আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছেন লিওনেল মেসি। দ্বিতীয় ম্যাচে কেমন করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক? ডালাসে বাংলাদেশ সময় গতকাল রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল প্রতিযোগিতার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। অর্থাৎ এই লেখা পড়তে পড়তে ম্যাচের ফল সবার জানা হয়ে গেছে। জানা হয়ে গেছে শুরুর প্রশ্নের উত্তরও।
মেসি যেমনই করুন, তার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বোধ আর কোনো সংশয় কারও নেই। এক জীবনে যা কিছু জয় করা সম্ভব, তার সবই তো করেছেন ইন্টার মায়ামি তারকা। আগামীকালই ৩৮ বছর পূর্ণ করবেন। এই বয়সেও থামবার নাম নেই। বরং সেই তরুণ বয়সের মতোই সবাইকে মুগ্ধতার আবেশে জড়িয়ে রেখেছেন।
শুধু ভক্তরাই নন, মেসিকে দেখে একই রকম মুগ্ধ ও বিস্মিত হন তার সতীর্থরা। আর্জেন্টিনা দলের অন্যতম সদস্য আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কথাই ধরা যাক। এই মিডফিল্ডার মেসির সঙ্গে শুধু ড্রেসিংরুম শেয়ার নয়, একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতেছেন। অর্থাৎ মাঠের মেসিকে খুব ভালো চেনেন তিনি। সেই অ্যালিস্টার বলছেন, মেসি এমন এক খেলোয়াড় যাকে কখনো অনুকরণ করা যায় না। এমনকি মেসির মতো আর কেউ আসবে না বলেও সাফ ঘোষণা তার।
অ্যালিস্টারের কথায়, ‘আমি লিওর সঙ্গে থাকতে খুব উপভোগ করি। তার মতো আর কেউ আসবে না। তাকে পাশে থেকে খেলতে দেখাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। তিনি যা করেন, সেগুলো স্বাভাবিক নয়। আমার দিক থেকে আমি শুধু এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করি। তিনি যা করেন, সেখান থেকে শেখা খুব কঠিন। কারণ, আপনার মাথায় হয়তো কৌশলটা আসবে, কিন্তু আপনি কখনোই মাঠের ভেতর হুবহু সেভাবে তা করে দেখাতে পারবেন না।’ অ্যালিস্টার তাই মেসির কাছ থেকে কেবল মূল্যবোধ ও বিনয় শেখার চেষ্টা করেন।
মেসির প্রতি আসলে মুগ্ধতার শেষ নেই অ্যালিস্টারের। তার বাবা কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টারও খেলেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। যদিও খুব বেশি ম্যাচ খেলা হয়নি। তবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ও ক্লাব বোকা জুনিয়র্স, দুই জায়গাতেই কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সঙ্গে খেলেছেন কার্লোস। বাবা ম্যারাডোনার সঙ্গে খেলেছেন, আর তিনি মেসির সঙ্গে।
ম্যাক অ্যালিস্টার তাই নিজের পরিবারকে খুব সৌভাগ্যবান মানেন, ‘ফুটবলের জগতে আমরা খুবই ভাগ্যবান একটি পরিবার। অবশ্যই আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করি, কিন্তু খেলার সুযোগ তো আর সবার হয় না। আমার বাবা খেলেছেন ম্যারাডোনার সঙ্গে আর আমি মেসির সঙ্গে।’
লিওনেল মেসি এখন মাঠে নামা মানেই কোনো না কোনো রেকর্ড। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও একগুচ্ছ রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার কথা তার। যার একটি হতে পারে– বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এককভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা। গত ম্যাচের আগ পর্যন্ত ১৬ গোলে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে রেকর্ড ভাগাভাগি করছিলেন তিনি। অর্থাৎ আর একটি গোল করলেই এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন তিনি।
এদিকে ১৪ গোল করে মেসিকে ধাওয়া করছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কে জানে, গতরাতে ইরাকের বিপক্ষে দুর্দান্ত কিছু করে এমবাপ্পেই শীর্ষে উঠে গেলেন কিনা! তবে মাঠে নামার আগে এমবাপ্পের কণ্ঠেও ছিল মেসি বন্দনা। শুধু তাই, এই রেকর্ডে আপাতত মেসিকেই এগিয়ে রাখছেন এমবাপ্পে। বলেছেন, ‘তিনি আমার চেয়ে এগিয়ে, আমি পেছনে।’