ঢাকা ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩১, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪

শূন্য থেকে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক ইয়াছিন

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৮ পিএম
শূন্য থেকে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক ইয়াছিন
ইয়াছিন আলী

একসময় পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতেই হিমশিম খেতেন ইয়াছিন আলীর বাবা আব্দুল বারী। অভাবের তাগিদে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের দায়ে প্রায় ১১ বছর জেলও খেটেছেন তিনি। বাবার অভাবের সংসারে বড় হওয়া সেই ইয়াছিন আলী হঠাৎ করেই যেন হাতে পেলেন আলাদিনের চেরাগ। শূন্য থেকে বনে গেলেন কয়েক শ কোটি টাকার মালিক। 

ইয়াছিন আলীর হঠাৎ এমন বিত্তশালী হওয়া রূপকথার গল্পকেও যেন হার মানায়। এখন তার কাছে রয়েছে প্রচুর নগদ অর্থ। বাড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাটসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদের মালিক তিনি। তার নামে নিজ উপজেলা, জেলা ও রাজধানীতে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। বিদেশেও রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ১০ বছরে শূন্য থেকে কয়েক শ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ইয়াছিন আলী। দিনাজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের আস্থাভাজন ছিলেন তিনি। ইয়াছিন বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক। দেশে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসাও রয়েছে তার। মাসে কয়েকবার বিদেশ না গেলে চলেই না তার। বীরগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটখোলা গ্রামে তাদের বাড়ি। 

ইয়াছিনের বাবার মৃত্যুর পর তৎকালীন দিনাজপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। ব্যাপক চাটুকারিতার মাধ্যমে সাবেক এমপি গোপালের বিশ্বস্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এর পরই তার ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক এমপি গোপালের কমিশন-বাণিজ্যের মূল হোতা ছিলেন ইয়াছিন আলী। তার সহযোগিতায় নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, সোলার লাইট-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ-বাণিজ্য, থানায় তদবির, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণাসহ নানা অপরাধ-দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন তিনি। 

ইয়াছিন আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা রয়েছে। ধর্ষণের মামলাটি এখনো অমীমাংসিত। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জগদল পুরাতন জেলখানা এলাকায় তারা মিয়া পাগলার ছেলেকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। কিন্তু প্রভাব খাটানোর ফলে এসব মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এমপি গোপাল তার পক্ষে থাকায় বীরগঞ্জ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। তার দাপটে অসহায় ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও।

সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দের পরিমাণ, বরাদ্দের কত শতাংশ প্রকল্পে ব্যয় এবং কত শতাংশ লুটপাট ও ভাগ-বাঁটোয়ারা হবে তা ঠিক করে দিতেন ইয়াছিন আলী। সাবেক এমপির আশীর্বাদ নিয়েই ইয়াছিন আলী বীরগঞ্জ হাটখোলা সলিডারিটি ক্লাব এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, ঘোড়াবান্দা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি হন। এ সময় বেশির ভাগ বরাদ্দ তার পকেটে ঢোকে। সরকারি ভবন মেরামত, টিআর, জিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ প্রত্যেক অর্থবছরে মোটা অঙ্কের বরাদ্দ লুট করাই ছিল তার প্রধান কাজ। এমপি গোপালের মেয়াদকালে কেবল ক্রীড়া সংস্থার নামে বরাদ্দ নিয়ে ১ কোটি টাকা লোপাট করেছেন ইয়াছিন আলী। 

একইভাবে ইয়াছিন আলীর সলিডারিটি ক্লাব এবং ঘোড়াবান্দা দাখিল মাদ্রাসার নামে গত ১৬ বছরে সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বরাদ্দের ৪০ শতাংশের বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইয়াছিন আলী সরকারি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য নিজে কালোবাজার থেকে অর্ধেক মূল্যে কিনতেন, যা ছিল ওপেন সিক্রেট।

জানা গেছে, সাবেক এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল ও ইয়াছিনের অবৈধ প্রভাবে প্রকল্প সভাপতি-সম্পাদকরা কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। প্রকল্পের মালামাল অর্ধেক দামে ইয়াছিনকে দিতে হতো। চলতি বাজারে চালের মূল্য টনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা হলেও ইয়াছিন নিতেন ১৫-২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ ২ লাখ টাকার চালের ডিও বিক্রি হতো ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়।

ইয়াছিন আলীর দাপটে সিংহভাগ টিআর প্রকল্পের মালামাল কালোবাজারে বিক্রি করে প্রায় তার পুরোটাই লোপাট করা হয়েছে। কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও অর্ধেকের কিছু কম বাস্তবায়ন করা হতো।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী অভিযোগ করে বলেন, সাবেক এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল তার মেয়াদকালে ইয়াছিন আলীর সহায়তায় সরকারি প্রকল্পে ন্যূনতম ৭৫-৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। 

টেন্ডার নিয়ন্ত্রণে তার কথাই ছিল শেষ কথা। বীরগঞ্জ পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে, বিশেষ করে এমপি গোপালের দাপটে সরকারের বিভিন্ন টেন্ডার ছিল ইয়াছিন আলীর নিয়ন্ত্রণে। তার কথার বাইরে গেলেই মামলার আসামি হতে হতো।’

