ঢাকা ১০ শ্রাবণ ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪

আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
আপডেট: ১০ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পিএম
আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি
ছবি : সংগৃহীত

রেকর্ড আর মেসি যেন পাশাপাশি হাত রেখে চলে। এবারের কোপা আমেরিকায় চোটের কারণে মেসির পারফরম্যান্স মোটেও মেসিসুলভ ছিল না। সেমিফাইনালে এসে প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন এবারের আসরে।

আর এই গোলেই করেছেন এক রেকর্ড। মেসির আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলসংখ্যা এখন ১০৯। যৌথভাবে ফুটবল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি। পেছনে ফেলেছেন ইরানের কিংবদন্তী আলী দাঈকে।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৮৬ ম্যাচে এসে ১০৯তম গোলটি করেছেন মেসি। তার চেয়ে গোলসংখ্যায় এগিয়ে আছেন একমাত্র ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

তার গোলসংখ্যা এখন ১৩০। তিনিই আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

 

বর্ণবাদী স্লোগান দিয়ে উয়েফার শাস্তি পেল ৭ দেশ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:১২ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:১২ পিএম
বর্ণবাদী স্লোগান দিয়ে উয়েফার শাস্তি পেল ৭ দেশ
ছবি : সংগৃহীত

সদ্যসমাপ্ত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়া ২৪টি দেশের মধ্যে সাতটি দেশের সমর্থকদের বর্ণবাদী স্লোগানের জন্য সে দেশগুলোকে জরিমানা করেছে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।

বর্ণবাদী স্লোগান দিয়ে শাস্তি পাওয়া সেই সাতটি দেশ হলো সার্বিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, স্লোভেনিয়া, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, আলবেনিয়া।

সবচেয়ে বেশি ৫০ হাজার ইউরো জরিমানার সম্মুখীন হয়েছ ক্রোয়েশিয়া। এমনকি  পরবর্তী উয়েফা অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে টিকিট বিক্রিতেও এসেছে নিষেধাজ্ঞা। অস্ট্রিয়াকে ২০ হাজার ইউরোর পাশাপাশি আগামী দুই বছরের জন্য উয়েফার অ্যাওয়ে ম্যাচে টিকিট বিক্রিতে নিষেধজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আলবেনিয়া, স্লোভেনিয়া ও হাঙ্গেরিকেও দেওয়া হয়েছে এমন নিষেধাজ্ঞা।

স্লোভেনিয়া, রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার তিনটি করে ম্যাচে শোনা গিয়েছে বর্ণবাদী স্লোগান। মোট ১৭টি ম্যাচে বর্ণবাদী স্লোগান শোনা গেছে। ক্রোয়েশিয়া ও আলবেনিয়া ম্যাচে হামবুর্গে দুই দলের সমর্থকেরা সার্বিয়ার বিপক্ষে স্লোগান ধরেছিল।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় উয়েফা জানিয়েছিল, তারা বিষয়টি তদন্ত করবে। উয়েফা যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকিও দিয়েছিল সার্বিয়া।
উয়েফা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেনের দুই ফুটবলার রদ্রি ও আলভারো মোরাতার বিপক্ষে  ‘শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া’ শুরুর কথা জানানোর এক দিন পরই। স্পেনের এই দুই ফুটবলার গত সপ্তাহে ইউরো জেতার পর জিব্রাল্টারকে স্পেনের বলে স্লোগান ধরেছিলেন।

স্পেনের এই ফুটবলারের বিরুদ্ধে ‘সাধারণ প্রতিপালনীয় আচরণ, শোভন আচরণের নীতিমালাভঙ্গ, খেলাধুলার অনুষ্ঠানকে খেলাবিহীন প্রচারণার কাজে ব্যবহার এবং ফুটবল বিশেষ করে উয়েফার সম্মানহানি’ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

উয়েফার তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংস্থাটির কন্ট্রোল, এথিকস অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি বোর্ড যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।

আবেগের ক্রিকেটে হতাশার গল্প

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০১:২০ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আবেগের ক্রিকেটে হতাশার গল্প
ছবি : সংগৃহীত

প্রথম পর্ব...

কিছু স্মৃতি, কিছু কথা, কিছু আশা
দোলা দিল ভাবনাকে ভালোবাসা,
বহতা নদীর মতো, বহে যায় সারা জীবন-

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরীর আশির দশকে গাওয়া এই গানটির সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যায়। ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের আবেগের জায়গা। এখানে আছে কিছু মধুর স্মৃতি। আছে আশা-আকাঙ্ক্ষা। যা জীবনকে দিয়ে যায় দোলা। কিন্তু সেই আশাগুলো বাস্তবে নেমে আসে খুব কমই। বহতা নদীর মতো শুধু বহেই যাচ্ছে? নেই তেমন কোনো বড় অর্জন!

