ঢাকা ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সাইবার সুরক্ষায় ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ফিনিক্স সামিট ২০২৬’ সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘হিট’ প্রকল্পের আওতায় ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হাবিপ্রবিতে সহকারী প্রক্টরের ওপর হামলায় নীরব প্রতিবাদ কর্মসূচি জীবের আবাসস্থল অধ্যায় থেকে ১টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান নারীকণ্ঠে কথা বলে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩ প্রতারক শাহরাস্তিতে মাকে ভরণপোষণ না দেওয়া ও মারধরের অভিযোগে কারাগারে ইমাম যশোরে নাতনিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় কুপিয়ে হত্যা একনেকে ৩৮৯১ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ডামুড্যায় শিক্ষকের ওপর হামলা: ‘ভিডিও করতে গিয়ে’ আসামি গণমাধ্যমকর্মী লোহাগাড়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ৪ মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে মেয়ের হাতে মা খুন যেখানে ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই নিয়োগ দিচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক গোপালগঞ্জে ইয়াবা ও মদসহ ২ মাদককারবারি আটক গোপালগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ ঘুমধুম সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণ, যুবক নিহত কুমিল্লায় মহাসড়কে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন বার্তা রায়পুরে হাসপাতাল ও ওষুধের দোকানের বর্জ্যে দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী বেটিং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এইচআইভি চিকিৎসায় বড় সাফল্য ছয় বিষয়ের অনার্স কোর্স কি আসলেই বাতিল হচ্ছে? যা জানালেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গফরগাঁওয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা সরকার আ.লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধই রাখতে চায়: তথ্য উপদেষ্টা দুইজনের মৃত্যুর পর ডেঙ্গুর টিকা স্থগিত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের লাল বাহাদুর দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিল শিবিরে ওজন কমানোর অনুমোদনহীন ওষুধের নতুন ক্রেজ
Nagad desktop

চট্টগ্রামে ৪৫ হাজার কমব্যাট পোশাক জব্দ গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস, তৎপর গোয়েন্দারা

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৫, ০৭:৩০ এএম
গভীর ষড়যন্ত্রের আভাস, তৎপর গোয়েন্দারা
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামে সপ্তাহের ব্যবধানে তিন দফায় ৪৫ হাজার পিস কমব্যাট পোশাক (ইউনিফর্ম) উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি অশনিসংকেত। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে সঠিকভাবে তদন্ত করে মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা জরুরি। যদিও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে জোরালোভাবে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কমব্যাট পোশাক উদ্ধারের একটি মামলার এজাহারে ইউনিফর্মগুলো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের সশস্ত্র শাখার (কেএনএফ) বলে উল্লেখ করা হলেও বিশেষজ্ঞরা অনেকেই তাতে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা বলেছেন, কেএনএফ সদস্যদের ইউনিফর্মের সঙ্গে জব্দ করা ইউনিফর্মের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ছবিতেও পার্থক্যের বিষয়টি ধরা পড়ছে।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকা থেকে ১৩ হাজার পিস সন্দেহজনক ইউনিফর্ম জব্দ করে পুলিশ। তার আগে সোমবার রাতে নগরের বায়েজিদ থানার নয়াহাট এলাকার একটি গুদাম থেকে ১১ হাজার ৭৮৫টি ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। এর আগে গত ১৭ মে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার রিংভো অ্যাপারেলস নামে পোশাক কারখানা থেকে ২০ হাজার ৩০০ পিস ইউনিফর্ম জব্দ করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলছে না। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক পোশাক আসলে কার জন্য তৈরি হচ্ছিল, সে প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে। দানা বাঁধছে রহস্য।