বীরগঞ্জের মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘ইয়াছিন আলী এমপি গোপালের একান্ত আস্থাভাজন হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যেত না। সরকারি সব অফিস তার নিয়ন্ত্রণে ছিল। বীরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে নামে-বেনামে জমি কিনেছেন ইয়াছিন। অনেক জমি জোর করে দখল করারও রেকর্ড রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো।

এসব বিষয়ে ইয়াছিন আলীর মন্তব্য জানতে তার মোবাইলে ফোন করা হলে ‘সাক্ষাতে কথা হবে’ বলে লাইন কেটে দেন তিনি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পাঁচ মেগা প্রকল্পে খরচ বেড়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৫০ এএম
আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০৮ এএম
পাঁচ মেগা প্রকল্পে খরচ বেড়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের রেল ও সড়কপথে যোগাযোগের পাঁচটি মেগা প্রকল্প- পদ্মা সেতু, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, কক্সবাজার-দোহাজারী রেলপথ এবং মেট্রোরেল প্রকল্পে বিপুল অর্থ অপচয়ের খতিয়ান উঠে এসেছে অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে। অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে ১২ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুটপাট, দুর্নীতির কারণে এই পাঁচ মেগা প্রকল্প নির্মাণের আগে-পরে ব্যয় বেড়েছে ৫৬ হাজার ৬০৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। 

গত ১ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিটির সদস্যরা এ প্রতিবেদন জমা দেন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে। অর্থনীতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পাঁচ প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ৭৭ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। হিসাব বলছে, প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় ২৩৭ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এসব প্রকল্পে। 

শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, এই পাঁচ প্রকল্পে কেনাকাটায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) মেনে চলা হয়নি। প্রকল্পের কেনাকাটায় অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগও উঠেছে একাধিকবার। অনেক ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান না করে সরাসরি বরাদ্দ দেওয়ার নজির রয়েছে। এতে করে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় লাগা ও টাকা খরচ হওয়া একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। এই পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিকল্পনা পরিবর্তন এবং সঠিক পূর্বাভাসের অভাবে এই ব্যয় বৃদ্ধি ঘটেছে। সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজালে (ডিপিপি) সময় ও ব্যয়ের পরিবর্তনগুলো উল্লেখ থাকলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় প্রকৃত অর্থে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পায়। শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়, সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, অদূরদর্শী নীতি এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের অভাবে প্রকল্পগুলোর ব্যয় ক্রমাগত বেড়েছে।

শ্বেতপত্রের বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এখন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও সময় বৃদ্ধি এটা নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। খুব প্রয়োজন না হলে ব্যয় বৃদ্ধি করা হবে না। আবার বৃদ্ধি হলে সেটা যেন যুক্তিসংগত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে। শুধু ডলারের এক্সচেঞ্জ রেটের কারণে যে ব্যয় বৃদ্ধি সেটিই করা হচ্ছে। এর বাইরে ভূমি অধিগ্রহণে যে ব্যয় বৃদ্ধি এটাও বিবেচনা করা হচ্ছে।’ 

পদ্মা সেতু ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্পে সংশোধনীর প্রভাব রয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরবর্তী সময়ে রেল সংযোগ এবং নতুন সংযোজন হিসেবে ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা রেলপথ যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া কক্সবাজার-দোহাজারী রেল প্রকল্পে প্রাথমিক ডিজাইনের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৫ লাখ টাকা। এই বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৮৪৭ শতাংশ। 

পদ্মা সেতু প্রকল্পেও একই চিত্র দেখা গেছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে অ্যাপ্রোচ রোড (সংযোগ সড়ক) এবং টোলপ্লাজার জন্য বরাদ্দ ছিল ১২৭ কোটি টাকা। এই অর্থ ২০১৫ সালে পুনরায় সংযোজনের মাধ্যমে ২ হাজার ১০৯ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এই অতিরিক্ত ব্যয় কেবল প্রকল্প বাস্তবায়নকে জটিল করেনি, বরং দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 

বাংলাদেশের বড় নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে ব্যয়ের তুলনায় কাজের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। শ্বেতপত্র কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চার লেনের সড়ক নির্মাণে যে ব্যয় হয়, তা ভারতের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ গুণ এবং পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। উদাহরণ হিসেবে রংপুর-হাটিকুমরুল চার লেন সড়কে প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে খরচ হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটারে খরচ ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নানাবিধ অনিয়মের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণে। ভূমির দাম প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। 

শ্বেতপত্র কমিটির দাবি, ভূমি অধিগ্রহণের অতিরিক্ত মূল্যায়নের সুবিধাভোগী একটি স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের কারণে প্রকল্পের ব্যয় যেমন বেড়েছে, তেমনি সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়নও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলা হয়, প্রকল্পটি বারবার সংশোধনের ফলে ব্যয় প্রাক্কলনের তুলনায় ১২ গুণ বেড়েছে। এই ধরনের সংশোধন শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

