ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পেকুয়ায় শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক? গোয়ালন্দে প্রশাসনের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নিল মাদক ব্যাবসায়ীরা ৬ষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬-এ ইস্পাহানির অনন্য অর্জন মোহাম্মদপুরের সন্ত্রাসী ‘মাওরা সোহেল’ গ্রেপ্তার মাদকে জড়িত বিএনপি নেতাকর্মীদের আগে গ্রেপ্তার করুন: এমপি মামুন দিনাজপুরে পুরাতন বইয়ের বাজারে মন্দা, কমেছে পাঠক বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে নোবিপ্রবিতে উৎসবের আমেজ কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক উল্টে চালক ও সহকারী নিহত মা-বাবাকে অবহেলা করো না, জাহান্নাম নেমে আসবে পৃথিবীতে! রংপুরে প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার তামু ও তার সুপারহিরো বাবার গল্প বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচ ডিজিটাল রূপান্তরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ঢাকায় ১২তম ডিজিটাল সামিট অনুষ্ঠিত আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা দোকানের তালা ভেঙে ১ হাজার ৪৪০ ক্যান বাংলাদেশি বিয়ার জব্দ খবরের কাগজের বাগেরহাট প্রতিনিধিকে প্রাণনাশের হুমকি! আজ বিশ্ব সংগীত দিবস সৃজনশীল অর্থনীতি: বাংলাদেশের নতুন প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে নদ-নদীর পানি আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে : ডা. শফিকুর রহমান স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড ঢাকার বাতাস আজ ‘সহনীয়’, দূষণের শীর্ষে জাকার্তা টাকার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত উখ্যাইংওয়ংয়ের সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য ২১ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল

নাটকীয় হারে অলিম্পিক শুরু আর্জেন্টিনার

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০:৫৭ এএম
নাটকীয় হারে অলিম্পিক শুরু আর্জেন্টিনার
ছবি : সংগৃহীত

অলিম্পিক ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় পরিপূর্ণ। সে ম্যাচে মরক্কোর কাছে আর্জেন্টিনা হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল আলবিসেলেস্তেরা। যেখানে কিনা দেড়ঘন্টা পর বাতিল হয় আর্জেন্টিনার সমতাসূচক গোল। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমনটাই হয়েছে।

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে ১-২ গোলে পিছিয়ে থাকার পর যোগ করা সময়ে সমতাসূচক গোল পায় আর্জেন্টিনা। ২-২ ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচ শেষের প্রায় ঘণ্টা দেড়েক পর জানা যায়, ক্রিশ্চিয়ান মেদিনার করা আর্জেন্টিনার সে গোল অফসাইডে বাতিল হয়ে গেছে।

মূলত এই ম্যাচের অতিরিক্ত সময় নির্ধারণ করা হয় ১৫ মিনিট। তাতে আবার তিন মিনিট খেলা বাকি থাকতে গ্যালারির দর্শকরা মাঠে অনুপ্রবেশ করলে বিশৃঙ্খলায় ম্যাচ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক বিরতি দিয়ে বাকি তিন মিনিট খেলতে নামে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। সে সময় আর গোলের দেখা না পাওয়ায় ২-১ গোলে হেরেই শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয় নিকোলাস ওটামেন্ডির দলকে।

এমনিতেও ম্যাচজুড়ে মরক্কোর বিপক্ষে ব্যাকফুটে ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সোফিয়ানে রাহিমির গোলে ২-০ গোলের লিড পেয়ে যায় মরক্কো। ৬৮ মিনিটে জিউলিয়ানো সিমিওনের গোলে ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। 

তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক?

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ১০:৫১ এএম
তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচে রেফারির কেন বিশেষ পোশাক?
ছবি: সংগৃহীত

চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের 'এফ' গ্রুপের ম্যাচে মন্তেরেই স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছে তিউনিসিয়া ও জাপান। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে মাঠে নামেছে এই দুই দল। তবে এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ম্যাচ অফিশিয়ালদের (রেফারি) বিশেষ পোশাক।

তিউনিসিয়া বনাম জাপানের এই ম্যাচটি পরিচালনা করছেন রোমানিয়ার রেফারি ইস্তভান কোভাকস, যিনি ২০১৮ সাল থেকে ফিফা-অনুমোদিত রেফারি হিসেবে কাজ করছেন। এই ম্যাচে তিনি এবং মাঠের বাকি অফিশিয়ালরা একটি বিশেষ জার্সি ও ব্যাজ পরে মাঠে নেমেছেন। 

