গায়ে লেখা আছে ওজন ৩০০ এমএল। কিন্তু ওজন করলে দেখা যায় ২৫৬ গ্রাম। এমআরপি ২৮০ টাকা লেখা। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। কোনোটার গায়ে লেখা ওজন ২৪২ গ্রাম। দাম লেখা ৩২০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। এভাবেই ভোক্তারা এয়ার ফ্রেশনার কিনে ঠকছেন। কিন্তু এসব দেখার কেউ নেই। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ‘কোম্পানির লোকেরা পণ্য দিয়ে যান। ওজনে কম থাকে। এটা আমরা বললেও তারা শোনেন না। কেনা দাম থেকে সামান্য লাভ করে বিক্রি করি।’ বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ কথা জানা গেছে।
কারওয়ান বাজারের হাজি মিজান জেনারেল স্টোরের বিক্রয়কর্মী মিজানুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘ ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিসাররা শুধু বেশি দাম নেওয়া দেখেন। কিন্তু অনেক কোম্পানি কম জিনিস দিয়ে বেশি দাম নেয়। সেটা তারা দেখেন না। আমাদের কাছে তা ধরা পড়ে। বিএলএন ট্রেডিং কোম্পানি থেকে গ্রিন ভ্যালি এয়ার ফ্রেশনার দিয়ে গেছে। গায়ে লেখা ৩০০ এমএল। আমার কাছে কম মনে হয়েছে। বাধ্য হয়ে সরবরাহকারীদের বলি। কিন্তু তারা আমলে নেন না।
৫ মার্চের ৩৪২৭০ নম্বর ক্যাশ মেমো দেখিয়ে এই বিক্রেতা বলেন, ‘তারা ১৩০ টাকা পিস আমাদের কাছে বিক্রি করে। আমরা তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করি। এ রকম আরও কিছু কোম্পানির এয়ার ফ্রেশনার গায়ে যা ওজন লেখা থাকে বাস্তবে তার চেয়ে কম ওজন দেখা যায়।’
এই এয়ার ফ্রেশনারের এমআরপি লেখা ২৮০ টাকা। ভোক্তাদের কাছে যে যেভাবে পারেন দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তাহের আলী নামে এক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, ‘এটা আসল না নকল তা বলা মুশকিল। কারণ মূল্য লেখা ২৮০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। তাহলে কীভাবে বুঝব এটা আসল এয়ার ফ্রেশনার।’
খুচরা বিক্রেতার কাছে সংরক্ষণ করা মেমোর ঠিকানা অনুযায়ী যোগাযোগ করা হলে বিএলএন ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘বোতলসহ এয়ার ফ্রেশনারের ওজন ৩০০ এমএল বা ২৬৬ গ্রাম। বোতলের ওজন ৭১ গ্রাম। বাজারে যত এয়ার ফ্রেশনার রয়েছে সবাই বোতলসহ ৩০০ এমএল বলে বিক্রি করে। আমরাও তা-ই করি।’
এতে ভোক্তারা তো প্রতারিত হচ্ছেন- এমন কথার জবাবে তিনি বলেন, ‘পাল্লায় ওজন করলে কমে যায়। কারণ এটা গ্যাস। আবার অনেকে কেনার আগে স্প্রে করেন। এ কারণেও ওজন কমে যায়। তাই ৩০০ এমএল লেখা থাকলেও কিছু কম থাকে।’ অন্য বিক্রেতারাও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘যত ভেজাল হয় কোম্পানি থেকে। কাজেই আমাদের না ধরে কোম্পানিকে ধরলে ভোক্তারা ঠকবেন না।’
এদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা ফে এয়ার ফ্রেশনারেও দেখা গেছে ওজনে কম। এই পণ্যটি আমদানি ও বাজারজাত করছে কল্লোল গ্রুপ। তারা খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি করছে। এর গায়ে লেখা ওজন ২৪২ গ্রাম এবং এমআরপি ৩২০।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের বুলবুল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. বুলবুল আহমেদ বলেন, বিদেশি কোম্পানির ফে এয়ার ফ্রেশনারের গায়ে লেখা ওজন ২৪২ গ্রাম। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে কোনোটার ওজন ২১৭ গ্রাম, কোনটার আবার ২৩৬ গ্রাম।
ওজন কমের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘কোম্পানির লোক আমাদের দিয়ে যান। আমরা ওজন করে দেখি না। অনেকেই টেস্ট করেন। এ জন্য হয়তো ওজন কমে যায়। আমাদের বলে লাভ নেই। কিছু বলতে হলে তাদের বলেন।’ তার কথার সূত্র ধরে কল্লোল গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মহিদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও শপিং মলেও এয়ার ফ্রেশনারে ওজন ও দামের তারতম্য দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলীম আখতার খান খবরের কাগজকে বলেন, ‘যে জালিয়াতি করবে সেই দোষী। যেখানেই অনিয়ম পাব সেখানেই ধরা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয় না। ভোক্তাদের স্বার্থেই আমরা কাজ করি। কাজেই কেউ ভেজাল ব্যবসা করলে সে রেহাই পাবে না। তথ্য-প্রমাণ পেলে অবশ্যই তাদের ধরা হবে। সারা দেশে প্রায় দিন আমাদের নকল ও ভেজালের বিরুদ্ধে এবং দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে অভিযান চলছে।’