কমিটি বলছে, পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে সুশাসনের জন্য নানা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। কর্ণফুলী নদীর টানেলের নির্মাণ ব্যয় ২০১৫ সালের ডিপিপি থেকে ২০২২ সালের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পর্যন্ত ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও আর্থিক বিশ্লেষণের মূল সূচকে (উপকারিতা-ব্যয় অনুপাত এবং অভ্যন্তরীণ রিটার্ন রেট) কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের সময়কালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবহন খাতের ৩২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ৪৯ দশমিক ৭ শতাংশে সময় ও ব্যয় দুই-ই বেড়েছে। ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ প্রকল্পে সময় বা ব্যয় বেড়েছে। গড়ে প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সময় ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতা সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত হার কমিয়ে দেয়। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘শ্বেতপত্রে উল্লিখিত অভিযোগগুলো প্রায় প্রমাণিত হয়েছে। আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে প্রকল্পের খরচ অনেক বেশি বলে বেরিয়ে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে অনেক প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। কিছু প্রকল্প শেষের পথে। এখন সরকারের সামনে সুযোগ রয়েছে। তারা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থেকে কিছু টাকা পুনরুদ্ধার করতে পারে, যারা এসব অপচয়ের জন্য দায়ী। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এত বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের পর যদি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া না যায়, তা হলে এটি দেশের জন্য আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।’

রাজধানীর অলিগলিতে শীতের পিঠার পসরা

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০৮ এএম
রাজধানীর অলিগলিতে শীতের পিঠার পসরা
শীতের পিঠা খেতে দোকানে ভিড়। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে। ছবি: খবরের কাগজ

কুয়াশার চাদরে ঢাকা প্রকৃতি আর বাড়ির উঠানে ধোঁয়া ওঠা চুলার পাশে পিঠা তৈরির ব্যস্ততা যেন বাংলার শীতের এক বাস্তব ও অনন্য চিত্র। এই ঋতুতে পিঠা-পুলির আয়োজন বাংলার শীতকে আরও আনন্দমুখর করে তোলে। রাজধানীর কর্মব্যস্ত শহুরে জীবনে গ্রামবাংলার উঠানে পিঠার ধোঁয়া, সরল আয়োজন এবং পারিবারিক উষ্ণতা হয়তো অনুপস্থিত। তবে শীতের আগমনে পিঠাবঞ্চিত থাকেন না নগরবাসীও। অলিগলি থেকে শুরু করে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত ও দোকানে তৈরি হয় হরেক রকমের পিঠা। এসব দোকানে গিয়ে নগরবাসী নেন পিঠার স্বাদ।

শীতের শুরুতেই শহরের রাস্তার ধারে মাটি ও গ্যাসের চুলা নিয়ে বসে যান মৌসুমি পিঠা বিক্রেতারা। এসব দোকানে মেলে চিতই, পাটিসাপটা, পুলি ও ভাপা পিঠা। গরম-গরম ধোঁয়া ওঠা চিতই পিঠার মূল আকর্ষণ নানান হলো পদের ভর্তা। খেজুরের গুড় ও নারকেল দিয়ে তৈরি ভাপাও পাওয়া যায় এসব অস্থায়ী পিঠার দোকানে।

গত কয়েক দিনে মিরপুর, আগারগাঁও, বাংলামোটর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের গলি, ফার্মগেট, কলাবাগান এবং কারওয়ান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাস্তার ধারে, মোড়ে ও ফুটপাতে শীতের পিঠা বিক্রি করতে দেখা গেছে। কর্মব্যস্ত অফিসফেরত মানুষ, শীতের ক্লান্ত বিকেলে বিষণ্নতা কাটাতে ঘুরতে বের হওয়া দম্পতি, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, দিনমজুরসহ সব শ্রেণির মানুষ এসব দোকানের ক্রেতা।

ছুটির দিনে আগারগাঁও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সামনের রাস্তায় ঘুরতে বেরিয়েছেন রাশেদ-মৌমিতা দম্পতি। ভ্রাম্যমাণ এক পিঠার দোকানে তাদের দুজনের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। শীতের পিঠা নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে মৌমিতা বলেন, ‘শীতের পিঠার সঙ্গে অনেক পুরোনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে। শৈশবে মা-দাদুর হাতের পিঠার স্বাদ, গ্রামে শীতকালীন পিঠা উৎসব, সবকিছু মনে পড়ে যখন শীতের পিঠা হাতে নিই। পিঠা ছাড়া শীতের অনুভূতি যেন ঠিকভাবে আসে না। শহরের ব্যস্ত জীবনে ফুটপাতে এমন পিঠার দোকান যেন এক আশীর্বাদ।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বিভিন্ন গলিতে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পিঠার দোকান বসেছে। ওই এলাকা থেকে বাসায় পিঠা নিতে এসেছেন হুমায়ুন ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শীতকালে ভর্তা দিয়ে চিতই পিঠা খাওয়ার স্বাদ একদম ভিন্ন। আর অন্যান্য ভাজাপোড়া খাবারের চেয়ে এই পিঠা অনেক নিরাপদ। তাই আমি ও আমার বাচ্চাদের জন্যও পিঠা নিতে এখানে এসেছি। প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় এখান থেকে পিঠা নিয়ে যাই। গত বছর ৭ টাকা পিস পিঠা কিনতাম, কিন্তু এখন সেই পিঠা কিনতে হচ্ছে ১০ টাকায়।’

