ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

যেখানে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এক কাতারে

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৪, ০৪:৩৯ পিএম
যেখানে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস এক কাতারে
ছবি : সংগৃহীত

সুখ তুমি কী ভীষণ জানতে ইচ্ছে করে- সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশের একটি সুখ গাথা আছে। এটি জানতে হলে ফিরে যেতে হবে আজ থেকে ১৪ বছর আগে। যেখানে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্টে হারিয়েছিল ৯ উইকেটে, যা ছিল আবার উইন্ডিজের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়। কিন্তু এমন একটি পয়মন্ত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ খেলেনি কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। যেখানে আজ সুপার এইটে যাওয়ার লক্ষ্যে তাদের খেলতে হবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে নিয়মিত দ্বিপক্ষীয় সফর করার পরও এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ না খেলা অবাক করার মতোই। সেখানে আইসিসির সহযোগী দেশ হওয়ার পর নেদারল্যান্ডসের কোনো ম্যাচ খেলারই কথা নয়। দুই দলের চারবারের মোকাবিলায় বাংলাদেশ তিনবার ও নেদারল্যান্ডস একবার জয়ী হলেও এই একটি (সেন্ট ভিনসেন্টে) জায়গায় কোনো ম্যাচ না খেলার কারণে দুই দলই সমান্তরাল অবস্থানে দাঁড়িয়ে।

সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশ কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ না খেললেও দুটি করে টেস্ট খেলেছে। টেস্টের একটিতে আছে সেই জয়। ২০০৯ সালে সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেছিল টেস্ট। আর্থিক বিষয় নিয়ে দাবি-দাওয়ার কারণে দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা বিদ্রোহ করলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। তারা আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ইনিংসে ২৩৮ ও ৩৪৫ রান করে টাইগাররা ম্যাচ জিতেছিল ৯৫ রানে। স্বাগতিকরা দুই ইনিংসে করেছিল ৩০৭ ও ১৮১। তামিম ইকবালের ব্যাট থেকে এসেছিল ১২৮ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে তার উইকেট ছিল ৩টি। ২০১৪ সালে আবার দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ এবার আর পেরে ওঠেনি। পূর্ণ শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরেছিল ১০ উইকেটে। প্রথম ইনিংসে তাইজুলের ৫ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের ১১৬ রান কোনো কাজেই আসেনি। এরপর সেন্ট ভিনসেন্টে আর কোনো টেস্ট হয়নি। এখন পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে মোট টেস্ট হয়েছে তিনটি। অন্যটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত টেস্টটি ড্র হয়েছিল।

ওয়ানডে হয়েছে ২৩টি। যেখানে বাংলাদেশ খেলেছে ২টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই দুই ম্যাচে হেরেছিল যথাক্রমে ২৩ রান ও ১ উইকেটে। বৃষ্টির কারণে ২৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে করেছিল ১২৪ রান। তাপস বৈশ্য ১৬ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ করতে পেরেছিল ৮ উইকেটে ১০১ রান। ওপেনার হান্নান সরকারের ৩৬ ও মানজারুল ইসলাম রানার অপরাজিত ৩৩ রান ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।    

টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ হয়েছে দুটি। ২০১৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-পাকিস্তানের সেই দুই ম্যাচেই জিতেছিল পাকিস্তান যথাক্রমে ২ উইকেট ও ১১ রানে। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৫২ রান করার পর পাকিস্তান সেই রান টপকে গিয়েছিল শেষ বলে। জয় ২ উইকেটে। স্যামুয়েলসকে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়েছিলেন বাবর আজম। কিন্তু ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ২৭ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলা শহিদ আফ্রিদি। একই সিরিজের পরের দিন অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল লো-স্কোরিং। পাকিস্তান আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে মাত্র ১৩৫ রান করেও ম্যাচ জিতেছিল ভয়ংকর বোলিংয়ে। ৩৬ বলে ৪৬ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন ওপেনার ওমর আকমল।     
এবার বাংলাদেশের সেখানে সুখের কাব্য লেখার পালা?

ভুটানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৯:০০ পিএম
ভুটানকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

ভুটান সফরে প্রথম প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। 

বুধবার (২৪ জুলাই) থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে ৫-১ গোলের দাপুটে জয় তুলে নেন সাবিনা খাতুনরা। হ্যাটট্রিকে ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিয়েছেন মোছাম্মৎ সাগরিকা। তবে ম্যাচসেরা হয়েছেন বাংলাদেশের ঋতুপর্ণা চাকমা। 

বড় জয় পেলেও বাংলাদেশ শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল। ১৩ মিনিটে ভুটান অধিনায়ক প্রেমা এগিয়ে নিয়েছিলেন স্বাগতিকদের।  

তবে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে তিন গোল আদায় করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সফরকারীরা। এরপর আরও দুই গোল করেছে বাংলাদেশ। সুবাদে পিটার বাটলারের দল মাঠ ছেড়েছে বড় জয় নিয়ে। 

সাগরিকার হ্যাটট্রিক ছাড়াও বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে গোল করেছেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও ঋতুপর্ণা। 

ভুটানের বিপক্ষে এ নিয়ে পাঁচ দেখায় সবগুলোতেই জিতল বাংলাদেশ। ২৭ জুলাই দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

তোফায়েল/সালমান/

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৬:০০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৮:২৪ পিএম
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়াকে ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। মুর্শিদা-জ্যোতির আগুনে ব্যাটিংয়ে ১৯১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। এরপর বোলারদের সম্মিলিত প্রয়াসে এসেছে এই জয়।

বুধবার (২৪ জুলাই) ডাম্বুলায় বাংলাদেশের দেওয়া ১৯২ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পুরো ২০ ওভার ব্যাটিং করে ৮ উইকেট হারিয়ে মালয়েশিয়া করতে সমর্থ হয় মাত্র ৭৭ রান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট শিকার করেছেন নাহিদা আক্তার। বাংলাদেশের হয়ে ৫৯ বলে ৮০ রান করেন মুর্শিদা খাতুন আর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি করেন ৩৭ বলে অপরাজিত ৬২ রান।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৭ উইকেটের পরাজয় দিয়ে শুরু করার পর থাইল্যান্ডকে জ্যোতিরা হারায় ৭ উইকেটে। আজ মালয়েশিয়াকে হারিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেছে সেমিফাইনাল।

নেট রানরেটে বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে থাইল্যান্ডের চেয়ে। অঘটনের জন্ম দিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে থাইল্যান্ড জয় পেলেও সেমিফাইনালের জায়গা নিশ্চিত বাংলাদেশের। দুই ম্যাচে এক জয় থাই মেয়েদের। তাদের রেটিং পয়েন্ট ০.০৯৮। পাশাপাশি টেবিলের দুইয়ে থাকা বাংলাদেশের নেট রানরেট ১.৯৭১।

শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক আসালাঙ্কা

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম
শ্রীলঙ্কার নতুন অধিনায়ক আসালাঙ্কা
ছবি : সংগৃহীত

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটে উঠতে ব্যর্থ হয় শ্রীলঙ্কা। সেই ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তার পরিবর্তে ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে আসালাঙ্কাকে অধিনায়ক করে দল ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)।

চলতি বছর বাংলাদেশ সফরে হাসারাঙ্গা নিষিদ্ধ থাকায় তার জায়গায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই আসালাঙ্কাই। সদ্যসমাপ্ত লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে জাফনা কিংসকে শিরোপাও জিতিয়েছেন তিনি। 

তার অধিনায়কত্ব পাওয়ার দিনে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ দিনেশ চান্ডিমালও। সবশেষ ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। এলপিএলের এবারের মৌসুমে ১৬৮.৮২ স্ট্রাইক রেটে ২৮৭ রান করে দলে জায়গা ফিরে পেয়েছেন চান্ডিমাল। 

আগামী শনিবার ক্যান্ডির পাল্লেকেলেতে শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ভারতকে এই সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন সূর্যকুমার যাদব। টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর ২ আগস্ট কলম্বোয় শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।

শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি দল
চারিত আসালাঙ্কা (অধিনায়ক), পাতুম নিশাঙ্কা, কুশল পেরেরা, আভিস্কা ফার্নান্ডো, কুশল মেন্ডিস, দিনেশ চান্ডিমাল, কামিন্দু মেন্ডিস, দাসুন শানাকা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, দুনিত ভেল্লালাগে, মহীশ তিকশানা, চামিন্দু বিক্রমাসিংহে, মাতিশা পাতিরানা, নুয়ান তুশারা, দুষ্মন্ত চামিরা ও বিনুরা ফার্নান্ডো।

‘টেনিসের কৃষ্ণকলি’

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৯ পিএম
‘টেনিসের কৃষ্ণকলি’
ছবি : সংগৃহীত