রঙে ও ডিজাইনে ভিন্নতা

কেএনএফের ওয়েবসাইটে দেওয়া ছবি মেলালে দেখা যায়, জব্দ হওয়া নতুন পোশাকের ডিজাইন ও রং কেএনএফের ইউনিফর্মের সঙ্গে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। পুরোনো পোশাকগুলো ছিল প্রচলিত জঙ্গল ক্যামোফ্লাজ স্টাইলে- বাদামি, খাকি, খয়েরি ও সবুজ ছোপে তৈরি সাধারণ মিলিশিয়া ধাঁচের। অন্যদিকে নতুন ইউনিফর্মগুলোতে রয়েছে উন্নত ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ প্যাটার্ন, যেখানে সূক্ষ্ম পিক্সেল আকারে গাঢ় সবুজ, কালচে বাদামি ও কালো রঙের সংমিশ্রণ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ডিজিটাল প্যাটার্ন সাধারণত পেশাদার বাহিনীতে ব্যবহৃত হয়। তবে এসব পোশাক দুই কোটি টাকার বিনিময়ে যিনি তৈরির অর্ডার দিয়েছেন, তিনি কাপ্তাইয়ের বাসিন্দা। তার নাম বলা হচ্ছে মং হ্লাসিন মারমা। এটি খতিয়ে দেখতে হবে। নাকি এর নেপথ্যে অন্য কিছু প্রস্তুত হচ্ছে, সেটা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

গুরুত্বসহকারে দেখছে সেনাবাহিনী

সোমবার ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উল-দৌলা বলেন, ‘চট্টগ্রামে কমব্যাট পোশাক উদ্ধারের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে কেএনএফের অস্ত্রের ব্যবহার দেখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন সেনাসদস্য তাদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন। অনেকে আহতও হয়েছেন। কেএনএফ বমভিত্তিক একটি সংগঠন। এই ঘটনায় তাদের সংগঠনের সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে। তবে মোট বম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা ১২ হাজার। যার মধ্যে নারী-শিশু সবাই আছে। তাহলে এত পোশাক কাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল? সেটা অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। কারণ বিষয়টি আমাদের নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ ব্যাপারে যতটুকু ব্যবস্থা গ্রহণ করার আমরা করব।’

এ বিষয়ে রিংভো অ্যাপারেলসের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ব্রোকারের মাধ্যমে তাদের প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। তখন তারা পোশাকের রং দেখে জানতে চেয়েছিলেন এসব পোশাক কার জন্য? বায়াররা তাদের জানান, সিকিউরিটি গার্ডের জন্য পোশাকগুলো তৈরি করা হচ্ছে। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেননি। যদি বুঝতে পারতেন এসব কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্য তৈরি করা হচ্ছে, তাহলে তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিতেন। বর্তমানে মালিক জেলে থাকায় শ্রমিকদের বেতন বন্ধ আছে বলে জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞের অভিমত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সামরিক বাহিনীর সদৃশ পোশাক কেউ বানাতে পারে না। এ ধরনের পোশাক দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রিয়াজউদ্দিন বাজারে খোঁজ নিলে দেখবেন, সেখানে সেনাবাহিনীর পোশাকের সঙ্গে মিলে যায় এমন পোশাক পাওয়া যাবে। আরও বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যাবে। ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে নিশ্চিন্ত মনে এ ধরনের ইউনিফর্ম তৈরির সাহস পাচ্ছে। পোশাকগুলো সত্যিকার অর্থে কার, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। উদ্ধার হওয়া পোশাকের সঙ্গে কেএনএফের পোশাকের সামান্য পার্থক্য থাকলেও মানুষ কখনোই পরখ করে দেখতে যাবে না, সেটি কেএনএফের পোশাক কি না।’

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘মামলার এজাহারে জব্দ করা ইউনিফর্ম কেএনফের বলা হলেও তাদের সঙ্গে উদ্ধার করা ইউনিফর্মের ডিজাইন ও রঙের পার্থক্য আছে। আরও একটি বড় প্রশ্ন চলে আসে, সেটি হলো বম জনগোষ্ঠীর সর্বসাকুল্যে জনসংখ্যা ১২ হাজারের কম। এদের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধ মানুষ আছেন। তা ছাড়া বম জনগোষ্ঠীর সব যুবক কেএনএফে যোগদান করেছেন, তাও নয়। কিন্তু তাদের জন্য ৩০ হাজার পোশাক কেন বানানো হচ্ছে, তা আমাদের ভাবাচ্ছে।’