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই প্রতিনিয়ত চলছে ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই। স্বাধীন হওয়ার পর এখনো উন্নত দেশে পরিণত হতে পারেনি। তবে উন্নয়নশীল দেশে উঠে এসেছে। জীবনযুদ্ধে সংগ্রামরত বাঙালি জাতি লড়াই করে নিজেদের ভাগ্য বদলের চেষ্টায় লিপ্ত। সেখানে কেউ সফল, কেউ এখনো লড়াই করে যাচ্ছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যেভাবে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে হয়নি। তা হোক অর্থনীতি, শিক্ষা, খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি কিংবা অন্য কোনো ক্ষেত্র। তবে এ সবের মাঝে ব্যতীক্রম খেলাধুলা। যেখানে আছে বেশ কিছু সাফল্য। এই খেলাধুলার মাঝে আবার ক্রিকেটে আলাদা। ক্রীড়া ক্ষেত্রে যতটা উন্নতি হয়েছে, ক্রিকেটের উন্নতি সব থেকে বেশি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিশ্ব দরবারে। নিয়মিত খেলছে বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও।

ক্রিকেটে এখন বাংলাদশের কোটি কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক। মায়ের কাছে শিশুকে ঘুম পাড়ানি গান। ছাত্রদের এইম ইন লাইফ। রাজনৈতিক কারণে দ্বিধাবিভক্ত দেশবাসীকে এই ক্রিকেটই গেঁথেছে বিনে সুতার মালায়। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফির মাধ্যমে যখন প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিল, তখন নারী-পুরুষ, দলমত নির্বিশেষে অধিকাংশ মানুষ ঘর ছেড়ে বের হয়ে এসেছিলেন রাস্তায়। রঙের হুলি খেলার মাধ্যমে মেতে উঠেছিলেন বিজয় উৎসবে। একে অপরকে চিনেন না, কিন্তু আকরাম বাহিনীর অনন্য অর্জনে রং ছিটিয়ে দিয়েছেন আপন মনে করে। তারাও কিছু মনে করেননি। রঙে রঙিন হয়ে মনে মনে নিজেরাও শরীক হয়েছিলেন বিজয়োৎসবে। কারণ এমন দিনতো আর সব সময় আসে না।

স্বাধীনতার পর একমাত্র ক্রিকেটই এনে দিয়েছিল এ রকম বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ। সেই শুরু। তারপর ক্ষণে ক্ষণে এসেছে ক্রিকেটকে ঘিরে উল্লাস করার উপলক্ষ। এ রকম আরেকটি উপলক্ষ ছিল ১৯৯৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেট নর্দাম্পটনে পাকিস্তানকে ৬২ রানে হারানোর পর। ইংল্যান্ডে যখন খেলা শেষ হয়, তখন বাংলাদেশে অনেক রাত। কিন্তু এমন মাহাত্ম্যগাথা বিজয়ের পর কী আর বাঙালিরা ঘরে বসে থাকতে পারে? নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দলে দলে ঘর ছেড়ে বের হয়ে এসেছিলেন। রাতের আঁধারে হারিয়ে গিয়েছিলেন বাঙালি জাতির বাঁধভাঙা উল্লাসে।

এই যে দেশবাসীর বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাওয়াটা বাদ দিলে বাকিগুলো ছিল নিছক একটি জয়। এ রকম জয় এরপর আরও অনেক এসেছে। আর দেশবাসীও উল্লাসে মেতে উঠেছেন। কারণ বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এমন কোনো সাফল্য নেই, যা দিয়ে দেশবাসী আনন্দে মেতে উঠতে পারতেন। কিন্তু ক্রিকেট সেই উপলক্ষ এনে দিয়েছে বারবার। তাইতো অন্য কোনো ক্ষেত্রে যেখানে, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ডের মতো উন্নত দেশের পাশে বাংলাদেশের সমান্তরাল দাঁড়ানোর কোনো অবস্থান নেই, সেখানে ক্রিকেটের কল্যাণে সমান্তারাল উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। বেজেছে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ তাই বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এক একটি জয়, কোটি কোটি বাঙালির উচ্ছ্বাসের বিচরণ ক্ষেত্র। তা যেমন শুরুতে ছিল, দীর্ঘ পথযাত্রায় এখনো বহমান! বিষয়টি অবাক করার মতোই।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথ চলা শুরু করে ওয়ানডে ক্রিকেট দিয়ে। ১৯৮৬ সালে এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিচরণের প্রথম ক্ষেত্র। পাকিস্তানের কাছে ৭ উইকেটের হার দিয়ে শুরু হয়েছিল পথচলা। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই এশিয়া কাপই ছিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার একমাত্র মাধ্যম। প্রতি দুই বছর পরপর (কখনো কখনো দুই বছরেরও বেশি সময় পরে অনুষ্ঠিত হতো) একবার করে খেলার সুযোগ পেত। ২০০০ সালে আইসিসির টেস্ট পরিবারের ‘বনেদি সদস্য হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সামনে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার দিগন্ত প্রসারিত দরজা খুলে যায়। কালে-ভাদ্রে এশিয়া কাপ খেলার জন্য আর তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতে হয়নি।