গ্র্যান্ড স্লামের দিক থেকে অবস্থান দ্বিতীয় হলেও সার্বিক সাফল্যে তাকে বলা হয়ে থাকে সর্বকালের সেরা টেনিস খেলোয়াড়। শুধু সিঙ্গেলস নয়, ডাবলস, মিক্সড ও অন্যান্য ইভেন্ট মিলিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি শিরোপা ও কিছু রেকর্ড তাকে এনে দিয়েছে এমন পরিচিতি। টেনিসকে বিদায় বলে দিলেও তার স্বর্ণালি অধ্যায় তাকে বসিয়েছে টেনিসের সিংহাসনে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেরেনা উইলিয়ামস। ভালোবেসে যাকে সবাই ডাকে ‘টেনিসের কৃষ্ণকলি’।  

জন্ম ও শৈশব

সেরেনা উইলিয়ামস ১৯৮১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের সাগিনাউতে জন্মগ্রহণ করেন। মা ওরেসিন প্রাইস এবং বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস।  ওরেসিনের পাঁচ কন্যার মধ্যে সেরেনা সবার ছোট। বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামস। তিনিও সাবেক টেনিস খেলোয়াড়। জুটি বেঁধে সেরেনা খেলেছেন বড় বোনের সঙ্গে। চার বছর বয়সে সেরেনার টেনিসে হাতেখড়ি বাবার হাত ধরে। পুরো ক্যারিয়ারে সেরেনার প্রফেশনাল কোচ ছিলেন তার বাবা-মা। 

ক্যারিয়ার

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২৩টি একক গ্র্যান্ড স্লামের মালিক সেরেনা উইলিয়ামস। ওপেন টেনিসে যেকোনো খেলোয়াড়ের মধ্যে সর্বাধিক এবং মার্গারেট কোর্টের (২৪টি গ্র্যান্ড স্লাম) পরে সর্বকালের দ্বিতীয়তম। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে পৌঁছান তিনি। একটা সময় ৩১৩ সপ্তাহ ধরে র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বরে ছিলেন সেরেনা। যা স্টেফি গ্রাফ এবং মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার পর তৃতীয়। সেরেনা উইলিয়ামস সর্বকালের অন্যতম সেরা মহিলা টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। তিনি সক্রিয় খেলোয়াড়দের মধ্যে একক, ডাবলস এবং মিশ্র ডাবলসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন।

রড ল্যাভার এবং গ্রাফের পরে সেরেনা হলেন তৃতীয় খেলোয়াড় যিনি দুবার একই মৌসুমে চারটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। হার্ড কোর্টে ১৩টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জেতার রেকর্ড রয়েছে তার। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেরেনার রয়েছে সর্বাধিক ৭ শিরোপা জয়ের রেকর্ড। ইউএস ওপেনে ক্রিস এভার্টের সঙ্গে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি (৬) শিরোপা জয়ের রেকর্ড। নারীদের এককে সর্বাধিক বেশি জয়ের (৩৬২ ম্যাচ) রেকর্ডও তার। যার অধিকাংশ তিনি জয় করেছেন ৩০ বছর বয়সের পরে। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির উচ্চতার সেরেনার বর্তমান বয়স ৪২।

বড় বোন ভেনাসের সঙ্গে ১৪টি গ্র্যান্ড স্লাম যৌথ শিরোপা জিতেছেন সেরেনা। এই জুটি গ্র্যান্ড স্লামের ফাইনালে অপরাজিত থেকেছেন সব সময়। তার মানে এই জুটি ফাইনালে ওঠা মানেই চ্যাম্পিয়ন।  সেরেনা উইলিয়ামস একক বিভাগে ডব্লিউএ ট্যুর চ্যাম্পিয়নশিপের পাঁচবারের বিজয়ী। চারটি অলিম্পিক স্বর্ণ পদকও জিতেছেন তিনি। একটি সিঙ্গেলসে এবং তিনটি ডাবলসে, যা তার বোন ভেনাসের সঙ্গে সর্বকালের রেকর্ড হয়ে রয়েছে। উইলিয়ামস বোনদের আগমনকে নারীদের পেশাদার টেনিসে শক্তি এবং অ্যাথলেটিকিজমের নতুন যুগে সূচনা করার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। 