একজনের জন্য কয়টি ইউনিফর্ম লাগে? এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এখানে দুটি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হবে। একটি হলো এই অঞ্চলে যারা ভূরাজনীতি নিয়ে কাজ করছেন তাদের কর্মকাণ্ড চলমান আছে। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো তাদের অর্থের জোগানদাতাও সেখানে আছেন। পার্বত্য অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে যারা কাজ করছেন, তারা সক্রিয়। এ কারণে এটি রাষ্ট্রের জন্য হুমকি এবং ঝুঁকি তৈরি করছে। এখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়াতে হবে। সরকারকে কঠোর নীতিকৌশল গ্রহণ করে এসব কর্মকাণ্ড নিবারণের উদ্যোগ নিতে হবে। কারা এভাবে নিশ্চিন্ত মনে চট্টগ্রাম শহরে কাজটি করছেন, তাদের সঙ্গে কাদের লিংক আছে, তাদের বের করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আরাকানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, সে ধরনের পরিস্থিতি এখানে সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’ কেএনএফের নাম দিয়ে অন্য কোনো পক্ষ কাজ করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা হয়তো অন্য কোনো পক্ষের ফাঁদে পা দিয়েছে। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাকে বের করতে হবে।

নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
নোংরা পানিতে সয়লাব খুলনার প্রবেশদ্বার
খুলনা

সীমানা জটিলতা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় খুলনার প্রবেশদ্বার গল্লামারী বাজারসংলগ্ন সড়কে বর্জ্য ও নোংরা পানিতে নিয়মিত ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। গল্লামারী কাঁচাবাজার ও মাছ বাজারের দুটি ড্রেন থেকে নোংরা পানি সরাসরি সড়কের ওপর চলে আসে। সেই পানি যানবাহনের চাকা ও মানুষের পায়ের চাপে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ছাড়া গল্লামারী মোড়ে বাজারের ময়লা স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা আশপাশের নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে না ফেলে প্রতিদিন এখানে ফেলা হয়। ফলে তীব্র দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও খুলনা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।

জানা যায়, গল্লামারী বাজারের ময়লা-আবর্জনা মূলত ময়ূর নদীর পশ্চিম পাড়ে ফেলা হয়। এই এলাকাটি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সিটি করপোরেশন সেখানে বর্জ্য অপসারণ করে না। অন্যদিকে বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় আবর্জনা ও ময়লা জমে পানি আটকে থাকছে। বাজারসংলগ্ন ব্রিজের নির্মাণকাজের ধীরগতির কারণে সড়কের ওপর নোংরা ও পচা পানি জমে থাকছে। দুর্গন্ধে পথচারীরা নাক চেপে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। দীর্ঘস্থায়ী এই নোংরা পরিবেশের কারণে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 গতকাল সোমবার (৮ জুন) খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাজারসংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এখানে সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ, বাজার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা করেন। সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নির্মণাধীন গল্লামারী ব্রিজসংলগ্ন ড্রেনের জন্য ৩ কোটি টাকা বাজেট রয়েছে। সীমানা জটিলতা দূর হলে এই টাকা দিয়ে বাজারের নোংরা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন করা সম্ভব।

জানা যায়, গল্লামারী বাজার হয়ে খুলনা-সাতক্ষীরা ও বটিয়াঘাটা-দাকোপ রুটের যানবাহন যাতায়াত করায় প্রতিদিন হাজারও মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। বাজারের নোংরা পানির কারণে ক্রেতারা আসতে চান না, ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ইজিবাইকচালক ও পথচারীদের অভিযোগ, খুলনা সিটি করপোরেশনসহ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা তাহেরা সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল-বিকেল আমাদের গল্লামারীতে বিভিন্ন কাজে যাওয়া লাগে। প্রতিদিন এই দুর্গন্ধ সহ্য করা অত্যন্ত কষ্টকর। রাস্তা পার হতে গেলে এই দুর্গন্ধযুক্ত পানির ওপর দিয়ে যেতে হয়'।