বাংলাদেশ যখন এশিয়া কাপ খেলত, তখন সেখানে অংশগ্রহণটাই ছিল মুখ্য। হারকে মেনে নিয়েই খেলতে নামত। যে কারণে দলের প্রতি সে রকম কোনো আশাও ছিল না দেশবাসীর। তার চেয়ে বড় কথা এশিয়া কাপ খেলার প্রারম্ভিকে ক্রিকেট কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে সেভাবে গ্রহণযোগ্যও হয়ে উঠেনি। জনপ্রিয়তা ছিল না বললেই চলে। তখন দেশব্যাপী ফুটবলের জয়জয়কার। ক্রিকেট ছিল পেছনের সারিতে। ক্রিকেট নিয়ে বিপ্লব শুরু হয় ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি খেলে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পর। রাতারাতি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় জায়গা করে নেয়। শুরু হয় ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি। সেই মাতামাতি এমন পর্যায়ে চলে যায়, ক্রিকেট হয়ে উঠে মানুষের আত্মার বন্ধন। ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারানোর পর সেই মাতামাতিতে নতুন করে লেগেছিল ঢেউ। যে ঢেউয়ের সাগরে কোটি কোটি বাঙালি এখনো সাঁতার কেটে চলেছেন!

একসময় যে ক্রিকেট ছিল দেশবাসীর কাছে অনেক পেছনের কাতারে, সেই ক্রিকেট এখন সবার আগে। ক্রিকেট এখন ঢুকে পড়েছে দেশবাসীর দৈনন্দিন জীবনে। পরিণত হয়েছে আবেগের জায়গায়। ক্রিকেটের সাফল্যে হাসে, ব্যর্থতায় কষ্ট পায়। এই সাফল্য-ব্যর্থতার ডিঙ্গিতে চড়ে এগিয়ে চলেছে ক্রিকেট। দর্শকরা অন্তর দিয়ে গ্রহণ করেছেন বলেই ক্রিকেট শুধু আর খেলায়ই থাকেনি, ‘পণ্য’তেও পরিণত হয়েছে এবং সে পণ্য বেশ লাভজনকও। টিভি স্বত্ব, স্পন্সর থেকে আসছে কাড়ি কাড়ি টাকা। ফুলেফেঁপে উঠছে বিসিবির তহবিল। খেলোয়াড়ও হচ্ছেন আর্থিকভাবে লাভবান। কিন্তু যে ক্রিকেট মানুষের আবেগের জায়গা, এত মাতামাতি, মাঠে গিয়ে খেলা দেখার জন্য টিকিট পেতে নানান বঞ্চনার শিকার হওয়া, একটি কর্ম দিবসকে গলা টিপে হত্যা করা, এমন কি পকেটের টাকা খরচ করে দেশের বাইরে গিয়েও সমর্থন দিয়ে থাকেন। আর প্রবাসীরাতো দেশের খেলা হলে নিজেদের ব্যস্ত জীবনকে বাক্সবন্দি করে ছুটে যান মাঠে। বাংলাদেশ বাংলাদেশ আর ক্রিকেটারদের নাম ধরে গলা ফাটান। সেই ক্রিকেট আসলে দেশবাসীকে এখন পর্যন্ত কি দিতে পেরেছে? অঙ্কের হিসাবে সাফল্যের পাল্লা বলা যায় অনেকটা শূন্যই। দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মাঝে মাঝে ম্যাচ জয়, কখনো কখনো সিরিজ জয়- সাফল্য বলতে এই যা। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পেরেছে মাত্র একটি। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও উইন্ডিজের সঙ্গে খেলেছিল ত্রিদেশীয় সিরিজ। ফাইনালে উইন্ডিজকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র শিরোপা বাংলাদেশের শোকেচে।

ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ ৩৮ বছর ধরে। বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, এশিয়া কাপ, ত্রি-দেশীয় সিরিজ ও দ্বিপক্ষীয় সিরিজ মিলে এখন পর্যন্ত (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগ পর্যন্ত) ৪৩৮টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ১৫৯টিতে, হার ২৬৯ ম্যাচে, ১০টি ম্যাচে কোনো ফলাফল হয়নি। ১৫৯টি জয়ের মাঝে জিম্বাবুয়ে, উইন্ডিজ, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, কেনিয়া, স্কটল্যান্ড এ রকম দলের বিপক্ষে জয় এসেছে ১১১টি। এই জয়গুলোই প্রমাণ করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান! এখন পর্যন্ত দেশবাসীকে বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে শিরোপা এনে দিতে পারেনি দল। বিশ্বকাপতো অনেক দূরের রাস্তা, এশিয়া কাপেরও শিরোপা জেতার সামর্থ্য হয়নি। সর্বোচ্চ সাফল্য এশিয়া কাপে কয়েকবার ফাইনাল খেলে রানার্সআপ হওয়া।

১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে খেলে আসলেও সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ২০১৫ সালের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০১৭ সালের আসরে খেলেছিল সেমিফাইনাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ ছাড়া বলার মতো নেই কোনো সাফল্য। শুধু ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম আসরে ও ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্টইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরিয়ে যেতে পেরেছিল দ্বিতীয় পর্বে। সেখানে জিততে পারেনি কোনো ম্যাচ। এশিয়া কাপের আসরে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলেছে তিনবার। ওয়ানডেতে দুইবার, টি-টোয়েন্টিতে একবার। ২০১২ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের কাছাকাছি গিয়ে হেরেছিল ২ রানে। ঘরের মাঠে ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে বাংলাদেশের এমন হারে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছিল দেশবাসীর। ক্রিকেটার থেকে শুরু করে দর্শকরা পর্যন্ত অশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। ২০১৬ (টি-টোয়েন্টি) ও ২০১৮ সালে (ওয়ানডে) পরের দুই ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেরে উঠেনি। ২০১৬ সালের ফাইনালে সহজে হার মানলেও ২০১৮ সালের ফাইনালে শেষ বলে গিয়ে হেরেছিল।

 

চলবে...

মেসির চোখে ‘অস্বাভাবিক’ তালিয়াফিকো বললেন ‘অকল্পনীয়’

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৩ পিএম
মেসির চোখে ‘অস্বাভাবিক’ তালিয়াফিকো বললেন ‘অকল্পনীয়’
ছবি : সংগৃহীত

ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও এখনও আলোচনা থামছে না আর্জেন্টিনা ও মরক্কোর ম্যাচ নিয়ে। দর্শকদের উশৃঙ্খলতায় ম্যাচ থমকে গেলে প্রায় ঘন্টাদুয়েক পর আবারও ভিএআরের মাধ্যমে গোল বাতিল হলে সমতায় ফেরা আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয়। এই ম্যাচকে নিয়ে ফিফার কাছে নালিশ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও।

এই ম্যাচ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনা সিনিয়র দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিও। ইন্সটাগ্রাম স্টোরিতে তিনি লিখেন ‘অস্বাভাবিক’ ব্যবহার করেন একটি বিস্ময়ের চিহ্নও। এতেই স্পষ্ট মেসি ঠিক কতোটা হতভম্ব হয়েছেন।

মেসির আরেক সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল অলিম্পিকে অংশ নেওয়া আর্জেন্টিনা দলকে সমর্থন জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি তোমাদের পাশে আছি। তোমরা সবাইকে হারাতে পারো।’

প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেশেলসে ছুটি কাটাতে যাওয়া আরেক আর্জেন্টাইন তালিয়াফিকোও। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘সার্কাস ছাড়ুন। আমরা কি ম্যাচ স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে কথা বলছি নাকি বোকাদের মতো কাজ করছি? যদি এর উল্টোটা হতো (প্রতিপক্ষ গোল করত কিংবা প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে বোতল, অগ্নিশিখা ছুড়ে মারা হতো), তাহলে তারা কী বলত আমি কল্পনাও করতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, অলিম্পিক ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, দুই দলের কেউই যদি আর খেলতে না চায় তাহলে ম্যাচ সেখানেই শেষ হবে। আর্জেন্টিনার হয়ে মেদিনা শেষ মুহূর্তে গোল করায় ২-২ সমতায় নেমে আসা ম্যাচে দুই দলের কোনো খেলোয়াড়ই মাঠে নামতে চাননি ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিট বাকি থাকলেও।

