দেশে আবারও প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই এই ভাইরাসের সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিলেও এবারের পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে এখনো কোনো কার্যকর টিকা উদ্ভাবন হয়নি, নেই নির্দিষ্ট চিকিৎসাও। করোনাভাইরাসের চেয়েও মারাত্মক এই ভাইরাস। তার ওপর মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতির ঘাটতি পরিস্থিতিকে যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সংক্রমণের সক্ষমতার দিক থেকে নিপাহ ভাইরাস করোনাভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ংকর। মানুষের মধ্যে এর সংক্রমণের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যেখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার ছিল মাত্র ৮-১০ শতাংশ। যদিও নিপাহ-সংক্রমণের হার তুলনামূলকভাবে কম মনে হতে পারে, কিন্তু মানুষের শরীরে কোনো প্রাকৃতিক প্রতিরোধ বা ইমিউন ‘মেমরি সেল’ না থাকার কারণে এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
মৃত্যু ও সংক্রমণের চিত্র
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানায়, দেশে গত ২৪ বছরের গড় হিসেবে নিপাহ ভাইরাসের আক্রান্তের তালিকায় প্রথম রয়েছে নওগাঁ জেলা, দ্বিতীয়ত রাজবাড়ী এবং তৃতীয় ফরিদপুর জেলা। ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে, আর ২০২৫ সালে চারজন মারা যান। অর্থাৎ সর্বশেষ দুই বছরে আক্রান্ত হওয়া ৯ জনের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬৪টি জেলার মধ্যে ৩৫টিতে নিপাহ ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাট জেলায়।
দেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ২০০১ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছর দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৩৪৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৪৯ জন মারা গেছেন- মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল ২০০৪ সালে,৬৭ জন আক্রান্ত হয়ে ৫০ জন মারা যান। ২০০৫ সালে ১২ জন আক্রান্ত হয়ে মারা যান ১১ জন।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা গত ৫ জানুয়ারি এক সভায় বলেছেন, সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময় নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। এটি একটি অত্যন্ত মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৭২ শতাংশের মৃত্যু ঘটে। তিনি আরও জানান, শীতকালে খেজুরের কাঁচা রস পান করার মাধ্যমে মানুষ সবচেয়ে বেশি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্য মানুষের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ায়।
কীভাবে ভাইরাস ছড়ায় প্রাণী থেকে মানুষে
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) তথ্যমতে, নিপাহ ভাইরাস একটি জুনোটিক ভাইরাস। অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। টেরোপাস প্রজাতির ফলখেকো বাদুড় এই ভাইরাসের প্রকৃত বাহক। শীতকালে খেজুরের রস সংগ্রহের সময় বাদুড় সেই রসে মুখ লাগালে বা মলমূত্র ত্যাগ করলে তাদের লালা ও মলমূত্রের মাধ্যমে ভাইরাসটি রসে মিশে যায়। ওই কাঁচা রস পান করেই মানুষ সংক্রমিত হন। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেও নিপাহ ভাইরাস ছড়াতে পারে, যা এই রোগকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
মৃত্যুহার বেশি কিন্তু নেই নির্দিষ্ট চিকিৎসা
নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রথমে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। রোগীর অবস্থা অল্প সময়ের মধ্যেই সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের মতে, নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা টিকার উদ্ভাবন হয়নি। ফলে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি অত্যন্ত দুর্বল। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই পর্যাপ্ত আইসোলেশন সুবিধা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী কিংবা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী। রোগী শনাক্ত, দ্রুত পরীক্ষা ও রেফার করার ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহর মতো সংক্রামক ও উচ্চ মৃত্যুহারযুক্ত ভাইরাস মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে সচেতনতা কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
সচেতনতার অভাবেই বাড়ছে ঝুঁকি
গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ খেজুরের কাঁচা রস পান করেন। অনেকেই জানেন না, এই রস নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান উৎস। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তা সব জায়গায় কার্যকরভাবে পৌঁছায় না– এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আচরণগত পরিবর্তন। যেমন- খেজুরের কাঁচা রস পান না করা, আংশিক খাওয়া ফল পরিহার করা, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।
এখনই ব্যবস্থা না নিলে বিপদ বাড়বে
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, নিপাহ ভাইরাস যদি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। টিকার অভাব, নির্দিষ্ট চিকিৎসা না থাকা এবং মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির ঘাটতি- এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, আইসোলেশন সুবিধা জোরদার এবং গবেষণায় বিনিয়োগ ছাড়া নিপাহর মতো ভয়ংকর ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
নিপাহ ভাইরাস বিষয় গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদা ইয়াসমিন খবরের কাগজকে বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গেলে খুব একটা কিছু করার থাকে না। কেউ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও সে আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মানুষের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। কারণ সরকার থেকে বারবার বলা হয়েছে- এই ভাইরাস খেজুরের কাঁচা রস খেলে হয়। যেহেতু খেজুরের রসে বাদুড় মুখ দেয়। তা পরিহার করলেই হয়।
করোনাভাইরাসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, করোনার বিষয় সচেতন হলে অনেক সময় প্রতিকার পাওয়া যায়। কিন্তু নিপাহর ক্ষেত্রে সে সুযোগ কম। নিপাহ ভাইরাসের একটি ভয়ঙ্কর বৈশিষ্ট্য হলো এটি সরাসরি মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে। এতে মস্তিষ্কে তীব্র প্রদাহ বা ‘এনসেফালাইটিস’ তৈরি হয়, যার ফলে রোগী দ্রুত কোমায় চলে যেতে পারে এবং সুস্থ হলেও অনেকের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা থেকে যায়।
এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা ও টিকা নেই। তাই আমাদের ‘কালচারালি’ সচেতন হতে হবে। টিকা তৈরি করতে গেলে ল্যাব লাগবে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ল্যাব প্রক্রিয়া কঠিন। তাই হিরোগিরি বাদ দিতে হবে। শুধু খেজুরের রসই নয়, যে কোনো পাখির খেয়ে যাওয়া ফল না খাওয়াই ভালো মানুষের জন্য।
খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও এর ভয়াবহতা দেখা যায়।
ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, এই অঞ্চলে নিপাহ ভাইরাসে সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা এক ব্যক্তি খেজুরের কাঁচা রস খেয়েছিলেন। এরপর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, নিপাহ ভাইরাস একটি ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নীরব ঘাতক। আমাদের সামান্য অসতর্কতা নিজের এবং পরিবারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে ব্যাপকভাবে। যাতে কেউ খেজুরের রস না পান করেন। যদি কেউ পান করেন তাহলে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট গরম করে তারপর যেন খান। বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল বা কাঁচা রসের লোভ যেন বড় কোনো মানবিক বিপর্যয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। জীবন বাঁচাতে সচেতনতাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলার মধ্যে লালমনিরহাটও রয়েছে। ফলে জেলাকে নিপাহ সংক্রমণের রেড জোন ধরে আগাম সতর্কতা জোরদার করতে বলা হয়েছে। লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আবদুল হাকিম খবরের কাগজকে বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। খেজুরের কাঁচা রস পান না করা, ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, অর্ধেক কোনো ফল না খাওয়াসহ সচেতন থাকতে হবে। এই মৌসুমে জেলায় কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। রোগী পেলে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে মানিকগঞ্জেই। বাবুল হোসেন নামের ব্যক্তি খেজুরের কাঁচা রস পান করার পর নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
বাবুলের পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে বাবুল ও তার দোকানের কর্মচারী তামিমসহ চারজন এক লিটার খেজুরের রস কিনে পান করেন। প্রায় দুই সপ্তাহ পর বাবুল ঠাণ্ডা-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হলে ১৬ জানুয়ারি তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৮ জানুয়ারি ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে তার নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হলে ২৪ জানুয়ারি নিপাহ ভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে ২৮ জানুয়ারি রাতে তার মৃত্যু হয়।
জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘খেজুরের রস সংগ্রহের সময় গাছে নেট বা বাঁশের ঘেরা ব্যবহার না করলে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। আমরা কাঁচা খেজুরের রস পান করতে একেবারেই নিষেধ করেছি। এ জেলায় এ বছর এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। এই রস পুরোপুরি পরিহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।’
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, নিপাহ ভাইরাস দেশে প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা মেহেরপুরে। সেটা ২০০১ সালের কথা। তবে এখন এ জেলায় ভাইরাসটি নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আক্রান্ত নেই।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে তথ্য বলছে, জেলার সদর উপজেলায় ২০০১ সালের দিকে প্রথম নিপাহ ভাইরাস আক্রমণ করে। সে সময় ৩ জন ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছিল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদর উপজেলা ও গাংনী উপজেলায় ২০১৬ সালের দিকে আরও দুজন আক্রান্ত হয়েছিল। তবে এ বছর নিপাহ ভাইরাসে এ জেলায় কোনো আক্রান্তের খবর নেই। এবার শীতের শুরুতেই তিন উপজেলায় ব্যাপকভাবে নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতায় মাইকিংসহ বিভিন্নভাবে প্রচার করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে এখন পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি, তবে অতীতে মৃত্যুর ঘটনা থাকায় জেলাটিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, ‘রাজবাড়ী অঞ্চলে খেজুর গাছে বাদুড়ের আনাগোনা বেশি। বাদুড় নিপাহ ভাইরাসের প্রধান বাহক। বাদুড় খেজুরের রস পান করার সময় তাদের লালা ও মল রসের সঙ্গে মিশে যায়। সেই খেজুরের রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।’
নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, জেলাকে নিপাহ ভাইরাসের রেড জোন বলা হয়। রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলার তুলনায় নওগাঁ জেলায় নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণ ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা অনেক বেশি। তাই শীত মৌসুম এলেই এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে অধিক সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, শীতের মৌসুমে নওগাঁ জেলাজুড়ে খেজুরগাছের রস থেকে গুড় তৈরির ধুম পড়ে যায়। যার প্রায় শতভাগই উন্মুক্ত এবং মাটির হাঁড়িতে রাতভর সংরক্ষণ করা হয়। রাতে সেখানে বাদুড় বা অন্য কোনো পাখি বা প্রাণী রস পান করলে সেই পাখি বা প্রাণীর মুখ থেকে লালা বেরিয়ে রসের সঙ্গে মিশে যায় এবং এভাবেই বাদুড় বা অন্য কোনো প্রাণী বা পাখির থেকে নিপাহ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।