পিঠার দোকানি আবুল হাসান বলেন, ‘আটা, লাকড়ি, ভর্তা বানানোর উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় পিঠার দামও বেড়েছে। আগে চিতই বিক্রি করতাম ৭ টাকায়, এখন দাম বাড়ানোর কারণে সাইজ বড় করে এক একটি চিতই ১০ টাকায় বিক্রি করছি। তবে ভাপা এখনো ১০ টাকায় বিক্রি করছি।’

দোকানিরা জানান, চিতই পিঠার মূল আকর্ষণ হলো বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। চিতই পিঠার জন্য তারা প্রায় ১০ থেকে ১৫ পদের ভর্তা প্রস্তুত করেন। তবে মরিচ, সরিষা, কালোজিরা, ধনেপাতা, শুঁটকি এবং ডালের ভর্তার চাহিদা বেশি। ক্রেতারা পিঠার সঙ্গে বিনামূল্যে চাহিদামতো ভর্তা নিতে পারেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিতই এবং ভাপার পাশাপাশি নারকেল, কলা ও তাল দিয়ে তৈরি পিঠাও কিছু দোকানে বিক্রি হচ্ছে। রয়েছে ডিম চিতই, পাটিসাপটা। কিছু দোকানে মাংস দিয়ে বানানো পিঠাও পাওয়া যাচ্ছে। রকমভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। তবে দাম ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকার মধ্যে থাকে।

ফার্মগেট এলাকায় নারী পিঠা বিক্রেতা সুরভীর কাছ থেকে চিতই কিনছিলেন শাহানাজ আক্তার। তিনি পিঠা কেনার পাশাপাশি চিতই পিঠা বানানোর কৌশলও জেনে নিচ্ছিলেন। বিক্রেতা বললেন, ‘পিঠার মধ্যে চালের গুঁড়া আর পানির সঠিক পরিমাণ রাখা সবচেয়ে কঠিন কাজ। এটি সঠিক হলে পিঠাও সুন্দর হবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওন বিশ্বাস ও রিয়াজুল ইসলাম। ফার্মগেট এলাকায় ছাত্রাবাসে থাকেন। তারা জানালেন, বাড়িতে থাকলে প্রতিদিনই শীতের পিঠা খেতাম। তবে এখন তারা শীতের পিঠার স্বাদ থেকে বঞ্চিত নন। ছাত্রাবাস থেকে বেরিয়ে কয়েক কদম হাঁটলেই পিঠার স্বাদ নিতে পারেন।

এই এলাকায় পিঠা বিক্রি করেন আতিকুর রহমান। তিনি দিনে সাত কেজির মতো চালের গুঁড়া, পরিমাণমতো গুড় ও নারকেল জোগাড় রাখেন। বিকেল ৪টার দিকে শুরু হয় তার পিঠা বিক্রি। রাত ১০টার দিকে উপকরণ শেষ হলে দোকানও বন্ধ করে দেন। তারা দোকানে তিনজন কাজ করেন। প্রত্যেকের প্রতিদিন গড়ে এক হাজার টাকার মতো থাকে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চাহিদা বাড়ছে। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে বলেও তার প্রত্যাশা।

স্কুলশিক্ষিকার ফ্ল্যাট ব্যাংকারের দখলে

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:২৫ পিএম
স্কুলশিক্ষিকার ফ্ল্যাট ব্যাংকারের দখলে
প্রতীকী ছবি

রেজিস্ট্রিবিহীন বায়না করেই ক্যাডার দিয়ে অবৈধভাবে মিরপুরের এক অসহায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকার ফ্ল্যাট অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আলমগীর। ঘটনাটি রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর এলাকার। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় অন্তত ১০টি অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি ওই স্কুলশিক্ষিকা।

জানা গেছে, মিরপুর-১২-এর ‘সি’ ব্লকের ১১ নম্বর রোডের ৪৭ নম্বর বাড়ির মালিক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন ও তার চার বোন। ওই চার বোন অন্যত্র বসবাস করেন। তারা তাদের অংশের ফ্ল্যাটসহ বাড়িটির দেখভালের দায়িত্ব রাবেয়া খাতুনকে দিয়েছেন। রাবেয়ার সন্তানরা দেশের বাইরে থাকেন। তিনি ও তার স্বামী অধ্যাপক এস এম শফিউল ইসলাম ওই বাড়িতে বসবাস করেন। বাড়িটি এম্পায়ার এস্টেট বিল্ডার্স নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানির মাধ্যমে নির্মিত। ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর ওই বাড়ির ষষ্ঠতলায় ডেভেলপার কোম্পানির অংশ থেকে ১ হাজার ২৪০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য রেজিস্ট্রিবিহীন বায়না দলিল করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. আলমগীর। এরপর একই বছরের ১৭ নভেম্বর বাড়ির মালিক রাবেয়া খাতুনের কাছে একইভাবে আরেকটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য রেজিস্ট্রিবিহীন বায়না করেন। বায়না চুক্তির শর্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাটের মূল্য পরিশোধ ও কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা করতে ব্যর্থ হন মো. আলমগীর। ফলে ডেভেলপার কোম্পানি ও বাড়ির মালিক রাবেয়া খাতুন শর্তভঙ্গের দায়ে বায়না চুক্তি দুটি বাতিল করেন। কিন্তু সব আইন অমান্য করে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ভাড়া করে ভবনটির দোতলায় ডেভেলপার কোম্পানির মালিকানাধীন একটি ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে অবৈধভাবে জবরদখল করেন মো. আলমগীর। এরপর একই বছরের মার্চ মাসে ষষ্ঠতলায় রাবেয়া খাতুনের ফ্ল্যাটটিও একইভাবে জোরপূবর্ক দখল করেন। 

এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট থানায় একাধিক অভিযোগ করেন। কিন্তু মো. আলমগীর ওই সময়ের স্থানীয় এমপি ও দলের নেতা ইলিয়াস মোল্লা এবং তার অুনগত সন্ত্রাসী গ্রুপ ভাড়া করে উল্টো রাবেয়া খাতুন ও তার স্বামীকেই মারধর করে ওই ভবন থেকে তাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় রাবেয়ার অন্য চার বোনের মধ্যে হালিমা খাতুনসহ কয়েকজন থানা-পুলিশের শরণাপন্ন হলে রাবেয়া খাতুন ও তার স্বামী ওই ভবনে ফের বসবাসের সুযোগ পান। কিন্তু মো. আলমগীর ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অত্যাচারে চরম আতঙ্কে এখন দিন কাটাচ্ছেন তারা। শুধু তা-ই নয়, ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কমলেও মিরপুর-১২ এলাকায় তারা এখনো সক্রিয় আছে। এসব বিষয়ে রাবেয়া খাতুন, তার স্বামী এস এম শফিউল ইসলাম, বোন হালিমা খাতুনসহ পরিবারের কয়েকজন থানায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি অভিযোগ দিয়েছেন। এসব অভিযোগে ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে।

ফ্ল্যাট দুটির কবলা দলিলে রেজিস্ট্রেশন চেয়ে ডেভেলপার কোম্পানি, রাবেয়া খাতুন ও তার চার বোনের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাও করেন মো. আলমগীর। এ মামলায় হেরে যান তিনি। বিচার শেষে মামলাটি খারিজ করে চলতি বছরের ২০ মার্চ রায় দেন ঢাকার সিনিয়র সহকারী জজ আদালত-১-এর বিচারক জাকির হোসেন। রায়ে বলা হয়, এ মামলায় মো. আলমগীরের প্রতিকার পাওয়ার কোনো রকম সম্ভাবনা নেই।

এদিকে ওই বাড়ির জমিটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারাধীন হওয়ায় হস্তান্তরের অনুমতি চেয়েও আবেদন করেন আলমগীর। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ হস্তান্তরের অনুমতি দিলেও আবেদনে জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ায় গত বছরের ১ অক্টোবর হস্তান্তরের অনুমতিপত্র (৩৯৩৯ ও ৩৯৪০ নম্বর) দুটি বাতিল করে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। 

এসব বিষয়ে মো. আলমগীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রতারণার অভিযোগে ডেভেলপার কোম্পানি এবং রাবেয়া খাতুনের বিরুদ্ধেও কয়েকটি মামলা করা হয়েছে। সেসবের বিচার চলছে।’ তবে বায়না চুক্তির শর্তভঙ্গের বিষয়ে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

ডনের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া দেলো-মোজো

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:২২ পিএম
ডনের প্রশ্রয়ে বেপরোয়া দেলো-মোজো
মোজাহার হোসেন মোজো ও দেলোয়ার হোসেন দেলো

খুলনা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন। শহরের দোলখোলা মোড়-বানিয়াখামার-ইসলামপুর-রায়পাড়া এলাকায় তার কথাই শেষ কথা! 

অপরাধজগতের কথিত গডফাদার ডনের সব অপকর্মের দোসর ছিল দোলখোলা এলাকার দুই ভাই দেলোয়ার হোসেন দেলো ও মোজাহার হোসেন মোজো। একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিশোর গ্যাং রয়েছে দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে। এসব সন্ত্রাসীর কাছে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র। বিগত ওয়ান ইলেভেনের সময় সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীরা আত্মগোপনে চলে গেলে দেলো-মোজোর নেতৃত্বে চলত মাদক ব্যবসা। ডনের সব অপকর্মের দোসর হিসেবে ‘ছায়া শাসক’ হয়ে ওঠেন তারা। 

খুলনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একসময় দুই ভাই ভাঙারির ব্যবসা করতেন। কখনো বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভারতীয় শাড়ি বিক্রি করেছেন। তাদের বাবা আবুল হাসেম নৈশপ্রহরী ছিলেন ও বোনেরা পরের বাড়িতে কাজ করতেন। ডনের সঙ্গে সখ্য গড়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন দুই ভাই। এর পরই মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসীদের সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, ভূমি দখল, মাছ ফ্যাক্টরি দখল, বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এর মাধ্যমেই গড়ে তোলেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সঙ্গে ডন শাসনের অবসান হয়। ওই দিন খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে ডনকে নিয়ে পালিয়ে যান দেলো। বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাড়িগুলোতে রয়েছে দিনরাত সতর্ক প্রহরা। ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা ধরা না পড়ায় এখনো মানুষ দেলো-মোজোর অপকর্মের বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পান। গত ১২ নভেম্বর এই অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য পূর্ব বানিয়াখামারে একটি বাড়িতে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। কিন্তু সেখানে তাদের পাওয়া যায়নি।

মেট্রোপলিটন পুলিশে প্রায় দুই বছর কর্মরত ছিলেন, এমন একজন কর্মকর্তা বলেন, খুলনার মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী বাহিনী, জমি দখল, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করত দেলো-মোজো চক্র। আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্বে নিজ দলের নেতা-কর্মীকেও খুনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যুর সঙ্গেও দেলো জড়িত বলে প্রচার আছে। গত ৮ জুলাই ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলামিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দেলোকে আসামি করা হয়েছে। 

এ ছাড়া ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মিছিলে প্রকাশ্যে শটগান দিয়ে গুলি করেছেন দেলো। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের একজন সিনিয়র নেতা জানান, এলাকায় ভয়ে আতঙ্কে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলত না। দোলখোলা মোড়ে দেলো রাত হলেই বাড়িতে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতাদের নিয়ে মদের আসর বসাতেন। এই বাড়িটি সন্ত্রাসীদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অনেক পুলিশ কর্মকর্তাও এখানে মদ্যপানে বিভোর থাকতেন। ৫ আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ লোকজন দেলোর বাড়ি ভাঙচুর করেন। এরপরই বিএনপি নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন সুকৌশলী দেলো।

বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পত্তি: ডনের মাধ্যমেই দেলোয়ারের পরিচয় হয় শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সাবেক এমপি শেখ জুয়েল ও শেখ সোহেলের সঙ্গে। তাদের আশীর্বাদে মাছ বিক্রি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন দেলোয়ার। তার রয়েছে মাছের কোম্পানি, পণ্যবাহী জাহাজ, একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়িসহ অঢেল সম্পত্তি। জানা যায়, খুলনা শহরে দেলোর বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে ১০-১২টি। রায়পাড়া রোডের ইসলামপুর মসজিদের পাশে একটি ৫ তলা, নবারূণ সংসদের কাছে একটি ৬ তলা, রাজ্জাকের গলির মধ্যে একটি ৬ তলা, একটি ৪ তলা, ২টি দোতলা ও ৩টি জমি, রায়পাড়া মেইন রোডের মেট্রো ক্লিনিকের সামনে এক বিঘার ওপরে সিদ্দিক মঞ্জিলের জমি, মুসলমান পাড়া মেইন রোডের খোকা মোল্লা লেনে ৩ কাঠার একটি জমি ও আব্দুল গনি বিদ্যালয় লেনে ৫ কাঠার একটি জমি রয়েছে।

এ ছাড়া ডুমুরিয়া মৌজায় নামে-বেনামে ৪০ থেকে ৫০ বিঘা জমি রয়েছে। যেখানে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানবাড়ি। সেখানে মাঝেমধ্যে আয়োজন করা হয় পিকনিকের নামে মাদক সেবন ও জলসা। দেলোর ভাই মোজোর বাড়ি, হ্যানিমেন ফার্মেসি ভবনে দোকান রয়েছে। তাদের ৭-৮টি গাড়ি রয়েছে, যা দিয়ে মাঝেমধ্যে শহরে মহড়া দিত। 

দেলো-মোজোর ‘অবিশ্বাস্য’ উত্থান: ১৯৭৪ সালে কাজের সন্ধানে গোপালগঞ্জ থেকে খুলনায় চলে আসেন দেলো-মোজোর বাবা আবুল হাসেম। দিনে রিকশা চালাতেন ও রাতে নৈশপ্রহরীর কাজ করতেন। ছেলেমেয়েসহ ৯ জনের সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যে তার দুই বোন পরের বাড়িতে কাজ নেন। একসময় বড়বাজারে কাপড়ের দোকানে সামান্য বেতনে কাজ শুরু করেন দেলো। পরে তিনি ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সেখান থেকে নতুন বাজারে মাছ বিক্রি করতেন। পরবর্তী সময়ে মাছ কোম্পানির গ্রেডারের কাজ পান। গ্রেডার থেকে তিনি সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ এলাকায় রোজেলা ফিশের মালিক বনে যান। জানা যায়, ২০১০ সালে চার বন্ধুর যৌথ মালিকানায় মাছ কোম্পানিটি চালু করেন। পরবর্তী সময়ে শেখ পরিবারের দাপটে তিন বন্ধুকে হটিয়ে নিজেই মালিক বনে যান। অভিযোগ রয়েছে, মাছ ব্যবসার অন্তরালে চলত তার মাদকের ব্যবসা। কক্সবাজার থেকে মাছের আড়ালে আসত ইয়াবা। আর সেই ইয়াবা নগরীতে বিক্রি করতেন তার ভাই মোজাহার হোসেন মোজো। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করতেন প্রভাবশালী নেতারা। অবৈধ আয়ের একটি অংশ পেতেন প্রশাসন থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতারা। 

