ঈদের সময় ঘনিয়ে আসতেই চট্টগ্রামে বাড়তে শুরু করেছে মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার, সোনালি আর দেশি মুরগির কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে মাছ, সবজি বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই।
শুক্রবার (২১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর ঈদগা কাঁচাবাজার, কাজীর দেউড়ি ও রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের মুরগি বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তা ছাড়া সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের হালিশহর ঈদগা কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. জয়নাল বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় ইফতার অনুষ্ঠান হচ্ছে। রমজানে বাসাবাড়িতেও মুরগির চাহিদা বাড়ে। সবমিলিয়ে চাহিদা বাড়ায় দামটা বেড়ে গেছে। আমাদেরও বাড়তি দরে কিনে আনতে হচ্ছে। আশা করছি, সরবরাহ বাড়লে কয়েক দিনের মধ্যে মুরগির দাম কমে আসবে।’
এদিকে এসব বাজারে গরু, খাসি ও মুরগি বিক্রি হচ্ছে আগের দরে। বর্তমানে প্রতি কেজি হাড়সহ গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, হাড়ছাড়া গরুর মাংস ৯০০ টাকা, গরুর কলিজা ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবজি ও মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের দরেই। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি টমেটো ২০ টাকা, শালগম ৩০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, সাদা গোলবেগুন ৪৫ টাকা, কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, চিচিঙা ৫০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুমুখী ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি শিম, মুলা, পেঁপে, শসা ও মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, মাছের বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৮০ টাকা, কাতল ৩০০, তেলাপিয়া ১৭০, পাঙাশ আকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, রূপচাঁদা আকারভেদে ৪৫০ থেকে ৯০০ ও কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে চালের বাজারে অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি নাজিরশাইল সিদ্ধ চাল ৮৮ টাকা, জিরাশাইল সিদ্ধ ৮৪, কাটারিভোগ আতপ ৮৬, পাইজাম আতপ ৭০ ও কাটারিভোগ সিদ্ধ ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ২৩০, চায়না আদা ২০০ ও কেরালা আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মুদি দোকানে প্রতি কেজি মসুর ডাল (মোটা) ১১০ টাকা, মসুর ডাল (ছোট) ১৩৫, বুটের ডাল ১২০, ছোলা ১২০, খোলা চিনি ১২০, প্যাকেটজাত চিনি ১২৫, প্যাকেট ময়দা (দুই কেজি) ১৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা (দুই কেজি) ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরের কাজীর দেউড়ি ব্যাটারি গলি এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে মুরগি, চাল বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিবছরই দেখি ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে মুরগির দাম বাড়িয়ে দেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে গিয়ে এক কেজি ভালো মানের চাল কিনতে ৮০ থেকে ৯০ টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে। অথচ এসব ব্যাপারে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু আমরা সাধারণ ভোক্তারা ঠিকই বাড়তি অর্থ গুনছি।’
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন খবরের কাগজকে বলেন, ‘মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা তো সব সময় সুযোগের সন্ধানে থাকে। পরে সুযোগ বুঝে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে। জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে হবে। যারা সিন্ডিকেট করছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। বেচাকেনার রসিদ ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। মূল্যতালিকা টাঙাতে ব্যবসায়ীদের অনীহা দেখা যায়। এ ব্যাপারেও কঠোর হতে হবে।’