১৯৩০ সালে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের এটিই হতে যাচ্ছে ১০০০তম ম্যাচ। আর এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতেই ফিফার এই বিশেষ উদ্যোগ।

বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডিডাস’ এই বিশেষ জার্সিটি ডিজাইন করেছে। জার্সিটির হাতায় রয়েছে সোনালী রঙের স্ট্রাইপ এবং বুকে শোভা পাচ্ছে একটি বিশেষ ‘ম্যাচ ১০০০’ প্যাচ ।

ম্যাচ শুরুর আগে রেফারিদের হাতে এই বিশেষ জার্সি তুলে দেন ফিফার চিফ রেফারিইং অফিসার এবং ফিফা রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান, কিংবদন্তি সাবেক রেফারি পিয়েরলুইজি কোলিনা।

ঐতিহাসিক এই মাইলফলক স্পর্শের পাশাপাশি ম্যাচটি রেফারি কোভাকসের জন্যও বেশ স্পেশাল। কারণ রেফারি হিসেবে এটিই হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনা।

পাপ্পু/আমান

আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
আমরা শুধু কেপ ভার্দে নই, পুরো আফ্রিকার জন্য খেলছি: বুবিস্তা
কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা বলেন, তাঁদের এই বিশ্বকাপ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হলো বিশ্বমানচিত্রে কেপ ভার্দিয়ানদের দৃঢ়ভাবে পরিচিত করে তোলা। | ছবি: এপি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে আজ এক নতুন রূপকথার জন্ম দিতে মাঠে নামছে আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে দলটির প্রধান কোচ বুবিস্তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল কেবল নিজেদের দেশের জন্য নয়, বরং পুরো আফ্রিকান মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে মাঠে নামবে।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘আন্ডারডগ’ বা দুর্বল দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, কেপ ভার্দে তাদের ফুটবলীয় দক্ষতা ও মানসিক শক্তি দিয়ে বিশ্বমঞ্চে চমক দেখাতে প্রস্তুত।

ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তা তার দলের আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমরা জানি উরুগুয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের সমৃদ্ধ ফুটবল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি। মাঠে যখন আমরা নামব, তখন আমাদের মনে থাকবে যে আমরা শুধু কেপ ভার্দের ৫ লক্ষ মানুষের জন্য খেলছি না, আমরা খেলছি পুরো আফ্রিকার জন্য। আমাদের লক্ষ্য এই বিশ্বমঞ্চে আফ্রিকান ফুটবলের গর্ব ও সামর্থ্য তুলে ধরা।'

তিনি আরও যোগ করেন যে, টুর্নামেন্টে ফেভারিট না হওয়ার বিষয়টি তাদের ওপর থেকে সব চাপ দূর করে দিয়েছে, যা তাদের মুক্তমনে স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে সাহায্য করবে

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস -এ দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে কেপ ভার্দে। দলগত সংহতি এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং বা পাল্টা আক্রমণের ওপর ভিত্তি করে তারা উরুগুয়ের বিশ্বমানের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, উরুগুয়ে দলে রয়েছে একঝাঁক তারকা ফুটবলার। তবে কেপ ভার্দের অদম্য ইচ্ছা এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী ফুটবল খেলার ধরন উরুগুয়ের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

বিশ্বকাপের ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে কেপ ভার্দের মতো ছোট দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে আজ তারা নতুন কোনো ইতিহাস লিখতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে পুরো ফুটবল বিশ্ব ও আফ্রিকান মহাদেশ। সূত্র: স্পোর্টস্টার

আজহার/

ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
ইতিহাসের পাতায় তিউনিসিয়া-জাপান ম্যাচ: ফুটবল বিশ্বকাপের ১০০০তম লড়াই
মেক্সিকোর মনট্রে স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ঐতিহাসিক ১,০০০তম ম্যাচ। | ছবি: এপি

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবল। মেক্সিকোর মনট্রে স্টেডিয়ামে ‘এফ’ গ্রুপের তিউনিসিয়া বনাম জাপানের মধ্যকার ম্যাচটি হতে যাচ্ছে পুরুষ ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসের ১,০০০তম ম্যাচ।