স্থানীয়রা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সব সময় যানজট লেগে থাকে। গল্লামারী ব্রিজ পার হতে অন্তত ৩০ মিনিট সময় লাগে। ওই সময় দুর্গন্ধের মধ্যে বসে থাকা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এই ময়লা-দুর্গন্ধের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অনেকবার লেখালেখি করেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি'।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন বেলার বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, ‘গল্লামারীর বাজারসংলগ্ন এলাকার বর্জ্য দূষণ ও অপসারণের লক্ষ্যে ইতোপূর্বে আমাদের তরফ থেকে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জায়গাটি সিটি করপোরেশনের বাইরে, বিধায় ময়লা অপসারণের জটিলতা থেকেই গেছে'।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গন্ধ, ময়লা পানি পিচ্ছিল রাস্তার কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষের চলাচলে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় বায়ু, পানি ও মাটিতে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে; যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘সব পক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আপাতত বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়ক বিভাগ একটি কাঁচা ড্রেন করে দেবে। যেন নোংরা পানি রাস্তায় আসতে না পারে। পরবর্তী সময়ে সেখানে পাকা ড্রেন করা হবে'।
 
সড়ক ও জনপথ বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, ‘ব্রিজসংলগ্ন ড্রেন করার জন্য ৩ কোটি টাকার বাজেট রয়েছে। সে অনুযায়ী ডিজাইন করা হবে। কিন্তু ড্রেন করতে গেলে বাজারের কিছু জমি ছাড়তে হবে। কিন্তু তারা রাজি হচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে সড়ক বিভাগ নিজেদের জমি কিছুটা হলেও ছেড়ে দেবে। সেই সঙ্গে বাজার সমিতিকে মাটি কেটে রাখার জন্য হলেও কিছুটা জমি ছাড়তে হবে। সীমানা জটিলতা দূর হলে দু-এক দিনের মধ্যেই সেখানে ড্রেন খননের কাজ শুরু করা যাবে'।

এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:১০ এএম
এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় সরকার, সোচ্চার শ্রমিক-কর্মচারীরা
ছবি:খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম বন্দরের ‍নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার কাজ দিতে দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডইর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। তাই এনসিটি পরিচালনায় ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল অপারেটর (আইটিও) নিয়োগের লক্ষ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চলমান আলোচনা এগিয়ে নিতে মন্ত্রণালয়ের এক দাপ্তরিক চিঠিতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি সামনে আসতেই আবারও সোচ্চার হয়েছেন বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা। তাদের অবস্থান আগের মতোই অপরিবর্তিত।

গত ৪ জুন এই বিষয়ে দুটি দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করে মন্ত্রণালয়। প্রথম চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-১ অধিশাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত লেখা চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে চলমান নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অথবা নেগোসিয়েশন এগিয়ে নিতে ইচ্ছুক না হলে সে ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া বাতিল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

সেদিন প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করতে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা শেষে মন্ত্রণালয়ের একই কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠি ইস্যু হয়। ওই চিঠিতে বন্দর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলা হয়, পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যালোচনার লক্ষ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ৪ জুনের সভায় আলোচনা মোতাবেক ওই প্রকল্পের পরিচালনা প্রতিষ্ঠান নিয়োগের লক্ষ্যে নেগোসিয়েশন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এনসিটি নিয়ে একই দিন মন্ত্রণালয়ের দুই ধরনের চিঠি ইস্যু হওয়ার বিষয়টিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না বন্দরের শ্রমিকনেতা ও কর্মচারীরা। মন্ত্রণালয়ের এমন কাজে তাদের মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করেছে বলে জানান তারা। তাদের দাবি, তারা বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে নন। বে-টার্মিনালের তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার উদ্যোগে কোনো শ্রমিকনেতা ও কর্মচারী আপত্তি জানাননি। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়েকে দেওয়ার সময়ও কেউ বাধা দেননি। কিন্তু এনসিটি যন্ত্রপাতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম গতিশীল ও লাভজনক। এই টার্মিনালের সেবার মান নিয়ে বন্দরের কোনো স্টেকহোল্ডার কখনো কোনো অভিযোগ দেননি। তাহলে একটি পূর্ণাঙ্গ, সুসজ্জিত ও লাভজনক টার্মিনাল কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দিতে হবে?