অর্থ উপার্জন

পুরস্কারের অর্থ এবং এন্ডোর্সমেন্ট হিসাব মিলিয়ে প্রায় ২৯ মিলিয়ন ডলার উপার্জন নিয়ে সেরেনা ছিলেন ২০১৬ সালে সর্বাধিক বেতনপ্রাপ্ত নারী অ্যাথলেট। ২০১৭ সালে আবারও এই কৃতিত্বর অধিকারী হন। ২৭ মিলিয়ন ডলার নিয়ে ফোর্বস এর সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ১০০ ক্রীড়াবিদের মধ্যে একমাত্র নারী ছিলেন সেরেনা। তিনি চারবার (২০০৩, ২০১০, ২০১৬, ২০১৮) ‘লরিয়াস স্পোর্টসওম্যান অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন এবং ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড ম্যাগাজিনে মনোনীত হয়েছিলেন স্পোর্টস পারসন অব দ্য ইয়ার। ২০১৯ সালে তিনি ফোর্বস সর্বোচ্চ বেতনভোগী ক্রীড়াবিদ তালিকায় ৬৩তম স্থান অর্জন করে। 

পারিবারিক জীবন

২০১৭ সালে অ্যালেক্সিস ওহানিয়ানের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন সেরেনা। তার আগেই অবশ্য প্রথম সন্তানের মা হন তিনি। মেয়ে অলিম্পিয়ার জন্মের পাঁচ বছর পর ২০২২ সালে টেনিসকে বিদায় বলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের এই কৃতী টেনিস তারকা। সেরেনার পরিবার এখন স্বামী-সন্তান ঘিরে। বলা চলে সুখের সংসার। মেয়ে অলিম্পিয়া টেনিসে আসবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সেরেনা বলেছিলেন, ‘ওর যদি ভালো লাগে অবশ্যই আসবে। তবে এর জন্য ওকে কখনো চাপ দিব না আমি। আমি টেনিস খেলোয়াড় বলেই মেয়েও খেলবে ব্যাপারটি তা নয়। খেলা হচ্ছে উপভোগের বিষয়। সঙ্গে ভালো লাগাটাও জরুরি।’ 

সাক্ষাৎকার লিখনের আকুতি

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
লিখনের আকুতি
ছবি : সংগৃহীত

২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক সিরিজে জুবায়ের হোসেন লিখনের শিকার ছিল ১১ উইকেট। এর পর খেলেন ভারতের বিপক্ষে টেস্টেও। ফতুল্লায় ওই টেস্টে বিরাট কোহলিকে দারুণ এক গুগলিতে আউট করে আভাস দেন দারুণ কিছুর। ডাক পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও। ৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে তার শিকার ১৬ উইকেট। চার ওয়ানডেতে তার ঝুলিতে জমা ৬ উইকেট। জাতীয় দলে থাকাকালীন সময়েও ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্রাত্য ছিলেন জুবায়ের লিখন। জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ খেলেন কালেভদ্রে। তার নাতিদীর্ঘ এই ক্যারিয়ার ও বাংলাদেশ ক্রিকেটে লেগস্পিনারদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন জুবায়ের হোসেন লিখন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইফতেখার নিলয়। 

ইন্টারনেট ছাড়া কেমন কাটছে সময়?

এটা তো আমাদের হাতে নেই। এই মুহূর্তে জামালপুরে আছি। জিমে যাই, বোলিং অনুশীলন করি। চেষ্টা করছি নিজেকে ফিট রাখার। সামনে যেহেতু জাতীয় লিগের খেলা রয়েছে।

জামালপুরে পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের সুযোগ পাচ্ছেন?

এখানে সেন্টার উইকেট আছে, কংক্রিট আছে অনুশীলনের জন্য। মিরপুরে ক্যাম্পে থাকলে যেই সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তেমনটা না হলেও এই মুহূর্তে ঠিক আছে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রিশাদের পারফরম্যান্স কেমন দেখলেন?

রিশাদ তো দারুণ বোলিং করেছে। ওর বোলিংয়ের স্পট, টার্ন, গুগলি খুবই ভালো ছিল। একজন লেগস্পিনার দরকার ছিল দলে, রিশাদ সেই ঘাটতিটা পূরণ করেছে। 

রিশাদের পারফরম্যান্স লেগস্পিনারদের জন্য বাংলাদেশে নতুন দুয়ার খুললো কি না?

