঠাৎ সহিংস পরিবেশ সৃষ্টি হলো, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পাশাপাশি তারা এই সহিংসতা রোধে আগে আরও কী কী পদক্ষেপ নিতে পারতেন, তার হিসাব-নিকাশ করছেন তারা। আন্দোলনের মাঠে যেসব কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের পরিস্থিতি সামাল দিতে কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না সেটিও পর্যালোচনা করে দেখছেন তারা। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে এমন বিপর্যয় হবে তা তারা আগেই ধারণা করতে পারেননি। 

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, কোটা আন্দোলনের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবেই সমাধান হবে। কিন্তু ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের কারণে পুরো পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। আন্দোলনের মাঠের চিত্র একেবারেই বদলে যায়। আন্দোলনকারীরা হয়ে ওঠেন মারমুখী। দুর্বৃত্তরা পুলিশের হামলাসহ কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর পুলিশকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে অত্যন্ত বেগ পেতে হয়েছে। তারা মনে করেন, ওই ১৫ জুলাই থেকেই কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঢুকে পড়ে সুযোগসন্ধানী তৃতীয় পক্ষ।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা সহিংসতাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি।’ 

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আন্দোলনে যারা সহিংসতা করেছে তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য ছিল।’ 

ঢাকা মহানগর পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে কোটা আন্দোলন হলেও এর বড় প্রভাব পড়েছিল ঢাকায়। এই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা ঢুকে পড়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা চালিয়েছে। বিশেষ করে সাইনবোর্ড এলাকায় তারা বড় ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তারা সড়ক অবরোধ করে যানবাহনে আগুন দিয়েছে। 

সূত্র জানায়, এই সহিংস ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে এসেছে। ভিডিও ফুটেজ তারা পর্যালোচনা করে দেখেছেন যে সাইনবোর্ড এলাকায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকার স্থানীয় লোকজন সাইনবোর্ড এলাকায় পুলিশের সঙ্গে শোরগোলে যোগ দিয়েছিল। কোটা আন্দোলনে সহিংসতা করা ও পুলিশকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই তারা এসেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। এদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

ভিডিও ফুটেজ দেখে সহিংসতাকারীদের শনাক্ত করার জন্য ডিবি কাজ করছে। সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধী দলগুলোর একাধিক নেতার যে অডিও ক্লিপ ডিবির হাতে এসেছে, তা পর্যালোচনা করে দেখছেন তারা। ক্লিপগুলো সঠিক কি না তা যাচাই-বাছাই করে দেখছেন তারা। 

সূত্র জানায়, সহিংসতার সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া ইতিবাচক হিসেবে দেখছে পুলিশ। ইন্টারনেট বন্ধ না হলে গুজবের মাত্রা বেড়ে গেলে মাঠের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে তাদের আরও বেগ পেতে হতো বলে মনে করছেন তারা। তবে গত মঙ্গলবার রাত থেকে অল্প পরিসরে ইন্টারনেট চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। ইন্টারনেট চালু হওয়ার পর সতর্ক রয়েছে পুলিশ। যাতে কেউ নতুন করে অরাজকতা তৈরি করতে না পারে। 

সূত্র জানায়, কোটা আন্দোলনে এখন পর্যন্ত দুজন অর্থ সরবরাহকারীকে শনাক্ত করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। তারা হলেন নুরুল হক নূর ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা তারেক। এরা বিভিন্ন মাধ্যমে কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক সমন্বয়কের কাছে অর্থ সরবরাহ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই টাকার উৎস কোথায় তা তারা জানার চেষ্টা করছে। 

সূত্র জানায়, দুর্বৃত্তরা ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে সহিংসতা তৈরি করেছিল। এতে ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য জেলা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ ও র‌্যাব এখন ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে কঠোর নজরদারি গড়ে তুলেছে। 

জানা গেছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে মাঠপর্যায়ে তারা একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। 

আন্দোলনের নামে নাশকতাকারী-দুষ্কৃতকারীদের সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটি এক খুদে বার্তায় জানায়, অপরাধীদের নাশকতার সময়ের ছবি-ভিডিও ফুটেজ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করতেও দেশের মানুষকে অনুরোধ করা হলো। 

অপরাধীদের তথ্য দেওয়ার জন্য এই (০১৩২০০০১২২২ ও ০১৩২০০০১২২৩) দুটি নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়। 

তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানায় পুলিশ। খুদে বার্তায় বলা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতা সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতকারীদের সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিন। সূত্র জানায়, সারা দেশের তিন শতাধিক মামলায় প্রায় ১ লাখ নাশকতাকারীকে আসামি করা হয়েছে। 

বুধবার (২৪ জুলাই) সারা দেশে থেকে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি দুষ্কৃতকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিন পুলিশ জানায়, ৮০০-এর বেশি অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সাত দিনে ১ হাজার ৭৫৩ জনকে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ সারা দেশে দুর্বৃত্তদের হামলায় ১ হাজার ১১৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৩২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতাল ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল, সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যান্য হাসপাতালে অনেক পুলিশ সদস্য চিকিৎসা নিচ্ছেন। মৃত্যু হয়েছে তিন পুলিশ সদস্যের। শহিদ তিন পুলিশ হলেন পিবিআই, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মোক্তাদির এবং ডিএমপির প্রোটেকশন বিভাগের নায়েক মো. গিয়াস উদ্দিন।