বন্দর কর্তৃপক্ষও বলছে, এনসিটি গতিশীল

গত বছরের ৭ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড (সিডিডিএল) চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। গত ২ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিডিডিএলের সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করায় কনটেইনার খালাস ও লোডিং প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে। এনসিটিতে মে মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। মাসটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউএস কনটেইনার (আমদানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউস ও রপ্তানি পণ্যভর্তি কনটেইনার ছিল ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউস) হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

এর আগে এনসিটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসে। সে সময় এনসিটিতে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। তবে গত মে মাসে আরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হওয়ায় আগের রেকর্ডটি ভেঙে গেল। তবে এসব বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি। কয়েকজন অর্থনীতিবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারাও বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে শ্রমিকনেতাদের প্রতিক্রিয়া

শ্রমিকনেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ড বন্দরের এনসিটির পাশাপাশি সিসিটি টার্মিনাল পরিচালনার আগ্রহ দেখায়। সে সময় চলমান প্রক্রিয়ায় সিসিটির বিষয়টি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে আর এগোতে চাননি বন্দর কর্মকর্তারা। শেষমেশ শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে এনসিটি চুক্তিও করতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার যদি আবারও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটে, তবে সেটি কোনোভাবে মেনে নেওয়া হবে না। তারা বলছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা না দিয়ে সরকার টিকতে পারছে না। ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দর দেওয়ার পর বাংলাদেশ কীভাবে টিকবে?

বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন জানান, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর। কনসেশন চুক্তির আওতায় বন্দরের প্রধান টার্মিনাল এনসিটি ও সিসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়া হলে বন্দর ও দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দর তার কর্তৃত্ব হারাবে। বিদেশি আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, যার ফলে দেশ চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। পিসিটি, এনসিটি, সিসিটি–সবই যদি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাহলে যেকোনো সময় দেশি-বিদেশি যেকোনো ষড়যন্ত্রে দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘বন্দর বিদেশিদের দেওয়ার চেষ্টা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজ অর্থাৎ চট্টগ্রাম চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ কোনো স্টেকহোল্ডারকে এখনো বলতে শুনিনি যে চট্টগ্রাম বন্দর তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের চাহিদা পূরণ করেই বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে। সড়কের যানজটের ব্যবস্থাপনাসহ কাস্টম ব্যবস্থাপনায় কোনোরূপ উন্নতি না করে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যেকোনো চুক্তি দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ বলে আমরা মনে করি।’ 

এনসিটি ঘিরে আগেও হয়েছে আন্দোলন, ধর্মঘট

গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় ওই রায়কে কেন্দ্র করে অফিস চলাকালীন চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু কর্মচারী বন্দর ভবনে, ফয়ারে এবং বন্দর ভবন এলাকায় মিছিলে অংশ নেন। সেখানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন ও হুমায়ুন কবীর এবং বন্দর শ্রমিক দলের সদস্য আনোয়ারুল আজীম ও ফরিদুর রহমান। 

বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা না দিতে দফায় দফায় আন্দোলন চালিয়ে যায় চট্টগ্রাম সুরক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, চট্টগ্রাম বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘ, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশে জুয়েলারি সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সংগঠন।

এনসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা না দেওয়াসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি (৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি বাদে) পর্যন্ত সাত দিনের ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এই ধর্মঘটের কারণে পণ্য সরবরাহে ভাটা পড়ে। ইয়ার্ডে বাড়তে থাকে কনটেইনারের সারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে ৯ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত রাখে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আলোচনায় বসলেও আর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি সংগঠনটির নেতারা।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক খবরের কাগজকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সে ক্ষেত্রে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেন সেটি সবার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। পাশাপাশি বন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যেকোনো ধরনেরর আন্দোলনে বন্দরের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। এটিও সবার মাথায় রাখতে হবে। 

চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৯:০০ এএম
চট্টগ্রামে শিক্ষকের ৮ হাজার পদ শূন্য
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বর্তমানে ১ হাজার ৭৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় আট হাজার শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৃষ্ট পদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষক পদই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। দ্রুত নিয়োগ না দিলে এ সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে জুনিয়র স্কুল, মাধ্যমিক স্কুল, স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কলেজ মিলে ১ হাজার ৭৩৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কলেজ ২১টি, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজ ৭৯টি ও এমপিওবিহীন ২৪টি কলেজ রয়েছে। সরকারি স্কুল রয়েছে ২৫টি। বেসরকরি স্কুল রয়েছে এমপিওভুক্ত ৫৭৭টি, নন-এমপিও ২২৪টি। স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে ৭৫টি। কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৬৪টি ও জুনিয়র স্কুল রয়েছে ১৬৭টি। চট্টগ্রামে মাদরাসা রয়েছে ৪৮২টি। এর মধ্যে ৩৮১টি এমপিওভুক্ত।