তা তো অবশ্যই। আগে সবার ধারণা ছিল লেগস্পিনার মানেই অনেক রান দেবে। রিশাদ সেই ধারণাটা বদলে দিয়েছে। সে প্রমাণ করেছে লেগস্পিনার দলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যারা লেগস্পিনার তাদের জন্যও এটা খুব উপকার হয়েছে। ঘরোয়া লিগে যারা আস্থা রাখতে পারে না, তাদের জন্যও একটা বার্তা বিশ্বকাপে তার এই পারফরম্যান্স। 

বাংলাদেশে কেন লেগস্পিনারের এত সংকট?

পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলার অভাবে লেগস্পিনারের এই সংকট। রশিদ খান, ইমরান তাহির তাদের ক্যারিয়ারের শুরুতে বর্তমান সময়ের মতো ভয়ংকর ছিল না ব্যাটারদের জন্য। ম্যাচ খেলতে খেলতে তারা পরিপক্ব হয়েছে। এখন বিশ্বের অন্যতম তারকা তারাই। ভারতে যেমন খেলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। তার ব্যাপআপ হিসেবে থাকে রবি বিষ্ণুই। বাংলাদেশেও আমাদের ব্যাপকাপ রাখতে হবে। ঘরোয়া লিগে লেগস্পিনাররা ৩-৫টা ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। আমি মনে করি যে, এসব জায়গায় বিশেষ করে জাতীয় লিগে যদি আমরা নিয়মিত খেলার সুযোগ পাই তাহলে আমাদের জন্য ভালো হবে। আমি কিংবা বিপ্লব কেউই ক্যাম্পে নেই। আমরা যদি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই তাহলে উন্নতি করতে পারব। আমাদের এবং ভবিষ্যতে যারা লেগস্পিনার হতে চায় তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলা।

২০১৪ সালে অভিষেক হওয়ার পর ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে আপনার খেলার সুযোগ তৈরি হলেও আর খেলা হয়নি। এমনকি ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর দলে থাকলেও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও আপনার যাওয়া হয়নি। এটা আপনাকে পিছিয়ে দিয়েছে কি না?

এটাই আমাকে পিছিয়ে দিয়েছে। আমি যখন জাতীয় দলে ছিলাম, পারফর্ম করছিলাম, আমাকে ঘরোয়া লিগে সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রিমিয়ার লিগে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাইনি। জাতীয় লিগ থেকেও ড্রপ। এই ম্যাচগুলো খেলতে না পারায় আমি পিছিয়ে গিয়েছিলাম। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া লিগেও যদি পারফর্ম করতে পারতাম তাহলে আমি বিশ্বকাপে খেলতে পারতাম। তবে এখন আমি বিসিবিকে অনুরোধ করব যাতে করে আমাদের সুযোগ করে দেয়। তাহলে আমি আবারও জাতীয় দলে ফিরতে পারব।

জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন কি না?

সর্বশেষ যখন জাতীয় দলের অনুশীলনে ছিলাম, তখন সবাই বলেছে আমার মধ্যে কোয়ালিটি আছে। তবে ম্যাচ খেলতে হবে। যেহেতু এখন নির্বাচক প্যানেল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে যারা আছেন উনারা যদি আমাদের নিয়ে ভাবেন তাহলে লেগস্পিনারের এই ঘাটতিটা থাকবে না। এইচপি, বাংলা টাইগারের যেই ক্যাম্পগুলো হয় সেখানে যদি আমাদের সুযোগ দেয় অনুশীলনের তাহলে আমরা অনেকেই নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাব এবং দলে ফিরতে পারব।

দল থেকে বাদ পড়ায় আক্ষেপ আছে কি না আপনার?

আপনি যদি আমার রেকর্ড দেখেন আমি কিন্তু খারাপ খেলে বাদ পড়ি নাই। শেষ টেস্ট ম্যাচেও আমি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩ উইকেট পেয়েছিলাম। জাতীয় দলে যতদিন খেলেছি আল্লাহর রহমতে খারাপ খেলি নাই। তিন ফরম্যাটেই আমি ভালো করেছিলাম তাও আমি বাদ পড়েছি। অনেকে খারাপ করেও সুযোগ পায় আর আমি ভালো করেও সুযোগ পাইনি। আক্ষেপ এটাই, হয়তো আমিও চেষ্টা করতে পারতাম। আমার এখনো বয়স ও স্কিল আছে। বিসিবিকে অনুরোধ করব যাতে করে জাতীয় লিগে আমাদের সুযোগ করে দেয়। ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেই কামব্যাক করতে পারব।