ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের পর কুরাসাওজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব। আর সেই আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোচ ডিক অ্যাডভোকেট মনে করেন, এই অর্জন মূলত সেই সমর্থকদের প্রাপ্য, যারা বিশ্বকাপ অভিষেকে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় পরাজয়ের পরও দলের প্রতি বিশ্বাস হারাননি।
মাত্র ১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটির মানুষের সমর্থনের প্রশংসা করে অ্যাডভোকেট বলেন, ‘কুরাসাওয়ের মানুষ একদম শুরু থেকেই আমাদের সমর্থন দিয়ে আসছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে ৭-১ গোলে হারার পরও দ্বীপটিতে মানুষজন উদযাপন করছিলেন এবং আনন্দে মেতে ছিলেন।’ ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে গোলরক্ষক এলোয় রুমের অবিশ্বাস্য ১৫টি সেভে ভর করে অর্জিত এই ফলাফলকে তিনি দেশের মানুষের জন্য একটি বিশেষ উপহার হিসেবেই দেখছেন, ‘আজ (গতকাল) সেখানে রীতিমতো উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। তাই আমি মনে করি, যেসব মানুষের জীবন সব সময় সহজ কাটে না, তারা এই সাফল্য মনভরে উদযাপন করুক, এটাই আমার চাওয়া।’
জার্মানির বিপক্ষে বড় ব্যবধানের হারের পরও খেলোয়াড়দের ভক্তরা যে উষ্ণ সমর্থন ও ভালোবাসা ঘিরে রেখেছিল, সেটিই দলের ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম প্রেরণা হয়ে উঠেছিল বলে জানান অভিজ্ঞ এই ডাচ কোচ, ‘আজ আমি প্রথম ম্যাচের মতো অতটা আবেগপ্রবণ ছিলাম না, একদমই না। কারণ, আমার মনে হচ্ছিল আমরা এবার সত্যিকার অর্থে ম্যাচটি খেলছি। আর যখন দল ঠিকমতো খেলে, তখন আবেগতাড়িত হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।’
অনেকের মতে, জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয় বিশ্বকাপে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত আসর নিয়ে সমালোচকদের শঙ্কাকেই সত্যি প্রমাণ করছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণে একপেশে ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে। তবে অ্যাডভোকেট মনে করেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার দলের পারফরম্যান্সই কুরাসাওয়ের প্রকৃত সামর্থ্যের প্রতিফলন, ‘হয়তো জার্মানির মুখোমুখি হওয়াটা আমাদের জন্য একটু দ্রুত হয়ে গিয়েছিল। সেদিন তারা আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল, কিন্তু আজ দল যেভাবে মাঠে দাঁড়ানো উচিত ছিল, ঠিক সেভাবেই দাঁড়িয়েছে।’
নিজের খেলোয়াড়দের প্রশংসা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা সিংহের মতো লড়াই করেছে। আর তখনই আপনি দেখতে পাবেন যে, অত্যন্ত উঁচু মানের এবং দারুণ ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একটি দলের বিপক্ষেও কী অর্জন করা সম্ভব।’
‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে এখনো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা বেঁচে আছে কুরাসাওয়ের। তাই দেশের মানুষের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট, ‘দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে আমি কী বলব? আমাদের এভাবেই সমর্থন দিয়ে যান, আমাদের সাহায্য করে যান। এটি আমাদের ডানা মেলে উড়তে সাহায্য করে। আমরা এই দেশের জন্যই লড়াই করি।’
শেষ ম্যাচে কুরাসাও মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্টের। অন্য ম্যাচে ইকুয়েডর খেলবে জার্মানির বিপক্ষে। প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট পাওয়ার পর নতুন স্বপ্নে বিভোর কুরাসাও এখন অপেক্ষায় আরও একটি ঐতিহাসিক রাতের।