সব মিলে ১ হাজার ৭৩৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, (প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ) সহকারী প্রধান (শিক্ষক বা উপাধ্যক্ষ) ও সহকারী শিক্ষকসহ ২৬ হাজার ১৪৮ শিক্ষক থাকার কথা। কলেজ পর্যায়ে গড়ে ২১ জন করে শিক্ষক থাকার কথা, স্কুল ও মাদরাসা পর্যায়ে ১৮ জন ও জুনিয়র স্কুলে থাকার কথা ১২ জন করে শিক্ষক। স্কুল ও মাদরাসা মিলে ১ হাজার ৩০৮টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে শিক্ষক থাকার কথা ২৩ হাজার ৫৪৪ জন। কিন্তু আছে ১৬ হাজার ৫৪৪ জন।

মাধ্যমিক ও মাদরাসায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ২৫০ জন প্রধান শিক্ষকের পদ বা প্রতিষ্ঠানপ্রধানের পদ খালি রয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ খালি আছে ৩০০ জন। কলেজের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষের পদ খালি রয়েছে ৪০টি। শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে ৪৫০ জনের। এ ছাড়া উপাধ্যক্ষ পদ খালি রয়েছে ৩০ জনের। সর্বমোট চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার ৩০টি পদ খালি রয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকই নন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের অনেক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ খবরের কাগজকে বলেন, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে একজন শিক্ষককে একাধিক বিষয় পড়াতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ক্লাস নিয়মিত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি। কারিগরি ও অনেক বিষয়ের কোনো শিক্ষকই নেই। তবে যা আছে তাই দিয়ে কোনোভাবে চালিয়ে নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক নিয়োগে ধীরগতির কারণে এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে সংকট তৈরি হতো না। প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও ঝুলে রয়েছে। চাহিদার বিপরীতে কম নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই শিক্ষক স্বল্পতার তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। তবে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে সংকট চলে যাবে। 

সূত্র জানায়, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এ সংকটে বেশি ভুগছে। অনেক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।

চট্টগ্রামের অংকুর সোসাইটি উচ্চবিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক সুলতানা কাজী খবরের কাগজকে বলেন, প্রধান শিক্ষক ও প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়ে। শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি, শিক্ষক মূল্যায়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। 

শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ না করা, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত জটিলতা, নিয়োগ কার্যক্রমে প্রশাসনিক ধীরগতি, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সে অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
 
প্রবীণ শিক্ষক আবু তালেব বেলাল বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হলে প্রথমেই শিক্ষক সংকট নিরসন করতে হবে। একটি অঞ্চলের শিক্ষার মান নির্ভর করে পর্যাপ্ত ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের উপস্থিতির ওপর। শিক্ষক ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা কমে যায়, যা ভবিষ্যতে জাতীয় উন্নয়নেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শূন্যপদ পূরণের জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ, প্রশাসনিক পদে যোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক ধরে রাখতে বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া যেতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ এএম
স্বাস্থ্য খাতে সংকট: বরাদ্দের অর্ধেকও ব্যয় হয় না
বাজেট ২০২৬-২০২৭

সংকটে দেশের স্বাস্থ্য খাত। এ খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করার সুযোগ থাকলেও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের অর্ধেকও খরচ করেনি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে চলতিবারের তুলনায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত বিভাগগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে দ্বিতীয় অবস্থানে রাখা হয়েছে। 

• অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের মাত্র ৩০-৪০% খরচ করেছে
• আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় ১২,১৬৭ কোটি টাকা
• শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, সঠিক ব্যয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শুধু বরাদ্দ রাখলেই হবে না। বরাদ্দ ব্যয় করার বিষয়েও নজর দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সরকার ছিল না, তাই জবাবদিহিও ছিল না। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে কাজ না করলেও চলেছে। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। আশা করি, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সবটা ব্যয় করে এ খাতের উন্নয়ন করবে। সবার জন্য গুণগত চিকিৎসা নিশ্চিত হবে। 

ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ডেল্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিকিৎসক জাকির হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ পর্যন্ত বরাদ্দের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই খরচ করতে পারেনি। দেশে হামের মতো একটি সাধারণ রোগের টিকা পর্যন্ত আমদানি করা হয়নি। শুধু হাম নয়, আরও অনেক রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সরকারের অর্থ ব্যয় করে সাধারণ পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তেমন কোনো কাজ হয়নি। 

ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা অর্থ ফেরত যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ দেশে একজন মানুষ নিজের চিকিৎসার মোট খরচের ৬০-৭০ শতাংশ নিজের পকেট থেকে ব্যয় করেন। এ দেশে সরকারি অর্থ চিকিৎসা খাতে খরচ হবে না–এটি ঠিক নয়। নির্বাচিত সরকারের কাছে আবেদন জানাব, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই দায়িত্ব শেষ করবেন না, কোথায় কীভাবে কারা কতটা খরচ করছে, তাও খতিয়ে দেখবেন। এ দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা (প্রায় ৪১৪০৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ওই বাজেটের মোট আকারের প্রায় ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ। ওই বাজেটে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। 

পরে অন্তর্বর্তী সরকার প্রণীত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে সময়ে অর্থ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে বলেছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিককে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে সেবার পরিধি বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দক্ষ জনবল নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদ পূরণে চিকিৎসক, সেবিকা, টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট ও স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়োগ ত্বরান্বিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। 

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেছিলেন, বাজেটে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দেশে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রেফারেল হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি ৫০ শয্যার বেশি সব হাসপাতাল স্থাপনের জন্য সুবিধা থাকছে। 

ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, সাবেক অর্থ উপদেষ্টার পরিকল্পনাগুলোর প্রায় সব কটি কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ আছে। দেশে হামের কারণে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে অথচ হামের টিকা আমদানি করাই হয়নি। 

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ টাকা ব্যয় করতে না পারার অন্যতম কারণ স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্পের বেশির ভাগ মহাপরিচালক, পরিচালকের অভিজ্ঞতা থাকে না। বরাদ্দ ব্যয় করা না হলে কোনো জবাবদিহি চাওয়া হয় না। আমাদের মতো গরিব দেশে স্বাস্থ্য খাতের সরকারি বরাদ্দ ব্যয় না করা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। অথচ দেখেন হামের টিকা না আনার কারণে কার কী শাস্তি হয়েছে?’ 

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না। যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের মতো হলেও কী পরিবর্তন হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে? মোট বাজেটের অন্তত ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন এবং তা সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। বিনামূল্যে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে হবে। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগামী বছরের বাজেটে যে ১০ মন্ত্রণালয় বা বিভাগে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয়। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্তের তালিকায় সাত নম্বরে ছিল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৩১ হাজার ২২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ বাড়ছে ১২ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। মোট বাজেটের আকার হিসাবে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের জিডিপির আকার ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। এ হিসাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে জিডিপির দশমিক ৬৩ শতাংশের সমান বরাদ্দ থাকছে। অর্থাৎ জিডিপির ভিত্তিতেও আগামী অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ বাড়ছে।