অনুগত ক্যাডার বাহিনী, মূর্তিমান আতঙ্ক: খুলনার একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতেন দেলোয়ার হোসেন দেলো। অল্প সময়ে শেখ বাড়ির ছত্রচ্ছায়ায় তারা হয়ে ওঠেন খুলনায় মূর্তিমান আতঙ্ক। তাদের কাছে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর পর তাকে খুলনা বসুপাড়ায় মাদ্রাসায় দাফন না দিতে প্রকাশ্যে শটগান ও সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মাদ্রাসার মূল ফটকে অবস্থান নেন দেলো।

এ ছাড়া ২০২২ সালে মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান সাগরের মৃত্যুর সঙ্গেও দেলো জড়িত আছে জানাজানি হলেও ভয়ে সাগরের পরিবার এ ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তবে সাগরকে ওই রাতে ডনের অফিসে ডেকে এনে দেলোর নেতৃত্বে মারধর করার পর একটি রিকশায় তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অনেকে। অপরদিকে আরেক যুবলীগ নেতা আমিন শেখ হত্যা মামলার বাদী শেখ মো. জাহাঙ্গীর জানান, ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে সাবেক কাউন্সিলর ডনের নির্দেশে দেলোসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে আল আমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। তিনি বলেন, আল আমিনের ভাই তৌহিদ থানায় মামলা করতে গেলে ডন তার মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যায় জড়িত নয়, এমন লোকদের নামে মামলা দিতে নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময় তারা ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ডন ও তার দোসর দেলোসহ ৯ জনের নাম আসামি হিসেবে এজাহারে যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে দোলোয়ার হোসেন দেলো ও তার ভাই মোজাহার হোসেন মোজোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সপ্তম দফায় পেছাল বিআরটি প্রকল্প এখন গলার কাঁটা

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:১০ পিএম
আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০২:৩১ পিএম
বিআরটি প্রকল্প এখন গলার কাঁটা
ছবি : সংগৃহীত

প্রকল্পের অনেক কাজ অসমাপ্ত রেখে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গাজীপুর পর্যন্ত অংশে ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটারের বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প আংশিক চালু করে দিয়েছে ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেড। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এই করিডরে বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসি বাস যাত্রীসেবা দিতে শুরু করবে। ইতোমধ্যে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল শুরু করেছে এই করিডরে। 

রাজধানীবাসীর জন্য একটি সুলভ ও নিরাপদ গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১১ সালে রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান-২০১৬ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। ওই বছরই এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রকল্পের প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে। পরে ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর একনেকের সভায় বিআরটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে। তবে নির্মাণ-জটিলতায় টঙ্গী থেকে গাজীপুর অংশে এই প্রকল্প সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের গলার কাঁটা হয়ে গেছে।

বিআরটি প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ও গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি (জিইএফ)। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে গতি ছিল না। চলতি ডিসেম্বরে উদ্বোধনের কথা থাকলেও সপ্তম দফায় পিছিয়ে গেছে এই প্রকল্প। প্রকল্পের সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। দফায় দফায় পেছানোয় গত সাত বছরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮ কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। 

গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক-১ আব্দুর রহমান নাহিয়ান গত মে মাসে খবরের কাগজকে জানিয়েছিলেন, এই বছরের ডিসেম্বরে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে বিআরটি করিডর। কিন্তু প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রকল্প এখনই চালু হচ্ছে না পুরোদমে। এই করিডরে দুটি ফ্লাইওভার ও সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এ বছর শেষ হচ্ছে না। 

ঢাকা বিআরটি কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আরও কিছুদিন সময় লাগবে।’ 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে ও পরে বিআরটি প্রকল্পের কিছু জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার ঠিকাদারের সঙ্গেও কিছু ঝামেলা আছে। আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে এই খাতে। এগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। আসলে সড়ক খাতে এত বড় বিনিয়োগে এখন মানুষ কিছুই পাচ্ছে না।’

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এখন যাত্রীসেবার কথা বিবেচনা করে এই করিডরে বিআরটিসি বাস চলাচল করবে। ব্যক্তিগত গাড়িও চলাচল করতে পারবে।’

তবে বিআরটি প্রকল্প নিয়ে টঙ্গী, বোর্ডবাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগের শেষ নেই। তারা বলছেন, ফুটপাত বন্ধ করে বিআরটি স্টেশনের স্থাপনা নির্মাণ, বিশেষ লেনের দুই পাশে বিভাজক না রাখায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিস্তর অভিযোগের মুখে এ বছর ঈদুল ফিতরের আগে প্রকল্পের ৯টি ফ্লাইওভারের ৭টি খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে যানজট কিছুটা নিরসন হলেও ব্রিজের নিচের অংশ বেহাল থেকেই গেছে। 