১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে মাত্র ১৩টি দেশ নিয়ে শুরু হওয়া ফুটবল বিশ্বকাপ আজ বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত হয়েছে। সেই যাত্রারই এক মহিমান্বিত মুহূর্ত উদযাপিত হচ্ছে মেক্সিকোর মাটিতে, যা বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজন করার কীর্তি গড়েছে।  

ফুটবল ইতিহাসের এমন একটি স্মরণীয় ম্যাচের অংশ হতে পেরে রোমাঞ্চিত দুই দলের খেলোয়াড়রাই। তিউনিসিয়ার মিডফিল্ডার ও অধিনায়ক এলিস স্কিরি বলেন, 'বিশ্বকাপের ১,০০০তম ম্যাচের অংশ হতে পারাটা সত্যিই দারুণ প্রতীকী এবং গর্বের বিষয়।'

জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু এই ম্যাচটিকে তাদের দল এবং পুরো এশিয়ান ফুটবলের জন্য এক বিশাল সম্মান হিসেবে দেখছেন। 

এই ১,০০০তম ম্যাচটি বিশ্ব ফুটবলের এক বিশাল পরিবর্তনের প্রতীক। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে যেখানে মাত্র ১৩টি দেশ অংশ নিয়েছিল, সেখানে ২০২৬ সালের এই আসরের বাছাইপর্বেই রেকর্ড ২০৯টি দেশ অংশ নিয়েছে। এবারই প্রথম রেকর্ড ৪৮টি দেশ নিয়ে বড় পরিসরে বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে। যার ফলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া অঞ্চলের ছোট ছোট দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে খেলার এক নতুন দুয়ার খুলে গেছে।  

ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানোর পাশাপাশি দুই দলের জন্যই ম্যাচটির গুরুত্ব অপরিসীম।

জাপান নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের  সঙ্গে ২-২ গোলে নাটকীয় ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে 'সামুরাই ব্লু'-রা। এই ম্যাচে জয় তাদের শেষ ৩২-এর পথ সহজ করে দেবে।  

অন্যদিকে, প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে ব্যাকফুটে রয়েছে তিউনিসিয়া। বিশ্বকাপে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই তাদের সামনে।

অতীতের পরিসংখ্যান অবশ্য জাপানের পক্ষেই কথা বলছে। ২০০২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের প্রীতি ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল জাপান। তবে মনট্রের এই ঐতিহাসিক রাতে মাঠের লড়াইয়ে নতুন গল্প লিখতে প্রস্তুত দুই দলই। সূত্র: স্পোর্টস্টার

আজহার/

দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
দেয়াল হয়ে দাঁড়ালেন এলোয় রুম: কুরাসাও গোলরক্ষকের বিশ্বরেকর্ড
ইকুয়েডর ম্যাচে রেকর্ড গড়া ১৫ সেভে অনবদ্য কুরাসাও গোলরক্ষক এলোয় রুম। | ছবি: রয়টার্স

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মঞ্চে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা তৈরি করলেন কুরাসাওয়ের ৩৭ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এলোয় রুম (Eloy Room)। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচে একা হাতে দলের দুর্গ রক্ষা করে ফুটবল বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন তিনি। 

ম্যাচটিতে ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ যেভাবে তিনি রুখে দিয়েছেন, তা ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে। পুরো ম্যাচে ইকুয়েডর কুরাসাওয়ের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে ২০টিরও বেশি শট নেয়। কিন্তু গোল লাইনের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এলোয় রুম।পুরো ৯০ মিনিটে তিনি ১৫টি নিশ্চিত গোল সেভ করেন।

ফুটবল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালের পর অতিরিক্ত সময় ছাড়া বিশ্বকাপের মূল পর্বের কোনো ম্যাচে কোনো গোলরক্ষকের এটাই সর্বোচ্চ সেভ করার বিশ্বরেকর্ড। 

শুরু থেকেই ইকুয়েডরের তারকারা কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে ফেলার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল। ম্যাচের ৩ মিনিটেই প্রথম আক্রমণ ঠেকিয়ে নিজের ফর্মের জানান দেন রুম। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডরের আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়।

