ভুটানের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন বর্তমান কোচ পিটার বাটলার। এই ইংলিশ দাবি করেছিলেন, ‘বাফুফের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু লোক, সাবেক কোচ, সাবেক জাতীয় দলের কোচ দলকে বিরক্ত করছে, প্ররোচিত করার চেষ্টা করছে এবং মেয়েদেরকে পুরোপুরি অসত্য তথ্য দিচ্ছে।’
যদিও নাম উল্লেখ করেননি বাটলার, তবে তার অভিযোগের তীড় যে ছোটনের দিকেই ছিল সেটা পরিস্কার। অথচ সাফ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে আসা বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের বক্তব্যের সঙ্গে এর মিল পাওয়া যাচ্ছে না।
ভারতকে হারানোর পর বাংলাদেশ অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেছিলেন, ছোটনের একটি বার্তা তিনি সব খেলোয়াড়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সবাইকে বলেছিলেন, বার্তাটা তার (সাবিনা) নিজের। তবে আসলে বার্তাটা ছিল ছোটনের। সেই বার্তাতেই দল উজ্জীবিত খেলেছে বলে মন্তব্য করেন সাবিনা। তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি প্রত্যেকটা ম্যাচের আগে ট্রাই করি ছোটন স্যারের সঙ্গে একটু কথা বলার। কারণ ১৪ বছরের সম্পর্ক ওনার সঙ্গে। আমার কাছে মনে হয় যে আমার থেকে ভালো উনি আমাকে চেনেন। শুধু আমাকে না, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়দেরই।’
আর ভুটনাকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর ম্যাচসেরা হওয়া তহুরা খাতুন যে দুজনকে ট্রফি উৎসর্গ করেন, তাদের একজন ছোটন। তাই বাটলারের দাবি কতটা সত্য সে নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। আজ (সোমবার) কাঠমান্ডুর কালিমাটির সলটি হোটেলের লবিতে এই বিষয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন সাবিনা।
ছোটনকে নিয়ে বাটলারের করা বিস্ফোরক মন্তব্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে সাবিনার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতে চাওয়া হয়। এই প্রতিবেদকের করা প্রশ্নে সাবিনা বলেন, ‘ব্যাপার হচ্ছে স্যারকে (ছোটন) নিয়ে উনি কতটুকু জানেন। আপনি তো তখনই তাকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন, যখন আপনি তার সম্পর্কে জানবেন।’
সাবিনা বলে যান, ‘১৪ বছর ধরে উনি যে মেয়েগুলোকে সন্তানের মতো বড় করেছেন, আপনি তাদের সঙ্গে কেমন ট্রিট করছেন, সেটাও একটি বিষয়। সেটা দেখে যদি উনার (ছোটন) খারাপ লেগে থাকে এবং উনি কমেন্ট করে থাকে, তাহলে সেটা অন্যায়ের কিছু না।’
সাবিনা যোগ করেন, ‘সেই সাথে সাথে যদি দেশের মানুষও উনার (ছোটন) অবদানের কথা ভুলে যায়, যদিও আমরা বাঙালি… মূল্যায়ন করতে জানি না। যদি ভুলে যায় তাহলে দুঃখজনক।’
সিনিয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ইংলিশ কোচ বাটলারের সম্পর্ক যে বেশ শীতল, এবারের সাফের শুরু থেকেই সেটা বেশ আঁচ করা যাচ্ছে। বাটলার প্রায়ই বলে যাচ্ছেন তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলে এসেছেন, বড় দলে কোচিং করিয়েছেন। তার এই কথাগুলো যেন বলে দিচ্ছে, দলের অনেকের থেকে প্রকৃত শ্রদ্ধাটা তিনি পাচ্ছেন না।
সাবিনা অবশ্য শ্রদ্ধা পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমিও তো ১৪ বছর ফুটবল খেলে আসছি। আমিও সেই সম্মানটুকু পাচ্ছি কি না, সেটাও তো বড় ব্যাপার। উনি যেটা করছেন, অবশ্যই উনার অবস্থান থেকে সম্মান করি। খেলোয়াড়রাও সেটা করে।’