উত্তরবঙ্গের প্রথম বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এখানে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বগুড়ায় প্রস্তাবিত ‘প্রাইভেট পুণ্ড্র ইকোনমিক জোন বা অর্থনৈতিক অঞ্চল’ শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিসিএল গ্লাস ইন্ডাট্রিজ প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হয়েছে। গ্যাস সংযোগ পেলেই প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার এ গ্লাস ফ্যাক্টরি উৎপাদনে যাবে আর তৈরি হবে ১ থেকে ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরুত্বের বিভিন্ন ধরনের গ্লাস।
এ কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক আবিদ হোসাইন বলেন, বিভিন্ন ধরনের গ্লাসের পাশাপাশি রঙিন গ্লাসও তৈরি হবে এ কারখানায় আর প্রাথমিক হিসাবে বলা হয়েছে এ গ্লাস কারখানাকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ১ হাজার মানুষের। তিনি আরও জানান, কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা আছে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলেই তৈরি হবে মিরর প্লান্ট, টেম্পারিং প্লান্ট ও ফ্লোট গ্লাসের পাশাপাশি গাড়িরও বিভিন্ন ধরনের গ্লাস।
প্রস্তাবিত এ প্রাইভেট পুণ্ড্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনুমোদন দিতে গত বছরের ৭ নভেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল প্রস্তাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছে। কর্তৃপক্ষের আশা কিছুদিনের মধ্যেই সরকারি অনুমোদন পাওয়া যাবে।
উদ্যোক্তা সংগঠন ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) ও অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আশা উত্তরাঞ্চলের প্রথম বেসরকারি এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হবে কমপক্ষে ১০ হাজার কোটি টাকা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে ৫ হাজারের বেশি মানুষের। এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ভেষজ তেল উৎপাদন কারখানার পাশাপাশি ফিডমিল ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানা। ইতোমধ্যেই দেশের বড় বড় কোম্পানি আগ্রহ দেখিয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠান ও কারখানা এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আর বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ‘নেসকো’ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিসিএল গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্যাসের প্রাথমিক চাহিদা ধরা হয়েছে দেড় লাখ কিউবিক মিটার, তবে বিসিএল গ্লাস ফ্যাক্টরি চালু করতে প্রয়োজন ৫০ হাজার কিউবিক মিটার গ্যাস।
ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে বগুড়ার গোকুল এলাকায় প্রায় ৪০০ বিঘা জমির নিয়ে উত্তরাঞ্চলের প্রথম এ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে এ তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান এ অঞ্চলের জন্য আরও ১০০ বিঘা জমি কেনার চলছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, শিল্প নগরী বগুড়ার দিকে শিল্প উদ্যোক্তাদের নজর আছে বহু বছর ধরে কিন্তু বগুড়ায় নেই কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চল, দুটি বিসিক শিল্পনগরীতেও নেই কোনো জায়গা। ফলে শিল্প উদ্যোক্তারা আসতে পারছে না, সে ক্ষেত্রে এ অর্থনৈতিক শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে কিন্তু শিল্প উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) কর্মকর্তারা জানান, রড-সিমেন্ট কারখানাসহ অন্তত ৪০ ধরনের শিল্প-কারখানা বগুড়ায় প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। বগুড়ায় সংস্থার উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম মাহফুজুর রহমান বলেন, জায়গা পেলে বগুড়ায় এখনই দেড় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে।
বগুড়ায় শিল্পপতিরা জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ভালো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ট্যানারি, রড-সিমেন্ট, মোটর বাইক ও গাড়ি তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে বগুড়ায় এবং এসব শিল্পের অনেকগুলোই প্রস্তাবিত পুণ্ড্র ইকোনমিক জোনে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানিসহ শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সবকিছুই নিরবচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই বিদ্যুতের নিশ্চয়তা মিলেছে আর গ্যাস পাওয়ার বিষয়টিও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বড় আকারের জেনারেটর রাখা হয়েছে সুবিধা রয়েছে জ্বালানি তেলেরও।
ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিসিএল গ্লাস ফ্যাক্টরিতে তৈরি গ্লাসের মান হবে আন্তর্জাতিক এবং রপ্তানির সুযোগ রয়েছে বিশ্বের অনেক দেশেই। তাদের দাবি এ জোনে যারা শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা করবেন তাদের সুযোগ-সুবিধা থাকবে সব ধরনের।
শিল্প উদ্যোক্তারা জানান, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে কয়েক বছরের মধ্যেই বিনিয়োগ হবে বড় অঙ্কের টাকা, কারণ সরাসরি রেল সুবিধা পেতে যাচ্ছে বগুড়া একই সঙ্গে বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে গেছে অনেক দূরে। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন সরকারি সহযোগিতা পেলে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে।
উত্তরাঞ্চলের প্রথম এ বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকার শিল্প উদ্যোক্তাদের প্লট পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে চায় কর্তৃপক্ষ বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মাটি ভরাট ও গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠা হবে এমন আশাই করছেন সংশ্লিষ্টরা।