টঙ্গী বাজার, ফায়ার সার্ভিস গেট, টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগ আলী, বোর্ডবাজার, বাইপাস ও চৌরাস্তা এলাকার বিআরটি ব্রিজের নিচে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানজট লেগেই থাকছে। মহাসড়কের তিন লেনের রাস্তা কমে দুই লেনে দাঁড়িয়েছে। বিআরটি প্রকল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত সাত কিলোমিটার সড়কের কোথাও এক ইঞ্চিও ফুটপাত রাখা হয়নি। দীর্ঘ পথে কোথাও নেই ইউটার্ন। সমস্যা সমাধানে সড়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে গত আট মাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানান প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। 

বিশেষায়িত বাসসেবা নিয়ে নানা জটিলতা
প্রকল্প কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফ্রান্সের ঋণ সহায়তায় বিআরটি প্রকল্পের জন্য ১৩৭টি বাস কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে বাস কেনার এই প্রক্রিয়া গত দুই বছরেও শেষ হয়নি। একবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও সেটি বাতিল হয়।

জানা যায়, সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক সড়ক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী ১৩৭টি বাস কেনার জন্য পছন্দের প্রতিষ্ঠান দিয়ে দরপত্র আহ্বান করেছিলেন। সেই দরপত্রের কারসাজি অভ্যন্তরীণ অডিটে ধরা পড়লে তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান বাদ পড়ে। এরপর ‘কার্যকর প্রতিযোগিতা’ না হওয়ার কারণ দেখিয়ে দরপত্র বাতিল করা হয়। পরে নতুন করে দরপত্র ডাকা হয়, যেখানে প্রথমবার ছয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও দ্বিতীয় দফায় মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। 

সেখানেই জটিলতার শেষ হয়নি। ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল মূল্যায়ন কমিটি চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করে। চীনের হাইগার বাস কোম্পানি লিমিটেডকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। তবে একই ব্যবসায়ী গ্রুপের আরও একটি প্রতিষ্ঠানও একই দরপত্রে অংশ নেয়। এটি বেআইনি হওয়ায় ওই দুই প্রতিষ্ঠানকেই অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরপর নতুন করে চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল আবার দরপত্র আহ্বান করা হয়।

‌মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বাস এখনো কেনা হয়নি। কারণ দরপত্রের এখনো নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) কার্যাদেশ পাঠানো হয়নি। কার্যাদেশ পাঠানো হলে এরপর বাস আসবে। কার্যাদেশ পাঠানোর পাঁচ থেকে ছয় মাস পর বাস আসতে পারে। এবারের দরপত্রে অংশ নিয়েছে দুটি ভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে দুটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মূল্যায়ন চলমান রয়েছে। মূল্যায়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র কার্যাদেশ দেওয়া হবে।’

বাস কেনা নিয়ে জটিলতা থাকায় আপাতত বিআরটিসি বাস দিয়ে বিআরটি রুট চালু করা হয়েছে। যতদিন বিশেষায়িত বাস আসবে না, ততদিন বিআরটিসির বাস চলবে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে বিআরটিসির ১০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত চলবে। বিআরটি রুট ব্যবহার করে এই বাসটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে চলাচল করবে। শিববাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রুটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ টাকা। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, ‘শুরুতে আর্টিকুলেটেড বাস চলার কথা ছিল বিআরটি করিডরে। এই বাসগুলো ১৪০ জন করে যাত্রী ধারণ করতে পারে। এখন বিশেষায়িত বাসসেবা চালুর বদলে বিআরটিসির বাস নামানো হয়েছে। এতে করে আসলে বোঝা যাবে না বিআরটি করিডর কতসংখ্যক যাত্রীকে পরিবহনসেবা দিতে পারে।’ 

সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘বিশেষায়িত বাস চলাচলের জন্য একটি সফটওয়্যার লাগবে। সেটি চালু করতে সময় লাগবে কিছুটা।’

'), descriptionParas[2].nextSibling); } if (descriptionParas.length > 6 && bannerData[arrayKeyTwo] != null) { if (bannerData[arrayKeyTwo].type == 'image') { descriptionParas[0].parentNode.insertBefore(insertImageAd(bannerData[arrayKeyTwo].url, ('./uploads/ad/' + bannerData[arrayKeyTwo].file)), descriptionParas[5].nextSibling); } else { descriptionParas[0].parentNode.insertBefore(insertDfpCodeAd(bannerData[arrayKeyTwo].custom_code), descriptionParas[5].nextSibling); } } if (descriptionParas.length > 9 && bannerData[arrayKeyThree] != null) { if (bannerData[arrayKeyThree].type == 'image') { descriptionParas[0].parentNode.insertBefore(insertImageAd(bannerData[arrayKeyThree].url, ('./uploads/ad/' + bannerData[arrayKeyThree].file)), descriptionParas[8].nextSibling); } else { descriptionParas[0].parentNode.insertBefore(insertDfpCodeAd(bannerData[arrayKeyThree].custom_code), descriptionParas[8].nextSibling); } } });