যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। বাঙালি সমাজে এমন বাক্য সর্বজনবিদিত। শুধু তাই নয়, বৈশ্বিক আবহেও এটি সর্বজনীন। নারীরা সর্বংসহা, মানে সব ক্ষেত্রে এদের সহ্যক্ষমতা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি। আর সেটা হোক সংসার জীবন কিংবা কর্মক্ষেত্রে। খেলাধুলার দিকে তাকালে এই চিত্রটা আর স্পষ্ট হয়। যেমন নাদা হাফেজ। মিসরীয় এই নারী অ্যাথলেট প্যারিস অলিম্পিকে লড়েছেন ফেন্সিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকতার ইভেন্টে।
প্রথম রাউন্ডে জয়ের পর তার বিদায় হয়েছে শেষ ষোলো থেকে। যেকোনো অ্যাথলেটের জন্য এমন ঘটনা নিত্যই। তবে নাদা হাফেজ ব্যতিক্রম। কারণ তিনি কোর্টে লড়েছেন ৭ মাসের অনাগত সন্তান পেটে নিয়ে। আর তাই বিদায় বেলায় পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে অশ্রুসিক্ত ছিলেন নাদা। প্যারিস অলিম্পিক দেখল গর্ভবতী এক মায়ের কান্না।
২৬ বছর বয়সী নাদা হাফেজ শুধু একজন ফেন্সার নন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন চিকিৎসক। স্পষ্ট করে বলল প্যাথলজিস্ট। টানা তৃতীয়বারের মতো অলিম্পিক ফেন্সিংয়ে মেয়েদের ব্যক্তিগত স্যাবরে ইভেন্টে অংশ নিলেন নাদা হাফেজ। পদক জিততে না পারলেও এবারের ইতিহাসটা ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখার মতো।
প্যারিসের গ্রঁ পালাইয়ে নিজের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের এলিজাবেথকে ১৫–১৩ পয়েন্টে হারিয়ে ওঠেন শেষ ষোলোয়। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর পারেননি নাদা হাফেজ। শেষ ষোলোয় হেরে যান দক্ষিণ কোরিয়ার হা-ইয়াং জিওনের সঙ্গে। বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে দর্শকদের অভিবাদনের জবাবের সময় ডুকরে কেঁদে ওঠেন নাদা। আবেগী পরিবেশ ভর করে গ্রঁ পালাইয়ে।
পরে বিস্তারিত নিজের অভিব্যক্তি নাদা জানান ইনস্টাগ্রামে। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘পোডিয়ামে আপনারা দুজন খেলোয়াড়কে দেখেছেন, আসলে আমরা তিনজন ছিলাম! আমি, আমার প্রতিদ্বন্দ্বী এবং আমার ছোট্ট সন্তান, যে এখনো পৃথিবীতে আসেনি!’ মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে উঠে আসা এই ফেন্সার আরও লিখেছেন, ‘আমি ও আমার সন্তান শারীরিক ও মানসিকভাবে (প্রতিপক্ষকে) দারুণ চ্যালেঞ্জ জানাতে পেরেছি। এটা গর্বের।’
অন্তঃসত্ত্বা হয়েও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ নাদার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। এর পেছনে ছিল পরিবারের সমর্থন। বিশেষ করে স্বামী ইব্রাহিম ইহাবের পরম আন্তরিকতা। পরিবার সমর্থন দিলেও শারীরিক এই অবস্থায় অলিম্পিক যাত্রাটা নাদার কাছে ছিল বেশ কঠিন।
এ প্রসঙ্গে নাদা হাফেজ বলেন, ‘গর্ভাবস্থার এই রোলারকোস্টার যাত্রা বেশ কঠিন। কিন্তু জীবন ও খেলাধুলার ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য এই লড়াই কোনো দিক থেকে কম তীব্রতর ছিল না। এটা আমার কাছে মূল্যবান। আমি ভাগ্যবতী যে আমার স্বামী ও পরিবারের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি এবং এত দূর আসতে পেরেছি।’
পরের অংশে নাদা লিখেছেন, ‘আমি তিনবারের অলিম্পিয়ান। তবে এবার আমি অলিম্পিকের মঞ্চে আমার লিটল অলিম্পিয়ানকেও বহন করছি।’ নাদা হাফেজকে নিয়ে প্রশংসায় মেতেছেন অনেকে। ইনস্টাগ্রামে একজন লিখেছেন, ‘তার এই অর্জন সব নারীর জন্য অনুপ্রেরণার। বিশেষ করে যেসব নারী চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজ করছেন।’