কিন্তু উচ্ছৃঙ্খল দর্শকদের স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে খেলোয়াড়দের আবার মাঠে ডেকে পাঠান রেফারি। আর খেলোয়াড়েরা মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর অফসাইডের কারণে বাতিল করে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টাইনদের ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।

ফিফার কাছে আর্জেন্টিনার নালিশ

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৫ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১১:৪৫ এএম
ফিফার কাছে আর্জেন্টিনার নালিশ
ছবি : সংগৃহীত

অলিম্পিকে আর্জেটিনা ও মরক্কোর ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ। দর্শকদের অনুপ্রবেশের কারণে ঘন্টাদুয়েক বন্ধ থাকার পর মাঠে খেলা ফিরলেও বাতিল হয়ে যায় আর্জেন্টিনার গোল। বাকি ৩ মিনিটের খেলায় গোল করতে না পারায় ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ নিয়ে পর ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। 

দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (২৫ জুলাই) সেঁত এতিয়েনে ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল মরক্কো। সেই অবস্থা থেকে যোগ করা সময়ের ১৬তম মিনিটে ক্রিস্তিয়ান মেসিনা গোল করে সমতায় ফেরান আর্জেন্টিনাকে। 

সেই গোলের পরই মরক্কোর দর্শকরা মাঠে বোতল, প্লাস্টিকের কাপ ও অগ্নিশিখা ছুড়ে মারতে শুরু করেন। কিছু উচ্ছৃখল দর্শক ঢুকে পড়েন মাঠেও। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ স্থগিত করেন সুইডিশ রেফারি গ্লেন নাইবার্গ। সেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে সময় লাগে প্রায় দুইঘন্টা। এরপর রেফারি নাইবার্গ খেলোয়াড়দের আবারও মাঠে ডেকে পাঠান।

খেলোয়াড়েরা মাঠে নামতেই আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর যাচাইয়ের পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। সেখানেই জন্ম নেয় বিতর্কের। ম্যাচের বাকি ৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড খেলা চললেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর্জেন্টিনা। 

এমন ঘটনায় ক্ষুব্ধ তাপিয়া এক্সে লিখেছেন, ‘সেঁত এতিয়েনে আর্জেন্টাইনরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেল, সেটা আক্ষেপের বিষয়। দুই ঘণ্টা লকার রুমে অপেক্ষা করে ফুটবলারদের মাঠে যাওয়া, অনুশীলন করে আবার এমন একটা ম্যাচ শুরু করা, যেটি মরক্কো–সমর্থকদের মাঠে ঢোকার কারণে রেফারির খেলা স্থগিত করা উচিত ছিল। সহিংসতার কারণে আর্জেন্টাইন প্রতিনিধিরা ভুগেছে, এর কোনো মানেই হয় না। এটা টুর্নামেন্টের নিয়মের বরখেলাপ।’

তাপিয়া আরও লেখেন, ‘দুই দলের অধিনায়ক চেয়েছিল ম্যাচটা যাতে আর মাঠে না গড়ায়। কিন্তু তাদের মতামত শোনা হয়নি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমরা এরই মধ্যে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছি, যেন যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়, যারা দায়ী তাদের যেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।’

নাটকীয় হারে অলিম্পিক শুরু আর্জেন্টিনার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
নাটকীয় হারে অলিম্পিক শুরু আর্জেন্টিনার
ছবি : সংগৃহীত

অলিম্পিক ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ। সে ম্যাচে মরক্কোর কাছে আর্জেন্টিনা হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। যেখানে কিনা দেড়ঘন্টা পর বাতিল হয় আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটাই হয়েছে।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা। ২-২ ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচ শেষের প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর জানা যায়, ক্রিশ্চিয়ান মেদিনার করা আর্জেন্টিনার সে গোল অফসাইডে বাতিল হয়ে গেছে।

মূলত এই ম্যাচের অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তাতে আবার তিন মিনিট খেলা বাকি থাকতে গ্যালারির দর্শকরা মাঠে অনুপ্রবেশ করলে বিশৃঙ্খলায় ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বিরতি দিয়ে বাকি তিন মিনিট খেলতে নামে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। সে সময় আর গোলের দেখা না পাওয়ায় ২-১ গোলে হেরেই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় নিকোলাস ওটামেন্ডির দলকে।

এমনিতেও ম্যাচজুড়ে মরক্কোর বিপক্ষে ব্যাকফুটে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সোফিয়ানে রাহিমির গোলে ২-০ গোলের লিড পেয়ে যায় মরক্কো। ৬৮ মিনিটে জিউলিয়ানো সিমিওনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।