চেলসির মইসেস কাইসেডো, এনার ভ্যালেন্সিয়া এবং কেভিন রদ্রিগেজের একের পর এক জোরালো শট ও হেড অবিশ্বাস্য চপলতায় ও দক্ষতায় প্রতিহত করেন এই মিয়ামি এফসি-র গোলরক্ষক। বিশেষ করে ম্যাচের ৬৫ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া এবং রদ্রিগেজের পরপর দুটি শট গোললাইন থেকে বাঁচিয়ে দেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর কুরাসাওয়ের এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিন মনে থাকবে। মাত্র ১ লক্ষ ৫০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি এলোয় রুমের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই ইকুয়েডরকে ০-০ গোলে আটকে দিতে পেরেছে। 

এই ড্রয়ের মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ পয়েন্ট অর্জন করল কুরাসাও। ম্যাচ শেষে তাই ড্র করার পরেও পুরো কুরাসাও দলের আনন্দ ছিল বিশ্বজয়ের মতোই। সূত্র: দ্য হিন্দু

আজহার/

সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ২১ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
সাম্বা সাম্বা সাম্বা, ফিরে এল সাম্বা নৃত্য
ব্রাজিলের জোড়া গোলদাতা ম্যাথিউস কুনিয়ার ব্যতিক্রম উদযাপন। ছবি: সংগৃহীত

কোথায় ১৯৫৮, ৬২, ৬৬ সালের বিশ্বজয়ী ব্রাজিলের পেলে, গারিঞ্চা, ভাভা, ১৯৯৪ সালের শিরোপা পুনরুদ্ধারকারী দলের তাফারেল, দুঙ্গা, রোনালদো, কাফু, আলদাইর, রোমারিও, বেবেটো, জর্জিনো, ২০০২ সালের চ্যাম্পিয়ন দলের রোনালদিনহো, রোনালদো, রিভালদো, ডেনিলসন, রবার্টো কালোর্স, কাকার ব্রাজিল আর কোথায় এবারের ব্রাজিল!

একসময় যে দলে ছিল বিশ্বমানের তারকার ছড়াছড়ি, নাম ছিল সবার মুখে মুখে। খেলা দেখার জন্য সবাই থাকতেন উদগ্রীব হয়ে, এখানে সেখানে তারকা খুঁজতে হয় জাল ফেলে! বিশ্বমানের তারকা বলতে যা বোঝায় সেখানে নাম আসে নেইমার আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। রাফিনহা, কুনিহা, কাসেমিরো, আলিসনও তারকা। কিন্তু তাদের নামে সমর্থকরা মন্ত্র পড়েন না।

এবারের ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি তারকাসমৃদ্ধ দল ছিল ১৯৮৬ সালে। যে দলে ছিলেন জিকো, সক্রেটিস, ফ্যালকাও জুনিয়র, কারেকার মতো সুপারস্টার। কিন্তু তাদের নিয়েও ব্রাজিল শিরোপা জিততে পারেনি। এমন কি ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে আসরে নেইমার, থিয়াগো সিলভা, মার্সেলো, পুলিনহো, ফ্রেড, হাল্ক, দানি আলভেস, জুলিও সিজারদের নিয়েও ব্রাজিল শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়। সেমিফাইনালে জামার্নির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল। পরে হয়েছিল চতুর্থ। তাই এই দল নিয়ে ব্রাজিল এবার কতদূর যাবে সেটা এক বিরাট প্রশ্ন।

ব্রাজিলকে নিয়ে এই প্রশ্ন শুরু হয় এবারের আসরে মরক্কোর বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচেই। ২০০২ সালের পর থেকে শিরোপা জিততে না পারা ব্রাজিলের হেক্সা মিশন শুরু হয় গোল হজম করে। ব্রাজিল তাদের ছন্দে ছিল না। খেলা দেখে সমর্থকদের মন আঁতকে উঠে। তারা হতাশ হন। আবার দলের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার নেইমার ইনুজরির কারণে খেলেননি।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই ভরসা। সেই ভিনিই পরে ব্রাজিলকে রক্ষা করেন গোল পরিশোধ করে। হতাশ বদনে ড্র করে মাঠ ছাড়েন সাম্বার সমর্থকরা। বুক ফাটে তো মুখ ফুটে না তাদের। বুকে পাথর চাপা দিয়ে সব সহ্য করেন। তাদের এ রকম অবস্থার মাঝে আবার আর্জেন্টিনা শুরু করে উড়ন্ত শুরু। খুদে জাদুকর মেসি করেন হ্যাটট্রিক। লা আলবিসেলেস্তের সমর্থকরা যেন রীতিমতো আকাশে উড়ছেন।