সরকার এত সহজ জিনিস নয় যে ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে: ডিএমপি

এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন) বিপ্লব কুমার সরকার বলেছেন, ‘সরকার এত সহজ জিনিস নয় যে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ যতদিন থাকবে, স্বাধীনতাবিরোধী কাউকে কাজ করার বিন্দুমাত্র স্পেস দেওয়া হবে না। নাশকতা, সহিংসতার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের ভিডিও ধরে ধরে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘একজন নিরপরাধ লোকও যেন জেলে না ঢোকে এ জন্য আমরা বিশ্লেষণ করছি। যারা প্রকৃত সন্ত্রাসী তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’ বিপ্লব বলেন, ‘ঢাকা মহানগরীতে কয়েক দিনের যে নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়েছে, যেভাবে থানাসহ অন্যান্য সরকারি স্থাপনা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এটি কোনোভাবে ছাত্রদের আন্দোলন হতে পারে না। এটি নিশ্চিতভাবে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের আন্দোলনে মিশে ছাত্র আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য এই কাজটা করেছে। এই নাশকতার, অগ্নিসন্ত্রাসের সঙ্গে সাধারণ ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ছাত্র কোনোভাবে জড়িত নয়।’

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যারা বিভিন্ন সময়ে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, বাস পুড়িয়েছে, ট্রেন পুড়িয়েছে, বিএনপি-জামায়াতের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছে, মদদ দিয়েছে, বিনিয়োগ করেছে, নির্দেশ দিয়েছে। তাদের অনেক তথ্য পেয়েছি, আরও পাচ্ছি। যেসব জায়গায় আক্রমণ হয়েছে, সব ফুটেজ আমরা পাচ্ছি, অসংখ্য ওপেন সোর্স থেকে ভিডিও পাচ্ছি।’ 

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ ভিডিও করে রেখেছে, সেগুলো আমাদের দিচ্ছে। আমরা সব তথ্য বিশ্লেষণ করছি। কারা কারা এসব ঘটনার মাস্টারমাইন্ড, তাদের গ্রেপ্তার করতে চিরুনি অভিযান চলমান রয়েছে। আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কাজেই পুলিশ সদস্যদের যারা হত্যা করেছে, পুলিশের ইউনিফর্মে যারা আঘাত করেছে তাদের একজনকেও ছাড়া হবে না। পুলিশের ইউনিফর্মে আঘাত মানে আইজিপি স্যারের গায়ে আঘাত, আমার কমিশনার স্যারের গায়ে আঘাত। কাজেই এই আঘাত যারা করেছে তাদের একজনকেও ছাড়া হবে না। যে স্তরের নেতা হোক না কেন, আশ্রয়দাতা, প্রশ্রয়দাতা, বিনিয়োগকারী কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। যেখানে থাকুক, সেখান থেকে ধরে এনে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

সারা দেশে ১১৩টি অগ্নিসংযোগ

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাত দিনে সারা দেশে ১১৩টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলেই (রাজধানী ও ঢাকা জেলা) ৯০টি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

যত দ্রুত সম্ভব কারফিউ প্রত্যাহার করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘থানা ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে হামলার কারণে এটি আরোপ করা হয়েছে।’

বিএনপিসহ অন্যান্য দলের ২৫ জন রিমান্ডে

সেতু ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ নাশকতার অভিযোগে ঢাকার কয়েকটি থানায় করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন দলের ২৫ জনের নানা মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পৃথক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের রিমান্ডের আদেশ দেন। 

রিমান্ডে যাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সেতু ভবনের মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল আলম মজনু, ১২ দলের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা, মো. মহিউদ্দিন হৃদয়, রশীদুজ্জামান মিল্লাত, মো. তরিকুল ইসলাম তেনজির, ধানমন্ডি থানার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের, শ্যামপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. কামরুল হাসান রিপন, মো. মোবারক হোসেন, ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. মো. সালাহ উদ্দিন সাঈদ, মোহাম্মদ আলী, মেহেদী হাসান ও বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী। 

এ ছাড়া শাহবাগ থানার দুই মামলায় বিএনপিসহ অন্যান্য দলের ৯ জন নেতা-কর্মীর বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর মধ্যে সাতজনের চার দিন এবং দুজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার এক মামলায় চারজনের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

এ ছাড়া শেরেবাংলা নগর থানার মামলায় চারজন, চকবাজার থানার মামলায় একজন ও মোহাম্মদপুর থানার মামলায় একজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তবে তাদের দলীয় পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

এদিকে বিটিভি ভবনে হামলা-ভাঙচুরসহ বিভিন্ন থানায় দায়ের করা পৃথক কয়েকটি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্তত ৩৯৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।