আগামী ১৭ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি প্রস্তুতির কার্যক্রম উদ্বোধন করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উপলক্ষে রবিবার (১৩ এপ্রিল) অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন ইসির এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল।
অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি। এনআইডি কার্যক্রমের এই সফরে এনআইডি মহাপরিচালক সিডনি ও মেলবোর্ন হয়ে ক্যানবেরায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে গণসংযোগ ও মতবিনিময় করবেন। দেশটিতে এই কার্যক্রম উদ্বোধনের আগে প্রাথমিক কার্যক্রমের নানা দিক পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি ইসির একটি কারিগরি দল সেখানে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়ার পর আগামী মে মাসেই সিঙ্গাপুরে এনআইডি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও কানাডাসহ আরও ৪০টি দেশের তথ্য চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় সংস্থাটি।
এ বিষয়ে ইসির এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর খবরের কাগজকে বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের জন্য ক্যানবেরায় আয়োজন করা হচ্ছে আমাদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে গণসংযোগে এই কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করব। দেশটির দূতাবাসের কর্মকর্তারা সেখানে থাকবেন। এই কার্যক্রমে তারা সার্বিক সহযোগিতা করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সেখানকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে ২১ এপ্রিল তিন দিনের জন্য আমি একাই সিঙ্গাপুর যাব। সেখানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা, প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাদের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করব। আগামী মাসেই সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে চাই।’
এদিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভোটার করার পাশাপাশি আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমিত পরিসরে হলেও তাদের ভোটদান নিশ্চিত করতে চাইছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়েও চলছে নানামুখী পর্যবেক্ষণ। এ বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে কোনো একক পদ্ধতি নয় বরং সমন্বিত বা একেক দেশের জন্য একেক পদ্ধতির ভোটব্যবস্থা প্রবর্তন করার চিন্তা করছে কমিশন। একই সঙ্গে সব পদ্ধতিতে ভোটের ক্ষেত্রেই মক বা পরীক্ষামূলক ভোটের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটদান পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে এ বিষয়ে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ‘পরামর্শক কমিটি’ গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসির প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অনু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৭টি দেশে (সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া) বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার করার কার্যক্রম চলছে। তার মধ্যে সৌদি আরব ছাড়া বাকি ৬টি দেশের (সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালি, কুয়েত, কাতার, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়া) প্রবাসী নাগরিকের হাতে স্মার্টকার্ড বিতরণকাজ চলমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ওমান, বাহরাইন, জর্ডান, সিঙ্গাপুর, লেবানন, লিবিয়া ও মালদ্বীপে এনআইডি কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। প্রবাসীদের সংবিধান স্বীকৃত ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর। তৎকালীন সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীদের মাঝে প্রথম এনআইডি সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। তার আগে একই বছরের ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার অংশ হিসেবে অনলাইনে আবেদন নেওয়ার কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এরপর ২০২০ সালের করোনা মহামারির কারণে থমকে যায় প্রবাসীদের ভোটার করার এ কার্যক্রম। দুই বছর পর বিগত কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের উদ্যোগে পুনরায় এই কার্যক্রম ফের উজ্জীবিত হয়। আগের আবেদনগুলো পাশ কাটিয়ে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করে ওই কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন সেই উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করতে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।