একদিকে দুখের রজনি, অপরদিকে আনন্দের বন্যা। কিন্তু সেলেসাওদের করার কিছুই ছিল না। তাদের কিছু করে দেখাতে হলে দলকে জেগে উঠতে হবে। প্রয়োজন জয়। তবেই হবে পাল্টা জবাব। 

বিশ্বকাপ ফুটবলে ফিফা দলের সংখ্যা যতই বৃদ্ধি করুক না কেন, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন তাতে কমবে না। গোটা বিশ্বে বলা যায় এই দুই দেশের সমর্থকরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেখানে তো থাকে ‘হাইভোল্টেজ’। মনে হবে একসময়ের আবাহনী-মোহামেডান খেলছে। সময়ের পরিক্রমায় মোহামেডান-আবাহনী নিয়ে সেই উন্মাদনা এখন আর নেই। কিন্তু রয়ে গেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে নিয়ে সেই মাতাল উন্মাদনা।

আগে ছিল কথার লড়াই। এখন সেখানে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও। কে কাকে কতভাবে ট্রল করতে পারেন, তার একটা প্রতিযোগিতাও চলে। মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করার পর ব্রাজিলের সমর্থকদের হতে হয়েছে ট্রলের শিকার। তবে সেই ট্রল আর বাড়তে দেওয়া কিংবা ঈশান কোণে ঝড় আর উঠতে দেননি ভিনিসিয়ুস-রাফিনহা-কুনহারা। লক্ষ্য যাদের ‘হেক্সা’ জয়, সেখানে কি তারা আর পেছনে ফিরে তাকাতে পারেন? হাইতির বিপক্ষে ফিরে আসে সাম্বা নৃত্য।

ছন্দের তালে তালে একের পর এক গোল করতে থাকেন। গ্যালারিতে দেখা যায় সেই চির চেনা সাম্বা নৃত্য। প্রথমে তাদের সেই উপলক্ষ এনে দেন ২৩ মিনিটে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ম্যাথিউস কুনহা। ১৩ মিনিট পর তিনি দ্বিতীয় গোল করে আবারও তাদের একই উপলক্ষ এনে দেন তিনি।

মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে দলকে বাঁচানো ভিনিসিয়ুস বিরতির আগে ইনজুরি টাইমে গোল করে ব্রাজিলিয়ানদের সুখের রাজ্য আরও বিস্তৃত করে দেন। কুনহার গোলে সেই যে সাম্বা শুরু হয়েছিল, তা আর থামেনি। প্রথমার্ধেই ৩ গোল পেয়ে যাওয়াতে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি উন্মাতাল সাম্বা নৃত্যের অপেক্ষা করতে থাকেন সবাই। কিন্তু কোনো গোল হয়নি। তবে গোল না হলে কী হবে সাম্বা নৃত্য কিন্তু থামেনি। শেষ বাঁশি বাজার পরও চলতে থাকে।

২০০২ সালের পর থেকে শিরোপার খরায় ভুগতে থাকে ব্রাজিল তাদের হেক্সা মিশন পূরণ করতে গিয়ে পরের ৫ আসরেই হোঁচট খেয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ ও ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল। ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে চতুর্থ হয়েছিল। বিবর্ণ ড্রয়ের পর স্বস্তির জয়ে সেলেসাওদের মনের ভেতর জমাট হয়ে থাকা পাথর সরে গেছে।

এখনো দৃষ্টি সামনে। কোচ আনচেলত্তি চান আরও ভালো খেলে উন্নতি করতে। আপাতত থাকতে চান গ্রুপের শীর্ষে। সে ক্ষেত্রে হারাতে হবে স্কটল্যান্ডকে। ২৫ জুন বৃহস্পতিবার মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে খেলা। এই ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা আছে দলের প্রাণভোমরা নেইমারের। তিনি খেললে বেড়ে যাবে খেলোয়াড়দের মনোবল। চাঙ্গা হবে দল। সাম্বা নৃত্যে ঢেউ লাগবে আরও বেশি করে।