বিদ্যুতে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
চুরি, সিস্টেম লস ও ভর্তুকিতে ঘুরপাক
বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত যুগ যুগ ধরেই লোকসানে রয়েছে। চুরি, সিস্টেম লস, অপচয়, দুর্নীতি এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে প্রতিবছরে এই খাতে রাষ্ট্রকে গুনতে হচ্ছে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের পকেট কেটে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে পুরো বিদ্যুৎ খাত। উপাদন সক্ষমতা বাড়লেও বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতা, অবৈধ সংযোগ, মিটার কারসাজি এবং বিভিন্ন অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ খাত এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ চুরির অন্যতম প্রধান উৎস হলো অবৈধ সংযোগ বা ‘হুকিং’। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি, দোকানপাট, বাজার এবং অস্থায়ী স্থাপনায় সরাসরি বিদ্যুতের লাইন থেকে সংযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া মিটার টেম্পারিং, বাইপাস সংযোগ, বিলিং জালিয়াতি এবং ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবৈধ চার্জিং স্টেশন থেকেও বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। অনুমোদনহীন এসব চার্জিং পয়েন্টে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলেও এর বড় অংশের কোনো বৈধ হিসাব থাকে না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অসাধু কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের কারসাজিতে হচ্ছে অনিয়ম-দুর্নীতি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওই সব অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুতুড়ে বিল, মিটার জালিয়াতি, অবৈধ সংযোগ, সিস্টেম লসের নামে অনিয়ম এবং ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কার্যকর জবাবদিহি ও শাস্তির নজির না থাকায় পরিস্থিতিরও তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অন্যদিকে, বছর বছর বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হলেও খাতটির আর্থিক সংকট কাটছে না। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে বিদ্যুতের সিস্টেম লস সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো অবকাঠামো, দুর্বল ট্রান্সফরমার, জরাজীর্ণ লাইন এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে প্রযুক্তিগত ক্ষতির পাশাপাশি চুরি ও অনিয়ম মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৯ হাজার ৫৪৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও গ্রাহকদের কাছে পৌঁছেছে ৮ হাজার ৮১৯ কোটি ইউনিট। ফলে ৭২৪ কোটির বেশি ইউনিট বিদ্যুৎ সিস্টেম লস হিসেবে অপচয় হয়েছে। প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য হিসাব করলে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা।

বিতরণ সংস্থাগুলোর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডেসকোর বিদ্যুৎ অপচয়ের হার ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, ডিপিডিসির ৫ দশমিক ৬, পিডিবির ৬ দশমিক ৬৮, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৭ দশমিক ২৬ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

একই সময়ে বিপিডিবির আর্থিক অবস্থা আরও নাজুক হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৮ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে লোকসান বেড়েছে ৯৪ শতাংশেরও বেশি।

বিদ্যুৎ সরবরাহে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিপিডিবির মোট ব্যয় ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় হয়েছে ৬৯ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। ঘাটতি কমাতে অর্থ বিভাগ থেকে ৩৮ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকার নিট লোকসান হয়েছে সংস্থাটির।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে বেসরকারি আইপিপি কেন্দ্রগুলো থেকে। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৭২ হাজার ৭১ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৬৯৪ কোটি টাকা বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আইপিপি থেকে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছিল ৫৭ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকার। অথচ জাতীয় বাজেটে এ খাতে ব্যয়ের প্রাক্কলন ধরা হয়েছিল মাত্র ৪৩ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাত থেকে ১ লাখ ৩০৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে। প্রতি ইউনিটের গড় দাম পড়েছে ১৪ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪০ পয়সা বেশি। ফলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচও বেড়ে ১২ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ১১ টাকা ৩৫ পয়সা।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি নিয়েও রয়েছে তথ্যগত অসংগতি। বিপিডিবির হিসাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৮ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এক নথি অনুযায়ী একই সময়ে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বকেয়াসহ বিদ্যুৎ খাতে মোট ভর্তুকি ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশই জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এবং এর প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। ফলে আমদানি নির্ভরতা কমানো না গেলে বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপও কমবে না। বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।

অন্যদিকে বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হলেও আর্থিক সংকট কাটছে না। চলতি মাসে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন (হুইলিং) চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ এবং পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

বিদ্যুৎ খাতে লোকসানের পেছনে বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তাদের ‘চুরি’র কারণে সংকট কাটছে না বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ খাত একটি অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাদের লাগামহীন দুর্নীতি ও চুরির কারণে দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকারের কারণেও এই সংকট বাড়ছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যারা ভোক্তাবিরোধী ও গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে বিচারের কোনো নজির নেই। ফলে সংকটও কাটছে না।

অধ্যাপক শামসুল আলমের মতে, বিদ্যুৎ খাতের ঘাটতি কমানোর কথা বলে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও বাস্তবে আর্থিক ঘাটতি কমছে না, বরং প্রতিবছরই তা বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রধান দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া, মুনাফা অর্জন নয়। তাই শুধু দাম বাড়ানোর নীতি অনুসরণ না করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিদ্যুতের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার উদ্যোগও প্রয়োজন।